বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার পর্ব--৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার অনুবাদ:অনীশ দাস অপু পর্ব--৭ বুড়ো বামকে খুঁজছে ওরা।সে এক সময় স্পুকসভিলের মেয়র ছিল।পরে ডাইনি অ্যান টেম্পলটনের অভিশাপে দৈন্যদশায় পড়তে হয় তাকে।কিন্তু বামকে কোথাও পেল না ওরা।ভাবছে পরামর্শের জন্য ডাইনির কাছে যাবে কি না। ' কিন্তু সে তো আমাদেরকে তার কাছে যেতে নিষেধ করেছে,' বলল অ্যাডাম।' আমরা বিপদে পড়লেই তার কাছে যাই বলে অ্যান টেম্পলটন খুব বিরক্ত হয়।' 'গোটা শহর এখন ভয়ানক বিপদের মধ্যে আছে,' বলল ব্রাইস। ' এটা আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়।গেলে হয়তো সাহায্য করবে।' ' সাহায্য হয়তো করবে তবে পরে আমাদেরকে ব্যাঙ বানিয়ে দিতে পারে,' বলল স্যালি। 'সে অমন কাজ কখনো করে না,' বলল অ্যাডাম। ' সন্ধ্যা হয়ে আসছে,' বলল সিন্ডি।'রাতের বেলা ডাইনির প্রাসাদে যাওয়ার কোনো শখ নেই আমার।' 'কিন্তু শহরে যদি এখনও ভ্যাম্পায়ার ঘুরে বেড়াতে থাকে,' বলল ওয়াচ।'আশ্রয়ের জন্য ডাইনির প্রাসাদ হতে পারে নিরাপদ স্থান।ভ্যাম্পায়ার রুখে দেয়ার ক্ষমতা তার নিশ্চয় আছে।' ' আমি ভরসা পাচ্ছি না,' বলল স্যালি। ' ভোট করা যাক,' প্রস্তাব দিল অ্যাডাম।'যারা অ্যান টেম্পলটনের প্রাসাদে যেতে চাও তারা বলো,'অয়ি।' ওয়াচ এবং ব্রাইস বলল,' অয়ি।' একটু ইতস্তত করে অ্যাডামও ওদের সঙ্গে যোগ দিল।স্যালি শুধু মাথা নাড়াল।আর সিন্ডি এমন ভাবে হাই তুলল যেন খুবই ক্লান্ত। ' আমি বাড়ি যাব,' বলল ও।' একদিনের জন্য শরীরের অপর যথেষ্ট ধকল গেছে।' 'এখনও সবগুলো ভ্যাম্পায়ার ধ্বংস করতে পারিনি আমরা,' বলল ব্রাইস।টেডের উদাহরন টানল। 'ওকে একটু একা থাকতে দাও না।' ধমকে উঠল সিন্ডি।'তোমরা কথা দিয়েছিলে ওকে বিরক্ত করবে না।' ' এরকম কোনো কথা দিয়েছি বলে মনে পড়ছে না,' বলল স্যালি। হাত তুলল ওয়াচ।'তুমি যদি কথা দাও ওর ধারে কাছেও ঘেঁষবে না,আমরাও ওকে ঘাঁটাব না।ঠিক আছে,সিন্ডি?' মাথা নাড়াল সিন্ডি। 'আচ্ছা।' ওর পিঠ চাপড়ে দিল অ্যাডাম।'বাড়ি যাও।গিয়ে একটু বিশ্রাম নাওগে।পরে দেখা হবে।' মাথা দোলাল সিন্ডি।পা বাড়াল বাড়ির দিকে। অন্যরা এগোল ডাইনির প্রাসাদে। প্রাসাদের দরজা খুলে দিল অ্যান টেম্পলটন নিজেই।যেন ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল সে।তার পরনে বেগুনি আলখেল্লা। লম্বা,কালো চুল এলিয়ে আছে পিঠে,সবুজ,ঝকঝকে চোখে রহস্যময় শক্তির স্ফুরণ। অ্যাডামের চোখে অ্যান টেম্পলটনের মত সুন্দরী নারী হয় না।মুচকি হেসে ওদেরকে নিয়ে পাথরের একটি ঘরে ঢুকল সে।এ ঘরে আগেও এসেছে ওরা।ঘরের মাঝখানে লম্বা একটি কাঠের টেবিল,প্রকান্ড ফায়ারপ্লেসে চড়চড় শব্দে পুড়ছে কাঠ। ফায়ারপ্লেসের আগুন ভৌতিক লাল একটা আভা ফেলেছে ঘরে।অ্যান ওদেরকে বসতে বলল।পান করতে দিল পানীয়।সোনার পানপাত্রে লাল তরল।তবে ডাইনি নিজে কিছু পান করল না। ' ভয় নেই,' ওদেরকে ইতস্তত করতে দেখে বলল টেম্পলটন। 'এটি রক্ত নয়।' ' কী এটা?' জিজ্ঞেস করল ওয়াচ। 'লাল শেরিয়েড,' জানাল অ্যান টেম্পলটন। ওরা লাল তরলটা পান করল।খেতে মন্দ না। ' আপনি বোধহয় জানেন আমরা কেন এখানে এসেছি,' বলল অ্যাডাম। ' জানি,' বলল অ্যান।'তবু তোমাদের মুখ থেকে শুনতে চাই।' ভ্যাম্পায়ারদের গল্প বলল ওরা।শুরু করল টেনিস কোর্টে টেডের অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে।উপসংহার টানল ওয়্যারহাউজ ধ্বংসের বর্ণনার মাধ্যমে।মনোযোগ দিয়ে শুনেছিল অ্যান টেম্পলটন। শোনার পরে কপাল ভাঁজ পড়ল তার। ' তোমরা একটা কথা বলতে ভুলে গেছ,' বলল সে।'টেড গত রাতে জ্ঞান হারাবার আগে বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল।কী বলেছিল?' ' বলেছিল "শাটোর'','বলল ওয়াচ।তারপর "রানী" শব্দটি উচ্চারণ করে সে।আমাদের ধারনা সে বলতে চেয়েছে ভ্যাম্পায়ারের রানী শাটোর।' মুখ ভঙ্গি বদলে গেল অ্যান টেম্পলটনের। ' শাটোর,' ফিসফিস করল সে। সে এত শক্তিশালী ডাইনি,তবু এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো ভয় পেয়েছে অ্যান।শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল জল নামল যেন।শিউরে উঠল।অবশ্য পরক্ষনে সামলে নিল নিজেকে।সবার ওপর এক এক করে চোখ বুলাল।'তোমাদের লড়াই শেষ হয়নি,শাটোর মারা যায়নি।' ' আপনি এত নিশ্চিত হলেন কি করে?' জিজ্ঞেস করল স্যালি। 'সে অমন খোলা জায়গায় লুকাবে না,' ব্যাখ্যা দিল ডাইনি। 'সে খুবই চালাক ভ্যাম্পায়ার। তোমরা যে জায়গার কথা কল্পনাও করতে পারবে না সে লুকিয়ে থাকবে সেখানে।' বিরতি দিল অ্যান টেম্পলটন। দূরে যেন চলে গেল দৃষ্টি। ' ওর উপস্থিতি আশেপাশে টের পাচ্ছি আমি।' ' কোথায়?' জিজ্ঞেস করল অ্যাডাম। মাথা নাড়াল ডাইনি।'সঠিকভাবে বলতে পারব না।শাটোর শুধু মানুষ নয়,আমার কাছ থেকেও নিজেকে লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে।তবে ও এখনও শহরে আছে।তোমাদের ওপর শোধ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।' 'আপনি ওর কথা জানলেন কী করে?' জানতে চাইল ওয়াচ। ' আমরা ডাইনিরা সব জানি,' বলল অ্যান টেম্পলটন। ' শাটোর অতি প্রাচীন এক ভ্যাম্পায়ার। সেই আটলান্টিসের আমল থেকে সে বেঁচে আছে।সকল ভ্যাম্পায়ারদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সে।' ' সে কি সবসময়ই ভ্যাম্পায়ার ছিল?' জিজ্ঞেস করল অ্যাডাম। ' জানতে চাইছো ভ্যাম্পায়ার হিসেবে তার জন্ম কি না?' বলল অ্যান টেম্পলটন। 'না। ভ্যাম্পায়ারদের সন্তান হয় না।শাটোরের জন্ম হয়েছিল আর দশটা মেয়ের মতই।সে এক লম্বা ভুতের গল্প।আমি বলতে চাইছি না।হয়তো দরজার ওপাশেই সে হাঁটাহাঁটি করছে।শুনছে আমাদের কথা।' 'কিন্তু ওকে ধ্বংস করতে হলে ওর সম্পর্কে তো আমাদের জানতে হবেই,' বলল ওয়াচ। ' তা ছাড়া আমরা ভয়ের গল্প শুনতে খুব ভালোবাসি,' বলল স্যালি। ভাবনায় ডুবে গেল অ্যান টেম্পলটন। আবার দূরাগত হয়ে উঠল তার চাউনি।তারপর মৃদু,নরম গলায় বলতে শুরু করল। (চলবে) @নেকরে মানব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাইট অভ দ্য ভ্যাম্পায়ার পর্ব--৭

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now