বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আরে এটা কেমন ছেলে বাবা মরে গেল এক ফোঁটা চোখের পানি নেই। এ তো দেখি তার বাপের চেয়ে পাগল হয়েছে। এই দিকে আয়। বাপ-মা মারা গেলে চোখের পানি ফেলতে হয়।
আমি শীতল গলায় বললাম, আমাকে তুই-তুই করে বলবেন না।
তিনি চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
দাদাজানের বাড়িটা বিশাল। সেই বিশাল বাড়ির দোতলায় একটা ঘর আমাকে দেয়া হলো। সেই ঘরে এই বাড়ির ছেলে-মেয়েদের জন্যে সার্বক্ষণিক প্রাইভেট টিউটর থাকেন। তাঁর নাম কিসমত মোল্লা।
তিনি যখন শুনলেন আমি কোনো স্কুলে পড়ি না, এতদিন বাবার কাছে পড়েছি তখন একেবারে আকাশ থেকে পড়লেন।
কী পড়েছ বাবার কাছে?
ইংরেজী, বাংলা, অঙ্ক, ভূগোল, আর নীতিশাস্ত্র।
নীতিশাস্ত্রটা কী?
কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায় এইসব।
কী বলছ কিছুই তো বুঝলাম না ।
যেমন ধরুন মিথ্যা। মিথ্যা বলা মন্দ। তবে আনন্দের জন্যে মিথ্যা বলায় অন্যায় নেই। মিথ্যা দিয়ে আমরা সত্যকে চিনতে পারি।
বলছ কী এসব! বুঝিয়ে বল।
যেমন ধরুন গল্প-উপন্যাস। এসব মিথ্যা। কিন্তু মিথ্যা দিয়ে আমরা সত্যকে চিনতে পারি।
মাস্টার সাহেব চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন। নিজেকে অতি দ্রুত সামলে নিয়ে বললেন–অমবস্যা ইংরেজী কী জানো?
জানি। অমবস্যা হলো নিউমুন। বলে নিউমুন কিন্তু আকাশে তখন চাঁদ থাকে না।
মৃন্ময় শব্দের মানে কী?
মৃন্ময় হলো মাটির তৈরি।
মাস্টার সাহেব আমার কথাবার্তায় অত্যন্ত চমৎকৃত হলেন, কিন্তু বাড়ির অন্য কেউ হলো না । আমার দাদাজান ক্রমাগত বলতে লাগলেন–তোর বাবা ছিলেন পাগল। উন্মাদ। ও যে সব শিখিয়েছে সব ভুলে যা। সব নতুন করে শিখবি। তোকে ভালো ইংরেজি স্কুলে ভরতি করে দেব। আর শোন তোর নাম দিলাম চৌধুরী ইমতিয়াজ। মনে থাকবে?
দাদাজান বাড়িতে ঘোষণা করে দিলেন একে কেউ হিমালয় বা হিমু , কিছুই বলে ডাকতে পারবে না । এর নাম ইমতিয়াজ চৌধুরি। ডাক নাম টুটুল। মনে থাকবে? এই ছেলের মাথার ভিতর এই নাম দুটা ঢুকিয়ে দিতে হবে। সারাদিন খুব কম করে হলেও একে পঁচিশবার চৌধুরি ইমতিয়াজ এবং পঁচিশবার টুটুল ডাকতে হবে, Its an order.
আমাকে সত্যি সত্যি একটা ইংরেজি স্কুলে ভরতি করে দেয়া হলো। স্কুলের পোশাক বানানো হলো।
প্রথমদিন স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখি ময়লা পায়জামা-পাঞ্জাবি উপর একটা কোট চড়িয়ে অত্যন্ত রুগৃণ এক লোক বসার ঘরে বসে আছে । তার হাতে চকচকে নতুন একটা ছাতা, মনে হচ্ছে আজই কেনা হয়েছে। ভদ্রলোকের মুখ ভরতি পান। এস্ট্রেতে সেই পানের পিক ফেলছেন। তাঁর বসে থাকার ভঙ্গি , পান খাওয়ার ভঙ্গি এবং পানের পিক ফেলার ভঙ্গিতে কোনো সংকোচ নেই। যেন এই বাড়ির সঙ্গে তাঁর খুব ভালো পরিচয়। যেন এটা তাঁর নিজেরই ঘর-বাড়ি।
আমি ঘরে ঢোকামাত্রই বললেন, বাবা হিমালয়। আমি তোমাকে নিতে এসেছি। আমি তোমার বড়মামা। আমাকে সালাম কর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now