বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
নীহা সুস্থ্য-স্বাভাবিক থাকবে আর সুশানের অফিস পৌঁছোতে বিলম্ব হবে না— এটা অসম্ভব, অসত্য।
ঘুম থেকে জেগে বাথরুম, ব্রেকফাস্ট— মোদ্দাকথা, পুরোপুরি রেডি হয়ে সুশান ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দা পর্যন্ত গিয়েছে, অমনি পেছন থেকে নীহার ডাক শোনা যাবে— ‘সু, শোনো—!’
সুতরাং, আজও। সুশান বরাবরের মতোই নীহার ডাকটা শুনেও শুনলো না। নীহা আবার ডাক দিলো— ‘সু, শোনো—!’
এবং নীহার কথা শুনতে গেলে তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হবে, সেই তাকাবার সময়টাও এবার নীহা দিলো না— সুশানের একটা হাত ধরে সে টেনে নিয়ে গেলো ঘরের ভেতর। তারপর আস্তে করে দরজাটা ভিজিয়ে দিয়ে এসে সুশানের কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে রাখলো বিছানার উপর। এবং সেই খালি করা কাঁধের উপর তার মাথাটাকে আলতো করে এলিয়ে দিয়ে নিজের বুকের সাথে সুশানের শরীরটাকে বেশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরে নিথর হয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।
মুহূর্তে মায়ায় ভরে গেলো সুশানের ভেতরটা। একটা হাত দিয়ে সে নীহাকে আস্তে করে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতটা তার পিঠের উপর রেখে প্রশ্রয় দেয়া কণ্ঠে বললো— ‘আহা ছাড়ো এবার— দেরী হচ্ছে তো!’
হোক দেরী, নীহার তাতে কিছু মাথাব্যথা নেই— সে সেভাবেই নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকলো আরো কিছুক্ষণ। তারপর সুশানই তাকে নিজের শরীর থেকে আলগা করে দু’হাত দিয়ে তার মুখটা তুলে ধরলো সামনে। তার চোখে টলমল করে ওঠা জল দেখে একটু হেসে আরো একটু প্রশ্রয় দিয়ে বললো— ‘এমন পাগল হয়েছো কেনো তুমি? প্রতিদিন এমন করো— প্রতিদিন আমার মনে হয়, যেনো আমি আরেকটা বিয়ে করতে যাচ্ছি। সতীনের সংসারের ভবিষ্যৎ অশান্তির কথা ভেবে তোমার দুঃখের সীমা নেই। পাগলী একটা!’
পরপরই চোখ থেকে জলটা গড়িয়ে পড়লো নীহার, সুশান হাত উঠিয়ে সে জল মুছে দিতে দিতে শুনতে পেলো সে ক্ষীণস্বরে বলছে— ‘তোমার এমন চাকরি, সারাদিন তুমি অফিস, মার্কেট— এসব নিয়ে পড়ে থাকো, আর আমি একলা বাড়ি বসে থাকি। সারাদিন আমার টেনশন হয়। সারদিন আমার পরাণ পোড়ে তোমার জন্যে।’
নীহার কথার জবাবে সুশান আর কিছু বললো না— ঠোঁট নিকটে নিয়ে তার গালে একটা চুমু দিলো, তারপর তাকে ছেড়ে ব্যাগটা আবার কাঁধে ঝোলালো, বেরোবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। দরজার কাছে যাবার আগেই নীহা তাকে আরো একবার টান দিয়ে তার নিকটে নিয়ে গেলো। বললো— ‘চোখ বোজো তো!’
চোখ বুজতে বলার উদ্দেশ্য সুশান জানে, তারপরেও ন্যাকামো করে বললো— ‘কেনো?’
‘আহা বোজোই না বাবা!’
‘কেনো— চোখ খোলা থাকলে সমস্যা কী?’
‘সমস্যা আছে।’
‘না, সমস্যা নেই। যা দেবার— সামনা-সামনিই দাও। অতো লুকিয়ে-চুরিয়ে কাজ নেই।’
নীহা সামনা-সামনি তাকে কিছুই দেবে না। চোখ গরম করে বলবে— ‘তোমাকে চোখ বুজতে বলছি। তুমি চোখ বুজবা?’
না, এবার আর অমান্য করা যাবে না নীহার কথা। এবার অমান্য করলে লোকসান হয়ে যাবে। খালি খালিই সুশানকে অফিস যাওয়া লাগবে। ফলে, পুরোটা দিন বুকের ভেতর কোথায় যেনো কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগতে থাকবে। সারাদিন কেমন একটা অস্বস্তি লাগতে থাকবে। বারবার মনে হতে থাকবে— বাসায় যেনো কী একটা রেখে এসেছে, বাসায় যেনো কিছু একটা ফেলে আসা হয়েছে।
এমনটা হয়েছিলো একবার। একদিন অফিস ঢোকার পরপরই মনে হলো— প্রতিদিন সাথে করে নিয়ে আসা হয়, এমন কিছু ভুলে ফেলে আসা হয়েছে। কিন্তু কী? মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে সমস্যা— চার্জই ধরে রাখতে পারে না। দিনের ভেতর দু’বার করে চার্জ দেয়া লাগে। ব্যাটারিটা চেঞ্জ করাও হয়ে উঠছে না— টাকা-পয়সার টানা-পোড়েন। চার্জারটা তাই ব্যাগে ভরেই প্রতিদিন বেরোতে হয়। চার্জারটা আনতে ভুল হয় নি— ব্যাগের নির্দিষ্ট চেম্বারে ঠিকঠাকই চার্জারটা পড়ে আছে। কলমটা খুব দরকারী জিনিস। কলমের কাজ সারাদিনই থাকে। কিন্তু নীহা যেদিন অন্য কাজের ব্যস্ততায় ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে না দেয়— কলমটা দিব্যি বাসায় ছুটি কাটায়। অ্যাটেন্ডেন্স রেজিস্ট্রারে সিগনেচার করতে গিয়েই মনে মনে বলা হয়ে যায়— নী-টা যে কী— ব্যাগটাও গুছিয়ে দেয় নি! কলমটাও ব্যাগের ভেতরই রয়েছে— নীহা ঠিকই ব্যাগ-ট্যাগ সব যত্ন করে গুছিয়ে দিয়েছে। সাথে করে নিয়ে আসা নোটবুকটার ভেতরে প্রতিদিনই একটা করে চিরকুট গুঁজে দেয় নীহা। নতুন নতুন কাগজে প্রতিদিন একই কথা লেখা থাকে সেটাতে। তারপরেও কথাটা পুরনো হয় না কোনোদিন, কখনো। সুশান কাজের ফাঁকে ফাঁকে চিরকুটটা বের করে করে কথাটা দেখে আর একটা মুচকি হাসি ছড়িয়ে তোলে সারা মুখে। মনে মনে বলে— পাগলী একটা! চিরকুটটা নীহা কোনোদিন সুশানকে দেখিয়ে দেখিয়ে দেয়, কোনোদিন না দেখিয়েই দেয়। কিন্তু যেদিন দেয় না— সুশান কোনো এক আশ্চর্য কারণে বুঝতে পারে— চিরকুটটা নীহা দেয় নি। হঠাৎ ব্যাগ খুলে নোটবুকটা বের করে পৃষ্ঠা উল্টে-পাল্টে দেখে সত্যিই তাই— চিরকুটটা নেই— নোটবুকের কোথাও, কোনো পৃষ্ঠার ভাঁজেই। সেদিন নোটবুকটা খুলতেই হালকা বাতাসে চিরকুটটা নড়ে উঠে তার অস্তিত্ব জানান দিলো। সেই ফাঁকে সুশান চিরকুটটা মেলে ধরলো চোখের সামনে। তার চোখ চিকচিক করে উঠলো, সারা মুখে একটা নীরব হাসি স্পষ্ট হয়ে উঠলো মুহূর্তে। চিরকুটটাতে লেখা— “ভালোবাসি”।
হঠাৎ সুশানের মনে পড়ে গেলো— কোন জিনিসটা তার বাসায় রয়ে গেছে ভুলে। নীহা তাকে ঠিকঠাকভাবে বিদায় না দিয়েই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো। কাজেই, তার দেয়া প্রতিদিনের মিষ্টি চুমুটা বাসাতেই রয়ে গেছে— নীহার কাছেই, নীহার নরম ঠোঁটেই।
.
নীহার কথা অমান্য না করে সুশান বাধ্য ছেলের মতো চোখ বুজলো, নীহা তার কোমল ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে আসলো সুশানের দিকে। পরপর তিনটে চুমু স্পর্শ করলো সুশানকে— একটা ডান গালে, একটা বাঁ’ গালে, অন্যটা ঠোঁটে।
দরজা খুলে বেরোতে বেরোতে সুশান পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে তার স্কৃনের দিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে— সাড়ে ৮টায় অ্যাটেন্ডেন্স, এখনই বেজে গেছে ৮টা ৩২! অফিস পর্যন্ত পৌঁছোতে আরো সময় লাগবে বিশ মিনিট! তার আজ খবর আছে!
.
-------------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now