বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাইকো থ্রিলারঃ নামহীন
লিখেছেনঃ আবির আহম্মেদ পিয়াস
ছোট্ট একটা ঘর । বিশাল একটা প্রাসাদের ভেতরে , অদ্ভুত ভাবে লুকানো একটা ঘর । এটা একটা স্টাডি রুম । এখানে বসে সব ভয়ংকর লেখাগুলো লিখেন বিজয় মজুমদার । পুরো বাসায় যে কেও ঘুরতে পারবে , এই ঘরটা বাদে । কাওকে এলাও করা হয় না এই ঘরটায় । কারণ , এই ঘরে লুকানো থাকে তার লেখার উপকরণ ।
ঘরটা অসম্ভব রকমের সাউন্ডপ্রুভ করে বানানো । ভেতরে কি হয় , কেও সারাদিন দেয়ালে কান পেতে শুনতে চাইলেও , শোনা সম্ভব না । মনোযোগ দেয়ার জন্যই হয়তো , ঘরটা এভাবে বানানো । সবাই তাই বলে । তবে আসমল কারণটা ভীষণ ভয়াবহ !
বিজয় মজুমদারের লেখালেখির সময় হয়ে এসেছে । রাতের এই সময়টাতে , সে লিখতে পছন্দ করে । ঘর থেকে একজগ পানি , একটা ধারালো ছুরি , আর একটা লাঠি নিয়ে , স্টাডি রুমের দিকে রওনা দেয় সে ।
এমন সময় , পকেটের মোবাইলটা বেজে উঠে বিজয়ের । মোবাইলটা স্টাডি রুমে ঢুকার আগেই একটা ড্রয়ারে রেখে দেয় বিজয় । কিন্তু ফোনটা এলো একদম ড্রয়ারে মোবাইলটা ঢোকানোর আগেই ! বাধ্য হয়ে , ফোনটা রিসিভ করে সে ।
' হ্যালো ? '
' এটাকি বিজয় মজুমদারের নাম্বার ? '
ওপাশ থেকে মিষ্টি একটা মেয়ের কন্ঠ , বিজয়কে ঘাবরে দিতে পারে না ।
ও খুব স্বাভাবিকভাবেই বলে , জ্বি আমি বিজয় মজুমদার বলছি ।
' ও মাই গড ! বিজয় মজুমদার ! আমি আপনার লেখার একজন বিগ ফ্যান . . . '
' ও । আর কিছু ? '
' আপনার লেখাগুলো অসম্ভব রকমের রিয়েলিস্টিক ! আপনি এতো সুন্দর করে মলিখেন কি করে ? '
' দেখুন আমি একটু ব্যস্ত আছি , আপনি যদি প্লিজ আমাকে একটু পরে ফোন দেন . . . . '
' ও ! . . . তাহলে আমি আপনাকে পরে ফোন দিবো ? '
' আজকে আর ফোন না দিলে খুশি হবো । '
ওপাশ থেকে আর কথা বলছে না মেয়েটা । মেয়েটার জন্য অপেক্ষা না করে , ফোনটা কেটে দেয় বিজয় ।
মোবাইলটা সুইচ অফ করে দেয় ও তখনি । এরকম কল সারাদিনই আসে , নিজের লেখার জন্য যখন প্রয়োজন হয় , তখনই এই মেয়েদের সাথে কথা বমলে বিজয় , এমনে ও মেয়েদের সাথে কথাও বলে না !
স্টাডি রুমে ঢুকে , দরজা বন্ধ করে দেয় বিজয় । ঘরের সব কয়টা লাইট জ্বালিয়ে দেয় সে ।
কেমন আছো মিম ?
একটি হাত পা বেধে রাখা মেয়েকে প্রশ্ন করে বিজয় । বিজয়ের অনেকগুলো মেয়ে ফ্যানদের মধ্যে এও একজন । এক সপ্তাহের চেয়ে একটু বেশিদিন , মানে দশ দিন ধরে , এখানে আছে সে । ওকে নিয়েই সে নিজের পরবর্তী গল্পটা লিখবে ।
মিমের পাশে যায় বিজয় ।
ভালভাবে দেখে নেয় সে মেয়েটাকে । মুখটা একদম শুকনো , গত দশদিন পানি বাদে কিছুই খাওয়া হয় নি ওর । পিঠের চামরা কিছু জায়গা দিয়ে তুলে ফেলা , পায়ের চামরারও একই অবস্থা । সারা শরীরে প্রহারের চিন্হ । চোখের নিচে কালশিটে দাগ , কপালের চামরাও তুলে ফেলা হয়েছে ধারালো ছুরি দিয়ে ।
এখন কেমন লাগছে তোমার ?
মিম কিছু বলে , কিন্তু বিজয় সেটা শুনতে পায় না । খুব ক্ষীণ আওয়াজ !
কিছু বললে ?
পা. . নি !
পানি খাবে ?
মিম হ্যা সুচক মাথা দোলায় ।
কয়দিন ধরে তোমাকে পানি খাওয়াইনি বলতে পারো ?
না সুচক মাথা দোলায় মিম ।
শোন মিম , তোমাকে দুইদিন পানিও দেয়া হয়নি । আজ তোমাকে পানি দেয়া হবে । পানি আমি তোমার গায়ে ঢেলে দিবো , তুমি পানিটা চেটে খাবে । ঠিক আছে ?
মেয়েটা অসহায়ের মত বিজয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে । চোখ দিয়ে পানি ঝরে । একবার শুধু বলে ' একটু পানি ! '
বিজয় পানি নিয়ে আসে । জগভর্তি পানি , মিমের মাথায় ঢেলে দেয় সে ।
মেয়েটা পাগলের মত যতটুকু পারে , চেটে চেটে পানি খেতে থাকে । বিজয় অবাক হয়ে যায় । মনে হচ্ছে , মেয়েটা যেন নিজেই নিজেকে চুমু খাচ্ছে !
জিনিসগুলো নোট করে রাখে বিজয় । এই লেখাটা ওর পরের বইয়ে থাকবে ।
মেয়েটা মেঝেতে পরে থাকা পানি , পায়ে লাগিয়ে , মুখে আনার চেষ্টা করছে । কিন্তু পারছে না । এতো উপরে সে পা উঠাতে পারছে না ।
মেয়েটার ব্যর্থ চেষ্টা দেখে বিজয়ের খারাপ লাগে । মেয়েটা শুধু একবার বলে উঠে ' আরেকটু ! '
বিজয় বুঝে , এটুকু পানিতে ওর হয় নি । আরও পানি চায় সে । পানির আকুতি জানিয়ে মেয়েটা তখন কাঁদছে । এতটুকুতে ওর হচ্ছে না
মেয়েটার গলার জোর একটু বেরেছে । দুর থেকেই কথা শোনা যাচ্ছে । বিজয় এগিয়ে যায় ওর সামনে ।
দুইদিন পর পানি খেলে , কেমন মলাগছে ?
পিপাসা বেরে গেছে । প্লিজ আমাকে একটু পানি দিন !
এটুকু পানি খেয়ে ওর পিপাসা কমে নি , বরং বেরেছে ! ইন্টারেস্টিং ! বিজয় নোট করে রাখে বিষয়টা ।
বিজয় ওর লাঠিটা নিয়ে আসে এবার । লাঠিটা দেখে , প্রচন্ড ছটফট করতে থাকে মিম । ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে সে ।
' প্লিজ আমাকে মারবেন না প্লিজ ! আমার ঘা এখনও শুকোয় নি ! '
' এটাই তো জানতে চাই , কাঁচা ঘায়ের উপর প্রহার করলে কতটা ব্যথা হয় . . . '
' না না . . '
কথা শোনার আগেই , প্রচন্ড শক্তি প্রয়োগ করে মেয়েটাকে পিটাতে থাকে বিজয় । হাত বাধা অবস্থায় কিছুই করতে পারে না মিম , শুধু চিতকার করতে পারে । কাচা ঘা থেকে রক্ত বের হচ্ছে । কোন ঘা পিটানোর ফলে , কোন ঘা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলা জায়গায় হয়েছে ।
পাঁচ মিনিট চলে যায় মুহুর্তেই । কিন্তু সেটা বিজয়ের জন্যে । মিমের কাছে সেটা ছিলো ঘন্টার সমান ।
' এখন বলো কেমন লাগছে । '
মেয়েটা কাঁদে , কোন কথা বলে না । আস্তে আস্তে মেয়েটা চেতনা হারিয়ে ফেলে । বিজয়ের ঘেমে যাওয়া শার্টে ছিটে রক্ত লেগে গেছে । এ অবস্থায় , আর কাজ করতে মন চাইলো না তার . .
...................................................................................................
পরেরদিনও আর লেখা হয় না বিজয়ের । মেয়েটা মারা গেছে । না খেতে পেয়ে , অতিরিক্ত প্রহারে , মানসিক কষ্টে , মিম মারা গিয়েছে ।
প্রতিবারের মত , ওকেও এসিডে চুবিয়ে রেখেছে বিজয় । শরীরের মাংস পুরোপুরি গলে গেলে শুধু কঙ্কালটা পরে থাকবে । এখন পর্যন্ত সাতাইশ জনের কঙ্কাল বানিয়েছে ও এভাবে , প্রত্যেকেরই কোন না কোন একটা হার ভাঙ্গা ছিলো । মিমের পা , হাতের কব্জি , ঘার , মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে । দুটো পায়ের পাতাই পা থেকে ডিসলোকেটেড । মাংস গলা হয়ে গেলে , এসিডটা রাতে নদীর ধারে একটা বর্জ্য পদার্থ ফেলার নালায় ফেলে দিবে ।
নদীতে সরাসরি ফেলাটা রিস্ক , তাই এভাবেই এসিডে গলা মাংস ফেলে দিয়ে আসে ও ।
আপাতত এটা নিয়ে টেনশন নেই বিজয়ের । গল্পটা শেষ করার আগেই মেয়েটা মারা গেলো , এটাই ওর টেনশনের বিষয় । এখন ও কি করবে ?
কি যেন ভেবে , মোবাইলটাতে সেই রাতে কল করা মেয়েটার নাম্বার খুজে বিজয় । একটু খুজে পেয়ে যায় নাম্বারটা ।
ওপাশ থেকে মেয়েটা উল্লাসে ফেটে পরে !
' ও মাই গড ! আপনি আমাকে কল করেছেন ! আমার বিশ্বাস হচ্ছে না . . . '
' আসলে সেদিন রাতে আপনার সাথে কথা বলা হয় নি ব্যস্ততার জন্য , তাই আজকে ফোন করলাম । আপনি সেদিন কিছু মনে করেন নি তো ? '
' না না , কি যে বলেন ! আপনি কত ব্যস্ত মানুষ . . . '
' আপনার নামটা কি জানতে পারি ? '
' অনন্যা । . . . . আপনি আমার নাম জানতে চাইলেন ! আমার কিছুই বিশ্বাস হচ্ছে না ! '
' আসলে আপনার কন্ঠটা ভীষণ মিষ্টি , তাই আপনার নাম জানতে চাইলাম । '
' সত্যি ! ' মেয়েটার আবার উল্লাসে ফেটে পরে ।
' আচ্ছা আমরা কি দেখা করতে পারি ? '
ওপাশ থেকে কোন উত্তর আসে না ।
বিজয় বুঝতে পারে , অনন্যা অতিরিক্ত শকড । এভাবে প্রস্তাব পেলে যে কেও অবাক হয়ে যায় , আগেও এরকমই হয়েছে ।
' আপনি কি আমাকে শুনতে পারছেন অনন্যা ? '
' আপনি আমার সাথে দেখা করতে চান !!! '
' হ্যা । তবে আপনি না চাইলে সমস্যা নেই . . . '
' না না না ! আমি দেখা করবো ! কখন কোথায় দেখা করবেন বলেন আমি দেখা করবো ! '
' আগামীকাল । আপনি আমার বাসায় আসবেন । আসলে বাইরে ঘুরাঘুরি করলে মানুষরা কি ভাববে বুঝতেই পারছেন ! '
' হ্যা হ্যা আমি বুঝতে পারছি ! আমি আপনার বাসাতেই আসবো !!! '
' আরেকটা কথা । '
' হ্যা বলুন । '
' আপনি যে আগামীকাল আমার সাথে দেখা করবেন , এটা কাওকে বলবেন না । আপনার ফ্যামিলির লোকদেরও না ! কেও যদি খবরটা ছরায় , তাহলে আমার আপনার দুজনেরই সমস্যা । '
' ঠিক আছে আমি কাওকে বলবো না । '
' একটা অনুরোধ । '
' জ্বি বলুন । '
' আমাকে তুমি করে বলবেন প্লিজ । '
আবার ওপাশ নিরব । বিজয় কথার জন্য ওয়েট করে না , বাই বলে ফোনটা কেটে দেয় ।
এখন ওকে অনেক কাজ করতে হবে । এতক্ষনে হয়তো কঙ্কাল বেরিয়ে গিয়েছে মিমের । এসিড সাবধানে জারে ভরতে হবে । স্টাডি রুমটা পরিষ্কার করতে হবে । আফটার অল , অনন্যা কাল থেকে ওর নতুন গল্প লেখার উপকরন হতে চলেছে . . . .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now