বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনন্যাঃ Hi.....
বাপ্পিঃ hi Madam....
অনন্যাঃ হাহাহা....
বাপ্পিঃ অকি কান্দো কে.......
অনন্যাঃ অই আপনার কি মাথায় সমস্যা নাকি...??
বাপ্পিঃ কেন কেন...??
অনন্যাঃ না এমনি.... আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করলে রাগ করবেন আপনি.....??
বাপ্পিঃ করতেও পারি... কিন্তু মনে হয় করবো না।
অনন্যাঃ হুহ আপনি আসলেই পাগল.. আচ্ছা আপনি কি সত্যি নারিকেল পাতার নাকফুল বানাচ্ছেন....??
বাপ্পিঃ হুম বানাচ্ছি.... কিন্তু কেন..??
অনন্যাঃ না এমনি....আচ্ছা কার জন্য বানাচ্ছেন...??
বাপ্পিঃ হুমম... আসলে অনেক গুলো মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করতেছি... যেটাকে পটাতে পারবো তাকেই পড়িয়ে দিবো.....
অনন্যাঃ ইসসস......বললেই হলো।
বাপ্পিঃ মামম....মানে মানে.....??
অনন্যাঃ bye, bye......
বলেই অনন্যা ফেসবুক থেকে বের হয়ে গেলো। অনন্যার একটু খারাপ লাগলো। সে ভাবলো নাকফুল শুধু আমার।
তখনই শাওন দৌড়ে এসে অনন্যাকে বললো।
শাওনঃ অনু আমার জানু, তোর জন্য একটা দুই নাম্বার খবর আছে.......
শাওন আর অনন্যার জন্য দুই নাম্বার খবর মানে অনেক বেশি খুশির খবর। কিন্তু অনন্যা চুপ হয়ে আছে। ওর ভাবনায় এখন শুধু নারিকেল পাতার নাকফুল আর বাপ্পি। শাওন কিছুটা অবাক অনন্যা কিছু বলছে না। শাওন একটু উদ্বিগ্ন চেহারাহ.......
শাওনঃ অনু তোর কি মন খারাপ। কি হয়েছে অনু। তোর শরীর খারাপ হয়েছে নাকি......??
অনন্যাঃ (মাথা নিচু করে) নারে এমনি কিছু হয়নি।
শাওনঃ তাহলে কি হয়েছে বলনা অনু।
অনন্যাঃ উফফফ... বিরক্ত করিস না। ভাল লাগছে না।
বলেই অনন্যা চলে গেলো। শাওন একটু কষ্ট পেল আর অবাকও হলো....
দুই নাম্বার খবরের কথা শুনলেতো তার অনু খুশিতে পাগল হয়ে যেতো। শাওন মনে মনে বলতে লাগলো.... অনু তুই যদি শুনতি আজকের খবরটা তুই সত্যিই আজ পাগল হয়ে যেতি। অনু আমার জানু মাযে তোকে আমার বউ করতে চায়। যাক যখন তোর মন ভাল হবে তখনই বলবো তোকে।
অনন্যা রাতে আবার ফেসবুকে বসে বাপ্পির প্রোফাইলে ঢুকে দেখে নতুন একটি কবিতা।
কবিতাঃ চেহারা ভালো না......
মেয়ে তোরে ভালবাসতে চাই, চাই গো অনেক বেশি...
তাইতো তোরে পটাতে চাই সকাল সন্ধ্যা রাতে...
মেয়ে বলনা তুই কোন দোষেতে আমায় মন দিলি না...
মেয়ে আমার চেহারা ভাল না, তাই বলে মনতো কালো না....
চেহারা ভাল না, চেহারা ভালো না, এই কথা শুনবো আর কত...
মেয়ে তুই কি চাস ভালবেসেই তোর কাছে মাথা রাখতে হবে নত...
আচ্ছা বলোনা কেন আজো তোমায় পাওয়া হলো না...
দোষ যে শুধু একটাই, দেখতে আমার চেহারা ভালো না...
মেয়ে কলিজাতে ব্যেথা করছে যে অনেক খানি বেশি....
কসম তোরে একই রকম ভালবাসবো বয়স হলেও আশি....
মেয়ে আমায় এই একই দোষে তুই আর দূর করিস না....
মেয়ে আমার চেহারা ভাল না বলে আর কষ্ট দিস না....
আমি যে মেয়ে তোর ভালবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল.....
তাই তোর নাকে তুলে দিতে চাই খুব মিষ্ট একটা নাকফুল....
কসম মেয়ে আমি তোরে কম ভালবাসবো না একচুল.....
তাই তো খুব যতনে তোর জন্য বানাচ্ছি নারিকেল পাতার নাকফুল.....
অনন্যা কবিতাটা পড়ে অনেক হাসলো। আর বাপ্পিকে মেসেজ কললো.........
অনন্যাঃ অই পাগল.......
বাপ্পিঃ হাহাহা..... এসে গেছে পাগলের ডাক্তার.....
অনন্যা হাসছে আর লিখছে.....
অনন্যাঃ আচ্ছা দেখি তো তোমার চেহারা কেমন খারাপ......
বাপ্পিঃ আল্লাহ্ আল্লাহ্ কি কয়......... কত কষ্ট করে লাইনে আনছি। এই হিরো আলমের মত চেহারা দেখাইয়া কি হারাবো নাকি.....
অনন্যা মুচকি মুচকি হাসছে.....
অনন্যাঃ অই অই লাইনে আনছি মানে কি...??
বাপ্পিঃ না না না কিছু না কিছু না.... আসলে বলতে চাইছিলাম যে আমার মুখ দেখলে তো বিপদ তখন অন্য মেয়ে পটাইতে দিবা না....
অনন্যাঃ উফফ বদের হাড্ডি আর জীবনেও কথা বলবো না....... bye.
বলেই ফেসবুক থেকে বের হয়ে গেলো অনন্যা।
অনন্যা বাপ্পির মুখ থেকে অন্য মেয়ের কথা শুনলেই রেগে যায়। অনন্যা রেগে লাল আর মনে মনে বলে.... শালা আমার সাথে লাইন মারো আবার অন্য মেয়ের কথা বলো.. তোরে পাইলে হাড্ডি ভাইঙ্গা গুড্ডি উড়াইতাম। অনন্যার মাথা দিয়ে অদৃশ্য লাল লাল ধুয়া উঠতে ছিলো। তখনই অনন্যার মা অনন্যাকে বললো মা আমার জন্য এক কাপ চা দিয়ে যা। অনন্যা পুরো গরম, চিৎকার করে বলতে লাগলো যদি কেউ আর একবার আমাকে ডাক দেয় তাহলে জানে মেরে ফেলবো। আসলে চা টা শাওনের জন্য আনতে বলে ছিলো। শাওন একটু চিনতিতো অনুর কি হলো। শাওন হাটতে হাটতে অনন্যার রুমে গেলো.....
শাওনঃ অনু আমার জানু, কি হয়েছে রে তোর। তুই এমন করছিস কেনো.....??
অনন্যাঃ তুই এই খান থেকে যাবি না আমি মেরে তাড়াবো তোকে.....??
শাওন নির্বাক তার অনুকে দেখে। যে অনু শাওনকে না দেখে এক মুহুর্ত থাকতে পারতো না, সে আজ এতটাই খারাপ ব্যবহার কি করে করছে। শাওন অশ্রুসিক্ত চোখ মুছতে মুছতে চলে যাচ্ছিলো আর মনে মনে বলছিলো আজ যে আমি তোর মাকে বলতে এসেছিলাম তোকে বিয়ে করবো। কিন্তু আমার জন্য অনু তোর সময় হলো না.....
অনন্যা রাগে কিটমিট করতে করতে রাগে পাগল হতে লাগলো...... অনন্যা সারা রাত আর ঘুমালো না। শাওন বেলা ১১:৩০ মিনিটে অনন্যার বাসায় এলো তার অনুকে কলেজে নিয়ে যেতে.... শাওন সরাসরি অনুর রুমে ঢুকে গেল। যেয়েই শাওন তার ঘুমন্ত অনুকে দেখে তার প্রেমে বিভোর হয়ে গেলো। অনন্যার ঘুমন্ত মুখটা দেখে শাওনের ইচ্ছে করতে লাগলো এই মায়াবি মুখটাকে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে, যেন এই ঘুম আর না ভাঙে আর শাওন তার অনুর এই মায়াবি মুখটা সারা জীবন অপলোক দৃষ্টিতে দেখতে পারে।
অনন্যার মা পিছন থেকে শাওনের কাধে হাত রেখে বললো বাবা চারটা বেজে গেছে। আর কতখন এভাবে বসে বসে দেখবে ওকে।
মা আস্তে আস্তে বলেন। মা আমিতো আমার অনুকে সারা জীবন এভাবেই চোখে চোখে রাখতে চাই। একথা বলেই হাতের ইশারা দিয়ে অনন্যার মাকে বেড় করে দিল। আর শাওন গালে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে তার অনুকে অপলোক দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now