বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফুল তার পাঁপড়িগুলোকে অনেক বেশি ভালোবেসে আঁকড়ে রাখে কিন্তু বিনিময়ে পাঁপড়িগুলো ফুল থেকে সরে যায়। সে ফুলের স্পর্শের ভার নিতে পারে না। হয়তো বা সে ফুলের কাছ থেকে এতো বেশি ভালবাসা চায় না, তাই হয়তো পাঁপড়ির দূরে হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু কেন জানি মনে হয় ফুল তার পাঁপড়িগুলোকে অনেক ভালোবাসে, তাই সেও একদিন ঝড়ে পড়ে যায়, শুধু পাঁপড়ির দূরে চলে যাওয়াকে মেনে না নিতে পেরে। কিন্তু আবার ফুল ফিরে আসে কলি হয়ে, এই বিশ্বাস নিয়ে যে, ফুল হলে হয়তো আবার পাঁপড়ি কাছে আসবে, একটু ভালবাসবে, যদিও ফুল জানে পাঁপড়ি আবার দূরে চলে যাবে অজানায়।
একদিন রাত কিছুতেই ভোর হতে চাচ্ছিল না, রাত স্বপ্নেই বিভোর। অপরদিকে রাত যে স্বপ্ন দেখেছে সেই স্বপ্নও পরিষ্কার নয়। তবু স্বপ্নকে ছুঁতে, তাকে কাছে পেতে রাতের আপ্রাণ চেষ্টা। হয়তো একদিন রাত সত্যি সত্যি স্বপ্নকে ছুঁতে পারবে, আর ভোর হলেই সে তাকে বলতে পারবে দেখ ভোর, আমি একজন স্বপ্নসুখী রাত।
একদিন আকাশের অনেক বেশি মন খারাপ। মনকে ভেজাতে অধীর আগ্রহে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। অনেক বেশি ক্লান্ত যেন। কিন্তু বৃষ্টি আকাশকে কিছুতেই ভেজাবে না, কারণ মেঘের সাথে বৃষ্টির একটা দ্বন্দ্ব চলছে। আকাশ এখন বিষণœ মনে বলছে ইস, আমি যদি মেঘ হতাম তাহলে সবসময় বৃষ্টির স্পর্শ নিতাম, বৃষ্টি আমার সূর্যমাখা শুকনো মনটাকে ভিজিয়ে তুলতো। আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে আকাশ বৃষ্টিকে বলতে লাগল, তোমার যদি কখনোই আর মেঘের সাথে বন্ধুত্ব না হয়, তারপরও তুমি আমাকে ভিজিয়ে দেয়ার চেষ্টা করো আর তোমার ছোঁয়া পেলে আমি খুশিতে আকাশ নীলিমায় রংধনুর পাখা মিলিয়ে দিবো।
আর বৃষ্টি তুমি যদি কখনোই ফিরে না আসো তবুও বারবার ফিরে আসার প্রতিশ্র“তি দিও। আমি সেই খুশিতে আরও একবার ভিজবো।
একদিন কবিতা তার কবিকে বলছে, তুমি আর আমাকে কাগজে-কলমে লিখো না, তুমি বরং আমাকে তোমার চোখের মণিতে রচনা করো, হবো আমি তোমার চোখের কবিতা। আমি জানি এভাবে হয়ত তুমি আমাকে ছুঁতে পারবে না, দেখতেও পারবে না। কিন্তু অনুভবে চোখের পাতা বন্ধ করলেই আমার স্পর্শ নিতে পারবে।
একদিন গোধুলিবেলায় পথ আপনমনে হাঁটছে শ্রুতিমধুর গান গেয়ে। সে অবিরাম হেঁটেই যাচ্ছে সুর আর ছন্দের তালে তালে। হঠাৎ করেই পথের গান বিষাদময় হল, সে থামল, নেই তার আর সুরের ছন্দ। এর কারণ পথ একবার পেছনে তাকিয়ে তার ফেলে আসা প্রত্যেকটি পদক্ষেপকে মনে করছিল, হয়ত সে আর কখনোই তার জীবনের আগের পথকে ছুঁতে পারবে না, পূর্ব পথ পেরিয়ে সে অনেক দূরে চলে এসেছে, তবু পথ তার অতীত পথের ধুলোর স্পর্শ নিতে চায়, অতীতের কোন গানের সুরের ছোঁয়া নিয়ে পুনরায় হয়ত সে আবার যাত্রা শুরু করবে এই প্রত্যাশায়।
একজন চিত্রশিল্পী তুলি আর রঙের মিশ্রণে মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা রাজ্য এঁকেছে। কিন্তু সে তার রাজ্যে পৌঁছাতে ভীষণ ভয় পাচ্ছে। রাজ্যের প্রাণটাকে ছুঁতে সে বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ এটা তার কল্পনায় আঁকা একটি রাজ্য। বাস্তবে এই রাজ্যের স্পর্শ নেয়া সহজ নয় তবুও সেই চিত্রশিল্পী রং ছড়িয়ে সেই রাজ্যের ছোঁয়া নিতে অপেক্ষার প্রহর গুণছে সেই রাজ্যের দ্বারে বসে প্রজাপতি অনেক রঙিন, রয়েছে তার বাহারী রঙের পাখা। আর সে সেই পাখাগুলো থেকে কিছু হালকা রঙ দিতে চায় বিবর্ণ কিছু পাখাকে, যাতে তারাও রঙিন হয়। কিন্তু প্রজাপতির রঙিন পাখাগুলো তার সাথেই করে প্রতারণা। একদিন হঠাৎ করেই সব রঙ নিয়ে রঙিন পাখা উড়ে চলে যায় অন্য এক প্রজাপতির রঙের জগতে। সেই জগতে সে রঙের আলো ছড়িয়ে দেয় অবিরামভাবে। একটা সময় তার সব রঙ শেষ হয়ে যায়, তখন আবার সেই রঙিন পাখা ফিরে আসে তার প্রজাপতির কাছে, আর প্রতিজ্ঞা করে কখনোই সে যাবে না দূরে চলে। প্রজাপতির নতুন ছোঁয়ায় সে আবার রঙিন হয় কিন্তু কিছুদিন পর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে রঙের পাখা নিয়ে আবার যায় সে দূরে। তবু প্রজাপতি হয় না আশাহত, কারণ তার বিশ্বাস আবার পাখারা আসবে ফিরে তার নীড়ে, রঙের স্পর্শ পেতে।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণাগুলো বালুকে আঁকড়ে রেখে জলরেখা ছড়িয়ে দিয়েছে। আর তাকেই হয়তো আমরা বলি সমুদ্র। কিন্তু এই সমুদ্র কি বালুকণাগুলোকে আদৌ ছুঁতে পেরেছে? নাকি সে না ছুঁয়েই জল হয়েছে। আর সেই জলের স্পর্শ নিতে জলকন্যার হাজারো আকুলতা, যদিও আছে তার অনেক জল কিন্তু সমুদ্র তার জলকে কিছুতেই স্পর্শ নিতে দিবে না জলকন্যাকে। তাই সে বার বার কাছে এসেও আবার দূরে চলে যাচ্ছে। আর যে বালুকণাগুলোকে সমুদ্র ভিজিয়ে দিচ্ছে বার বার সেই বালুকণায় জলকন্যা পা রেখে বলছে, সমুদ্র তুমি আমায় না ছুঁলেও তোমার জলের পবিত্র স্পর্শ আমি অনুভব করছি, আমার পা তাই বালুকণায় ডুবিয়ে দিলাম হয়তো ভুল করে হলেও ছুঁয়ে যাবে তখন আমিও ভেসে যাবো তোমার সাথে, হারিয়ে যাবো তোমার বিশাল জলের বিশালতায় অনেকদূর। তোমার পবিত্র জলে হবো পবিত্র জলকন্যা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now