বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
**নামহীন ভালোবাসা**
"জানো,আমি যতই অসুস্থ থাকি না কেন , তোমার কথা শুনলে আমি একদম সুস্থ হয়ে যাই ।" আবেগ জড়ানো কন্ঠে ক্যান্সারে আক্রান্ত মহুয়া তার ভালোবাসার মানুষ অনিককে বলল । ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অনিক বলল,"আমি জানি । আচ্ছা শোন,আমি তোমাকে একটু পরে ফোন দিচ্ছি , বাই ।"
ফোন কেটে দিল অনিক ।
ওর আর মহুয়ার সম্পর্কটা এক বছরের মত হবে । গত দু মাস যাবত মহুয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে ।
হঠাৎ ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠলো অনিকের ফোন । ফোন রিসিভ করে অনিক বলল,
- কিরে রাতুল কেমন আছিস ।
- ভালো । তোর কি অবস্থা ?
- আর বলিস না দোস্ত । মহুয়াটার ক্যান্সার । দু’দিন বাদে মরে যাবে । ওকে ভালোবেসে কি লাভ বল ? তুই একটা মেয়ে খুঁজে দে না । প্রেম করবো ।
- ঠিক আছে তুই চিন্তা করিসনা দোস্ত আমি দেখি কি করা যায় ?
কিছুদিনবাদে অনিক মহুয়াকে ফোন দেয় । মহুয়া বলল,
- এতদিন পর আমার কথা মনে পড়লো তোমার ? আমি তোমাকে কত ফোন দিয়েছি। তুমি একটা কলও রিসিভ কর নি ।
- সরি । আসলে আমি পড়াশুনা নিয়ে একটু ব্যস্ত ছিলাম । কাল তোমাকে হাসপাতালে দেখতে যাবো ।
- সত্যি বাবু ?
- হা সত্যি ।
পরদিন মহুয়া সুন্দর করে সাজলো । মাথায় তেমন চুল নেই তারপরও অল্প চুলই বেণী করলো । অনিকের পছন্দের নীল ড্রেস পড়লো । সকাল থেকেই অপেক্ষা করতে লাগলো অনিকের জন্য । আর ভাবতে লাগলো ওর আর অনিকের প্রথম দেখা করার কথা । সেদিনও মহুয়া নীল ড্রেস পড়েছিল । সেদিন অনিক খুব সুন্দর চুলের স্টাইল করে এসেছিল । আর মহুয়া অনিকের সবগুলো চুল এলোমেলো করে দিয়েছিল। একটুও রাগ করে নি অনিক । মহুয়া ভাবলো আজও অনিকের চুলগুলো ও এলোমেলো করে দিবে । কিন্তু অনিক আসলো না । ও রাতুলের ঠিক করা মেয়ের সাথে পার্কে দেখা করতে গেল । মেয়েটার নাম অনামিকা । মহুয়ার থেকেও অনেক সুন্দরী । সারাদিন ওরা অনেক ঘুরলো, মজা করলো । মহুয়া অনিককে অনেকবার ফোন দিল কিন্তু অনিকের ফোন সুইচ অফ ছিল । বাসায় ফিরে অনিক ফোন অন করলো ঠিকই কিন্তু মহুয়াকে আর ফোন দিল না ।
এভাবে বেশকিছুদিন কেটে গেল ।
অনিক এখন অনামিকার সাথেই সারাদিন ঘুরে, ফোনে কথা বলে । কিন্তু অনিক কিসের যেন অভাব অনুভব করে । কিন্তু ও খুঁজে পায় না । সেদিন রাতে অনেক ভেবে ও বুঝতে পারলো আসলে মহুয়া ওকে যতটা ভালোবাসে অনামিকা ওকে সেরকমভাবে ভালোবাসে না । আজকে কেন যেন ওর মহুয়ার কথা খুব মনে পড়ছে । ও মহুয়াকে ফোন দিল । কিন্তু মহুয়ার ফোনটা অফ ।
পরদিন সকালে অনিক হাসপাতালে যায় । মহুয়া আই সি ইউ তে ভর্তি । ধীর পায়ে ও মহুয়ার কাছে গেল । মহুয়ার পাশে বসতেই চোখ খুলল মহুয়া । অনিককে দেখে মহুয়া উঠে বসতে চাইলো । কিন্তু পারলো না । একটু হাসি দিয়ে বলল,"তুমি এসেছো ? দেখো তুমি আসবে বলে আমি তোমার প্রিয় নীল ড্রেস পড়েছি । তুমি কিন্তু এখন থেকে প্রতিদিন আমাকে দেখতে আসবে ।" অনিক কিছু না বলে এক দৃষ্টিতে মহুয়ার দিকে তাকিঁয়ে রইলো । গাল বেয়ে দু’ফোঁটা অশ্রু পড়লো ওর । মহুয়া বলল,"কাদঁছো কেন ? তোমাকে দেখার পর আমি ভাল হয়ে গেছি তো । বাবু,তোমার মাথাটা একটু আমার কাছে আনো না ।"
অনিক মহুয়ার কাছে আসতেই মহুয়া ওর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে হাসতে চেষ্টা করলো । অনিক মহুয়ার হাতদুটি ধরে কাদঁতে লাগলো । মহুয়া বলল,"প্রতিদিন আমাকে দেখতে আসবে তো ?" আর কিছু বলতে পারলো না । কথা বন্ধ হয়ে গেল মহুয়ার । নিস্তেজ হয়ে গেল হাতগুলো ।
এরপর থেকে অনিক প্রতিদিন মহুয়ার কবরের কাছে আসে । কারণ মহুয়া যে ওকে বলেছিল প্রতিদিন ওকে দেখতে আসতে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now