বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিভৃত চারণা
এক
মা, বাসায় যাও!
না বাবা, তোমার হাত ধরে হাটতে ভালো লাগছে।
মেয়ের বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলটাকে আরো
ভালো করে আঁকড়ে ধরলেন রেহনুমা
আহমেদ। তিনি হাটছেন শিশুর ভঙ্গীতে!
কিন্তু মা, আমার ক্লাশ আছে। তুমিও ক্লান্ত, এখন
বাসায় গিয়ে রেস্ট নেয়া উচিৎ।
রেহনুমা কোন কথা বললেন না। দু'তিন বছরের
বাচ্চা কেমন করে বাবার হাত ধরে হাটে- তিনি
সমস্ত মনোযোগ দিয়ে সেটা অনুভব করার
চেষ্টা করছেন!
মা, কথা বলছো না কেন?
হু...
তুমি বাসায় যাবে না?
পরে যাবো।
মা শোন, ২০ মিনিট পরে আমার ক্লাশ। কাজেই এই
২০ মিনিট তুমি আমার সাথে থাকবে এবং তারপর
লক্ষ্মীমেয়ের মতো বাসায় যাবে।
রেহনুমা নিরব!
চৈত্রের মাঝামাঝি দুপুর, খোলা রাস্তায় রোদের
উত্তাপ অনেক! মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া সেই
উত্তাপকে ধুয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। ফলাফল,
রাস্তার ধূলোবালি সব ঘুরে বেড়াচ্ছে শূণ্যে!
সুযোগ পেলেই নাসারন্ধ্র দিয়ে সপাৎ ভিতরে!
তার মধ্যেই রেহনুমা হাটছেন! তার কি যে ভালো
লাগছে, সেটা তার মেয়ে কিন্নরী বুঝবেনা-তিনি
জানেন।
আঙ্গুলে ছোট্ট একটা নাড়া দিয়ে কিন্নরী
মায়ের মগ্নতা পরখ করলো। রেহনুমা এখন "কিছুই
যায় আসেনা" ভাব-এ নিমগ্ন। মেয়ের সাথে
বাইরে বের হলেই তিনি এমন হয়ে যান!
কিন্নরী হাসে- মা যে কেন এমন ছেলেমানুষি
করে! চেহারায় কপট রাগ দেখালেও সে
আসলে মায়ের এই ছেলেমানুষি-টাকেই সবচে'
বেশি ভালোবাসে!
মা, তুমি কিন্তু হিপনোটাইজড হয়ে গেছো!
হু।
কিন্তু আমি তো হিপনোসিস জানিনা!
হু।
কেন যে তুমি এরকম করো! অফিস থেকে
বাসায় না ফিরে সোজা আমার কলেজে চলে
এলে-এটা কি ঠিক হলো!
হু।
রেহনুমার উত্তর "হু" শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এর অর্থ "হ্যাঁ" নাকি "না" -সেটা কিন্তু অস্পষ্ট!
মা, তোমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি
কোন অন্যায় করলে অফিস থেকে ফিরেই তুমি
ধরে ফেলতে! অন্যায়গুলো অবশ্য মারাত্বক
কিছু না-দুপুরে না ঘুমিয়ে খেলতে যাওয়া বা
বন্ধুদেরকে ম্যাচলাইট দিয়ে প্লাস্টিকের কলম
গলাতে সাহায্য করা!
কি মজাই না হতো আমাদের! কিন্তু কিভাবে বুঝতে
তুমি?!
হু...
কিন্নরী চোখমুখ শক্ত করে রেহনুমাকে শাসন
করার চেষ্টা করলো-
মা, শোন, হ্যাঁ-হু করবেনা। প্রশ্নের উত্তর দাও।
রেহনুমা খানিকটা সচকিত হলেন।
কী উত্তর দেবো?
আমি যে কোন অপরাধ করেছি- এটা কিভাবে
বুঝতে?
তোমার চোখমুখ দেখলেই বুঝতাম! মায়ের মন
সব বুঝতে পারে!
কিন্নরী তর্কের স্বরে বলে-
মোটেই না। ব্যাপারটা হলো টেলিপ্যাথি। মা আর
সন্তানের মধ্যে খুব ভালো টেলিপ্যাথিক
যোগাযোগ থাকে। তাই না দেখেও দূর থেকে
তুমি বুঝতে পারতে- আমি কী করছি!
রেহনুমা কিছু বললেন না। কিন্নরী বাচ্চাদের সাথে
মজা করার ভঙ্গীতে বললো-
কিন্তু তুমি এখন আর বলতে পারবেনা। কারণ, বড়
হওয়ার পর আর কানেকশনটা কাজ করে না।
রেহনুমা মেয়ের মুখের দিকে তাকান, কিন্তু কিছু
বলেন না।
মনে মনে হাসেন- তিনি পারেন, মেয়েটা
জানেনা, তিনি এখনো মেয়ের আনন্দ-কষ্ট,
বিপদ-আপদ সব বুঝতে পারেন!
দুই
তাড়াহুড়ো করে দিতে গিয়ে কাজলের রেখাটা বাঁকা
হয়ে গেলো। টিস্যুপেপার দিয়ে সেটা ঠিক
করতে করতে আড়চোখে একবার ঘড়ি দেখে
নিলো কিন্নরী; সাড়ে চারটা ওভার হয়ে গেছে।
কে জানে ঠিক সময়ে ও পৌছাতে পারবে কিনা!
রণো আগে এসে বসে থাকলে-সেটা খুব
লজ্জার ব্যাপার হবে। যদিও প্রেমে নাকি এটাই
নিয়ম- ছেলে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করবে!
কিন্নরীর গালে লাল আভা- প্রেম কথাটা ভাবতেই
তার লজ্জা লাগছে!
চাইনিজ রেস্টুরেন্টের এসি রুমে বসেও কপালে
বিন্দু বিন্দু ঘাম কিন্নরীর! মাথা নিচু করে বসে
আছে সে!
রণো কোমল গলায় বললো-
এই তাকাও না! প্লিজ...
অনেক চেষ্টায় মুখ তোলে সে। তার
মুখোমুখি বসা অতি রূপবান এক যুবক!
রেস্টুরেন্টের রোমান্টিক হালকা নীলাভ
আলোতেও কিন্নরীকে লাল দেখায়!
এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন!
আবার মাথা নিচু করে ফেলে সে!
জানিনা।
কিছু বলো।
কী বলবো?
অ্যানিথিং...
প্রাণচঞ্চল মেয়ে কিন্নরী, কথা না বলে সে
একমুহূর্ত থাকতেও কষ্ট হয় তার! অথচ, এই রূপবান
যুবকটির সামনে লজ্জায় আড়ষ্ট সে! একটা কথাও
বের হতে চাইছেনা ঠোটের আঁড়াল ছেড়ে!
কিছু বলতে মুখ তুলতেই আবার মাথা নিচু করে
ফেলে- সদ্য প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের দপ
করে নিভে যাওয়ার মতো!
রণো কিন্তু উপভোগই করছে এটা!
নদীর পাড়ে বাতাসের অবাধ স্বাধীনতা মুগ্ধ
করলো কিন্নরীকে! বাতাসের হুটোপুটি
থেকে সে তার চুল-ওড়না কোনমতে সামলে
আছে।
নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দে সে মুগ্ধ হলো,
মুগ্ধ হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা আর নদীতীরে
অসংখ্য যুগল দেখেও!
রণো ছেলেটি তারমধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়ে
দিয়েছে। ইউরেনিয়ামের চেইন রিএ্যাকশনের
মতো সেই মুগ্ধতা তার সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলছে
প্রতি মুহূর্তে!
রেস্টুরেন্টে কোনমতে মুখ ফুটে কিন্নরী
বলেছিলো-বদ্ধরুমে তার ভালো লাগছেনা।
রণো তাকে এখানে ঘুরতে নিয়ে এসেছে!
আড়চোখে একবার রণোকে দেখলো-
ছেলেটা এত্তো ভালো কেন!
অনেকদিন ধরেই ফেসবুকে পরিচয় দু'জনের।
ক্রমাগত ম্যাসেজিং-এ ভালো বন্ধু হয়ে
উঠেছিলো। মাস দু'য়েক হলো সেটা প্রেমে
রূপ নিয়েছে! প্রথম প্রথম খুব দ্বিধায় ছিলো
কিন্নরী-একই শহরের মানুষ হলেও পড়াশোনার
জন্য রণো থাকে অনেক দূরে, বাস্তব
জীবনেও ওর সাথে কোন পূর্ব পরিচয়
ছিলোনা-ভুল করলো নাকি ও!
কিন্তু ভালোবাসার টানে যখন এই রূপবান দূরত্ব
ভেদ করলো অনায়াসে, সে ভরসা পেয়েছে!
ওকে বেশিদিন না দেখে থাকতে পারেনা রণো,
মাত্র কয়েকঘন্টার দেখা দেখতে কিছুদিন পরপরই
ছুটে আসে সে!
কিন্নরী শুনেছিলো- রূপবানরা মনের দিক
থেকে খুব কঠিন হয়! কিন্তু ভুল, খুব ভুল!
গণিতের সূত্রেরও সীমাবদ্ধতা আছে, প্রকৃতি
কখনোই নিজেকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনা;
সে রহস্য পছন্দ করে! যেটা যেরকম হওয়ার
কথা, সেটা প্রায়ই সেরকম হয়না!
তিন
কিন্নরী একটু আগে আগেই কলেজ থেকে
ফিরেছে; আজ ওর জন্মদিন! রেহনুমা অফিসে
যাননি, রান্নাবান্নায় ব্যস্ত, বিকেলে কিন্নরীর বন্ধুরা
আসবে। এছাড়াও আরো একটা এ্যাপয়েনমেন্ট
আছে কিন্নরীর- রণোর সাথে দেখা করতে
হবে।
জন্মদিনের মতো বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষটি কি
না এসে পারে!
ক্লাশের অজুহাতে বাসা থেকে বের হতে
হচ্ছে বলে খানিকটা অস্বস্তি লাগছে। মায়ের
সাথে লুকোচুরিতে অপরাধ বোধ হচ্ছে বারবার,
কিন্তু কি আর করার, সময়ের আগে এরচে' বেশি
সৎ কে-ই-বা হতে পারে!
রেস্টুরেন্টের ছোট্ট রুমটায় পা দিতেই লাফিয়ে
সরে যেতে হলো কিন্নরীকে, অন্ধকারে
নরম কিছুর ওপরে পা দিয়েছে।
নিজেকে সামলে নিতে নিতে শুনতে পেলো
বার্থডে উইশ, চকলেট কেকটা ঘিরে রণোর
হাতে এক এক করে জ্বলে উঠতে থাকে
মোমবাতি! তার আলোতে কিন্নরী দেখতে
পেলো ফ্লোরভর্তি বেলুনের ছড়াছড়ি!
ধীরে ধীরে রণোর দিকে এগিয়ে যায় সে,
মোমের আলোতে তাকে লাগছিলো
দেবদূতের মতো!
মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার হাতে হাত রেখে কেক
কাটে কিন্নরী। রণো একদৃষ্টিতে ওর
সারপ্রাইজড মুখখানা দেখছিলো, যদিও কিছু সারপ্রাইজ
তখনো বাকি!
স্পেশাল ডিশ অর্ডার দিয়ে রণো যখন পকেট
থেকে গোলাপ আকৃতির মখমলের ছোট্ট লাল
বক্সটা বের করলো, কিন্নরী সত্যি সত্যি বলার
কিছু খুঁজে পেলোনা!
রণো আলতোভাবে ওর বাম অনামিকাটা টেনে
নেয়!
এখানকার বন্ধুরা আসছে, খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই
মিলে বেরুবো। একটা গাড়ি আনছে ওরা, দিস ইজ
স্পেশাল ট্রিট ফর ইউ!
কিন্নরী কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলতে চাইলো- আজ
কোথাও যাওয়া সম্ভব না, বাসায় প্রোগ্রাম আছে।
কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না, রণোর আন্তরিকতা
ওকে নির্বাক করে দিয়েছে!
বহুক্ষণ পাশাপাশি বসে রইলো দু'জনে, নিশ্চুপ,
সেলফোনের নির্ঘুম রাতের কথারা কোথায়
গেলো কে জানে!
সীমাহীন নিরবতায় সম্মোহিত হয়ে রণো
কিন্নরীর হাতটা টেনে নিলো, ওমনি চমকে
উঠলো কিন্নরী!
না, হাত ধরাতে না, চমকে উঠলো নিজের
সেলফোনের ভাইব্রেশনে!
মায়ের নাম্বার স্ক্রীনে... দ্বিধার মাঝেই রিসিভ
করে ফেললো ফোনটা।
রেহনুমার উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর-
কোথায় তুমি? এক্ষুণি বাসায় আসো। আমার...
প্রচন্ড একটা শব্দ, কথা শেষ হওয়ার আগেই
লাইনটা ডিসকানেক্ট হয়ে গেলো!
স্যরি, আমাকে এক্ষুণি যেতে হবে, আম্মুর
যেন কি হয়েছে! !
রণো কিছু বলার আগেই পার্সব্যাগটা হাতে নিয়ে
উঠে পড়ে কিন্নরী।
রেহনুমার মাথায় হাত! হতাশ চোখে ফ্লোরে
ছড়ানো ছিটানো সেলফোনের অংশগুলোর
দিকে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ মন কেমন করায়
ফোন দিয়েছিলেন মেয়েকে, অস্থিরতার বশে
এভাবে যে ফোনটা হাত থেকে পড়ে যাবে-
বুঝতে পারেননি!
রিক্সা কিছুদূর এগোতেই কিন্নরীর মনে
পড়লো মখমলের বক্সটা ফেলে এসেছে।
মায়ের চিন্তায় এতোটাই অস্থির হয়ে পড়েছিলো
যে, রণোকে একবার 'থ্যাংকস" পর্যন্ত বলে
আসেনি! বিবেকের সূক্ষ্ম দংশন টের পেলেও
মন উদ্বিগ্ন মায়ের জন্য। সেলফোনটায় ক্রমাগত
তার নাম্বার ডায়াল করে যাচ্ছে, কল ঢুকছেনা
কেন! বুকের মাঝে কি যে ব্যাকুলতা! হঠাৎ টের
পেলো কিন্নরী- মাকে যে সে এতো
ভালোবাসে, আগে বোঝেনি কখনো!
রেস্টুরেন্টের দরজায় হাত রেখে থেমে
গেলো কিন্নরী- ভিতরে রণোর উত্তেজিত
কথা শোনা যাচ্ছে!
অনেক কসরতের পর রেহনুমার ফোনটা চালু
হওয়াতে যোগাযোগ করতে পেরেছেন
মেয়ের সাথে। মা ঠিক আছে জেনে শান্ত
হয়েছে কিন্নরী, তারপরই মাঝপথ থেকে আবার
রিক্সা ঘুরিয়েছে। পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও ওকে
আসতে হবে, সামনা সামনি রণোকে ধন্যবাদ না
জানালেই না- ছেলেটা যে ওকে অসম্ভব
ভালোবাসে!
দরজার আরো কাছে কান এগিয়ে দেয় কিন্নরী,
হ্যাঁ, রণোর কন্ঠই তো! তবে কথাগুলো যেন
অন্যকারও!
শালী, একটুর জন্য ফইসকা গেলো, তোরা
আরেকটু আগে আসলেই কেল্লা ফতে
হইতো। গাড়িতে ওঠানো পর্যন্তই তো... এমন
সুযোগ আবার পাবো কই!
আরো কিছু ছেলেকন্ঠ শোনা গেলো
ভিতরে। একজন বললো-
বসরে কি ক'বা রণো ভাই?
কমুনে, মাসখানিক পরে...
আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলোনা কিন্নরী,
প্রায় ছিটকে বেরিয়ে এসে রিক্সায় উঠলো!
বুকের মধ্যে ধ্বকধ্বক করছে- এ কিসে
জড়িয়ে পড়েছে ও! !
চলন্ত রিক্সা থেকে সর্বশক্তি নিয়ে গোল্ডেন
রিংটা ছুড়ে দেয় কিন্নরী, তারপর সদ্যকেনা
সিমকার্ডটা চালু করে সামনে তাকায়।
জুলাই এর শেষ সপ্তাহ, সোনালী সূর্যে লাল রঙ
ধরেছে, তারউপরেই আবার শ্রাবণের ছাইকালো
মেঘ! একটু পরেই অবতরণ করবে বৃষ্টিভেজা
বিকেল। কিছুক্ষণ পরেই বাসায় বন্ধুরা চলে
আসবে, তার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। আর
আছে মা-বাবা, তার সত্যিকারের নিরাপদ আশ্রয়!
পরিশিষ্ট
ফ্রেন্ডশীপ ডে উপলক্ষ্যে পুরনো
ফ্রেন্ডরা মিলে একটা "গেট টুগেদার"-এর প্ল্যান
করা হচ্ছে। একটা নাটক হবে সেদিন। মজার ব্যাপার
হলো, সেই নাটকটা একটু ভিন্নধর্মী- সবাইকে
যার যার বিপরীত চরিত্র দেয়া হয়েছে!
ভিলেনের চরিত্র পেয়েছে রাজপুত্রের মতো
একটি ছেলে, যার আসলে হওয়ার কথা ছিলো
নায়ক! শুধুমাত্র এই একটা কারণেই তারা বেশি
এক্সাইটেড; বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেও
তারা রিহার্সাল করে ফেললো! রেস্টুরেন্টের
ওয়েটার এসে স্পেশাল ডিশ সার্ভ করার আগের
সময়টুকুতে তারা এক একজন হয়ে উঠলো দক্ষ
অভিনেতা! স্পেশাল ডিশ সেই রাজপুত্রের
সৌজন্যে, আজ তার প্রিয়তমার জন্মদিন! যদিও
সেখানে সে উপস্থিত নেই! মন খারাপ, তবু
ছেলেটা চমৎকার অভিনয় করলো!
চিকেন ফ্রাইয়ে কাটাচামচ গেঁথে রেখে অবাক
হয়ে মোবাইল-স্ক্রীণে তাকিয়ে থাকে
রণো। ফেসবুক ইনবক্সে রিপ্লাই বক্সের
উপরে শেষ ম্যাসেজে কিন্নরীর আইডি নামটা
ব্ল্যাক দেখাচ্ছে!
ও আইডি ডিএ্যাকটিভ করেছে!
ওর সেলফোনও বন্ধ!
কিন্তু কেন!
প্রকৃতি সবচে বড় ম্যাজিশিয়ান। তার ম্যাজিকের
কৌশলে কোন ফাঁক নেই। বেশিরভাগ সময়েই
আমরা তার ম্যাজিক ধরতে পারিনা, ধাঁধায় পড়ি...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now