বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিহাদের রোবট পর্ব ৩

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এইচ আই ফাহাদ (০ পয়েন্ট)

X আজকাল হিমা ও ফাহাদ নিহাদের ভিতর অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করছে।নিহাদ পড়ালেখায় নিয়মিত।নামায পড়ে।সঠিক সময়ে গোসল খাওয়া,সব ঠিকঠাক মত করছে। এটম নামের রোবট টা নিহাদের লাইফ টাকেই চেঞ্জ করে দিয়েছে।নিহাদ পড়ার সময় পড়ে এবং বাকি সময় এটম এর সাথে খেলাধুলা করে পার করে দেয়। খেলার ফাঁকে নিহাদ এটম কে বলে " নিহাদের স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে না। এটম বলে তোমার কি কোন সমস্যা হয় স্কুলে?? নিহাদ বলে হ্যা।আমার কিছু ফ্রেন্ড আমাকে অনেক উত্যক্ত করে।আমাকে মারে।আমার টিফিন নিয়ে যায়।পেন্সিল ভেংগে ফেলে।এজন্য আমার স্কুলে যেতে মন চায় না।তোমার সাথে সারাদিন সময় ব্যয় করতে মন চায়।তুমি আমাকে অনেক ভালবাস। এটম বলে আমি একজন রোবট।রোবটের মাঝে ভালবাসা বলতে কিছু নেই।আমার প্রোগ্রাম এমন ভাবে সেট করা যে আমি আমার মালিক এর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি।নিহাদ হা করে রোবট টার কথা শুনে,কিছু কথা বুঝতে পারে,কিছু পারে না। তবে নিহাদ এতটুকু বুঝে যে রোবট টাই এখন তার পরম বন্ধু। নাস্তা করে নিহাদ বের হয় স্কুলের উদ্দেশ্যে,এটম এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসে। সে হঠাৎ লক্ষ্য করে তার মাথার উপর পাখির মত দুটো কি যেন উড়ছে এবং তাকে ফলো করছে।ব্যাপার টায় সে খুব বিরক্ত বোধ করে।গাছ থেকে একটা ডাল ভাংগে ওগুল কে পিটানোর জন্য,কিন্তু কিছুতেই সে আঘাত করতে পারে না।বার বার সরে গিয়ে নিজেদের আঘাত থেকে বাঁচিয়ে নেয়।মনে মনে সে ভাবে এটম থাকলে নিশ্চই এগুল কে প্রচুর পিটাত। ক্লান্ত হয়ে নিহাদ স্কুলের দিকে হাঁটা শুরু করে।সাথে সাথে তার মাথার ইঞ্চিখানেক উপরে পাখির মত দেখতে জিনিস দুটো ও তাকে ফলো করে আসতে থাকে,স্কুল গেটে হঠাৎ দেখা রাকিব এর সাথে।রাকিব কে নিহাদ একদম ই সহ্য করতে পারে না।ছেলেটা নিহাদ কে দেখলেই কারনে অকারনে মারধর করে,এটা ওটা করতে বলে,না করলেই মারে। নিহাদ রাকিব কে দেখেই উলটো পথে হাঁটা শুরু করল।কিন্তু রাকিবের চোখ এড়াতে পারল না নিহাদ।রাকিব তাকে ডাক দিয়ে বলল, এই নিহাদ,এদিকে আয়।নিহাদ ভয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে গেল রাকিব এর কাছে,রাকিব নিহাদ কে ওর হোম ওয়ার্ক এর কাগজ গুল দিয়ে বলে,দেখ,আমার হোম ওয়ার্ক করা হয় নি।তুই আমার হোমওয়ার্ক এর খাতা নে,আর তোর টা আমাকে দিয়ে দে।আমি উপরের পেইজ ছিড়ে ফেলে দিয়ে আমার নাম এ জমা দিব।নিহাদ সাথে সাথে তা দিতে অস্বীকার করে এবং উলটো দিকে দৌড় দেয়।কিন্তু রাকিবের চামচা তুহিন নিহাদ কে ধরে রাকিবের কাছে নিয়ে আসে।রাকিব নিহাদের ব্যাগ থেকে হোম ওয়ার্ক জোড় করে বের করতে যাবে,ঠিক এমন সময় নিহাদের মাথার উপরে থাকা পাখির মত জিনিস গুলোর একটা রাকিব কে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরের ভিতর ফেলে দেয়।এবং অন্যটি তুহিন কে একটা বড় গাছের মগডালের উপর তুলে রেখে আসে।মোটা ও শক্তিশালী রাকিব পুকুর থেকে উঠে একটা শক্ত লাঠি নিয়ে নিহাদের দিকে দৌড়ে আসতে থাকে।নিহাদের মাথায় লাঠি দিয়ে রাকিব মারতে যাবে এমন সময় পাখির মত জিনিস দুটি নিহাদকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।নিহাদ ভয়ে চিৎকার দেয়,এমন সময় সে এটম এর গলার ভয়েস শুনতে পায়।এটম বলে নিহাদ তুমি এখন যে দুটো জিনিসের সাথে আছ,ওগুল তোমার বডি গার্ড।আমার দেহ থেকে ওগুল কে পাঠিয়েছি।এদের নাম মাইক্রোবট ড্রোন।এরা খুবই শক্তিশালী। তুমি চাইলে এগুলো দিয়ে আকাশে উড়তে পার।কেউ তোমার কোন ক্ষতি করতে চাইলে এরা তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিবে।নিহাদ খুব খুশি হয়,অবশেষ এ সে স্কুল এ যেতে সাচ্ছন্দ বোধ করছে।কিন্তু সমস্যা হয় তুহিন এবং রাকিব কে নিয়ে।ওরা নিহাদের ছোট মাইক্রোবট দুটি চুরি করার ধান্দা করে।কিন্তু নিহাদের আব্বু পুলিশ তাই ভয় পায় ওরা। ওদের বাড়িতে গিয়ে চুরি করা যাবে না। ওরা নিহাদকে ফলো করে,স্কুল শেষে নিহাদ মাইক্রোবট এ করে উড়তে উড়তে বাসায় যায়।পিছন পিছন ওকে ফলো করে তুহিন এবং রাকিব।ওরা দেখে নিহাদ ছাদের উপর ল্যান্ড করে বাসায় ঢুকেছে।রাকিব এবং তুহিন কিছু একটা করার ফন্দী আঁটে। এদিকে আজ এটম কে খুশিতে জড়িয়ে ধরে নিহাদ,নিহাদের আনন্দে কান্না এসে যায়,বড়দের কাছে যে সকল সমস্যা অনেক ছোট ছোট মনে হত নিহাদের কাছে তা খুব ই বড় বড় ঝামেলা।এটম সেই ঝামেলা দূর করে নিহাদের লাইফ টাকে ই বদলে দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল এ নিয়ম করে ঘুম থেকে উঠানো,নামায পড়ানো,নাস্তা করিয়ে দেয়া সহ অনেক কাজেই নিহাদের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে সাহায্য করে এটম।ইদানীং সে নিহাদ কে ব্যায়াম ও করাচ্ছে।গভীর রাতে নিহাদ কে কাধে নিয়ে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায় এটম।সবকিছু নিয়ম মাফিকসই হয়ে আসছে।এটম এর এত ডেডিকেশন এর মূল্য ও নিহাদ দিচ্ছে,সে তার স্কুল এর ফার্স্ট বয়।সুখে শান্তিতে কেটে যায় কয়েক মাস। _________________________ একদিন রাতের কথা, টিভি দেখতে দেখতে পরিবারের সাথে ডিনার করতে থাকে নিহাদ।হঠাৎ ই খবরে শুনতে পায় এমেরিকায় সিলভা নাম এ এক ব্যাক্তি আবিষ্কার করেছে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী রোবট যার নাম "র‍্যাথ" রোবটের মালিক সিলভা একজন খেলনা রোবট তৈরিকারী ছিলেন।তার বন্ধু ও তার যৌথ ব্যাবসা ছিল। বন্ধুর মৃত্যুর পর তিনি একাই এই কম্পানী টিকে চালাচ্ছিলেন।হিঠাৎ করে এই সুপারসনিক রোবট আবিষ্কার করে তিনি এখন পৃথিবীর মাঝে আলোচিত একজন ব্যাক্তি।খবর টা দেখে নিহাদের বাবা ফাহাদ এক প্রকার চিৎকার ই করে ওঠে,কারন তার ছেলেকে তিনি এই কম্পানির ই একটা খেলনা রোবট কিনে দিয়েছেন। খবরে আরো বলা হয় সিলভাকে এই রোবট টির জন্য ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অফার করা হলেও সিলভা তা বিক্রি করতে নারাজ।দরজার পিছনে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব টুকুই দেখছিল এটম। খবরটা দেখার পর এটম সোজা নিহাদ দের ছাদে চলে যায়।সেখানে গিয়ে একটা কোনে দাঁড়িয়ে থাকে স্থির হয়ে।ব্যাপার টা টের পায় নিহাদ।নিহাদ ও তার পিছন পিছন চলে যায়। গিয়ে রোবট টাকে ডাক দেয়,-- এটম?? এটম আস্তে একটু নড়ে উঠে।নিহাদ দৌড়ে গিয়ে এটম কে জড়িয়ে ধরে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, এটম বলতে থাকে,, নিহাদ শুনেছ?? আমার সৃষ্টিকারীকে যে খারাপ লোক টা হত্যা করেছে সে র‍্যাথ নামের একটা সুপারসনিক রোবট বানিয়েছে?? নিহাদ মাথা নাড়ায়।এটম আবার বলে,ঐ বদ লোকটা একটা অপদার্থ।ও নিশ্চই আমার সৃষ্টিকর্তা এলেক্স আলফা ব্রাভো এর ডায়েরী বা নথি খুজে পেয়েছে,এবং সেখান থেকেই সুপারসনিক রোবট তৈরি করার সিস্টেম টা দেখে ফেলেছে। নিহাদ প্রশ্ন করে,তাহলে তোমার আর র‍্যাথ এর শক্তি কি সমান??? তুমি আর র‍্যাথ কি একই??? এটম বলে,হ্যা আমাদের শক্তি সমান।কিন্তু আমরা একই না।আমার সৃষ্টিকারী আমাকে বানিয়েছেন সমাজের উপকারের জন্য।কিন্তু র‍্যাথ কে ঐ সিলভা নামের লোক টা খারাপ কাজে ব্যাবহার করবে।ওর ভিতর নেগেটিভ প্রোগ্রাম ঢুকিয়ে দেয়া হবে।খুব শ্রীঘ্রই হয়ত আমাকে ওর মুখোমুখি হতে হবে।কারন ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করলে পৃথিবীর কোন কিছুর ক্ষমতা নেই ওকে থামানোর।আমি ছাড়া। নিহাদ কিছু একটা বুঝতে পারে, সে একবার এটম কে জড়িয়ে ধরে দৌড়ে তার রুমম এ চলে আসে।রুমে এসে দরজা বন্ধ করে মুখে বালিশ চেপে প্রচুর কান্না করে। "ভয়" নিহাদের মনে ভয় ঢুকেছে, এটম কে হারিয়ে ফেলার ভয়, তার সবথেকে প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ফেলার ভয়।ছাদে নিষ্ক্রিয় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এটম তার প্রোগ্রাম গুলকে রিফ্রেশ দিতে থাকে,সামনে এক কঠিন মোকাবেলা করতে হবে তাকে।????. __________চলবে... লেখক : এইচ আই ফাহাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিহাদের রোবট পর্ব ৫
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৪
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৩
→ নিহাদের রোবট পর্ব ২
→ নিহাদের রোবট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now