বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তাদের একজন বাঁ পাশে ফিরে কাঁত হয়ে শুয়ে— ব্যস্তসমস্ত কয়েকটা আঙুল, চোখের উপর জেগে থাকা একটা মোবাইল ফোন। অপর জন তার পিঠ থেকে হাত খানিক দূরে— বন্ধ চোখ, নিশ্চুপ শরীর। মনে হয় ঘুমে।
দু'জন মানুষের ঘর। ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা। গভীরে এগোচ্ছে রাত, নিস্তব্ধতাও। এগোতে এগোতে হঠাৎ চমকে উঠলো নিস্তব্ধতা— পুরুষ বললো, 'এই!'
নিস্তব্ধতার গতি শ্লথ হলো— নারী বললো, 'হুঁ।'
'আমার ঘুম আসছে না।'
'চেষ্টা করো। আসবে।'
'সেই তখন থেকে চোখ বুজে পড়ে আছি। সেই চোখ বুজেই আছি। আর কিছু না।'
পূর্বগতি ফিরে পেলো নিস্তব্ধতা। এগোতে এগোতে আবার চমকে উঠলো কিঞ্চিৎ পর— পুরুষ বললো, 'এই!'
এবং আবার শ্লথ হলো নিস্তব্ধতা— নারী বললো, 'বলো।'
'আমাকে একটু ঘুম পাড়ায়ে দিবা?'
'এদিকে সরে আসো। আমাকে জড়ায়ে ধরো।'
পুরুষ হাত বাড়ালো। তারপর কথা বললো। তার কণ্ঠে অনুযোগ— 'তুমি তো ওদিকে কাঁত হয়ে আছো!'
নারীর কাঁতশরীর স্বাভাবিক হলো। কিন্তু তখনো তার আঙুলগুলো ব্যস্ত, মোবাইল ফোনটা জাগ্রত চোখের উপর। এবং পুরুষ? তখনো তার চোখ বন্ধ, তবে একটা হাত আগুয়ান। হাতটা এগোতে এগোতে নারীর একটা স্তনের উপর গিয়ে পড়লো অসাবধান। নড়লো না তারপর। শুধু নড়ে উঠলো কণ্ঠটা— প্রায় প্রার্থনা করে পুরুষ বললো, 'বুকটা দিবা?'
নারী ভাবলেশহীন। নির্বিকার। বললো, 'আসো। মাথা রাখো।'
মাথাটা আলতো করে উঠে গেলো নারীর বুকে। তারপর আবার পুরুষ— নিশ্চল শরীর, পূর্ববন্ধ চোখ। এবং নারী? তখনো তার আঙুলগুলো ব্যস্ত, চোখ দুটো জাগ্রত মোবাইল ফোনে স্থির।
এবং নিস্তব্ধতা? এগোতে থাকলো। এগোতে থাকলো। গভীরে। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো আবার— পুরুষের কণ্ঠে পুনশ্চ অনুযোগ— 'তুমি কই?'
নিস্তব্ধতা এগোতে গিয়েও আর এগোতে পারলো না— দাঁড়িয়ে রইলো থম্ মেরে— নারীর কণ্ঠে বিরক্তি— 'মানে কী! আমার বুকে শুয়ে থেকে আবার আমাকেই জিজ্ঞেস করছো— আমি কই!'
পুরুষের আরো একবার মনে হলো— তার মাথার নিচে স্রেফ একটা বুক আছে— আর কিছু নেই। সে বললো, 'আমার মাথার তলায় তোমার বুক আছে। বুকের ভেতর তুমি তো নেই।'
নারীর কণ্ঠ এবার আরো একটু বিরক্তি পেলো— বললো, 'নামো। নেমে শোও। ঘুমোও।'
পরপরই পুরুষের কণ্ঠে প্রায় আর্তনাদ— পুরুষ বললো, 'বুকটা সরায়ে নিবা? মাথাটা যে একলা হয়ে যাবে!'
নারীর বিরক্তকণ্ঠ এবার নিশ্চুপ। নীরব। পুরুষের কণ্ঠ সরব। এবং সে কণ্ঠে প্রার্থনাও— 'তুমি আসো না তোমার বুকের ভেতর!'
নারীর কণ্ঠ তখনো নীরব এবং পুরুষের— সরব। পুরুষ গভীরভাবে বিড়বিড় করে বলে যেতে থাকলো— "আমি চাই আমার জীবনক্লান্ত মাথার তলায় তোমার বুক। তোমার বুকের ভেতর মানুষের মন। মানুষের মনের গহীনে পৃথিবীর তাবৎ মায়া। মায়ার সমস্ত মমতায় আমার বিমুগ্ধ চলাচল। আমি চাই, আমার 'তুমি'টুকু জুড়ে সেইসব মায়া— কেবলই মায়া।"
দৈবাৎ, কোথাও ঘটে গেলো কিছু, নারীর। ভেতরে কোথাও জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গেলো কোনো অঞ্চল। নারী এ কী করছে— তার বুকের ওপরে প্রার্থনারত পুরুষ, তারই পুরুষ, অথচ চোখের সামনে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ফেইসবুক-ম্যাসেঞ্জারের ম্যাসেজবক্সে পরপুরুষ! কী করছে সে এ! ছি! ছি!
সঙ্গে সঙ্গে কম্পিত হাতে নারী লিখলো— "আমি একটাই নারী। আমার পুরুষও একটাই। আর কোনো পুরুষের সাথে কোনো জন্মেও কথা হবে না আর। বিদায়।"
এবং তারপর, মোবাইল ফোনটার স্ক্রিনে নেমে এলো রাত্রির অন্ধকার, পুরুষের চুলের ভেতর নেমে এলো সমূহ আঙুল। ঈষৎ তপ্ত জলে ভরে ভরে উঠতে থাকলো নারীর চোখের কার্নিশ। পুরুষের মাথাটা দু'হাতে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে চুলের ভেতর চুমু দিতে দিতে সে দেখলো— ক্রমশ মমতায় বুকটা তার শীতল হয়ে আসছে! ফিরে আসছে নারী তার বুকের ভেতরে! ফিরে আসছে নারী তার নিজের গহীনে!
কে জানে— ঈশ্বরও এতোটা মমতা ধারণ করেন কি-না, ছোট্ট একটা বুকের ভেতর যতোটা ধরে রাখে নারী!
.
ততোক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে পুরুষ— জেগে আছে নারী ও নিস্তব্ধতা।
.
.
---------------------------------
প্রেম-অপ্রেমের গল্প—
নারী ও নিস্তব্ধতা । সুপণ শাহরিয়ার
২৫ ডিসেম্বর ২০১৬
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now