বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ নামাজ অতঃপর পরিবর্তন
.
.
- ঈমান ঠিক না থাকলে নামাজ পড়ে কি হবে?!
- মানে?
- মানে অনেককেই দেখি মানুষের সাথে প্রতারণা করে, চুরি আরে, ঝগড়া করে! আবার আজানের পর মসজিদেও যায়!!! এই নামাজ পড়ে কি হবে বাবা?
- চাচা কোরআনে আছে, "নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে!"
কিন্তু শর্ত হলো, নামাজের মত নামাজ পড়া!
- সেটা কিভাবে?
- তদবিরওয়ালার সহিত নামাজ পড়া।
চাচা একটা কথা বলি শুনেন, একজন মানুষ যতো খারাপই হোকনা কেন, সে যদি ৪১দিন তদবিরওয়ালার সহিত জামাতে নামাজ আদায় করে, তাহলে তার পরিবর্তন নিশ্চিত।
.
এবার চাচা একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন! বললেন....
- খারাপ মানুষ ভালো হয়ে যাবে?
- হ্যা চাচা ভালো হয়ে যাবে! একটা ঘটনা বলবো, শুনবেন?
- হ্যা বাবা বলো......
- অনেকদিন আগে এক রাজা তার মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পরামর্শ করছে। এমন সময় সেখানে একটি চোর উপস্থিত! সে এসেছিল রাজার ঘর থেকে চুরি করতে! কিন্তু তখন আড়ালে লুকিয়ে তাদের কথা শুনছে।
রাজা কাউকে আদেশ দিয়ে বলছে, - মসজিদে লক্ষ্য রেখে দেখো, যে ছেলে ৪১ দিন পর্যন্ত সবার আগে মসজিদে ঢুকে আর সবার পরে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়, তার সাথেই আমার মেয়ের বিবাহ্ দেওয়া হবে।
.
কথাগুলো শুনে আড়াল থেকে চোর ছেলেটি লাফিয়ে উঠলো! আর ভাবতে লাগলো, - এবার সামান্য কিছু নয়, পুরো রাজ্যটাই আমার হবে!
সেই প্রচেষ্টায়, চোর ছেলেটি সবার আগে মসজিদে যায় আর সবার পর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়।
এভাবে ৪১দিন কেটে গেল! তারপর একদিন ছেলের বাড়িতে রাজা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে।
কিন্তু ছেলে রাজি হয় না!!!
কারন জানতে চাইলে বলে, - আমি জান্নাতের পরীদের দেখতে পাচ্ছি! তারা আমার জন্য অপেক্ষা করছে! আমি এই নগণ্য দুনিয়াটাকে ভোগ করতে চাই না।"
.
চিন্তা করে দেখুন, এই ৪১দিনের নামাজ একজন চোরকে কতোটা পাল্টে দিয়েছে।
রহিম চাচা প্রচন্ড মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনছিলেন! তারপর বললেন, - বাবা এখন আমি কি করতে পারি?
- চাচা আপনি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যান!
- তাহলে আমার সংসারের কি হবে?
- কিছুই হবে না! আল্লাহ্ আছেন। তাছাড়া আপনি একটু চিন্তা করে দেখুনতো, এখন যদি আপনি মরে যান! তাহলে আপনার সংসারের কি হবে?!
- হ্যা বাবা ঠিকই বলছো! আমি না থাকলেও সংসার চলবে।
- তাহলে চাচা মরার আগে একটু মরে দেখুন।
.
অবশেষে রহিম চাচা আল্লাহর রাস্তায় যেতে রাজি হলেন! যেদিন বাড়ি থেকে বের হবে, সেদিন আমাকে বললেন, বাবা কত টাকা লাগবে?! আমার কাছে'যে বেশী টাকা নাই।
টাকা নিয়ে ভাববেন না, আমি দিয়ে দিচ্ছি।
আমি ৫হাজার টাকা বের করে দিতেই রহিম চাচা খুশিতে গদগদ করছেন! আর বলছেন, - বাবা তুমি হাজার বছর বেঁচে থাকো।
৪১দিন পর খবর হলো, রহিম চাচা বাড়িতে আসবেন না। তিনি পুরো ৪মাস অর্থাৎ তিন চিল্লা কাটিয়ে আসবেন।
খবরটা শুনে খুব খুশী হলাম।
.
তার অনেকদিন পর!
আমি এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলাম। সময় তখন ১০টা!!!
মসজিদের দরজার কাছে যেতেই, কান্নার আওয়াজ! আমি একটু চমকে গেলাম। তারপর ভিতরে ঢুকতেই দেখি, রহিম চাচা।
ওনি দুহাত তুলে দোয়া করছেন, "হে আল্লাহ্ জীবনে অনেক পাপ করেছি! অনেক নামাজ কাযা করেছি! আপনি দয়া করে আমাকে মাপ করে দিন।
হে আল্লাহ্ যে ছেলেটি মেহনত করে আমাকে শান্তির পথ দেখিয়ে দিয়েছে তাকে আপনি সফলতা দান করুন!"
.
আরো অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে ওনি দোয়া করছেন! আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি।
"আসলে নিজের দ্বারা একজন মানুষ সৎ পথে ফিরে আসলে, কিযে ভালো লাগে তা বলে প্রকাশ করা সম্ভব না।
আর সওয়াবের ত শেষই নেই! হাদীসে আছে, আপনার দ্বারা একজন মানুষ আল্লাহর পথে ফিরে আসলে, সে যতদিন নেক আমল করবে ততদিন সেই সওয়াব আপনার আমলনামাও জমা হবে! কিন্তু ইবাদতকারীর সওয়াবে কোনো কমতি করা হবে না।"
এসব ভাবতেছি এমন সময় রহিম চাচা আমাকে সালাম দিলো, - আসসালামু আলাইকুম!
- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চাচা ভালো আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ্, বাবা ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
- আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
.
হ্যা এই মানুষগুলো সবসময় ভালো থাকে! যারা আল্লাহর পথে চলে, সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে।
[এই কথাগুলো গল্পকারে লেখার কারন হলো, অনেককেই বলতে শুনি চরিত্র ঠিক না হলে নামাজ পড়ে কি লাভ?! তাদেরকে বলতে চাই, আপনি আল্লাহর রাস্তায় গিয়ে ৪১দিন তদবিরওয়ালার সহিত নামাজ পড়ুন! এবং পরহেজগারী অবলম্বন করুন! দেখবেন পরিবর্তন নিশ্চিত।]
#সৈয়দা_তাসনিম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now