বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ কাজের খুব চাপ। এক মিনিট ও সময় পাচ্ছি না দম
ফেলার।
সারারাত কাজ করলেও কাজ শেষ হবে না।
সেই সকাল থেকে কাজ করছি।
মনে হয় অন্ধ হয়ে যাব খুব শিঘ্রই।
মা এজন্যই চাকরি টা ছেড়ে দিতে বলে।
রাত ভর ডিউটি হবার একটা রুমর শুনতেছি। অন্যরা সবাই ভয়
পাচ্ছে। আসলে রাতে অনেকদিন ডিউটি হয় নাত তাই।
কিন্ত আমার খুব ভাল লাগতেছে, এইটা ভেবে যে
রাত ভর ডিউটি হলে কালকের ডিউটি দুপুর ২ টা
থেকে। মানে সকাল টাইমটা ঘুমের জন্য। আর কাল
কোয়েন এর সাথে দেখা করার কথা। তাও জিবনে
প্রথম বার এর মত ডেটিং যাব। আল্লাহ ও কি সুন্দর করে
সব গুছিয়ে দিছে আজ রাতে ডিউটি হওয়ায় এজন্য এ
অফিসে একমাত্র আমি একাই হ্যাপি।
রাত তিনটার সময় ছুটির কথা ছিল। কিন্ত দেখা গেল তিনটায়
আমাদের বিরিয়ানি দিল। আমি তো আরও খুশি।
সেদিন ভোর ৪ টায় ছুটি হল।
বাসায় আসলাম, ভাবলাম এখন ঘুমালে আর উঠতেই পারব
না তাই বাকি রাতটা জেগে থাকি। ডেকে দেওয়ার ও
কেউ নাই! একা এক রুমে থাকি তো।
জিবনে প্রথম বার ডেটিং এ যাচ্ছি। ভাবতেই কেমন
যেন লাগছে।
ওরে সকাল ৮ টায় আসতে বলেছি
আমি ঢাকার পল্টন থেকে ওর ওইখান মানে গাজিপুর
পর্যন্ত যেতে ২ ঘন্টা তো লাগবেই। ভোর ৫:৩০
এ বেরিয়ে পরলাম। সংগে একটা মোবাইল কিছু টাকা
আর একটা ব্যাগ। ব্যাগে কিছুই নেই। কয়েক টা ফুল
কিনেছি। জানিনা ওর পছন্দ হবে কিনা।
আমি জানি পছন্দ না হলেও এমন ভাব করবেনে যেন
দুনিয়ার সব চেয়ে দামি জিনিষ এনেছি।
বাইরে বেশ শিত শিত পরেছে।
আজ মাত্র নভেম্বর এর ১৬ দিন এতেই খুব শিত।
আসলে ঢাকা শহরে তো জানুয়ারিতেও শীত পড়ে
না। সে জন্য গরম না পরলেই ধরতে হবে শীত
পরেছে।
আমি এখান থেকে সোজা এয়ারপোর্ট যাব, ওখান
থেকে ট্রেনে যাব। ভোর বেলা আর মাঝ রাতে
ঢাকা শহর এত সুন্দর লাগে।
যারা কখনওই এরকম সময় বের হননি একবার বেরিয়ে
দেখবেন। ঢাকা শহরের উপর জন্ম নেওয়া
মনোভাব অনেকটাই বদলে যাবে।
এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে ৭ টার ট্রেনে
ঊঠেছি।
৮ টায় ওরে আসতে বলছি। আর এখনো ফোন
ধরছে না, ঘুমাচ্ছে মনে হয়।
sms দিয়া রাখছি উঠলেই দেখতে পাবে। সো নো
টেনশন।
দেরি হলেও সনস্যা নাই কারন অপেক্ষা করার মাঝেও
মজা আছে। তাছাড়া আজ আর ডিউটিতে যাব না।
মাথাটা খুব ধরছে রাত ভর কাজ করেছি আর এখনো
ঘুমাই নি।
সোয়া ৮ টায় আমি ওখানে পোছে দেখি ও এসে
পরেছে।
-তুমি এসে পরেছ?
-হ্যা, দেখতেই পাচ্ছ।
-তাহলে ফোন ধরছিলে না কেন?
-এম্নেই তোমাকে চমকে দেওয়ার জন্য।
-আমি ভাবলাম ঘুমাচ্ছ।
-আজ তো ঈদ, আজ ঘুমানো যায়?
বুঝতেই পারছেন। কতটা রোমাঞ্চিত ছিলাম দুজন।
একটা খোলা মাঠ, অনেকে ব্যায়াম করছে। অনেক
মানুষ অনেক কাজে।
শুধু আমরা দুজন ই প্রেম করতে আসছি।
একটা লোকাল হোটেল, এ বেশ ভিড়।
পরোটা আর ডিম খেলাম দুজনেই।
নয়টার দিকে শহরের ভিতর গেলাম। অনেক ঘুরলাম।
দুপুরে একটা রেস্টুরেন্ট এ খেলাম।
আমার একটা ফ্রেণ্ড থাকে গাজিপুরে। ওরে ফোন
দিলাম। ও আসলো। সুর্য মামা হেলে পড়েছে।
বিকেলে তিনজন ট্রেন লাইন অনেক্ষন বসে গল্প
করলাম।
তারপর ওরে বাসায় পৌছে দিয়ে আমিও চলে আসলাম।
খুব খারাপ লাগতেছিল গাড়িতে বসে।
সাথে করে নিয়াসতে মন চাচ্ছিল।
মানুষের জিবনে ভাল দিন খুব কম ই আসে। যে গুলা
আসে তা ভুলে যাওয়ার মত নয়। বাট খারাপ দিনের
সংখ্যাটাই বেশি থাকে!
এত ঝামেলার মাঝেও এত সুন্দর একটা দিন প্রায়
অসম্ভব ছিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now