বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার নাম নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি তাতো জানেনই। নামের শেষ অংশটা নাকি মেয়েদের নাম! ওহ এরা বোঝেনা কেন যে এই যুগে ছেলে-মেয়েদের নাম রাখায় তেমন কোন পার্থক্য নেই। তার ওপর এদের আমার নামের প্রথম দুই অংশ মনে হয় চোখেই পড়ে না।
আমাকে স্কুলে সবাই প্রভা নামে চেনে। মেহেদী বললে হাজারটা ছেলে বের হয়ে আসবে। আর প্রভা বললে, "প্রভা, কে যেন তোকে খুঁজছে।"
সব স্যার-ম্যাডামও প্রভা-ই বলে। যারা আমাকে চেনেন আর কি। বা কোনও সময় আমাদের ক্লাসে এসেছেন শুধু তারাই।
আর যারা চেনেন না, তারা................
১
একদিন ক্লাসে স্যার এসে হোমওয়ার্ক নিলেন। আমরা ক্লাসওয়ার্ক শেষ করে গল্প করছি। স্যারেরও খাতা দেখা শেষ। সবাইকে খাতা দেওয়াও শেষ। কিন্তু,
- স্যার, আমি খাতা ফেরত পাইনি।(আমি)
-- বাবা, আমি তো সব খাতা দিয়ে দিয়েছি। তুমি কি হোমওয়ার্ক সত্যিই জমা দিয়েছ?(স্যার)
আমার অবস্থা একবার কল্পনা করুন পাঠক। আমি লক্ষী একটা ছেলে, যে কিনা ঠিকঠাকমতো পড়ালেখা করে তাকে স্যার বলছেন হোমওয়ার্ক করেছে কিনা। যাইহোক স্যার আমাকে গুডবয় হিসেবেই জানতেন। তাই ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করলেন আমার হোমওয়ার্ক খাতা দেখেছে কিনা।
ক্যাপ্টেন বলল সে আমার হোমওয়ার্ক খাতা স্যারকে দিয়েছে। তবে আমাকে ফেরত দিয়েছে কিনা বলতে পারে না।
স্যার তখন তার ডেস্কে খুঁজতে গিয়ে দেখলেন...(পাঠক বলুনতো স্যার কী দেখলেন? আমার হোমওয়ার্ক খাতা, তাইতো। আপনার উত্তর ভুল।)... স্যার দেখলেন দুইটা হোমওয়ার্ক খাতা। একটার উপর আমার নাম, মেহেদী হাসান প্রভা । আরেকটার উপর নাম শুধু "প্রভা"।(!!!!!!)
কীভাবে সম্ভব? একটা হোমওয়ার্ক নিয়ে বাঁচি না আবার দুইটা খাতা। আমি তো একটা খাতাই জমা দিয়েছিলাম।
**************************************************
ঐ শুধু প্রভা নামের খাতাটা ছিল মর্নিং শিফটের একটা মেয়ের। যে তার খাতাটা না নিয়েই বাড়ি চলে গিয়েছে। স্যার ঐ খাতাটা প্রথমেই লক্ষ্য করেছেন। এবং দেখেছেনও যে ঐটা মেয়েলি নামের একটি আসল মেয়ের। তবে আমার হোমওয়ার্ক খাতা পাওয়ার পর স্যার ভেবেছেন যে এটাও মর্নিং শিফটের কোনো মেয়ের খাতা। স্যার আসলে ভুলে গিয়েছিলেন যে ডে শিফটেও মেয়েলি নামের একটি ছেলে আছে। যার নাম মেহেদী হাসান প্রভা।
২
ইংরেজী স্যার অসুস্থতার জন্য ছুটিতে। তাই প্রক্সি নিতে অন্য একজন স্যার এসেছেন।
স্যার এসেই ট্রান্সফর্মেশন করতে দিলেন। আমরাও লক্ষী ছেলের মতো ট্রান্সফর্মেশন করে স্যারকে জমা দিলাম। স্যার খাতা দেখছেন, আর আমরা গল্প করছি। একটু পর পর স্যার হুংকার দিচ্ছেন যেন আমরা কথা না বলি।
হঠাৎ স্যার বললেন, "এই মর্নিং এর খাতা কে জমা দিয়েছে?"
এতদিনে আমার সুবুদ্ধি হয়েছে। ক্যাপ্টেন আমার বন্ধু। ওকে সাথে নিয়ে স্যারের কাছে গেলাম।
স্যার আমাকে আসতে দেখেই, "তুমি মেয়ে! মর্নিং এর খাতায় লিখেছ কেন? খাতা আননি?"
আমি বললাম, "স্যার এটা আমারই খাতা। আমার নাম মেহেদী হাসান প্রভা। "
স্যার একটু ভ্রু-কুঁচকে তাকালেন। ক্যাপ্টেন মাথা নেড়ে সায় দেওয়াতে বিশ্বাস করলেন। আর আমাকে আমার খাতা ফেরত দিয়ে দিলেন।
৩
মর্নিং শিফটের মাত্র ছুটি হয়েছে। ডে শিফটের ছেলেদের এখনও ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমিও তো ছেলে, নাম যেমন'ই হোক। তাই আমিও মাঠেই একদিকে দাড়িয়ে আছি।
হঠাৎ দেখি একটি মেয়ে আমার দিকে আসছে। আর বলছে, "এ্যাই প্রভা, এ্যাই প্রভা।"(!!!)
আমি তো অবাক। চিনিনা, জানিনা একটা মেয়ে আমার দিকেই আসছে! তাও আবার আমার নাম ধরে ডেকে।
আমার অবস্থা তখন, "দেখা হ্যায় পেহলিবার, সাঁজনকি আঁখোমে পেয়ার।""তুঝে দেখা তো এ জানা সানাম, পেয়ার হোতা হ্যায়.......(আর পারিনা)"।
এরপর যা ঘটল পাঠক তার জন্য আমি বা আপনি কেউই প্রস্তুত ছিলাম না।
******
মেয়েটা আমার পাশ দিয়ে অন্য একজনের হাত ধরে, মানে অন্য একটা মেয়ের হাত ধরে চলে গেল। মেয়েটা তার এক বান্ধবীকে ডাকছিল যার নাম,"প্রভা"।
******
" ও মাইয়ারে, মাইয়ারে তুই অপরাধী রে।
আমার যত্নে গড়া ভালবাসা দে ফিরাইয়া দে।"
*********************************************
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
পাঠক আপনারা কেউ ভাববেন না যে আমি আমার শিক্ষকগণের অপমান করেছি। তারা আমার কাছে অনেক সম্মানিত ব্যক্তি। কলেজে উঠার পর থেকে এখনও তাদের প্রচুর পরিমাণে মনে পড়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now