বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনন্যা ঘুম থেকে উঠে গেল.....
অনন্যাঃ ওই তুই এই খানে কি করিস...??
শাওনঃ তোকে ডাকতে এসেছিলাম, কলেজ যাবি না।
অনন্যাঃ ওই তুই কি কিছু খাইছোস রে....??
শাওনঃ ওই মানে কি...???
অনন্যাঃ হারামজাদা রাত আট টায় কিসের কলেজ।
শাওনঃ নানন...না মানে আমি কলেজ থেকে এলাম তাই তোকে জিজ্ঞেস কছিলাম কলেজ গেলি না কেন...??
অনন্যাঃ ওহ না এমনি যাই নি.... আচ্ছা এখন যা আমি কাজ করবো....
শাওনঃ আচ্ছা তুই কাজ করলে আমাকে যেতে হবে নাকি...??
অনন্যাঃ দেখ আমার মেজাজ খারাপ করিস না, তোর সাথে বক বক করার মত আমার কাছে ফালতু সময় নেই....
কথাটা কেমন শাওনের বুকে জোরেশোরে আঘাত করলো...... শাওন পাথরের মত শক্ত হয়ে গেলো..... অনন্যা উঠে চলে গেলো। আর শাওনের দুচোখ বেয়ে আশ্রু গড়িয়ে পরতে লাগলো। শাওন মনে মনে বলতে লাগলো অনু আজ আমি তোর কাছে ফালতু সময়। অনু এইতো সেদিন বলেছিলি আমাকে ছাড়া তোর সময় কাটে না। অনু আজ তোকে বলতে চেয়েছিলাম আমি তোকে ভালবাসি। অনু আমি কি অপরাধ করলাম যে তুই আমাকে এখন সহ্য করতে পারিস না।
শাওন একটা নিল কাগজে লিখে দিয়ে গেল "অনু আমি যে তোকে ভীষণ ভালবাসি।"
অনন্যা রুমে এসে দেখে একটা নিল কাগজ। অনন্যা কাগজটা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।
এর পর ফেসবুক চালু করতেই দেখে বাপ্পি অনেক গুলো মেসেজ দিয়েছে.... আর সব গুলো মেসেজে লিখা "Sry অনন্যা আমি আর কখনো অন্য মেয়ের সাথে লাইন মারবো না। এই যে মুরগী হয়ে বসে আছি।"
অনন্যা মেসেজ গুলো দেখে অনেক অনেক হাসলো। আর বাপ্পির সাথে কথা বলা শুরু করলো..... তারা দুজোন রাত ২ টা পর্যন্ত কথা বললো।
অনন্যাঃ আচ্ছা বাপ্পি তুমি আমার সাথে দেখা করতে চাও না...??
বাপ্পিঃ হুম অবশ্যই...... হ্যা তবে সময় হলেই আমি তোমার সাথে দেখা করবো আর তোমাকে আমার বুকে করে নিয়ে আসবো।
অনন্যাঃ আচ্ছা তোমার একটা ছবিতো অন্তত আমাকে দেখাবে।
বাপ্পিঃ না গো তুমি এখন আমাকে মনের গহিনে খুঁজতে থাকো, আমি খুব শিগরই তোমার হাতে ধরা দিবো।
অনন্যাঃ বাপ্পি আমি তোমার অপেক্ষায় রইলাম, কখনই আমার বিশ্বাস নষ্ট করো না। Love u a lot......
বাপ্পিঃ আমার ভালবাসা সময়ই বলে দিবে...
এর পর অনন্যা ঘুমিয়ে পরে।
পরের দিন তাড়াহুড়ো করে দুই ক্লাস পরে অনন্যা কলেজ ঢুকে দেখে শাওন বাইরে বসে আছে। অনন্যা দূর থেকে বলে অই শাওন জলদি ক্লাশে চল আর ক্লাসে ঢুকে যায়। শাওন ভেবেই পাচ্ছে না যে তার অনু তাকে ছাড়াই ক্লাসে চলে গেল..?? অনন্যার মধ্যে এতসব পরিবর্তনের মাঝে শাওন নামের ব্যাক্তিটা হারিয়ে যেতে বসেছে.......
শাওন আর ক্লাসে গেলো না। এক ক্লাস পর অনন্যা কলেজ থেকে বেড়িয়ে খুব জলদি হেটে চলে গেল। শাওন সেখানেই বসে লক্ষ করলো বিষয়টা। শাওনের বুকটায় কেমন যেন চিন চিন ব্যথা করতে লাগলো। অনন্যা কলেজের লাইব্রেরিতে বসে পরলো। শাওন বসে পরলো অনন্যার পাশের সিটটাতে। অনন্যা একটু চমকে গিয়ে বললো.....
অনন্যাঃ অই তুই এখানে কি চাস......??
শাওনঃ অনন্যা আজ অন্তত আমাকে একটা মিনিট সময় দে আমি আমার মনের কিছু কথা বলেই চলে যাবো.....
অনন্যাঃ শাওন দেখ তুই আমাকে আর বিরোক্ত করিস না। আমি খুব জরুরি একটা কাজে এসেছি এখানে, আমাকে আমার কাজ করতে দে প্লিজ.....
শাওন আর কিছু না বলেই চোখের পানি আটকে রেখে পাগলের মত চিৎকার করে হাসতে হাসতে বলতে লাগলো....
আজ আমার অনুর কাছে আমি বিরক্তিকর.... আজ যে শাওনকে আর কারো প্রয়োজন নেই। শাওন তো এখন ফালতু আর বিরক্তিকর একটা পদার্থ মাত্র।
কথাগুলো অনন্যার মনে কিছুটা আঘাত হানলো। অনন্যা ভাবতে লাগলো কি হল আবার পাগলটার। অনন্যার কাছে ব্যাপারটা একটু বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়ালো। অনন্যা পিছু নিতে শুরু করলো শাওনের। শাওন হাটতে হাটতে নদীর পাড়ে এসে বসলো আর হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো....
শাওন তার কাধে আলতো ছোয়া পেয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে তার অনু দাঁড়িয়ে....
অনন্যাঃ শাওন দেখ আসলে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি যে আমার অজান্তেই আমি দিন দিন তোর থেকে দূর হয়ে গেছি।
শাওন ছলছল চোখে অনন্যার দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে.....
অনন্যাঃ শাওন আসলে নিজের জন্য একটু আনন্দ খুঁজতে গিয়ে আমাদের বন্ধুত্বে একটু দূরত্ব বেড়ে গেছে, হয়তো তোর প্রতি অনেক অনন্যায় করেছি। শাওন তুই আমাকে একটু সময় দে, দেখিস তুই তোর আগের অনুকে ফিরে পাবি।
শাওনের দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরতেই রইলো......
অনন্যাঃ শাওন প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা কর। আর দেখ এমনিতেও আমার একদিন বিয়ে হয়ে যাবে আর আমাদের মধ্যকার দূরত্বটা তখন আবার কিন্তু বেড়ে যাবে..... এই বলেই অনন্যা উঠে যেতে লাগলে শাওন অনন্যার হাত ধরে বলে.....
শাওনঃ (কাঁদতে কাঁদতে) আচ্ছা অনু তুই আমাকে বিয়ে করে নে না। আমি যে তোকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি।
অনন্যাঃ ধুর তোর কি মাথা খারাপ নাকি... এটা হয় নাকি...??
শাওনঃ কেন হয় না..... আচ্ছা অনু আমি কি তোকে কম ভালবাসবো নাকি.... অনু প্লিজ অনু, অনু, অনু তুই না করিস না অনু। আমি যে তোকে ছাড়া মরেই যাবো।
অনন্যাঃ শাওন পাগলামি করিস না। দেখ আমি তোকে বিয়ে করতে পারবো না।
শাওনঃ থাক অনু আমার জন্য আর তোকে ভাবতে হবে না। তুই যা তোর মত করে বাঁচ, আমি আর তোকে জালাবো না.....
শাওন উঠে হাটা শুরু করলো...... অনন্যা শাওনের এই অবস্থা দেখে নিজের অজান্তেই কাঁদতে শুরু করলো...... মনে মনে বলতে লাগলো শাওন তুই আমাকে মাফ করে দিস। আমি যে অন্য কাউকে ভালবাসি। অনু তোর ভালবাসার যোগ্য না।
অনন্যা বাসায় চলে আসে। রুমে ঢোকার সময় মা ডেকে বসে..... অনু মায়ের পাশে যেয়ে সোফায় বসে.......
মাঃ অনু মা তুই কি কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিতো...??
অনন্যা চুপ করে বসেই আছে..........
মাঃ মা আমার একটা কথা রাখনা না মা। আমি মা হয়ে তোকে অনুরোধ করছি, তুই শাওন কে আর কষ্ট দিস না.......
অনন্যা মাকে জরিয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদে
কেঁদে বলতে লাগলো......
অনন্যাঃ মা শাওন যে অনেক বড় মনের মানুষ, মাগো তোমার মেয়ে শাওনের যোগ্য না...... তোমরা আমাকে মাফ করে দিও মা।
অনন্যা দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। আর ফেসবুকে ঢুকেই বাপ্পিকে মেসেজ করলো...
অনন্যাঃ বাপ্পি, প্লিজ বাপ্পি, তুমি আমার কাছে এসে আমাকে সবার কাছ থেকে মুক্তি দাও নাগো.......
অনেকখন পর রিপ্লাই এলো.....
বাপ্পিঃ অনন্যা একটু ধৈর্য ধর না গো.... আমায় একটু সময় দাওনা গো.... আমি খুব শিগরই আসছি তোমার কাছে।
অনন্যাঃ বেশি দেড়ি করো নাগো... অপেক্ষা করতে করতে তোমার অনন্যা মরেই না যেন যায়.......
বাপ্পিঃ অনন্যা আমার উপর একটু বিশ্বাস রাখো প্লিজ.....
অনন্যাঃ তোমায় কিভাবে বোঝাই বলো, আমি যে নিজের চেয়েও বেশি তোমাকে বিশ্বাস করি.... আমার যে আর দেড়ি সয় না।
বাপ্পিঃ অনন্যা কথা দিলাম আমি তোমায়, আমি যেদিন নারিকেল পাতার নাকফুল বানিয়ে ফেলবো, সেদিনই তোমার কাছে ফিরে আসবো......
অনন্যাঃ তুমি কবে পারবে বানাতে...
বাপ্পিঃ যেদিন তোমার ভালবাসার যোগ্য হতে পারবো........
অনন্যাঃ তোমার অপেক্ষায় রইলাম বাপ্পি...
বাপ্পিঃ আমি আসছি অনন্যা খুব জলদি....
অনন্যা নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে....... সকালে ঘুম থেকে উঠে অনন্যা কলেজ যায়... আজ এক মিনিটও দেড়ি করেনি অনন্যা। সারা কলেজ তন্নতন্ন করে খুজেও কোথাও পায়নি শাওনকে.... সাথে সাথেই চলে গেল শাওনের বাসায়... সেখানেও নেই শাওন। অনন্যা নদীর ঘাটে এসে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো। এখানেও নেই শাওন..... অনন্যা মন খারাপ করে বসে রইলো নদীর পারে। অনন্যার মনে মনে ভাবছে "খুব বেশি কষ্ট দিলাম কি শাওনকে?"
এমন সময় অনন্যা বুঝতে পারলো তার পাশে কেউ বসেছে........
অনন্যাঃ কিরে হারামি কই ছিলি তুই....??
শাওনঃ জেনে কি হবে...??
অনন্যাঃ রাগ করেছিস আমার সাথে তাই না.....??
শাওনঃ না করিনি......
অনন্যাঃ কেন করিস না তুই রাগ.....??
শাওনঃ (কেঁদে কেঁদে) অনু আমি যে তোর মুখটা না দেখে থাকতে পারি না। তোর কাছে না এলে আমার যে ভীষণ কষ্ট হয়।.
.....চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now