বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১২টা বেজে গেছে ঘুমানোর প্রস্তুতি চলছে এমন কি বিছানা ঠিক ঘুমাতে যাবো ঠিক এমন সময় ফোন আসলো অচেনা নাম্বার থেকে,
- হ্যালো কে ???
- আমি বন্যা ।। আপনি ??
- আপনি ফোন দিলেন আর এখন বলছেন আমি কে ??!!!
- ওওও তাই তো ।। আপনি তো নিউটন ।।।
- দেখুন রাত ১২ টায় ফোন দিয়ে মজা নেওয়ার কোনো মানে হয় না ।। ফোন রেখে দিব ।।
- ওরে বাবা আপনার রাগও আছে দেখি।।
- ওহহ কি বলবেন সেটা বলেন (রাগের সুরে)
- সরি সরি ।। আমি আসলে মজা করলাম, আমি আপনার ক্লাসমেট ।।
- কিন্তু আমি তো চিনি না ।।
- না চেনারই কথা ।। কারন আমি নতুন ভর্তি হয়েছি ।।
- ওওও ।। তো কি দরকার বলেন ???
- আপনার কাছে রসায়নের নোট আছে ??
- হুম আছে লাগবে আপনার ??
- হুম ।। এই জন্যই ফোন দিয়েছি ।।
- ওও ।। ওকে কালকে দিবো ।। বাই
- ওকে বাই ।।
ফোনটা রেখে ঘুমালাম ।। সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙে ।। তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করলাম ।। তারপর কলেজে ।।
১ম ক্লাসটা করে বসে আছি ।। তখনই মনে পরলো বন্যার কথা ।। কিন্তু আমি তো তাকে চিনি না তাহলে নোট দিবো কেমনে ?? আবার ভাবলাম মেয়েটা আমাকে চিনে নিবে ।। এই সব ভাবতে ভাবতে ফোন বের করে ফেসবুক চালাতে শুরু করলাম, এমন সময়
- কেমন আছেন ??
পিছনে তাকিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে, তবে খুবই সুন্দর কাজল কালো চোখ, চুল গুলা কি সুন্দর করে বাধা, আবার টোল পরা ।।
- হুম ভাল ।। কে আপনি ??
- আরে হিটলার যদি মনে রাখতে না পারে আমি কে তাহলে কেমন হয় ।। রাতে ফোন দিলাম এখনই ভুলে গেলেন।।
- ওও আপনি বন্যা ।।
- যাক এই বার তাহলে চিনতে পারছেন ।
- হুম ।। এই নিন আপনার নোট( ব্যাগ থেকে বের করে)
- কথা বলার আগেই তারিয়ে দিচ্ছেন ।। ওকে দেন কি আর করা ।।
- আরে তারিয়ে দিচ্ছি মানে ??
- হুম দিচ্ছেনই তো ।। না হলো তো আর নোট টা এখনই দিতেন না ।।
- আরে না ।। এমনি দিলাম ।।
- ওও ।। কিছু মনে করবেন না কারন আমি একটু বেশি কথা বলি তো ।
- ওকে সমস্যা নেই ।।
- ওকে ।। আচ্ছে আমরা তো ক্লাসমেট তাহলে আপনি না হয়ে তুই বললে কেমন হয় ??
- হুম ভালই হয় ।।
- ওকে তাহলে আমরা তুই ।। হি হি হি ।
- ভাল মজাও করতে পারেন ।।
- আবার আপনে ।।
- ওও ভুল হয়ে গেছে ।।
- ওকে চল সামনে একটু হাটি ।।
তারপর হাটা শুরু করলাম ।। অনেক সময়ই বন্যার সাথে হাটলাম অনেক মজা হলো ।।
সেদিনের মত বাড়ি চলে আসলাম ।। বন্যা অনেক ভাল মনের মেয়ে তার কথা শুনলেই বুঝা যায় ।। খুব সহজেই একজনের সাথে মিশতে পারে ।। আপন করে নেয় মানুষকে ।। এমন মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব বা প্রেম করলে জীবনে হয়তো সুখী হওয়া যায় ।।
ভাবতে ভাবতেই ফোন দিলাম বন্যাকে,
- হ্যালো বন্যা ??
- ফোনটা কি আরেক জনের নাকি ??
- মানে ??
- তুই জানিসও ফোনটা আমার তাহলে আবার প্রশ্ন করিস কেন ???
- তুই এক লাইন বেশি কথা বলিস কেন ??
- তাই ?? কেন ফোন দিছিস বল ??
- কেন আমি ফোন দিতে পারি না তোকে ??
- হুম পারিস ।। কিন্তু কিছু তো বলার জন্য ফোন দিছিস নাকি ??
- না রে ।। এমনি তোকে মনে পরলো তাই দিলাম ।।
- আমায় মনে পরলো কেন ??
- তুই থামবি ??
- ওকে ওকে।।
- কি করিস এখন ??
- কিছু না ।। তোর নোটটা দেখছিলাম। তুই কি করিস ?
- বসে আছি ।।
- রাতে খাওয়া দাওয়া হয়ছে ??
- হুম ।। তোর ??
- হুম ।। শোন এখন পড়তে বস কেমন ??
- কেন ?
- আমি চাই না আমার জন্য তোর সময় নষ্ট হোক ।।
- ওকে বাই
- ওকে বাই ।।
তারপর ফোনটা কেটে দিলাম ।। না আমি যতই কথা বলছি ততই মায়া বাড়ছে ।। এই মেয়ে নিয়ে আর পারলাম না ।। মেয়েটা দুই দিনে আমায় পাগল করে দিলো ।।
.
রাতে সব কাজ শেষ করে ঘুমাতে যাবো। এমন সময় এস এম এস আসলো
গুড নাইট ।। আমি সাথে সাথে রিপ্লে দিলাম তারপর একটু কথা বলে ঘুমালাম।
সকালে ফোনের শব্দে ঘুম ভাংলো ।। দেখি বন্যা ফোন দিছে ।। রাগ হলো খুব সকালে আর কাজ নাই আমাকে ফোন দিছে, তারপরও ধরলাম
- কি হয়ছে ?? এত সকালে ফোন দিছিস কেন ??
- গুড মরনিং স্যার !!
- তোর কি কাজ নাই ।।
- হুম তবে তোকে গুড মরনিং না দিয়ে কেমনে কাজে যাই বল ??
- ভালবাসা উতলে পরছে ।।
- হা গো ।। তারাতারি উঠে নাস্তা করে নে ।।
- ওকে ।।
- ওকে বাই ।।।
ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে আবার ঘুমালাম ।। ভাবলাম এইবার আর কেউ ফোন দিবে না ।।
.
৩০ মিনিট পর,
.
- এই আমার গায়ে পানি দিলো কে ??
- আমি দিছি ।।
- এই তুই দিলি কেন ??
- আরে দিব না মানে তুই ফোন অফ করে আরামে ঘুমাবি এটা হবে না ।।
- তুই আমার বাড়ি চিনলি কেমনে ??
- সেই টেনশন তোর না ।। এখন উঠ বলছি ।। না হলে বালতি আরেক....
- এই না না ।।
তারপর উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করতে বসলাম ।। সামনে বন্যা বসে আছে আম্মার সাথে গল্প করছে ।।
- মা তুমি এই খাটাশকে ঘরে ঢুকতে দিলে কেন ??
- কেন ?? ও আয়ছে আরো ভাল হয়ছে এখন থেকে রোজ আসবে তোকে পানি ঠালার জন্য ।।
- মা তুমিও শুরু করে দিছো ।।
- হয়েছ এখন নাস্তা কর ।।
নাস্তা শেষ করে বন্যাকে বাড়িতে আগা দিয়ে আসলাম,
ভাবলাম আজ দুই দিনের বন্ধু কিন্তু মেয়েটা কি ভাবে আপন হয়ে গেছে ।। সব কিছুতেই নিজের অধিকার দেখায় । তবে মেয়েটা সত্যি অনেক ভাল মনের ।।
দুপুরে কলেজে শেষ করে বন্যাকে নিয়ে নদীর পাড়ে হাটতে বের হলাম ।। অনেক হাটলাম, ঝালমুড়ি আর চটপটি খেলাম কারন ফুসকা খাই না ।। বিকেলে বাড়ি আসলাম,
- এই তুই বাড়ি পৌছাইছিস ??
- হুম ।। তুই ??
- হুম ।। আচ্ছা এখন কিছু খেয়ে নে ।। তারপর রেষ্ট নে ।।
- ওকে।।
ফোনটা রেখে গোসল করে রুমে এসে দেখি বন্যা অনেক বার ফোন দিছে পরে আবার আমি দিলাম,
- কি রে ফোন দিছিলি কেন ??
- তোর খাওয়া শেষ হলো নাকি ??
- না ।। গোসল করলাম ।।
- এত সময় লাগে ।। এখন খেয়ে নে ।।
- ওকে।
- মনে থাকে যেনো ??
- ওকে।।
মেয়েটা অনেক বেশি মায়ায় ফেলে দিচ্ছে আমায় ।।। কেনো যেনো আমি বন্যার প্রতি বেশি ইমোশলান হয়ে যাচ্ছি ।। মেয়েটাকে আমি ভালবেসে ফেলছি মনে হয় ।।
ভাবছি আর নিজেই হাসছি ।। কি উল্টা পাল্টা ভাবছি,
রাতে ফেসবুক আর একটু বই দেখে ঘুমাবো এমন সময় বন্যা ফোন দিলো,
- কি করিস ??
- এই তো ঘুমাবো ।।
- ওকে ।। রাতে খাইছিস তো ??
- হুম খাইছি ।।
- ওকে তাহলে ঘুমা ।। গুড নাইট ।।
- ওকে গুড নাইট ।।
বন্যার যেনো এটা রুটিন হয়ে গেছে ।। সকাল ফোন দিয়ে খবর, দুপুরবেলা এই ই কাজ ।। আমি খাইছি কি না , বেশি রাত জাগা যাবে না ।। আবার সকালে না উঠলে ফোন দিয়ে বকা অনেক ভাল লাগছে বন্যার মত কাউকে পেয়ে ।।
দেখতে দেখতে অনেক দিন হয়ে গেলো, দিন যত বারছে আমি বন্যার প্রতি তত দূর্বল হয়ে পরছি, ।। আমি খুব ভালবেসে ফেলছি ।। ও হা বলতে ভুলে গেছি, মাঝে কয়েক দিন আমি অসুস্হ থাকার জন্য বাইরে যেতে পারি নাই তাই বন্য প্রতিদিন আমার ফোনে টাকা দিয়ে দিতে ফেসবুক চালানোর জন্য ।। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিয়ে খোজ নিতো ।।
তাই ভাবলাম বন্যাকে আমি সারা জীবনের জন্য পেতে চাই, আমি ওকে ভালবাসার কথাটা বলে দিবো তাই ফোন দিলাম,
- বন্যা তোকে আমি কিছু কথা বলবো ।।
- ওকে বল ।।
- না এখন না ।। কাল কলেজের পাশে যে বাগান আছে সেখানে বলবো ।।
- আমি তো তোর কথা শুনতেই চাই অনেক আগে থেকে ।।
- মানে ??
- কিছু না ।। পাগল একটা।।
বলেই ফোন কেটে দেয় ।। আমি বুঝতে পারলাম বন্যাও হয়তো আমাকে ভালবাসে ।। নিজেকে আজ খুব খুশি লাগছে ।। আনান্দে নাচতে ইচ্ছা হচ্ছে।। কিন্তু পারলাম না কারন নাচতে পারি না।
অনেক কষ্টে রাতটা পাড় করলাম, আজ অনেক সকালে উঠে নাস্তা করে, তারাতারি রেডি হয়ে কলেজে গিলাম ।। কিন্তু কলেজে বন্যা আসে নাই ।। ভাবলাম হয়তো পরে একটু আসবে ।। কিন্তু না আসছে না ।। তাই হাটা শুরু করলাম বন্যারা বাড়ির দিকে হাতে লাল গোলাপ আর নীল শার্ট পরে ।।
অনেক খুশি লাগছে এত দিন পর বন্যাকে মনে কথাটা বলবো ।। কি ভাববে বন্যা ।। কি ভাবে কাটাবো বাকি সময় টা বন্যার সাথে, ভাবতে ভাবতে বন্যার বাড়ির সামনে আসলাম, দেখি অনেক লোক , অনেক কষ্ট ভিতরে গেলাম তারপর যা দেখলাম আমি বিশ্বাস করতে পারছি না,
বন্যা মাটিতে পরে আছে নীল শাড়িটা রক্তে লাল হয়ে গেছে ।। বুকের ভিতরটা ভেঙে যাচ্ছে ।। ব্লাড পেসার বেড়ে যাচ্ছে ।। মাথা মধ্যে ব্যাথা শুরু করে দিছে,
তারপর কি হলো আমার আর মনে নাই ।। পরে চোখ খুলতেই দেখি আমি হাসপাতালের বেডে ।।
পরে জানতে পারি আমি নাকি বন্যার লাশ দেখতে দেখতে মাথা ঘুরে মাটিতে পরে যাই ।। কিন্তু বন্যা কই ।। কেমন আছে । পরে মা এসে বলল বন্যা মারা গেছে, দুই দিন আগে এক বকাটে ছেলে বন্যাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পরে মারা যায় ।। ছেলেটা নাকি অনেক বার প্রস্তাব দিয়েছে কিন্তু বন্যা রাজি না হওয়ায় আজ তাকে হত্যা করে ।।
মায়ের কথা গুলা শুনে দুই চোখ দিয়ে পানি পরছে ।। বিশ্বাস করতে পারছি না ।। আমার জগৎটা আজ অন্ধ হয়ে গেলো ।। আমাকে না বলেই চলে গেলি বন্যা ।। এখন এই পাগলার কি হবে ।। কে ফোন দিব, কি খোজ নিবে এই পাগলের কথা গুলা বলেই মাকে জরিয়ে ধরে কান্না করছি ।।
হয়তো আমার প্রশ্নের উত্তর গুলা কারোরই জানা নেই ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now