বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ২৭

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X আমার শৈশব যাদের সঙ্গে কেটেছে–তারা কেমন? জন্মের সময় আমার মা মারা যান, কাজেই মার কথা কিছুই জানি না। তিনি দেখতে কেমন তাও জানি না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তাঁর কোনো ছবি নেই। বাবা মারা যান আমার ন-বছর বয়সে। তাঁর কথাও তেমন মনে নেই। তাঁর কথা মনে পড়লেই একটা উদ্বিগ্ন মুখ মনে আসে। সেই মুখে বড় বড় দুটি চোখ। ভারী চশমায় ঢাকা বলে সেই চোখের ভাবও ঠিক বোঝা যায় না। মনে হয় পানির ভেতর থেকে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বাবার উদ্বিগ্ন গলা, কিরে তোর ব্যাপারটা কী বল তো? পেট ব্যথা করছে? বাবার বোধহয় ধারণা ছিল শিশুদের একটি মাত্র সমস্যা–পেট ব্যথা। তারা যখন মন খারাপ করে বসে থাকে তখন বুঝতে হবে তার পেট ব্যথা করছে। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে কোনো শিশু যদি জেগে উঠে কাঁদতে থাকে তখন বুঝতে হবে তার পেটে ব্যথা। বাবার কাছ থেকে কত অসংখ্যবার যে শুনেছি–কী রে হিমু তোর কি পেট ব্যথা না কি? মুখটা এমন কালো কেন? কোন জায়গায় ব্যথা দেখি। বাবা যে এক জন পাগল ধরণের মানুষ এটা বুঝতে আমার তেমন দেরি হয় নি। শিশুদের বোধশক্তি ভালো। পাগল না হলে নিজের ছেলের নাম কেউ হিমালয় রাখে? স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলেন। হেডস্যার গম্ভীর গলায় বললেন, ছেলের নাম কী বললেন–হিমালয়? জি। আহমদ বা মোহাম্মদ এইসব কিছু আছে? জি না, শুধুই হিমালয়। হেডস্যার অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বললেন, ও আচ্ছা। বাবা উৎসাহের সাথে বললেন, নদীর নামে মানুষের নাম হয়, ফুলের নামে হয়, গাছের নামে হয়, হিমালয়ের নামে নাম হতে দোষ কী? হিমালয় নাম রাখার বিশেষ কোনো তাৎপর্য কী আছে? অবশ্যই আছে–যাতে এই ছেলের হৃদয় হিমালয়ের মতো বড় হয় সেজন্যই এই নাম। তাহলে আকাশ নাম রাখলেন না কেন? আকাশ তো আরো বড়। বড় হলেও তা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। হিমালয়কে স্পর্শ করা যায়। কিছু মনে করবেন না। এই নামে স্কুলে ছেলে ভরতি করা যাবে না। এমন কোনো আইন আছে যে হিমালয় নাম রাখলে সেই ছেলে স্কুলে ভরতি হতে পারবে না? আইন টাইন আমি জানি না। এই ছেলকে আমি স্কুলে নেব না। কেন? সিট নেই? আগে তো বললেন সিট আছে। এখন নেই। শিক্ষক হয়ে মিথ্যা কথা বলছেন–তাহলে তো এখানে কিছুতেই ছাত্র ভরতি করা উচিত না। মিথ্যা কথা বলা শিখবে। খুব ভাল কথা। তাহলে এখন যান। এই দীর্ঘ কথোপকথনের কিছুই আমার মনে নেই। মনে থাকার কথাও নয়। বাবা প্রতিটি ঘটনা লিখে রেখে গেছেন বলে বলতে পারলাম। বাবার মধ্যে গবেষণাধর্মী একটা ব্যাপার ছিল। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পাতার পর পাতা পরিষ্কার অক্ষরে লিখে গেছেন। তাঁর বিদ্যা ছিল ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবার পর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন আর ফিরে যান নি। জীবিকার জন্যে ঠিক কী কী করতেন তা পরিষ্কার নয়। জ্যোতিষবিদ্যা, সমুদ্রজ্ঞান, লক্ষণ বিচার এই জাতীয় বইয়ের স্তুপ দেখে মনে হয় মানুষের হাতটাত দেখতেন। একটা প্রেমের সঙ্গেও সম্ভবত যুক্ত ছিলেন। কয়েকটা নোটবই ও লিখেছিলেন। নোটস অব প্রবেশিকা সমাজবিদ্যা। এরকম একটা বই। তাঁর পরিবারের কারোর সঙ্গে তাঁর কোনোই যোগাযোগ ছিল না। তাঁদের সম্পর্কে আমি জানতে পারি বাবার মৃত্যুর পর। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় বাবা তাঁর বড়বোনকে একটি চিঠি লিখে জানান যে তাঁর মৃত্যু হলে আমাকে যেন আমার মার বাড়ি পাঠানো হয়। এটাই তাঁর নির্দেশ। এর অন্যথা যেন না হয়। চিঠি পাওয়ার পরপরই বাবার দিকের আত্মীয়স্বজনে আমাদের ছোট বাসা ভরতি হয়ে যায়। আমার দাদাজানকে তখনি প্রথম দেখি। সুঠাম স্বাস্থ্যের টকটকে গৌরবর্ণেও এক জন মানুষ। চেহারার কোথায় যেন জমিদার-জমিদার একটা ভাব আছে। তিনি মরণাপন্ন বাবার হাত ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, আমার ভূল হয়েছে। আমি বাবা তোর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। যথেষ্ট পাগলামি হয়েছে, আর না। আমার বাবা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, আচ্ছা যাক ক্ষমা করলাম। কিন্তু আমি চাই না আমার ছেলে আপনাদের সঙ্গে মানুষ হোক। ও যাবে তার মামাদের কাছে। তার মামারা কি আমাদের চেয়ে ভালো? না ওরা পিশাচ শ্রেণীর–ওদের সঙ্গে থাকলে অনেক কিছু শিখবে। আমার দাদাজান এবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললেন। বৃদ্ধ এক জন জমিদার ধরনের মানুষ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৬ শেষ পাতা
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৩
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫০
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৯
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৮
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৭
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৬
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৪
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৩
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪১
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now