বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাগরিক দাম্পত্য-৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রত্যেক দিন, দুপুর ১২টা বাজবে আর শুরু হয়ে যাবে নীহার ফোন-যন্ত্রণা। সুশান যতোবার তা কেটে দেবে, সে ততোবার রিডায়াল করবে— এই কাজে তার কোনো বিরাম নেই, বিরক্তিও নেই। বাধ্য হয়ে সব কাজ গুটিয়ে সুশানকে একসময় তা ধরতেই হবে। ‘হ্যাঁ, হ্যালো! কী হয়েছে তোমার ?’ ‘কী আবার হবে? কিছু হয় নি।’ ‘তাহলে এতো গুঁতোগুঁতি করছো কেনো?’ ‘এমন অশ্লীল ভাষায় কথা বলছো কেনো তুমি?’ ‘অশ্লীল ভাষায় আবার কথা বললাম কই?’ ‘‘গুঁতোগুঁতি’ শব্দটা খুব শ্লীল— তাই না?’ ‘আচ্ছা সরি!’ ‘আরে! তুমি এতোক্ষণ ধরে আমার কল রিসিভ করে কথা বলছো? কাটো, এক্ষণি কাটো, কেটে কল ব্যাক করো! মোবাইলে দুই টাকা রিচার্জ করে দিতে বললে ধানাই-ফানাই করো, আবার আমার দেয়া কল রিসিভ করো! কাটো বলছি!’ সুশান কল ঠিকই কেটে দেবে, কিন্তু আর ব্যাক করবে না। মোবাইল সেটটা পকেটে ঢুকিয়ে আবার কাজে মন দেবে। পরপরই আবার ফোন বাজতে শুরু করবে। বিরক্তিতে তার কপাল কুঞ্চিত হবে— এই মেয়ে কাজের সময় এতো বিরক্ত করে কেনো রে? এর কি অন্য কোনো কাজ নেই? অসহ্য! ‘হ্যাঁ বলো— আবার কী হলো?’ ‘তোমাকে ব্যাক করতে বললাম না?’ ‘পারবো না।’ ‘করো না, প্লীজ! কথা আছে তোমার সাথে।’ ‘কী কথা? যা বলার— সংক্ষেপে বলে ফোন রাখো। কাজে আছি।’ ‘(ফিসফিস কণ্ঠে) একটা কথা শোনো, আমি দরজা-জানলা সব আটকে দিয়েছি। এখন বিছানার উপর শুয়ে আছি। আমার গায়ে একটা সুতোও নেই।’ নারীর এমন মাদকতাময় আহ্বান কোনো পুরুষ কি অগ্রাহ্য করতে পারে? সুশানও পারবে না। করবে না করবে না করেও সে ফোন ব্যাক করবে পরপরই। নীহা তা রিসিভ করে তাকে ‘হ্যালো’টুকু বলবারও সুযোগ দেবে না। সঙ্গে সঙ্গে বলবে— ‘এতো বদ হয়েছো কেনো তুমি? এতোক্ষণ ধরে কাউ কাউ করছি, এতোক্ষণ ফোন দেবার নাম নেই! যেই একটু ...!’ নীহার অসমাপ্ত কথার জবাবে সুশান কিছু বলবে না— চুপ করে থাকবে। নীহা বলবে— ‘তুমি আসবা না?’ এবার সে বলবে— ‘দেরী হবে। অনেক কাজ বাকি।’ ‘একটু তাড়াতাড়ি আসো না, সোনা— আমার খুব খিদে লেগেছে!’ ‘তুমি খেয়ে নাও। আমার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে না।’ ‘না। তুমি আসলে একসাথে খাবো। তুমি তাড়াতাড়ি আসো।’ ‘আচ্ছা, চেষ্টা করছি।’ ‘চেষ্টা-টেষ্টা বুঝি নে— আসবা তাই জানি।’ ‘ঠিক আছে। দেখছি।’ ‘আবার ‌‘দেখছি’ কী? শোনো, আমি এখন গোসল করতে ঢুকছি। গোসল করে এসে ঘুমোবো। তুমি এসে ডেকে তুলবা। খবরদার, গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে ডাকবা না— আমার বুকের ভিতর ধড়ফড় করে। আচ্ছা এবার ফোন রাখো। কাজ করো।’ এই বলেই ফোন কেটে দেবে নীহা। কিন্তু পুনরায় কাজে মন দেবে না সুশান— কারণ, সে জানে, নীহার ফোন আবার আসবে। মিনিট দু’-তিন পর সে আবার ফোন দেবে— ‘হ্যালো!’ সুশান তখন বলবে— ‘বলো।’ গলার স্বর নিচু করে নীহা বলবে— ‘তোমার আশপাশে কি এখন কোনো মানুষ আছে? যদি মানুষ থাকে, তবে ফোনটা নিয়ে একটু নির্জন জায়গায় যাও।’ আশপাশে কেউ থাকুক বা না থাকুক, সুশান বলবে— ‘না কোনো মানুষ নেই। আমি নির্জনেই আছি।’ নীহা বলবে— ‘তুমি আমার উপর রাগ করেছো— তাই না?’ সুশান বলবে— ‘না। রাগ করবো কেনো?’ ‘না। তুমি রাগ করেছো। রাগ না করলেও মন খারাপ করেছো। আমি দিব্যি বুঝতে পারছি। আচ্ছা যাও, রাগ করে আর থাকতে হবে না। মোবাইলটা কান থেকে নামিয়ে ঠোঁটের উপর চেপে ধরো। ধরেছো?’ মোবাইলটা সুশানের কানেই ধরা থাকবে— সে তা না নামিয়ে চুপ করে থাকবে। ওপাশ থেকে কতকগুলো চুমুর আওয়াজ ভেসে আসবে। তাই শুনতে শুনতে তার চোখ-মুখ চিকচিক করে উঠবে। আর কাজ করতে ইচ্ছে করবে না। ইচ্ছে করবে বাসার দিকে ফিরতে। আগে আগে ফিরে নীহাকে খুশি করে দিতে। ইচ্ছে করবে— খুব ইচ্ছে করবে। . ফোনটা ধরবে ধরবে করেও ধরছে না সুশান। একধরণের রিনরিনে আওয়াজে তার হাতে ধরা মোবাইল ফোনটা বেজে চলেছে। সেটার স্ক্রিনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে আছে ইংরেজি বর্ণমালার তিনটা অক্ষরে লেখা— Nee. . . নারীর ভালোবাসা— জগতের সব রং-রূপ থেকে টেনে এনে আমাদেরকে গৃহবন্দী করে, আমাদেরকে সংকীর্ণ করে। তারপরেও সেই ভালোবাসাকে পাবার জন্যেই আমরা অনন্তকাল অপেক্ষা করে বসে থাকি, বুড়ো হই। বড়োই অদ্ভুত! . -------------------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাগরিক দাম্পত্য-৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now