বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি আর নিবেদিতা বাস এ উঠতে যাচ্ছি,এমন সময় ১
দাদীর বয়সী বৃদ্ধ মহিলা এসে কান্না জড়িত
কণ্ঠে এসে ভিক্ষা চাইল। মন মেজাজ এমনিতেই
খুব খারাপ,ইচ্ছা করছিল বুড়ি টাকে তুলে আছাড় মারি।
নিবেদিতা আমাকে অবাক করে দিয়ে সেই
মুহূর্তে উনা কে ২০ টাকার ১টা নোট বের করে
দিল... বুঝলাম নিবেদিতা নামটা রাখা ওর বাপ মা এর
সার্থক সব কিছু নিবেদন করটাই যেনও ওর কাজ।।
বুড়ি টা যাওয়ার সময় বলে গেল,মা তোমরা চিরসুখী
হউ।। তোমাদের কোল জুড়ে একটা সুন্দর
সন্তান আসুক.. .। শালার বুড়ি রে টাকা দিছে আর
কিছু না জেনেই বুড়ি আবোল তাবোল বলে
গেলো। অন্য সময় হলে এই বেপার টা নিয়ে
অনেক হাসাহাসি করতাম...।। কিন্তু এখন খুব ই
প্রব্লেম এ আসি ২ জন...হাসাহাসি করা যাবে না।
আমার তো অকারণে শুধু হাসি চলে আসে।
নিবেদিতার দিকে তাকিয়ে আমি নিজের মধ্যে
সিরিয়াসনেস ভাব টা নিয়ে আসি...মেয়ে টা মনে হয়
আসলেই টেনশন এ আছে।আমি আর নিবেদিতা বাস
এ উঠলাম একসাথে।বাস ছাড়ার আর ৩ মিনিট বাকী।
আমি নিচে গিয়ে সিগারেট ধরালাম... হুম কি অস্থির
ফিলিংস । অর্ধেক সিগারেট টানার পর ফেলিয়ে দিলাম।
মাথায় এই মুহূর্তে কোনও টেনশন ই কাজ করছে
না।সিগারেট টানা শেষ এ ওর জন্য ১টা ফ্রুটিকা কিনে
নিয়ে বাস এ উঠলাম। নিবেদিতা মাথায় হাত দিয়ে বসে
আছে।চস্মার ফাঁকা দিয়ে ওর চোখ এ আমি পানি
দেখতে পাচ্ছি।আমি নীরবে পাশে গিয়ে ওর
মাথায় হাত দিয়ে বললাম আমি আছি তো।এতো
টেনশন এর কিছু নাই গাঁধি কোথাকার ।ও আমার কাঁধে
পরম আশ্রয় এ মাথা রাখলো।।বাস চলতে শুরু
করেছে... ওকে বললাম অনেক দুরের পথ,তুমি
ঘুমানোর ট্রায় করো।ও বলল নাহ,তোমার সাথে
কিছক্ষন গল্প করি প্লিজ...আমি ওর কোনও কথাই
না করতে পারি না।আচ্ছা নির্বাণ,আম্মুর কাছে গিয়ে
তুমি কি বলবা সত্যি করে বলো তো... কি আবার
বলব,গিয়ে বলব শাশুড়ি আপনার মেয়ে তো আমার
উপর অনেক দিন ধরেই ফিদা ,আপনার কন্যা কে
আমার হাত এ তুলে দিন। নির্বাণ আমি তোমার উপর
ফিদা?!!!!!! তুমি কি ধোঁয়া তুলসী পাতা?সেই
ক্লাস ১০ হতে তুমি আমার পিছু লেগে আছো
,এইগুলো কি ভুলে গেছো ?মেয়েটার মুখ
যেনও এখন লাল আভার মত দেখাচ্ছে।
সেই ৫ বছর আগের কাহিনী মেয়েটার এখনো
স্পষ্ট মনে আছে।আসলে আমি ই নিবেদিতার
পিছনে ঘুরঘুর করতাম সারাদিন।মেয়েটা যে আমাকে
তখন কি দেখে পছন্দ করেছিল সৃষ্টিকর্তাই
জানেন শুধু। মেয়েটা আমার লাইফ এ আসার পর
থেকে আমার লাইফ স্টাইল ই চেঞ্জ হয়ে
গেছে। আমি এখন আর অন্য মেয়েদের দিকে
তাকাই না। আর তাকালে কেমন যেনও সব মেয়ের
মাঝে নিবেদিতা কে খুঁজে পাই। আমি আনমনে
কথা গুলো ভাবছিলাম বাস এ বসে। নিবেদিতা
আমাকে বলল ,ওই আমাকে ঘুম আসার কথা বলে
তুমি ঘুমিয়ে পরলে নাকি?আমি ওর দিকে তাকালাম ,কি
সুন্দর ওর চাহনি।
আচ্ছা নিবেদিতা ,কাল রাত থেকে তুমি কিছু
খেয়েছো? হুম খেয়েছি তো।আমার দিকে
তাকিয়ে বলো তো... ও আমার দিকে তাকাতে
পারলো না।জানি ও কাল রাত থেকে কিছু খায় নি।না
খাইলে কি সমস্যা মিটবে নিবেদিতা?আমার কিছু
খেতে ভালো লাগে না বিশ্বাস করো। তুমি এই
ফ্রুটিকা টুকু খাইয়ে ফেলো লক্ষ্মী মেয়ের
মতো।তারপর আমার সাথে কথা বলবা ।ও খেয়ে
ফেললো অর্ধেক টা আর বাকী টা আমার জন্য
রেখে দিলো।আমি ওর মাথার চুল গুলো
এলোমেলো করে দিচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি
আমার লক্ষ্মী নিবেদিতা আমার কাঁধ এ মাথা রেখে
ঘুমিয়ে পড়েছে......।।
আমি পকেট থেকে হেড ফোন টা বের করে
শুনতে লাগলাম রবীন্দ্রনাথ এর
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো
করে কাছি
আমি ডুবতে রাজি আছি আমি ডুবতে রাজি আছি ॥
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি
পিছে গো--
গান শুনতে শুনতে আমি ও কখন যে ঘুমিয়ে
পড়েছি বুঝতেই পারি নি...... প্রায় ১ ঘণ্টা পর
নিবেদিতাই আমাকে ডেকে তুললো।।আর ৩ ঘণ্টা
পর ই নিবেদিতার বাসায় হয়তো পৌঁছিয়ে যাবো।
নিবেদিতা আমাকে বলল প্লিজ তুমি আম্মুকে
কনভেঞ্চ করার ট্রায় করবা ।নিবেদিতার আব্বু মারা
গেছে প্রায় ৮ বছর।তারপর থেকে নিবেদিতার
সব কিছু ওর আম্মু ই করে এসেছে।তাছাড়া
নিবেদিতার বড় বোন টা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে
করেছিল বাসার সবার অমতে।ওর বড় বোনের
সংসার তা ভেঙ্গে গিয়েছিল বিয়ের ২ মাস এর মাথায়।
ওর আম্মু স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের সম্পর্কটা
হয়তো মেনে নিবে না। বিকাল বেলা নিবেদিতা
কে সঙ্গে করে ওর বাসায় গিয়ে হাজির হই।
নিবেদিতার সঙ্গে আমাকে দেখে হয়তো ওর
আম্মু বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। এটাই
স্বাভাবিক।
নিজের মেয়ের সাথে অপরিচিত ১টা ছেলে কে
নিজের বাসায় দেখলে সব মা এর মন ই হয়তো
কেঁদে উঠবে।নিবেদিতার আম্মু ওকে পাশের
ঘর এ গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলল। নিবেদিতা
পাশের ঘর এ গেল। নিবেদিতার আম্মু আমাকে
এসে বলল বাবা তুমি কে? কোথায় থাকো ,কি
কর? বাসায় কে কে আছে, ইত্যাদি নানান প্রশ্ন।
আমি আমার হবু শাশুড়ির প্রতি টা প্রশ্নের ই উত্তর
দিলাম একটু থতমত ভাবে।ভাইবা বোর্ড এত এতো
ভই পাইছি কিনা কোনও কাল এ সন্দেহ আছে।ওর
আম্মু আমাকে বলল বাবা তুমি এসে ভালই
করেছো।কাল কেই আমি ওর রিতু অ্যান্টির
ছেলে আতিক এর সাথে ওর বিয়ে দিবো।তুমি
বন্ধু হিসাবে ওর পাশে থাকলে ভালই হবে।ওর রিতু
আন্টি তো উনার ছেলের জন্য নিবেদিতা কে
অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে
রেখেছে।আর আতিক খুব ভাল
ছেলে,দেখতে সুন্দর , স্মার্ট, নম্র , ভদ্র ।
আমাকে খুব রেস্পেক্ট ও করে। বিদেশ এ
অনেক টাকা ও আছে শুনছি । ওর মতো ভালো
ছেলে পাওয়া ভাগ্যের
বেপার সত্যি।আমি ওর আন্টি কে অনেক আগেই
কথা দিয়ে রেখেছিলাম।
নিবেদিতার পড়ালেখা শেষ করার জন্য এতদিন শুধু
অপেক্ষা করে গেছি। আর আতিক ও নিবেদিতা
কে অনেক ভালবেসে ফেলছে। নিবেদিতার
আম্মুর কথা শুনে আমার কেমন জানি লাগছে । আর
এ এই মহিলা বলে কি? আমার নিবেদিতা কে অন্য
কেউ ভালবাসবে এর মানে কি? আমার হবু শাশুড়ি
এইগুলো আবোল তাবোল কি বলে ?পাশের রুম
হইতে আমার নিবেদিতা সব শুনতে ছিলও মনে হয়।
ও রুম এ এসে চিৎকার করে বলল, আম্মু আমি
নির্বাণ কে ভালোবাসি অনেক।ওর আম্মু সব শুনে
ওইখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো।ওর আম্মু
কে নিয়ে হসপিটাল এ গেলাম। ডক্টর বলল মিনি
স্ট্রোক। রোগী কে মানসিক ভাবে আঘাত
করাই যাবে না।আমার নিবেদিতা সব শুনে পাথর এর
মত স্তব্ধ হয়ে গেল । প্রায় ২ ঘণ্টা পর ও
আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করল।নিবেদিতা
আমার কাঁধ এ মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করলো ।
আমি নিবেদিতা কে বললাম এই পাগলী মেয়ে
কাঁদতিসো কেন?আমি নিজের চোখ এর পানি
লুকিয়ে রেখে আমার নিবেদিতা কে বললাম সব
ভালবাসা কি সব সময় পূর্ণতা পায়?এ জনম এ আমাদের
আর দেখা না হোক , কাঁধ এ মাথা রেখে ঘুমানো
না হোক......... স্বপ্ন বাসর স্বপ্নেই থাক
নিবেদিতা ।
প্লিজ তুমি দুঃখ পেয়ো না। আমি কথা দিচ্ছি
পরজন্মে আমি তোমার সাদা পালক এর হংসী
হবো..................।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now