বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ২৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X করলাম। মনে কর তুই হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিস। চৈত্র মাসের কড়া রোদ। হাঁটছিস শহরের রাস্তায়। হ্যাঁ। এখন তুই শহর থেকে বেরিয়ে এসেছিস। গ্রাম, বিকেল হচ্ছে। সূর্য নরম। রোদে তেজ নেই। ফুরফুরে বাতাস। তোর শরীরটা ঠাণ্ডা হয়ে এসেছে। হুঁ। হঠাৎ তোর সামনে একটা নদী পড়ল। নদীতে হাঁটু জল। কী ঠাণ্ডা পানি। কী পরিষ্কার। আঁজলা ভরে তুই পানি খাচ্ছিস। ঘুমে তোর চোখ জড়িয়ে আসছে। ইচ্ছা করছে নদীর মধ্যেই শুয়ে পড়তে। হুঁ। নদীর ধারে বিশাল একটা পাকুড়গাছ। তাই সে পাকুড়গাছের নিচে এসে দাঁড়িয়েছিস। এখন শুয়ে পড়লি। খুব নরম হালকা দূর্বাঘাসের উপরে শুয়েছিস। আর জেগে থাকতে পারছিস না। রাজ্যের ঘুম তোর চোখে। বাদল এবার আর হুঁ বলল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ভারী নিশ্বাসের শব্দ শোনা গেল। এই ঘুম সহজে ভাঙবে না। কেউ যদি এটাকে কোনো অস্বাভাবিক বা অলৌকিক কিছু ভেবে বসেন তাহলে ভুল করবেন। পুরো ব্যাপারটার পেছনে কাজ করছে আমার প্রতি বাদলের অন্ধভক্তি। যে ভক্তি কোনো নিয়ম মানে না। যার শিকড় অনেক দুর পর্যন্ত ছড়ানো। বাদল না হয়ে অন্য কেউ হলে আমার এই পদ্ধতি কাজ করত না। এই ছেলেটা আমাকে বড়ই পছন্দ করে। সে আমাকে মহাপুরষের পর্যায়ে ফেলে রেখেছে। আমি মহাপুরুষ না। আমি ক্রমাগত মিথ্যা বলি। অসহায় মানুষদের দুঃখ আমাকে মোটেই অভিভ্থত করে না। একবার আমি এক জন ঠেলাঅলার গালে চড়ও দিয়েছিলাম। ঠেলাঅলা হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে আমাকে ড্রেনের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। নোংরা পানিতে আমার সমস্ত শরীর মাখামাখি। সেই অবস্থাতেই উঠে এসে আমি তার গালে চড় বসালাম। বুড়ো ঠেলাঅলা বলল, ধাক্কা দিয়ে না ফেললে আপনে গাড়ির তলে পড়তেন। আসলেই তাই । আমি যেখানে দঁড়িয়েছিলাম ঠিক সেখান দিয়ে একটা পাজেরো জিপ টার্ন নিল। নতুন আসা এই জিপগুলোর আচার-আচরণ ট্রাকের মত। আমি গম্ভির গলায় বললাম, মরলে মরতাম। তাই বলে তুমি আমাকে নর্দমায় ফেলবে। ঠেলাঅলা করুণ গলায় বলল, মাফ কইরা দেন। আর ফেলুম না। আমি আগের চেয়ে রাগী গলায় বললাম, মাফের কোনো প্রশ্নই আসে না। তুমি কাপড় ধোয়ার লন্ড্রির পয়সা দেবে। গরিব মানুষ। গরিব মানুষ, ধনী মানুষ বুঝি না। বের কর কী আছে। অবাক বিস্ময়ে বুড়ো আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি বললাম, কোনো কথা শুনতে চাই না। বের কর কী আছে। মাঝে মাঝে মানুষকে তীব্র আঘাত করতে ভালো লাগে। কঠিন মানসিক যন্ত্রনায় কাউকে দগ্ধ করার আনন্দের কাছে সব আনন্দই ফিকে। এই লোকটি আমার জীবন রক্ষা করেছে। সে কল্পনাও করে নি কারোর জীবন রক্ষা করে সে এমন বিপদে পড়বে। যদি জানত এই অবস্থা হবে তাহলেও কি সে আমার জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করত? বুড়ো গামছায় মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বলল, বুড়োমানুষ মাফ কইরা দেন। টাকা পয়সা কিছু তোমার কাছে নেই? জ্বে না। কাইলও টিরিপ পাই নাই,আইজও পাই নাই। যাচছ কোথায়? রায়ের বাজার।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৬ শেষ পাতা
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৩
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫০
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৯
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৮
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৭
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৬
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৪
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৩
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪১
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now