বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিহাদের রোবট পর্ব ৫

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এইচ আই ফাহাদ (০ পয়েন্ট)

X ______________________________ ফাহাদ বেড রুমে গিয়ে দরজা খুলে হিমার লাশ দেখেই মাটিতে লুটিয়ে পরে।জ্ঞান হারায় সেখানেই।পরদিন নিহাদকে তার নানু বাড়ির লোকেরা নিয়ে আসে বাসায়।এসে তারা এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেংগে পরে।নিহাদ কে কিছু বুঝতে দেয়া হয় না।ফাহাদকে হাসপাতাল এ নেয়া হয়।হিমার লাশ যায় ডোম ঘরে। নিহাদ শুধু হা করে দেখছিল। কান্না বের হচ্ছিল না নিহাদের চোখ থেকে।এটমকে অন করে নিহাদ।অন করা মাত্রই এটম নিশ্চুপ হয়ে ছাদে চলে যায়।হিমার লাশ দেখে নি নিহাদ। জানেও না হিমার কি হয়েছে।শুধু জানে নিহাদ অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছে।আজ সারাদিন রোবটের সাথেই কাটায় নিহাদ।কেউ আজ তাকে পড়তে বলে না।খাবার খেতে ডাকে না।হঠাৎ নিহাদের মনে হতে থাকে সে কি যেন একটা মিস করছে।এতদিন তার আম্মুর যে বিহেভ গুল তাকে বিরক্ত করত আজ সে সেই ডাক/ শাসন শোনার জন্যই অপেক্ষ করছে।সে বিকালে একা একা ই খাবার নিয়ে খেয়ে নেয়।খালামনি কে জিজ্ঞেস করে আম্মু কখন আসবে?? খালামনি বলে আম্মু অনেক দিনের জন্য বিদেশ চলে গেছে।আসবে কিছুদিন পরে।এদিকে ফাহাদের অবস্থা ও ভাল না।সে হিমার এই করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারে নি।মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার উপক্রম হওয়াতে সেও এখনও অজ্ঞান।হিমাকে কথা দিয়েছিল একসাথে বেঁচে থাকবে তারা।তাই হয়ত ফাহাদের এই অভিমান।পৃথিবীর অন্যায় নামক বস্তুটা হিমা ফাহাদ এর ভালবাসা আলাদা করবে সে শক্তি হয়ত হয় নি।বাকি পথ টা সহজ করে দিল ডাক্তার। আজ শহর জুড়ে ব্যাস্ততা,গার্ড অফ অনর দিয়ে বিদায় দেয়া হবে এক সৎ পুলিশ অফিসারের লাশ কে।সকাল থেকেই ফায়ারিং এর শব্দ।সবাই শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছে তার করে যাওয়া সৎ কাজ গুলকে।রিপোর্ট এ এসেছে ইন্সপেক্টর ফাহাদ আত্মহত্যা করেছেন।কারণ তার গলায় ফাসির দাগ ছিল। কেউ ই জানে না অজ্ঞান থাকা অবস্থায় মোটা অংকের টাকা খরচ করে ফাহাদকে গলায় ফাস দিয়ে খুন করা হয়েছে।না একটা কাক পক্ষী ও টের পায় নি।শুধু অজ্ঞান দেহ টা একটু কেঁপে কেঁপে উঠছিল।কিন্তু বরাবর এর মত সাহসী উদ্দীপ্ত শরীরে প্রতিবাদ করতে পারে নি সেদিন।উপর থেকে এগুল দেখে হয়ত সৃষ্টি কর্তা একটু মুচকি হেসেছিলেন।অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে হয়ত এটাই হয় শাস্তি।একটা সুখি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায় খুব সাধারণ ভাবে।সৃষ্টিকর্তার পরেই যার ক্ষমতা বেশি সে হল টাকা। আপনি চড়া দাম এ হোটেল এ গিয়ে কুকুরের গোশত কিনতে চান,দেখবেন আপনাকে গরুর গোস্ত কুকুর বলে চালিয়ে দিবে।টাকার কাছে মানবতা খুব ই ঠুনকো। নিহাদ হয়ত জানেও না সে কি হারিয়েছে। এটম সকাল এ উঠিয়ে দিলে নিহাদ নাস্তা করে স্কুলে বেরিয়ে যায়।যাওয়ার আগে আজও নিহাদ চিৎকার করে বলে যায় আম্মু......বের হলাম আমি........ কিন্তু এই কথাটা শোনার জন্য যে মানুষটা ছিল সে কি আজ ও কথাটা শুনতে পেয়েছে?? নিহাদের কন্ঠস্বর কি পৌঁছেছে হিমার কান পর্যন্ত?? কে জানে?? হয়ত পৌঁছেছে,আবার হয়ত না।সেটা হয়ত ওপারের মানুষটি ই জানে।নিহাদ আজ খেয়াল করে তার মাথার উপর মাইক্রোবট ড্রোন দুটি নেই।কিন্তু সে বিষয়ে তার চিন্তা নেই।তার মনে কেবল একটা হাহাকার কি যেন হারানোর।অথচ নিহাদ আদৌ জানে না যে সে এখন ঠিক কতটা অসহায়!! আজ আমজাদ সাহেবের বাসায় পার্টি।তার ছেলেকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পায়তারা যে করেছেল সে শেষ হয়ে গেছে।নিমিষেই শেষ করে দিয়েছে তারা। রক গান পপ গান আর মেয়ে নিয়ে মেতে ছিল তাদের পরিবারের সবাই।সেটাকে মানুষের পরিবার না বলাই ভাল।তারা হয়ত কুকুরের বংশধর।তারা অনেক টাকার মালিক।ছাপিয়ে গেছে সব নিয়ম কানুন বাধা উপেক্ষা, তারা নিজ ফেমিলির রক্তের সম্পর্কের মানুষদের সাথেও লিপ্ত হয় আদিম উদ্যমে।সমাজের এই শ্রেনীর লোক রা ভুলে যায় বাবা -মেয়ে,মা -ছেলে,ভাই বোনের সম্পর্ক গুল।নেশার ঘোরে কিংবা সজ্ঞানে তারা একে অপরের সামনে বা সবাই একসাথে মেতে থাকে নিষিদ্ধতায়।নিয়মের বাইরে যাওয়াটা তাদের কাছে বরাবর ই আনন্দের।আমজাদ সাহেব হঠাৎ ই খেয়াল করলেন তার মাথার ঠিক ইঞ্চিখানের উপরেই পাখির মত কাল কি যেন দুটো স্থির হয়ে আছে।নেশায় বুদ হয়ে সে ভাবতে লাগল তার মাথার উপর হয়ত ওয়াইন রাখার ট্রে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।হাত দিয়ে ঘরের মেঝেতে পতিতাদের মাঝে টাকা উড়াতে উড়াতে তার মেয়েকে ডাক দিলেন " ডার্লিং, আই নিড মোর ওয়াইন" তার মেয়ে একটা ওয়ানের গ্লাস নিয়ে এসে কামার্ত স্বরে বলল, ড্যাড, আই হ্যাভ সামথিং মোর টেস্টি দ্যান ওয়াইন। কথাটা শেষ হতে না হতেই আমজাদ সাহেবের বৌ এর আর্তচিৎকার এ স্তব্ধ হয়ে গেল পরিবেশ।থেমে গেল সব গান বাজনা নাচ।জ্বলে উঠল সাদা লাইট।পতিতারাও নাচ থামিয়ে ঘরের এক পাশে গিয়ে দাড়াল। আমজাদ সাহেব টলতে টলতে তার বঊ এর পাশে গিয়ে দাড়াল।নেশার ঘোর এ সে ভাবল হয়ত তার ছেলের মাথার মূর্তি বানিয়ে কেউ টেবিল এর উপর প্লেটে রেখে সাজিয়ে রেখেছে।কিন্তু যখন কয়েক মিটার দূরে দেখতে পেল মাথা কাটা একটা দেহ ফ্লোরে পড়ে আছে।সেখান থেকে গড়িয়ে রক্ত এসে তার পা পর্যন্ত ভিজিয়ে দিচ্ছে তখন তার নেশা কেটে গেল।এই জঘন্য মানুষটার গায়ের লোম গুল ও কাটা দিয়ে উঠল।যতটা না ছেলে হারোর দু:খে, ততটা ভয়ে। হা থেকে ওয়াইনের গ্লাস টা পায়ে পরে ভেংগে গিয়ে পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।সে দিকে তার কোন খেয়াল নেই।সে একটা কথাই ভাবতে লাগল খুন টা কে করল?? এতটা নি:শব্দে।মাত্র কয়েক মিনিট আগেও তার ছেলে তার চোখের সামনেই মিলিত হয়েছিল কয়েকটা পতিতার সাথে।তার বাসায় কে করল এই খুন?? এত শত শত সিকিউরিটি গার্ড এর চোখ ফাঁকি দিয়ে একটা গুপ্তঘাতক কিভাবে ঢুকল!! কয়েক সেকোন্ড এভাবে ভেবেই সে হুংকার দিল তাফ বাসার গার্ড দের উদ্দেশ্যে।সে হুংকার এ আজ শক্তি নেই।দুর্বলতা আছে।ডাক দিতেই তার সামিনে হাজির হল কয়েকশত অস্ত্রধারী সিকিউরিটি গার্ড।খোজা হল তন্ন তন্ন করে সবাইকে।কারো কাছেই এমন কিছু পাওয়া গেল না যা দ্বারা কারো গলা কাটা যায়।হঠাৎ আচমকা শব্দে পিছনে ঘুরে তাকাল সবাই। জানালার কাঁচ ভেংগে উড়ে উড়ে বের হয়ে যাচ্ছে পাখির মত দেখতে দুটো কালো জিনিস। __________চলবে... লেখক আইডি→এইচ আই ফাহাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিহাদের রোবট পর্ব ৫
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৪
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৩
→ নিহাদের রোবট পর্ব ২
→ নিহাদের রোবট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now