বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাম রেখেছি কাব্য (২য় পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নাম রেখেছি কাব্য (২য় পর্ব) - Sajeeb Kishore Chakroborty পড়া শেষ করে সবাই যে যার দিকে তাকায়. এ কি! প্রীতা অজ্ঞান হয়ে গেছে.... সবাই ধরাধরি করে প্রীতাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়. সেখানেই দেখে কাব্যর পরিবারের লোকেরা দাড়িয়ে কাঁদছে.... কাব্যর ভাই তীর্থর কাছে পুরো কাহিনী শোনে সবাই. কাব্যর ব্রেনটিউমার ধরা পড়ে ১৫ দিন আগে. আজ অপারেশন হচ্ছে. না বাচার সম্ভাবনাই বেশী.... এর ৩ ঘন্টা পরে... - আমরা অনেক চেষ্টা করেছি.. কিন্তু ও কোন রেসপন্স করছে না. - মানে কি ডক্টর? কিছু একটা করুন... - এখন আমাদের কিছু করার নেই... সবই উপরওয়ালার উপর এখন. খবর যায় প্রীতার কেবিনে... সে বলে তাকে যেনো কাব্যর কেবিনে নেয়া হয়। প্রীতার জেদের কাছে বশ মেনে অবশেষে কাব্যর কেবিনে নেয়া হয় ওকে.... পাশাপাশি বেডে শুয়ে আছে কাব্য আর প্রীতা.... - কাব্য -.......... - কাব্য? -......... - তুমি বলেছিলে আমি ডাকলে তুমি কখনো চুপ করে থাকবে না. এখন কেনো আছো? ..... - কথা বলো -...... - তুমি বলেছিলে আমাকে কাদতে দেবে না. এখন নিজেই কাঁদাচ্ছ. আমার চোখের জল কে মুছে দেবে. -........... - আমাকে ছেড়ে তুমি যেতে পারো না.... আমিও মরে যাবো তাহলে.. হঠাত একটা হাত নড়ে ওঠে কাব্যর...ডাক্তার রা আসে অন্তির চিতকারে... এরপর? এর ১৫ দিন পর কাব্য, প্রীতা ২ জনই মোটামুটি সুস্থ..কাব্যদের বাসাতে সবাই জড়ো হয়েছে. অন্তি: ঐ কুত্তা. তুই আমারর না বোন বলিস? আর আমার কাছে সব চেপে গেলি? ইদুর, ছুঁচো, পাজি, বিলাই. অপু: শালা, তুই একটা মহা বদমায়েশ. অনিক: আমার সবগুলা পরীক্ষাতে দেখাবি এইবার থেকে প্রিমা: আমাকে প্রতিদিন একটা করে গল্প লিখে দিতে হবে. জিসান: ঐ কুত্তা তোর কোম্পানি আমার লাগবে না. তুই থাকলেই হবে.শালা আমাদের সবাইরে কাঁদাইয়া নিজে হাসতেছে. কেউ ওরে মার তো আচ্ছা মতো. অতঃপর প্রীতার রুমে প্রবেশ- সবাই বেরিয়ে যায় রুম থেকে... শুধু প্রীতা আর কাব্য থাকে... - কাকে ভালোবাসো? - কাউকে না - আমাকে রাগাবা না। বলো কাকে ভালোবাসো? - কাউকে না. - আমি কেদে দেবো কিন্তু - আচ্ছা বাবা তোমাকে ভালোবাসি - আর কখনো আমার সাথে এমন করবা না তো? - করবো না. - সত্যি? - সত্যি - খুব ভালোবাসি... কী ভাবছেন... মিল হয়ে গেলো আরো একটি ভালোবাসার. না। গল্পটা এমন হলে পারতো. তবে গল্পটা এমন হয় নি. সেদিন কাব্য অপারেশন এর পর আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছিলো. বদমাশটা কথা রাখে নি. আসলে কেউ কথা রাখে না. কেউ কথা রাখে নি. এখনো প্রতিদিন রাতে ঐ সবথেকে বড় তারাটা দেখি আর ভাবি বদমাশটাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি না. কিন্তু ও হয়তো আমাদের দেখতে পাচ্ছে. আজ ১৫ বছর হতে চলল ও আমাদের ছেড়ে চলে গেছে. জিসান কোম্পানিটাকে অনেক বড় করেছে. অনিক অনেক ভালো রেজাল্ট করে একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হয়েছে. অপু আর প্রিমার বিয়ে হয়ে গেছে. একটা মেয়ে আছে. আমার ও বিয়ে হয়ে গেছে. একটা ছেলে হয়েছে. হঠাত মা, মা বলে ডাক শুনে অন্তি ডায়েরীটা বন্ধ করলো. বন্ধ করলো এক জীবনগাথা। - মা, যাবে না? - হ্যা যাবো বাবু.. - আচ্ছা মা আমরা আজ কেনো যাচ্ছি বাইরে? - একটা আন্টির বাড়িতে অনুষ্ঠান আছে. সেখানে যাচ্ছি. - কিসের অনুষ্ঠান? - আজ একটা বদমাশ আমাদের ছেড়ে চলে গেছিলো. তাকে স্মরণ করতে যাবো. - ছেড়ে চলে গেছিলো তাহলে কেনো মনে করতে যাচ্ছ? - উফফ বাবু এত প্রশ্ন করে না. চলো এখন. হ্যা. প্রীতা প্রতি বছর এই দিনটাতে কাব্যর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে. বিয়ে করে নি..এই দিনটাতেই ও বাকি সব বন্ধুদের সাথে দেখা করে. বছরের বাকি দিনগুলো একাই থাকে. আর রাতে আকাশের সবথেকে জ্বলজ্বলে তারাটার সাথে কথা বলে. প্রীতাকে ব্যালকনিতে একা কাঁদতে দেখে প্রিমা আর অন্তি এগিয়ে যায়. গিয়ে কাদতে না করে. প্রীতা উঠে দৌড়ে চলে যায়. প্রিমা চলে যায় পিছু পিছু. অন্তি একা দাড়িয়ে থাকে ব্যালকনিতে... - পাগলী টা প্রতিদিন কাদে.. তোরা একটু ওকে বোঝাতে পারিস না? চমকে যায় কন্ঠস্বরে....এ যে সেই কন্ঠস্বর. তবে কি প্রীতা সত্যি! কাব্য আসলেই ওর সাথে কথা বলে? - কাব্য, তুই? তুই এখানে? কিভাবে সম্ভব? - আমি তো সবসময় তোদের আশেপাশে থাকি. তোরা দেখিস না. - আমাদের ছেড়ে চলে গেলি কেনো? - বাদ দে তো. বিয়ে করেছিস? -- হ্যা. একটা ছেলেও হয়েছে. - তাই? আমি তাহলে মামা হয়ে গেলাম! তা নাম কি রাখলি? মা, মা তুমি একা কার সাথে কথা বলছো? হঠাত ছেলের ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে অন্তি. -কারো সাথে না বাবু. তুমি যাও বাবু.খেলো গিয়ে. চলে যায় ছেলে টা. অন্তি ভাবে আমি কি তবে সত্যিই কাব্যর সাথে কথা বলছিলাম? নাকি আমার ভ্রম? ভ্রম কেনো হবে ও তো দিব্যি আমাকে ছেলের নাম জিজ্ঞাসা করলো...ইস! নামটাই তো বলা হয় নি. - কাব্য শুনছিস? আমার ছেলে হয়েছে? শুনিছিস তুই? আমার ছেলে হয়েছে. নাম রেখেছি কাব্য.. সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাম রেখেছি কাব্য (২য় পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now