বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাগরিক দাম্পত্য-৭

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ঘুম চলে গেছে। কিন্তু তাতে কী? প্রতিদিনের মতো আরো একটু আলস্য করতে ইচ্ছে হলো তার। সে চোখ না মেলেই একটা হাত এলিয়ে দিলো সুশানের গায়ে। হাতটা সুশানের গায়ের উপর পড়লো না। হাতটা পড়লো শূন্য বিছানায়। পরপরই চোখ মেলে তাকালো নীহা। এই সময়টাতে প্রায়দিনই ঘুম ভেঙে জেগে থাকে সুশান। কিন্তু বিছানা ছাড়ে না। চুপচাপ শুয়ে থাকে। এবং নীহা যখন হাত এলিয়ে দেয় তার উপর— সে হাতটাকে আরো একটু আকড়ে নেয় নিজের শরীরের সাথে। নীহার শরীরটাকে টেনে সরিয়ে নেয় আরো একটু কাছে। এবং এই সুযোগটার সদ্ব্যবহার নীহা ঠিকঠিকই করে— সে তার শরীরটাকে সুশানের শরীরের সঙ্গে রীতিমতো লেপ্টে দিয়ে আরো একটু ঘুমোতে চেষ্টা করে। তারপর সুশানই একসময় ডাক দেয় তাকে। ‘নী! এই নী!’ একটু নড়ে উঠে সুশানকে আরো একটু শক্ত করে আকড়ে ধরে নীহা। জড়ানো গলায় বলে— ‘সু, আরেকটু ঘুমোই না, সু!’ ‘আর ঘুমোতে হবে না। ওঠো।’ ‘আর একটু, সু! প্লিজ!’ ‘আচ্ছা ঠিক আছে— আমি তাহলে বাইরে থেকে নাস্তা করে নেবো। তুমি ঘুমোও। পরে উঠে নাস্তা বানিয়ে খেয়ে নিয়ো।’ ফট্ করে চোখ মেলে নীহা। সুশানের কণ্ঠ স্বাভাবিকই, কিন্তু নীহার চেহারা দেখে মনে হয়— এইমাত্র নীহাকে সে হুমকি দিয়েছে কোনো— যে হুমকিতে যে কেউ আর্ত হয়ে পড়ে ভয়ে, যে কারো ঘুম উধাও হয়ে যায় মুহূর্তে। ভয় পাওয়া গলায় নীহা বলে— ‘না না, তোমাকে বাইরে নাস্তা করতে হবে না। আমি উঠছি।’ বলেই হুড়মুড় করে ঠেলে ওঠে সে। সুশান প্রশ্রয় দিয়ে বলে— ‘আহা উঠলে কেনো? আরাম করে ঘুমোচ্ছিলে— আরো একটু ঘুমোতে! সমস্যা কী?’ বিছানা থেকে নামতে নামতে নীহা বলে— ‘আছে, সমস্যা আছে। তুমি কেমন বাইরে নাস্তা করা লোক— আমি জানি।’ হ্যাঁ, বাইরে নাস্তা করা লোক সুশান না— নীহা তা জানে। নীহা আরো জানে— নিয়মিত ফোন করে তাগিদ না দিলে দুপুরের খাবারটাও সেরে নেবার কিছুমাত্র ইচ্ছে তার মধ্যে নেই। প্রতিদিন দুইটা বাজলে তাকে ফোন দিতে হবে, খাওয়ার কথা বলতে হবে, তারপর সে লাঞ্চ করবে। একবার, একদিন দুইটা ভুল করে বসলো নীহা— ১. সকালে উঠলো না, নাস্তা-টাস্তা কিচ্ছু তৈরি করলো না— সুশানের অফিস যাবার আগ পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই থাকলো। ২. দুপুরে সুশানকে একবারের জন্যেও ফোন দিলো না, লাঞ্চ করে নেবার জন্যে তাগাদাও করলো না। ফলে কী হলো? দেখা গেলো— সন্ধ্যেবেলা সুশান যখন অফিস থেকে ফিরলো— তার মুখটা শুকিয়ে এতোটুকু হয়ে আছে! নীহা তো দেখে অবাক— চোখের পলক না ফেলে সে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো! এবং তার কাঁধ থেকে ব্যাগটাও নামিয়ে নিতে ভুলে গেলো পর্যন্ত! ‘তোমার কী হয়েছে?’ ‘কই— কিছু হয় নি তো!’ ‘না বলো— তোমার কী হয়েছে— তোমার কি শরীর খারাপ করেছে?’ নীহার কণ্ঠের ব্যস্ততা দেখে সুশান নিজের চেহারাটা নিজেই একবার দেখতে পেলো তৎক্ষণাৎ। নীহাকে আস্বস্ত করতে তাই মুখে হাসি টেনে এনে দৃঢ়কণ্ঠে সে বললো, ‘আরে বাবা, কিছু হয় নি! শরীর খারাপ করে নি! শরীর খারাপ করবে কেনো?’ নীহা তার কথায় আস্বস্ত হলো না। বরং রেগে উঠতে থাকলো ক্রমে— ‘ও, বুঝেছি— দুপুরে কিছু খাও নি— তাই না? আল্লা’— তুমি তো সকালেও কিছু খেয়ে বেরোও নি! আচ্ছা তুমি কী বলো তো— সারাটা দিনের ভেতর তোমার কি একবারও খিদে পেলো না, একবারও খেতে ইচ্ছে করলো না কিছু— তুমি কি মানুষ না অন্য কিছু!?’ সুশান কিছু বললো না, শুধু ঠোঁট প্রসারিত করে মুচকি মুচকি হাসতে থাকলো। নীহার রাগ তাতে আরো বেড়ে গেলো। বললো, ‘হাসছো কেনো? হাসির কী বললাম আমি? হাসছো কেনো? নিজের চেহারাটা আয়নায় একবার দেখেছো? না খেয়ে, না দেয়ে নিজে তো মরবা— আমাকেও বিধাব করবা!’ নীহার কথা শুনে শব্দ করে হেসে উঠলো সুশান। সঙ্গে সঙ্গে নীহার চেহারাটা একদম কাঠ হয়ে গেলো। বললো, ‘আবার হাসছো! আবার তুমি হাসছো! আচ্ছা যাও, সারাদিন তো কিছু খাও নি— এখনও কিছু খেতে হবে না। অতো খেয়ে কী হবে?’ . বিছানায় না থাকলে বাথরুমে থাকার কথা— সুশান বাথরুমে নেই। বাথরুমে না থাকলে ছাদে থাকার কথা, কোনো কোনো দিন ঘুম ভেঙে সে ছাদে উঠে পায়চারী করে— সুশান ছাদেও নেই। তাহলে নিশ্চয় সে মসজিদে গেছে— যেদিন মনটা একটু খারাপ থাকে— ভোরে উঠে সে মসজিদে গিয়ে ফজর নামাযটা পড়ে আসে। কাল রাতে নীহা খেয়াল করেছে— সুশানের মন খারাপ। রাতের খাবার খেয়ে সে চুপচাপ শুয়ে পড়েছে— একটা কথাও বলে নি। নীহা যা কিছু বলেছে তার সাথে— সে ‘হুঁ’ ‘হা’ দিয়েই কথা শেষ করেছে। নীহাও আর কিছু ঘাটায় নি। একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। . এতোক্ষণ ফজরের নামায শেষ হয়ে যাবার কথা। তারপরও গেটে কারো চিহ্ন নেই। চারদিক ফরসা হয়ে এসছে। নীহা বারান্দায় বসে তাকিয়ে আছে গেটের দিকে। তার চোখে অস্থিরতা। কিছুক্ষণ পর, গেটে যখন কারো চিহ্ন দেখা গেলো, তার চোখের অস্থিরতা তখনো কমলো না— কারণ, গেট খুলে সুশানকে ঢুকতে দেখা গেলো না। গেট খুলে ভেতরে ঢুকলেন বাড়িঅলা, একা একা। নীহার সাথে তাঁর চোখাচোখি হলো ঢুকেই। তিনিও যেনো একটু অস্থির হয়ে উঠলেন পরপরই। ‘কী হয়েছে, মা— এভাবে মুখ ভার করে এখানে বসে আছো যে?’ নীহা জবাবে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। কারণ, সুযোগ না দিয়েই তিনি আবার বললেন, ‘কী হয়েছে— কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছো, মা?’ সুশান যে মসজিদে যায় নি, সেটা আর বুঝতে বাকি রইলো না নীহার। তাহলে বাড়িঅলা জানতেন। শুধু জানতেনই না— নামায শেষে সুশানের সাথে কথা বলতে বলতে এসে একসাথেই বাসায় ঢুকতেন তিনি। তারপর সুশানের সাথে কথা বলা অফ করে চুপচাপ নিজের ঘরে ঢুকে যেতেন— নীহার দিকে তাকিয়ে স্নেহীকণ্ঠে অস্থির হয়ে উঠতেন না। নীহার কণ্ঠটা কেমন কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো। বললো, ‘চাচাজী, সুশান ঘরে নেই! আমার খুব টেনশন হচ্ছে— এমন তো কখনো ও করে না!’ চাচাজী বললেন, ‘তুমি টেনশন কোরো না, মা। হয়তো কোনো কাজে বেরিয়েছে— ও এসে পড়বে। তুমি যাও— ঘরে যাও, মা।’ . নীহা ঘরে ঢুকলো ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তোলপাড় হয়ে গেলো বাইরেটা। কারণ, নীহার মন খারাপ দেখে চাচাজী আর চুপ থাকতে পারলেন না। থানায় খবর দেয়াটা শুধু বাদ রইলো। তিনি যা যা করলেন, সেগুলো হলো— ১. নীহা এবং সুশানের সমস্ত আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফোন করে খবর নিলেন। কিন্তু সুশানের খোঁজ কেউ দিতে পারলো না। ২. সুশানের অফিসে-কলীগদের সাথে কথা বললেন। তারাও কোনো খবর বলতে পারলো না। ৩. এলাকার যুবকদের আড্ডাস্থলগুলোতে খোঁজ করলেন। সেগুলোতেও সুশানের কোনো পাত্তা নেই। ৪. আশপাশের কয়েকটা মসজিদে একটা হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ব্যবস্থা করলেন। মসজিদগুলো কয়েকবার করে বিজ্ঞপ্তিটা প্রচার করলো। ৫. চিন্তা করলেন, একটা ভ্যান, একটা মাইক এবং একজন অ্যানাউন্সার ভাড়া করবেন। যদি আজকের মধ্যে সুশানের কোনো খোঁজ না মেলে— ভ্যানটা কাল সারা শহরে ঘুরবে, যার মাইকে বারবার বাজতে থাকবে সুশান হারিয়ে যাবার বিজ্ঞপ্তি। . ৫ নং চিন্তাটা বাস্তবায়নের আগেই সুশান ফিরে এলো। মাগরীবের পরপরই তার চেহারা দেখা গেলো। বাসার সবাইকে চিন্তামুক্ত করে সে যখন ঘরে ঢুকলো, তখন যেনো কোনো ঝড় বয়ে গেলো। নীহা শুয়ে ছিলো— কখন উঠলো, কখন কী করলো— কিছুই চোখে ঠাওরানো গেলো না। সুশান পড়ে যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত সামলে নিলো নিজেকে। পরপরই দেখা গেলো নীহা তার শরীরের সাথে রীতিমতো লেপ্টে আছে। শুধু তাই না— নীহা কাঁদছে আর অন্ধের মতো বারংবার চুমু খাচ্ছে সুশানের সারা মুখে! সারাদিন সে কোথায় ছিলো, কী কারণে ছিলো— দু’বার বলতে গিয়েও থেমে গেলো সুশান। এখন নীহাকে কিছু বললেও তার কানে ঢুকবে না। সে এখন ব্যস্ত। নির্লজ্জ রকমের ব্যস্ত— ঘরের দরজাটা খোলা, জানলাগুলো হা করা, জানলার পর্দাগুলো পর্যন্ত গোটানো— বাইরের মানুষের চোখ যে অতি সহেজই তাদের উপর পড়তে পারে— সেদিকে নীহার কিছুমাত্র খেয়াল নেই! . . আমাদের নারী-পুরুষের তীব্র ভালোবাসার প্রকাশ্য রূপটা বড়ো নির্লজ্জ। কিন্তু নির্লজ্জতা হলেও এর চেয়ে মধুর আর কী হতে পারে? .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাগরিক দাম্পত্য-৭

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now