বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১.
- মা তুই কি মনে করিস, এমরা কি মোক খাবার
দিবে?
- দিবে নয় ক্যা বেটা!! দিবেক দিবেক… হামাক
লাখান মাইনষের জন্যিই তো জ্যাফতি খানা তৈয়ার
করে। এট্টু বসি থাক বাজান… দিবে এ্যালা…
ছেলেকে সান্তনা দিলেও খাওয়া প্রাপ্তির ব্যাপারে
নিশ্চিত হতে পারছেন না হাফিজা বেগম। বুকের
ভেতর ঢিপঢিপ করছে। পাশের গ্রামের বড়
চৌধুরী গত হয়েছেন আজ বছর চারেক। প্রতি
বছরই চৌধুরীর ছেলেরা বিশাল প্যান্ডেল টাঙিয়ে
জিয়াফতি খানার ব্যাবস্থা করেন। এবারও সেই
আয়োজন বাদ পড়েনি। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো
যতটা না, তার চেয়েও বেশি অর্থের প্রভাবটুকু
দেখানোই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
গরীবের দেশে একবেলা পেটপুরে ভালো
কিছু খাওয়ার লোভে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ
এসেছে। তারা সামাজিক অবস্থানের দাম্ভিকতা
বোঝেনা। চৌধুরীদের সামাজিক অবস্থান দিয়ে
তাদের কিছু যায় আসে না। ক্ষুধা জিনিসটার শক্তি
ভয়াবহ। নিয়মনীতি, মূল্যবোধের মত বড় বড়
দাঁতভাঙা শব্দগুলো ক্ষুধার্থ মানুষের কাছে কিছু
অযথা বাক্যব্যয় ছাড়া কিছুই নয়। কিছুক্ষণ আগে এক
চোট হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কিও হয়ে গেছে বসার
জায়গা নিয়ে। এর মধ্যেই অনেকক্ষণ যাবত প্লেট
হাতে তারা মা-বেটা ঝামেলা বাঁচিয়ে অপেক্ষা করে
আছে।
কিন্তু এদের হাবভাবে মনে হচ্ছেনা এরা আজ আর
খেতে দেবে। কানাকানিতে শোনা যাচ্ছে দু
ডেকচি ভাত এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চৌধুরীর ছোট পো রাগী মানুষ। তিনি বাড়ির দাওয়ায়
অভাবীদের এই অযথা অত্যাচার সহ্য করতে
রাজী না। এতিমরা খেয়ে দেয়ে বাবার নামে
কুরআন খতম দেবে, এরা কি সেটা করবে?
লোক জমায়েতের প্রয়োজন ছিলো, সেই
প্রয়োজন মিটেছে। এখন আর এইসব হাউকাউ
সহ্য করার কোন মানেই হয় না। যত্তসব ফালতু
ঝামেলা বাড়ানোর কারীগর এক একটা।
হাফিজা বেগম চৌধুরীদের এই নিষ্ঠুরতা বিশ্বাস
করতে পারছেন না। প্যান্ডেলের এক কোণায়
ঝিম ধরে বসে আছেন। ক্লান্তিতে চোখ
ছোট হয়ে আসছে, ক্ষিদেয় জড়িয়ে যাচ্ছে
কথা। তাও মাথায় ছোট্ট একটা ঘোমটা টেনে
চুপচাপ অপেক্ষায় আছেন। হয়তো হারানের কচি
মুখটা দেখে ওদের একটু মায়া হবে। কলাপাতায়
পেঁচিয়ে এক খাবলা ভাত বাড়িয়ে দেয়াটা অসম্ভব
কিছু নয়!!
নিজেকে নিয়ে ভাবেন না তিনি। গরীবদের
ক্ষিদে হজম করার ক্ষমতা থাকতে হয়। প্রতিবেলা
পেটপুরে খেতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখা তার
মতো হাভাতে মানুষের পক্ষে সাজে না। তার সব
চিন্তা হারানকে নিয়ে। এই ছেলেটা এখনও ক্ষুধা
সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করে উঠতে পারেনি।
খাওয়ার কথা শুনলে তার দুচোখ চকমক করে
ওঠে। গত চারদিন মেটে আলু সেদ্ধ আর জাউ
ছাড়া কিছুই কপালে জোটেনি তার। কাঁদা প্যাচপেচে
এই সময়টায় সবার ঘরেই চাল বাড়ন্ত। অনেক চেষ্টা
করেও হাফিজা বেগম ভাত জোগাড় করতে
পারেন নি। আজ অনেকখানি পথ হেঁটে তাই
এখানে এসেছেন, যদি খাওয়ার মতো কিছুটা ভাত
জোটে!! ভাতের জন্য ছেলেটা ছটফট
করে। ঘুমের মধ্যেও শব্দ করে কেঁদে বলে
ওঠে “মোক এক পিলেট ধুমা উঠা ভাত খাতি দিবি
মা??”
চৌধুরী বাড়ির চ্যালাগুলো অবশ্য এত আবেগের
ধার ধারেনা। তারা হুকুমের চাকর, এত ভাবলে তাদের
চলেও না। হট হট শব্দ করে সবার সাথে সাথে মা
ছেলেকেও খেদিয়ে নিয়ে আসে রাস্তায়।
- মা, লোকটা হামাক তাড়াই দিলে কে নে? ভাত
তো খাবার দিলে না! ভুখ নাগছে জব্বর। মুই খাবার
পাবো নয় মা?
বড়বড় চোখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সে।
জাগতিক নিষ্ঠুরতা বোঝার শক্তি বিধাতা এখনো
তাকে দেয় নি। বহু আশা নিয়ে আজ সে এখানে
এসেছে। কিছু না খেয়েই চলে যেতে হবে
কেন, তা তার ছোট্ট মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না।
রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার আর জোনাকীদের
কান ঝালাপালা করা গুঞ্জন উপেক্ষা করে হাফিজা
বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু
বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। আরেকটা
অযথা মিথ্যে, ছেলের ক্ষুধার্থ দৃষ্টিটাকে বদলে
দিতে পারবে না মোটেই। তাছাড়া গলার কাছেও
কিছু একটা দলা পাকিয়ে আছে… কথা না বাড়িয়ে
কড়ে আঙুলটা বাড়িয়ে দিলেন ছেলের দিকে।
এখনো যে অনেকটা পথ হাঁটার বাকী !!!
২.
হারানের পোষাকী নাম শাহাজাদা। নামটা রেখেছেন
তার বাবা। বড় সৌখিন মানুষ তিনি। পরপর তিনটে মৃত কন্যা
সন্তান এর পর জন্মানো এই ছেলে তার
রাজ্যের শাহাজাদাই বটে!! হোক না দরিদ্র, তাও
তো বংশের বাতি। এই ছেলে তার বংশকে বাড়িয়ে
নিয়ে যাবে, সহজ কথা নয়!! হারানের মা অবশ্য
এত আদিখ্যেতায় যাননি। বাকী সন্তানদের মত এই
সন্তানটাও যেন অকালে হারিয়ে না যায়, তাই তিনি
ছেলের নাম রেখেছেন হারান। অভাব আর
অপুষ্টির দেশে একজন সাধারণ গৃহস্থ পরিবারের
প্রসূতি বউ এর স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেয়াই
যেখানে কষ্টকর, সেখানে মানুষের কাছ
থেকে চেয়েচিন্তে এনে খাওয়া হাফিজা
বেগমের ভূমিষ্ট হওয়ার আগ থেকেই অপুষ্টির
স্বীকার হওয়া সন্তানের বেঁচে থাকাটা বেশ অবাক
করা ঘটনাই বটে। হয়তোবা নামের গুণে অথবা
বিধাতার অপার করুণায় জন্ম মৃত্যুর টানাটানি খেলায়
শাহাজাদা ওরফে হারান নামের ছেলেটা গত পাঁচ বছর
ধরেই বেঁচে আছে।
হারানের বাবা থাকেন ঢাকা শহর নামক বিদেশে। তিনি
একজন রিকশাচালক। বছরে দুবার স্ত্রী-
সন্তানকে দেখতে আসেন, এছাড়া দুমাসে
ছমাসে বাড়িতে কিছু টাকাও পাঠান।
প্রতিবার তিনি যখন আসেন, হারানের ছোট্ট মনে
আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বাবা থাকার কদিন, তার ঈদ।
এই কদিন সে পেটপুরে ভাত খেতে পায়। নিয়মিত
ভাত খাবার আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ তার
ছোট্ট জীবনে খুব বেশী একটা নেই।
গতবার বাবা আসবার সময় তার জন্য একটা লাল রঙের
প্লাষ্টিকের গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। সেই গাড়ির
সিটের রঙ কলাপাতা সবুজ। লাল আর সবুজ মিলে
অদ্ভুত দ্যুতিওয়ালা গাড়ি। হারান তার ছিড়ে যাওয়া জামার
বোতামে আঠা লাগিয়ে দুটো হেডলাইটও বানিয়ে
দিয়েছে। গাড়ির কালো চাকাগুলো অবশ্য তার
পছন্দ নয়। তাই সে কাগজ লাগিয়ে চাকার রঙ করে
নিয়েছে সাদা। ঘুমুতে যাবার সময়ও গাড়িটা তার মাথার
পাশেই থাকে। এত চমৎকার খেলনা যে বাবা তার
জন্য আনতে পারে, সেটা হারানের কল্পনারও
বাহিরে ছিলো। এটা হাতছাড়া করার কথা সে ভুলেও
ভাবতে পারেনা।
সেবার যাওয়ার সময় হারানের বাবা বলে গেছেন,
তিনি রোজার ঈদে আবার আসবেন। এর আগের
রোজায়ও তিনি আসতে পারেন নি। হারানকে ছাড়া
ঈদ কাটাতে তার কষ্ট হয়। এবার তিনি নিশ্চয়ই
আসবেন। বাবা আসবে, তাও আবার ঈদ করতে, এটা
হারানের জন্য অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বাবা নামের মানুষটা,
পৃথিবীর সবচাইতে ভালো মানুষ। তিনি কখনোই
মায়ের মতো হারানকে বকাঝকা করেন না, মজার
মজার গল্প শোনান, এবং সবচেয়ে আনন্দের
ব্যাপার হলো বাবার কাছে যা ইচ্ছে চাওয়া যায়, তিনি
কোন কিছুতেই রেগে যান না। তাই অনেক
ভেবেচিন্তে হারান বাবাকে জানিয়েছে “মোর
এহান নাল পিরান নাগপেই নাগপে”
লাল জামা চাওয়ার পেছনে একটা ছোট্ট ইতিহাস
আছে। পাশের বাড়ির অন্তু মিয়ার বাবা ছেলেকে
একটা লাল জামা কিনে দিয়েছে। হারানের দুটো
মাত্র জামা, তাও একটা জামা হাতের কাছটায় ছেঁড়া।
অন্তু মিয়ার জামাটা তাই সে হাতে নিয়ে একটু
দেখতে চেয়েছিলো যাতে বাবা এলে এমনই
একটা জামা তার জন্য আনতে বলতে পারে। অন্তু
মিয়ার মা হারানের কথা বিশ্বাস করেন নি। তিনি
বন্ধুদের সবার সামনে হারানকে বলেছেন
"চোরের পোনাই চোর" (চোরের বাচ্চা
চোর)
৩.
হারানের মা ফসল ওঠার সময়টাতে মানুষের বাড়িতে
ঝিয়ের কাজ করেন। এই সময়টাতে সব গৃহস্থের
বাড়িতে বাড়তি হাতের প্রয়োজন হয়। স্বামীর
পাঠানো অর্থে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব
ব্যাপার। কাহাতক আর দিনের পর দিন অভুক্ত থাকা যায়?
কিন্তু শত কষ্টে থেকেও হাফিজা বেগম
লোকটাকে কিছুতেই দোষ দিতে পারেন না।
ঢাকা শহরে জীবন যাপনের খরচ নেহায়েত কম
নয়। তার ওপর চাঁদাবাজ আর পুলিশের মাসোহারাতো
আছেই। এসব সমস্যা সামলে হারানের বাবা যে তার
সামর্থ্যের সর্বোচ্চটাই তাদের জন্য পাঠান, এটা
তিনি জানেন… এসব কঠিন কঠিন জ্ঞানের কথা হাফিজা
বেগমের বোঝার কথা নয়। কিন্তু মানুষটা চোখ
বড় বড় করে মাথা দুলিয়ে এমন ভাবে সব বুঝিয়ে
দেন, কথাগুলো সব বুকে বিঁধে থাকে।
মানুষটা তার পরিবারকে অসম্ভব ভালোবাসেন।
হারানকে নিয়েও তার অনেক স্বপ্ন। ছেলেকে
তিনি শিক্ষিত বানাতে চান, কোর্ট টাই পড়া শিক্ষিত…
যারা কালো কাচ দেয়া গাড়িতে চড়ে ভুস করে
রাস্তা দিয়ে চলে যায়, তাদের মতো শিক্ষিত।
রিকশাচালক বাপের ছেলে হবে গাড়িওয়ালা শিক্ষিত
ভদ্রলোক, এর চেয়ে সুখের ব্যাপার আর কি
হতে পারে? লোকটা যখন এইসব কথা বলে, তার
চোখ দুটো ঝিকমিক করতে থাকে। সেই একান্ত
সময়টায় হাফিজা বেগমের মনে হয়, তিনিই পৃথিবীর
সবচেয়ে ভাগ্যবতী আর অসম্ভব সুখী একজন
মানুষ।
হারান অবশ্য লেখাপড়ার ধার ধারেনা। তার পুথিগত
জ্ঞান এখনও “অ আ” এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
লেখাপড়ার চেয়ে দৌঁড়ঝাপ, হুড়োহুড়িতেই তার
বেশি আনন্দ। মা যখন মানুষের বাসায় ব্যস্ত থাকেন,
হারান ব্যস্ত থাকে নাল পিরানের স্বপ্নে। ইদানিং
ছেলের সব কথাবার্তাই নাল পিরানে এসে
ঠেকেছে । তার সবচেয়ে পছন্দের প্রশ্ন
“নাল পিরান গায়ে দিলে মোক কেমন নাগপে
মা?”
সারাদিনের পরিশ্রান্ত শরীরে হাফিজা বেগম যখন
রাতের খানা চাপান, হারান গুটিসুটি হয়ে মায়ের পাশে
বসে থাকে। চুলোর লালচে আগুনের আলো
হারানের মুখে এসে পড়ে। লালচে কালচে আভায়
হারান প্রশ্ন করতেই থাকে…
“নাল পিরান খ্যান কুনদিন আইসপে মা? বুকের ওপর
একখান ফুল তুলি দিব্যা? নাল পিরান খ্যান পাইলে মোর
তিনখ্যান পিরান হইবে। ছেড়া পিরান খান কি তাইলি
ফ্যালে দিম মা? আব্বা ভুলি যাবে নাতো? ঈদের
দিন মুই সবাক দ্যাখাইম, মোরও একখান নাল পিরান
আছে। অন্তু মিয়ার খ্যানের চায়াও মোরখ্যান সুন্দর
হবে, না মা? আব্বা কুনদিন আইসপে???”
হাফিজা বেগম হাসিমুখে ছেলের প্রশ্নের জবাব
দেয়ার চেষ্টা করেন। রাত বেড়ে যায়, সেই
সাথে প্রশ্নও বাড়তে থাকে………………………
৪.
আগামীকাল ঈদ। হারানের বাবা এখনো এসে পৌছান
নি। সারা বেলা উঠোন আর ঘরময় পায়চারী করে
সন্ধ্যে লাগতেই না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে
ঘুমিয়ে গেছে ছেলেটা। কান্নার দমকেই কি না
কে জানে, গা ঝাঁপিয়ে জ্বর এসেছে হঠাৎ।
ঘুমের ঘোরে কিংবা জ্বরের প্রকোপে বিড়বিড়
করে কিছু একটা বলছে সে। একটু মনোযোগ
দিয়েই শুনতে পেলেন হাফিজা বেগম... হারান
বলছে-
“আব্বা মোর পিরান খ্যান এত সুন্দর ক্যান? বুকের
কাছত সোনা অঙ এর সুন্দর একখান ফুল ফুটি আছে
দেখছো আব্বা? আইজ মুই যখন হাটি যাইম সবাই
মোর দিক তাকায় থাকপে, তাই না? কি সুন্দর জবা
ফুলের লাকান অঙ। এখ্যানই দোকানের সবচায়া
সুন্দর পিরান, না আব্বা???”
হাফিজা বেগমের চোখ বেয়ে টপটপ পানি
পড়ছে। ছেলের ঘুমের ঘোরে বলা
শব্দগুলো তার বুকে আঘাত করছে হাতুড়ি
পেটানোর মতো। দুদিন আগে তিনি স্বামীর চিঠি
পেয়েছেন। ঝাপটাবাজরা লোকটার রক্ত পানি
করে জমানো টাকাগুলো সব নিয়ে গেছে।
এবার ঈদে তিনি তাই বাড়ি আসতে পারবেন
না………......
৫.
ঈদের সকালে হারানের ঘুম ভাঙলো মায়ের
ডাকাডাকিতে। চোখ ডলতে ডলতে সে
দেখলো বাবা দাঁড়িয়ে, হাতে একটা প্যাকেট।
হারানের সদ্য ঘুম ভাঙা চোখটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে
উঠলো… জ্বরটা বোধহয় এক মুহূর্তেই ছেড়ে
গেছে, বমি পাচ্ছে না আর। বাবার ভরাট কন্ঠটা
কানে এসে বাজছে……
“আব্বা দ্যাখো তোমার নাল পিরান।”
[পুনশ্চঃ অনেক অনেক আগে আমি “নাল পিরান”
নামের একটি নাটক দেখেছিলাম। একটা ছোট্ট বাচ্চা
তার বিধবা মায়ের হাত ধরে ইট পাথরের নগরীতে
আসে বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজনে, যার
একমাত্র স্বপ্ন ছিলো একটা লাল জামা। সমাপ্তি দৃশ্যে
যাকাতের কাপড় নিতে আসা জনতার পদতলে পিষ্ট
হয়ে শিশুটি মারা যায়। নাটকটি দেখে আমার মনে
গভীর দুঃখবোধের জন্ম হয়েছিলো। আজ এই
গল্পের মাধ্যমে আমি আমার সেই দুঃখবোধ হালকা
করার একটা ছোট্ট চেষ্টা করলাম। গল্পের নামটিও
সেই নাটক থেকেই নেয়া। পৃথিবীতে কত মিরাকল
ঘটে। একটা মিরাকল না হয় আমাদের হারানের সাথেই
ঘটুক। তার বাবা যে কোন ভাবে হারানের জন্য একটা
লাল জামা নিয়ে চলে আসুক। ছোট্ট হারানের
হাসিমুখটা দেখার জন্য এমন একটা মিরাকল লেখক
ঘটাতেই পারেন। লেখকদের সেই অধিকার থাকে।
আমি জানিনা হারানের মতো কোথাও কেউ “নাল
পিরান” এর অপেক্ষায় আছে কিনা! পিচ্চিকালে জামা
লুকিয়ে রেখে কাউকে না দেখানোর যে
আনন্দ, সেই আনন্দটা একটা বাচ্চা পাচ্ছে না, কি
ভয়াবহ ব্যাপার একবার ভাবুন তো!!! একটা শিশুর ঈদের
দিনে নতুন জামা না পড়ার কষ্টের কাছে আমার
সারাজীবনের সব কষ্ট তুচ্ছ। বিধাতার কাছে প্রার্থনা,
সব শিশুরা যেন এই স্বর্গীয় আনন্দটুকু অনুভব
করতে পারে]
-তৃপ্ত সুপ্ত-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now