বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---------------------------------
নাগরিক দাম্পত্য ১
-লেখক---সুপণ শাহরিয়ার-----------------------------------------------------------
.
‘তুমি আমার বাবাকে তুলে কথা বললে কেনো?’
‘তোমার বাবাকে তুলতে পারলে তো হয়েছিলো! তোমার ঐ ভুড়িঅলা দু’মণি বাবাকে উঁচু করবার মতো অতো শক্তি আমার এই রোগা পটকা ‘টেলি সামাদ’ মার্কা শরীরে আছে নাকি? তোমার শরীর ৫৬ কেজি, তাই তোমাকে কোলে করতে গেলে আমার বাথরুম হয়ে যায়।’
‘আবার বাবাকে তুলছো? আর খবরদার, আমার বাবাকে ‘ভুড়িঅলা’ বলবা না।’
‘ভুড়িঅলাকে ‘ভুড়িঅলা’ বলবো না তো কী বলবো? তোমার বাবা কি আমার বাবা’র মতো ‘আজম খান’— যে তাঁকে ‘ভুড়িঅলা’ বলা যাবে না?’
‘কতো বড়ো বদ দেখো— বাবা, শ্বশুর— কারো প্রতি কোনো সম্মান নেই!’
‘আল্লা’! এখানে অসম্মানটা আসলো কোত্থেকে!? যে যা— তাঁকে তো তাই বলেই ডেকেছি!'
‘আচ্ছা মানলাম— আমার বাবা ভুড়িঅলা। কিন্তু তোমার বাবা? তিনি কি আজম খান?’
‘আজব তো! তাঁকে ‘আজম খান’ কে বললো!? আমি তো তাঁকে বলেছি ‘আজম খান’ মার্কা। আজম খানের মতো।’
স্বভাব মোতাবেক হঠাৎই রেগে উঠলো নীহা। বললো, ‘এই শোনো, তোমার সাথে আমার কথা বলতে ঘেন্না লাগছে। তুমি আর কখনো আমার সাথে কথা বলবা না। আর শোনো, তোমার সাথে আর এক বিছানায় শোবোও না আমি। তুমি এখন থেকে আলাদা ঘুমোবা। ফাজিল কোথাকার!’
পুরুষ সম্প্রদায়কে যদি ‘মানুষ’ বলা হয়, মেয়েরা তাহলে ‘ঊনমানুষ’— মানুষের থেকে একধাপ নিচের মানুষ। প্রেম-ভালোবাসাও বোঝে না, ইয়ারকি-ফাজলেমিও বোঝে না। তাছাড়া, এরা সবসময়ই মনে করে, এদের শরীর ছাড়া বিবাহিত পুরুষের রাত কটানো ভার। সুশানের ফাজলেমিকে নীহা সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে। তাই সে তার শরীরের অধিকার থেকে সুশানকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে।
সুশান বিরক্ত হতে গিয়েও হলো না। বললো— ‘আ! হয়ে গেলো! আমি যা বলার— তোমার বাবা আর শ্বশুরকে বলেছি— তোমাকে তো বলি নি! যদি শুতে না করতে হয়— তোমার বাবা এবং শ্বশুর— তাঁরা তাঁদের সাথে আমাকে শুতে না করুক— তুমি তোমার সাথে আমাকে শুতে না করছো কেনো!? তোমাকে তো কিছু বলি নি!’
নীহা কিছু বললো না এবার— চোখ ডাগা ডাগা করে তাকালো শুধু। তারপর ওয়ারড্রোব থেকে মশারীটা বের করে বিছানার সাথে সেটআপ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
সুশান বললো, ‘এই, তুমি কি শোবার বন্দবস্ত করছো নাকি? খাবো না? খিদে পেয়েছে তো!’
নীহা আগের মতোই চুপ। সবকিছু ঠিকঠাক করে আলোটা নিভিয়ে সে চাঁদরটা গায়ের উপর টেনে নিয়ে শুয়ে পড়লো। সুশানের সাথে যখন গন্ডগোল-টন্ডগোল কিছু বাঁধে— সে এই কাজটাই করে।
সুশান বললো, ‘তুমি না খাবা— না খাও। আমাকে তো খেতে দিবা!’
নীহা নিশ্চুপ। সুশানও কিছু বললো না আর। থাক, একরাত না খেয়ে থাকলে ক্ষতি-বৃদ্ধি তেমন কিছু হবে না। নীহা’র যা রাগ— তাকে বেশি উত্তেজিত করা ঠিক হবে না। তারচে’ চুপচাপ শুয়ে পড়াই শ্রেয়।
সুশানকে পাশে শুতে দেখে নীহা চিৎকার করে উঠলো— ‘এই তুমি আমার কাছে শুয়েছো কেনো? আমি বললাম না— আমার সাথে তুমি আর ঘুমোবা না? ওঠো বলছি— ওঠো!’
তারপরেও সুশান তার মেজাজ ঠাণ্ডা রাখলো— একটাই বিছানা, একটু ঠাণ্ডা থাকলে হয়তো সোফায় গিয়ে রাত কাটাতে হবে না। সে স্বাভাবিক কণ্ঠেই বললো, ‘তুমি কি এই শাড়ি পরেই ঘুমোবা? যাও চেঞ্জ করে এসো।’
নীহা সেই ডাগা ডাগা চোখেই তার দিকে ফিরে তাকালো। বললো, ‘আমার কিচ্ছু চেঞ্জ করা লাগবে না। তুমি চেঞ্জ করো— তোমার জায়গা। ওঠো এখান থেকে— ওঠো বলছি! নয়তো কামড় দেবো কিন্তু! ওঠো! উঠলে?’
নীহাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই— সে সত্যি সত্যিই কামড় দিয়ে বসবে। আগে একবার কী যেনো নিয়ে এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো সুশানকে। নীহা তাকে কামড়ে চোয়ালে দাগ বসিয়ে দিয়েছিলো। পুরো ২ দিন তাকে জ্বরের অজুহাতে ছুটি নিয়ে অফিস-টফিস ভুলে বাড়ি বসে থাকা লেগেছিলো সেবার।
সুশান মুখ কালো করে চুপচাপ বিছানা থেকে নেমে সোফার দিকে এগোলো।
.
ভোর থেকেই মেজাজ খারাপ করা বৃষ্টি। হবি তো ভালোভাবেই হ। তা না— টিপির টিপির। টিপির টিপির।
বৃষ্টি হোক, আর যা-ই হোক— অফিস যেতে হবে। প্রাইভেট কোম্পানী— নিয়ম-কানুন বেজায় কড়া। সুশান অফিসের উদ্দেশে বের হয়ে দরজা খুলতেই নীহার কণ্ঠ— ‘সু!’
অতএব, নীহার মেজাজ ভালো হয়ে গেছে— স্বাভাবিক মেজাজে থাকলে সে সুশানকে ‘সু’ বলেই সম্বোধন করে। সুশানের সংক্ষিপ্ত রূপ— সু।
সুশানের মেজাজও ঠাণ্ডা, স্বাভাবিক। কাজেই নীহাকে ‘নী’ বলে ডাকা যায়। নীহা’রও সংক্ষিপ্ত রূপ— নী। কিন্তু আপাতত তা ইচ্ছে করছে না। সে পিছু ফিরে শুধু বললো, ‘বলো।’
‘শোনো!’
‘বলো— শুনছি।’
‘এদিকে এসো।’
সুশান নীহা’র নিকটে এসে দাঁড়াতেই সে প্রায় প্রার্থনা করে বললো, ‘আজ অফিস যেতে হবে না।’
সুশান বললো, ‘আচ্ছা আচ্ছা...!’
‘এমন বৃষ্টি বাদলার দিনে তুমি কাছে না থাকলে কিচ্ছু ভাল্লাগে না। সারাদিন শুধু কান্না পায়। প্লীজ, সু!'
‘আচ্ছা আচ্ছা। কোম্পানীটা তো আমার শ্বশুর সাহেবের, যে যখন ইচ্ছে তখন...।’
কথা শেষ না করেই সুশান বেরোবার উদ্যোগ নিলো। অমনি নীহা পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। এবং তার বাঁ কানের লতিটা গালে নিয়ে চুষতে থাকলো চোখ বুজে। এমনভাবে চুষতে থাকলো— যেনো সুশানের ওটা কান না— মজাদার কোনো আইসক্রিম। এবং এখন সময়টা ঝিরঝিরে বৃষ্টির সকাল না— কাঠফাঁটা রোদের দুপুর। যে দুপুরে আইসক্রিম ছাড়া অন্যকিছু খাবার কথা মাথায় আসে না।
নীহা’র এই আচরণটায় সুশান বড়ো বেশি পরিমাণে আন্দোলিত হয়। নীহা সেটা জানে, তাই সুশানকে বাঁধতে সে এটা প্রায়ই প্রয়োগ করে। সুশানের উত্তেজনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে— নীহা চুপ করে যায়। এবং তারপর যা করার— সুশানই করে।
সুশান কোলে করে বিছানায় নিয়ে গেলো নীহাকে। ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো নীহা’র শরীরে। এবং তখন থেকেই, কোম্পানীটাও, মালিকানা বদল হয়ে সুশানের শ্বশুর সাহেবের হয়ে যেতে থাকলো— যেখানে সুশান কাজ করে। সপ্তা’য় একদিন ছুটি পায়, আর মাসে ১৫ হাজার ৩ শ’ টাকা বেতন পায়।
‘এই এই! করছো কী করছো কী! দরজাটা হা হয়ে আছে— ঐটা অন্তত লাগিয়ে এসো— কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে তো!’
বৃষ্টিটা বেড়েছে। এই অবস্থায় এদিকে কারো আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। নীহা’র কথা তাই গুরুত্ব পেলো না। দরজাটা হা হয়েই থাকলো। সুশান যা করলো, তা হলো— প্রথমে শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে ফেললো নীহা’র বুক থেকে। এবং তারপর...।
.
পাঠক, এমন দৃশ্য দেখার প্রতি অতিরিক্ত কৌতূহল থাকা স্বত্ত্বেও আমাদের আর উচিত হবে না ওদের উপর চোখ রাখা। ওরা এখন যা কিছু করে আনন্দ পায়, যা কিছু করে সুখ পায়— ওরা তাই করুক। সুখী হোক। চতুর্দেয়ালে বেহেস্ত নামাক। আমরা বরং চলুন— বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। বৃষ্টি দেখি। কী সুন্দর ঝেপে নেমেছে বৃষ্টিটা!
চলবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now