বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এরিয়া ৫১। এটি এমন একটি স্থান যা সম্পর্কে সঠিক কোনও ধারণা সাধারণ মানুষের কাছে নেই। তবে এ জায়গা নিয়ে মানুষের কৌতুহলেরও শেষ নেই। সাধারণ কোনও মানুষ আজ অবধি এই স্থানে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেনি।
এরিয়া ৫১ (ইংরেজি: Area 51) একটি বিশাল (নেলিসের বিমান বাহিনী) সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাটি, যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি পশ্চিমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। এটি একটি অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক বিমান ঘাঁটি যা ঠিক গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ নেভাডায় অবস্থিত এই অঞ্চলটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত একটি সামরিক বিমানবন্দর রয়েছে।
এরিয়া ৫১ এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য পরীক্ষামূলক বিমান এবং অস্ত্র পদ্ধতি উন্নয়ন এবং পরীক্ষা। এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিশাল প্রশিক্ষন (NTTR নেভেদা টেস্ট এন্ড ট্রেনিং রেঞ্জ) কেন্দ্র। অস্থায়ী ভাবে একে বলা হয় নেইলস এয়ার ফোর্স রেঞ্জ (NAFR)। এই ঘাটি পরিচালনা করে নেইলস এয়ার ফোর্স বেসের ৯৯ এয়ার বেস উইং। এর একটি অশং এই বেস থেকে ১৮৬ মাইল (৩০০ কিঃমিঃ) দূরে মোজাভ মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমান ঘাটিতে অবস্থিত এর নাম এয়ার ফোর্স ফ্লাইট টেস্ট সেন্টার (AFFTC)। এর নাম এরিয়া ৫১ এই নাম সরকারি ভাবে CIA ব্যাবহার করে। এছাড়াও এর অন্য অনেক গুলি নাম আছে যেমনঃ ড্রিম ল্যান্ড (Dream Land), প্যারাডাইস রেঞ্চ (Pradise Ranch), হোম বেস (Home Base), ওয়াটার টাউন স্ট্রিপ (Watertown Strip), গ্রুম লেক (Groom Lake)। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে এর আরো একটি নাম দেয়া হয় হোমি এয়ার পোর্ট (Homey Airport)।
এই স্থানটি নেলস মিলিটারি অপারেশনএরিয়ার অর্ন্তগত। এই স্থানের চারদিকের আকাশ অন্য সবার জন্য নিষিদ্ধ, এই আকাশসীমা (R-4808N) হিসাবে পরিচিত। পাইলটরা এই এলাকার আকাশকে বলে “দি বক্স” অথবা “দি কনটেইনার”।
যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের সময় ‘এরিয়া ৫১’ নির্মাণ করা হয়। প্রথমদিকে আমেরিকান সরকার পরিষ্কারভাবে কিছু জানাচ্ছিলোও না। এই বিশাল জায়গার আশপাশ দিয়ে যেমন বিমান চলাচল নিষেধ, কোন মানচিত্রেও এর উল্লেখ ছিল না। এ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার এতটাই কঠোর যে, এর সীমানায় প্রবেশকারী বহিরাগত যে কাউকে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ রয়েছে। সুরক্ষিত এই এলাকা দেয়াল ঘেরা না হলেও প্রবেশ পথে সাইনবোর্ডে কঠোরভাবে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি লেখা রয়েছে। এরিয়া ৫১ এর মূল গেট ঘাটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত। এই গেটের কাছে বিশাল এক সাইন বোর্ডে বড় করে সতর্কবাণী সাইন জানায় যে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং "ফোটোগ্রাফি নিষিদ্ধ" এলাকা। জেনে নেই এই এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থার একটু ঝলক। এত সুরক্ষিত স্থান, নিরাপত্তাও সর্বাধুনিক। এর এলাকার চারিপাশে না আছে কোন দেয়াল বা কোন বেড়া। শুধু আছে কয়েকটি সাইনবোর্ড। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে কাজ করে অনেক প্রযুক্তি। যেমনঃ Mobile CC Camera, Motion detector (নড়াচড়া পর্যবেক্ষক), Laser detector (লেজার পর্যবেক্ষক), Sound detector (শব্দ পর্যবেক্ষক) আর সব থেকে আধুনিক Smell detector (ঘ্রান পর্যবেক্ষক) আর এছাড়া আকাশ পথ দেখার জন্য রয়েছে রাডার। এই ঘ্রান পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসে পাশে থাকা যে কোন মানুষ বা বন্য প্রানীর অস্তিত্ব তারা পর্যবেক্ষন করতে পারে। কেউ কোনওভাবে এলাকায় ঢুকে পড়লে তার অস্তিত্ব ধরা পড়বে সেন্সরে। মুহূর্তে চলে আসবে সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী।
১৯৫৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে প্রথমবারের মতো এর অস্তিত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়। এর চার মাস পর, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা প্রথম জনসমক্ষে এরিয়া ৫১-এর কথা প্রকাশ করেন। মার্কিন সরকার স্পস্টভাবে Concedes (বিভিন্ন আদালতে নথিভুক্ত এবং সরকারি নির্দেশ) শুধু এইটুকু বলেছে যে গ্রুম লেকের কাছাকাছি একটি "অপারেটিং অবস্থান" আছে এর বাইরে অতিরিক্ত আর কোন তথ্য জনগনকে জানানো হয়নি। সরকারি যে ম্যাপ (যেই ম্যাপ জনগন দেখতে পারে) সেখানে এরিয়া ৫১ এর অবস্থান উল্লেখ্য করা নেই। মার্কিন জিওলজিক্যাল উপগ্রহ মার্কিন ভূপৃস্টের যে ম্যাপ তৈরী করেছে সেখানে শুধু গ্রুম লেকের অবস্থান দেয়া আছে। নেভেদার যোগাযোগ মন্ত্রনালয় বেসামরিক বিমান চলাচলের যেই ম্যাপ তৈরী করে সেই ম্যাপে শুধু উল্লেখ্য করা থাকে বিশাল একটি এলাকার আকাশ উড্ডয়ন নিষিদ্ধ একে বলা হয় “নেইলস উড্ডয়ন নিষিদ্ধ আকাশসীমা”। এছাড়াও মার্কিন সরকারের প্রকাশিত যে কোন ম্যাপে এই এরিয়া ৫১ এর কথা উল্লেখ করা নেই।
মার্কিন সরকারের অবাধ তথ্য অধিকারের সুযোগ নিয়ে ১৯৬০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহ “করোনা” নার সাহায্যে এরিয়া ৫১ এর ছবি তোলে এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে মার্কিন সরকার সেই ছবি মুছে ফেলে। একই ভাবে মার্কিন “টেরা” উপগ্রহ ৫১ এর অনুরুপ ছবি তুলে তা প্রকাশ করে, মার্কিন সরকার সেই ছবি ২০০৪ সালে মুছে ফেলে। সেই সময় এই ছবি মাইক্রোসফট ও টেরা স্যাটেলাইটের সার্ভারেও ছিল সেখান থেকেও এই ছবি মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে “নাসার” ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহের সাহায্যে ৫১ এর ছবি তোলা হয়, বর্তমানে এই ছবিটিই সরকারি ভাবে প্রকাশিত এরিয়া ৫১ এর ছবি।
সিআইএ’র নথি থেকে জানা যায়, সেখানে যেসব দালান আছে সেসবে কোন জানালা নেই, যাতে এক গবেষক দল অন্য দলের কাজ সম্পর্কে জানতে না পারেন ! এমনকি যখন পরীক্ষামুলক কোন বিমান প্রথম উড়ানো হয়, তখন কর্মীরা দালানের ভেতরেই থাকে।
এরিয়া-৫১’ নিয়ে ১৯৯৮ সালে সি আই এ কিছু তথ্য অবমুক্ত করেছিল। কিন্তু সেসব নথিপত্রের অনেক লেখাই কালো কালিতে ঢেকে দেয়া হয়েছিল গোপনীয়তার স্বার্থে। সেই ডকুমেন্ট গুলো ছিল ১৯৯২ সালে সি আই এ পরিচালিত ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান সংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে। এই বিমান সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহার করা হতো । ওয়াশিংটন ডিসি’র জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিকিওরিটি আর্কাইভকে দেয়া নথিপত্রে পাওয়া যায়, রহস্যময় “এরিয়া ৫১” নিয়ে অনেক চমকপ্রদ তথ্য । স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে আমেরিকার জন্য এটা জানা জরুরী ছিল যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন কি করছে। এই জানার চেষ্টা থেকেই জন্ম নেয়, “ইউ-টু” প্রজেক্ট। এই “ইউ-টু” বিমানের কাজ ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর গোয়েন্দা নজর রাখা। এই উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার এর অনুমোদনক্রমে সিআইএ (CIA) ও মার্কিন বিমানবাহিনী এই স্থান তাদের গোপন “ইউ-টু” প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত করে। যেহেতু “ইউ-টু” গোয়েন্দা বিমান নির্মাণ করতে খুব সময় লাগছিল এবং এত বিশাল এক জায়গা কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবদ্ধ ছিল, সেহেতু জনগণের মনে এই স্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়লো । গোপন এই গোয়েন্দা বিমান গুলো সেসময়ে সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান যে উচ্চতায় ঊড়ে যেত, তার চেয়েও অনেক বেশি উচ্চতায় চালানো হতো। এই আর্কাইভের সাথে জড়িত দুইজন গ্রেগরি পেডলো ও ডোনাল্ড ওয়েইজেনবার্গ এর মতে, ষাটের দশকে এটা মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল যে ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমান চালানো সম্ভব। ফলে,অনেক মানুষই মার্কিন এসব গোপন গোয়েন্দা বিমানগুলোকে ভিন্ন গ্রহ থেকে আগত যান বলে মনে করতো ।
এরিয়া ৫১ এর আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকে অনেক রকম কথা বলেছে। তাদের অনেকের দাবী এরিয়া ৫১ এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মত মত কিছু উড়তে তারা দেখেছেন। আবার অনেকেই নাকি এমন দ্রুতগতির বিমান উড়তে দেখেছেন যার গতি সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমান কোনোটার সাথেই মিলে না।
এরিয়া ৫১ এর ভেতরে কী কাজ হয়, তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে গোপন রাখা হয়। এলাকাটির বাইরে সব সময় সতর্কতাসূচক সাইনবোর্ড, সিসি ক্যামেরা ও সশস্ত্র পাহারাদার মজুত থাকে। আশপাশে যাওয়া তো দূরের কথা, এরিয়া ৫১-এর ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চালানোও নিষিদ্ধ। তবে এখন স্যাটেলাইট দিয়ে মহাকাশ থেকে এর কিছু ছবি সংগ্রহ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুটি গোপন জায়গা নেভাদা টেস্ট সাইট ও নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের গোপনীয়তার সঙ্গে এরিয়া ৫১-এর তুলনা করা হয়।
এর ভেতরে কী কাজ হয়, সে ব্যাপারে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, শুরু থেকেই অত্যাধুনিক সব যুদ্ধবিমান বানানোর জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী এটিকে ব্যবহার করে আসছে। প্রায় দেড় হাজার লোক এর ভেতরে কাজ করেন বলে ধারণা করা হয়। এরিয়া ৫১-এর ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি করা অ্যানি জ্যাকবসেন বিবিসিকে বলেছেন, ‘এরিয়া ৫১ হলো পরীক্ষা চালানোর ও অনুশীলনের জায়গা। সেই ১৯৫০-এর দশকে ইউ-টু স্পাই প্লেন দিয়ে এর গবেষণাকর্ম শুরু হয়। এখন নিত্য নতুন ড্রোন বানানোর পরীক্ষাও চলে এর ভেতর।’
এরিয়া ৫১-এ সর্বসাধারণের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মার্কিন বিমানবাহিনী বলেছে, ‘মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এরিয়া ৫১। এখানে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ভেতরে প্রবেশের ব্যাপারে সবাইকে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে।’
এতসব গোপনীয়তা জন্ম দিয়েছে নানা গল্পের। ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর কাছে বিধ্বস্ত হওয়া রসয়াল বিমানকে নিয়ে। অনেকে ভেবেছে এলিয়ানদের উভোযানের ক্র্যাশ হিসেবে। এ নিয়ে গল্প, সিনেমা, টিভি প্রোগ্রাম ইত্যাদি বানানো হয়েছে।
আবার অনেকে ভাবেন, চন্দ্রজয় একেবারেই ভুয়া একটি কথা। রাশিয়ার সাথে পাল্লা দিতে এই এরিয়া-৫১’র ভিতরেই নাটক সাজিয়ে ছিল তারা! মানুষের মনের এই সন্দেহের দানাকে উসকে দেয় হলিউডের ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে মুভিটি। এর মধ্যে আছে সেই UFO
এর দূর্ঘটনার কথা যা রসওয়েল UFO
(Unidentified Flying Object) দূর্ঘটনা (Roswell UFO Incident) নামে অভিহিত করা হয়।
১৯৯৬ সালে হলিউডের বিখ্যাত ছবি "ইনডিপেনডেন্স ডে" তে দেখানো হয়েছে যেএই ভীন গ্রহের প্রানীরা এরিয়া ৫১ এর উপর আক্রমন করেছে এবং এই ছবির শেষ দিকে দেখানো হয়েছে এই প্রানীদের ব্যাবহার করা বিশাল আকারের UFO কে উন্নত প্রযুক্তির মিসাইলের সাহায্যে ধংস করে দেয়া হয়। এই মিসাইল প্রযূক্তি তারা পেয়েছে রসওয়েলের দূর্ঘটনায় ধংস হওয়া সেই UFO থেকে। এছাড়াও "হ্যাংগার ৫১" ছবির কাহিনীও এই এরিয়া ৫১ নিয়ে। এছাড়াও টেলিভিশন সিরিয়াল সেভেন ডের কাহিনী চিত্রায়ন করা হয়েছে এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে, যাতে দেখান হয় রসওয়েল থেকে উদ্ধার করা ভিন গ্রহের প্রযুক্তির সহায়তায় একটি NNA টাইম ট্রাভেল অপারেশন। ২০০৫ সনের আলোচিত ভিডিও গেমস এরিয়া ৫১ ও নির্মিত হয়েছে রসওয়েল এর কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
রহস্যের ডালপালা যত জন্মায়, আমেরিকান সরকার ততই মুখে কুলুপ এটেছিল। বাজারের এতসব গল্পের ভিড়ে নতুনভাবে শিঙ্গায় ফু দেন এরিয়া ৫১এ একসময় কর্মরত পদার্থবিজ্ঞানী বব লেজার। এক টিভি সাক্ষাৎকারে বব বলেন, ‘এরিয়া ৫১ এ রেটিকুলাম ৪ নামের একগ্রহ থেকে আসা এলিয়েন ও এক ফ্লাইং সসার আছে। তিনি জব্দ করা এলিয়েনটির একটা বর্ণনাও দেন। এছাড়া বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে এখান থেকে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করেন এখানে বিভিন্ন সময়ে কাজ করা অনেক কর্মকর্তা।
সাধারণ বিমানের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ছিল বলে, বৈমানিকরা এর নাম দিয়েছিলেন ‘দি বক্স’। কেউ কেউ ‘দি কন্টেনার’ নামেও ডাকতেন। এখনো মার্কিন কোন ম্যাপে, খুব বেশী উল্লেখ নেই এরিয়া-৫১ সম্পর্কে। আমেরিকাতে এরিয়া ৫১ নামটি সাধারণত সিআইএ ব্যবহার করে। ড্রিম ল্যান্ড, প্যারাডাইস রেঞ্চ, হোম বেস, ওয়াটার টাউন স্ট্রিপ, গ্রুম লেক,হোমিও এয়ারপোর্ট সহ কত নামেই না একে ডাকা হয়! মার্কিন বিরোধীরা তো এক নামেই একে ‘এরিয়া অফ কন্সপায়রেসি’ নামে ডাকে।
এরিয়া ৫১ ঘিরে চূড়ান্ত গোপনীয়তার কারণে একে ঘিরে বেশ কিছু গুজবও রটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গুজবটি হলো, এর ভেতরে একটি এলিয়েন সুপারক্রাফট ও এর চালকের দেহ রয়েছে। ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর রোজওয়েলে সুপারক্রাফটটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটিকে এখানে এনে রাখা হয়। ১৯৮৯ সালে রবার্ট লাজার নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি এরিয়া ৫১-এর ভেতরে এলিয়েন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দাবি, এর ভেতরে কোনো এলিয়েন বা এলিয়েনের সুপারক্রাফট নেই।
তবে রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ “ইকনস” ও রাশিয়ার বেসামরিক উপগ্রহ আমেরিকা রাশিয়ার স্নায়ু যুদ্ধের সময় এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে কি হচ্ছে তা জানার জন্য (রাশিয়ার নিজেদের প্রয়োজনে) এর উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তোলে। এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার প্রায় সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এরিয়া ৫১ এর ভিতরকার ছবি আর গোপন নেই নেটে এর প্রায় সব ছবি পাওয়া যায়। এই ছবিতে দেখা যায় যে এরিয়া ৫১ এর ভিতরে সাতটি রানওয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে রানওয়ে 14R/32L এটি লম্বায় প্রায় 23,300 feet (7,100 m)। অন্য রানওয়ে গুলি পীচের তৈরী এর মধ্য 14L/32R রানওয়ের দৈর্ঘ্য 12,000 feet (3,700 m), রানওয়ে 12/30 এর দৈর্ঘ্য 5,400 feet (1,600m)। অন্য চারটি রানওয়ে সল্ট লেকের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে 09L/27R ও 09R/27L রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় 11,450 feet (3,490 m), আর অন্য দুইটি 03L/21R ও 03R/21L, দৈঘ্য প্রায় 10,000 feet (3,000 m)। এছাড়াও আছে হেলিপ্যাড।
ছবিতে আরো দেখা যায় বড় বড় গুদাম ঘর, আবাসিক এলাকা,ফায়ার স্টেশন,বিশাল আকারের পানির ট্যাংকি, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রন টাওয়ার, খেলাধুলা করার জন্য টেনিস এবং বেসবল কোর্ট। আরো আছে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট ডিশ। সাদা রং করা অনেকগুলি সরকারি ট্রাক ও ভ্যান পার্কিং এরিয়ায় রাখা আছে। বেশ কয়েকটি বোয়িং 737 বিমান রানওয়েতে দাড়িয়ে আছে।খুব সম্ভবত এই বিমানে করে কাজ করার জন্য শ্রমিকদের আনা নেয়া করা
হয়। অন্য একটি স্থানে কালো রং করা একটি F 16 যুদ্ধ বিমানকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়। এই কালো রং করা যুদ্ধ বিমান মার্কিন বিমান বাহিনী সাধারনত রাত্রি কালিন অভিযানে ব্যাবহার করে। কালো রং করা অনেকগুলি হেলিকপ্টারকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়। এখানে অন্য আর পাঁচটি সাধারন বিমান ঘাটির মতো বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার আছে। ধারনা করা হয় এরিয়া ৫১ এর ভিতরে যে সব অত্যাধূনিক বিমান এবং স্যাটেলাইট তৈরী করা হয় সেগুলিকে মানুষের চোখের আড়ালে এবং মরুভূমির তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য এই হ্যাঙ্গারগুলিকে ব্যাবহার করা হয়। এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক শক্তিশালী। এই বেসের আনুমানিক ১৫৫ মাইল উত্তর এবং উত্তর পূর্বকোনে ৯৪০০ ফুট উঁচু “বেলডে” নামক একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল একটি রাডার স্থাপনা আছে। কিন্ত এই রাডারটি কি ধরনের তা জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হয় এটি আকাশ পথ নজরদারী রাডার ARSR 4 (Air Route Surveillance Radar) এই ধরনের রাডার মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাবহার করে। এটি শুধু একটি রাডার নয় একসাথে অনেক গুলি রাডারের একটি নেটওর্য়াক ব্যাবস্থা। এই রকম আরো একটি রাডার আছে গ্রুম লেকের উওর দিকে আর একটি পাহাড়ের চুড়ায় মাটি থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উপরে। এই রাডার গুলি পরিচালনা করার জন্য কোন মানুষের প্রয়োজন নেই এই রাডার সাইটের সব স্বয়ংক্রিয়।
একটা ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৫০ এবং ১৯৬০ সালের দিকে অক্সকার্ট নামে একটা প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয় A12 বিমান। এই বিমানটি ছিল U2 নামের একটি স্পাই বিমানের উত্তরসূরী এবং
বর্তমান SR71 BLACKBIRD স্পাই বিমানের পূর্বরুপ। বিমানটির বিশেষত্ব ছিলো, এটি রাডারের হাতে চিহ্নিত না হয়ে ঘন্টায় ২২০০ মাইল (৩৫৪০ কিঃমিঃ) বেগে উড়বার ক্ষমতা ছিল। ৯০০০০ হাজার ফুট উপর থেকে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে মাটিতে থাকা ১ফুট দৈঘ্য সমান বস্তুর ছবি তোলার ক্ষমতা ছিল এইবিমানটির। কিন্তু আমেরিকার সরকার একে আরো উন্নত করতে গিয়ে এক বিশাল দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে। দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে সরকার ব্যাপারটি লুকিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। পরীক্ষামূলক বৈমানিক কেন কলিন্স (এরিয়া ৫১ এ যার ছদ্মনাম কেন কলমার) ন্যাশনাল জিওগ্রাফীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান ওই দিনের ঘটনা। তিনি ওই দিন বিমানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে সম্পৃক্ত ছিলেন। হঠাৎ সব কিছু উলোটপালোট হয়ে পড়ে যখন তিনি খুব লো অ্যাল্টিচ্যুড এ বিমানের সাবসনিক ইঞ্জিনটিকে পরীক্ষা করতে শুরু করেন। ২৫০০০ ফিট উচ্চতায় আকস্মিকভাবে বিমানের মাথা উপরের দিকে উঠতে থাকে তারপর উল্টে যায় এবং অনুভূমিক ঘুরতে শুরু করেন। এ ধরণের পতনের হাত থেকে উড়োজাহাজকে রক্ষা করবার উপায় নেই। আর তাই তিনি বের হবার সিদ্ধান্ত নেন। প্যারাসুটের মাধ্যমে যখন মাটিতে নামতে সামর্থ হন তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেনবস্থানীয়দের বেশে তিনজন লোক তার জন্য পিকআপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরা কলিনকে ধ্বংসাবশেষের কাছে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু কলিন তাদেরকে নিয়ে উল্টো পথে রওনা দেন এবং তাদের জানান যে বিমানে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে এর কারন এই ধরণের গল্প আগে থেকেই তৈরি করে রাখাবহয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তারা একটু পরে এসে জায়গাটি পরিস্কার এবং ধামাচাপা দেবার কাজ শুরু করে। পরের দিন সকালের আগেই সমস্ত ধ্বংসাবশেষ একটা ট্রাকের মাধ্যমে এরিয়া ৫১ তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী অর্ধশতকের মধ্যে কেউ এই জায়গাটিতে আর আসেনি।
গবেষণার সুরুক্ষা দিতে মার্কিন সরকার এরিয়া ৫১ ঘিরে যত নিরাপত্তার আয়োজন করেছে, প্রাকৃতিকভাবে বেশ নিরাপদ জায়গা গ্রুপ লেকের তীরে এই গোপন সামরিক স্থাপনা –মানুষের আনাগোনা বা শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে। যদিও সিআইএ কিছু তথ্য জানিয়েছে, তবুও খোদ মার্কিন জনগণ আজও সেই পুরাতন নানা গল্পকেই এরিয়া-৫১ এর ভেতরের কাহিনী হিসেবে মানে।
এরিয়া ৫১ ঘিরে চূড়ান্ত গোপনীয়তার কারণে একে ঘিরে বেশ কিছু গুজবও রটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গুজবটি হলো, এর ভেতরে একটি এলিয়েন সুপারক্রাফট ও এর চালকের দেহ রয়েছে। ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর রোজওয়েলে সুপারক্রাফটটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটিকে এখানে এনে রাখা হয়। ১৯৮৯ সালে রবার্ট লাজার নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি এরিয়া ৫১-এর ভেতরে এলিয়েন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দাবি, এর ভেতরে কোনো এলিয়েন বা এলিয়েনের সুপারক্রাফট নেই।
তথ্যসূত্রঃ
1. https://bn.m.wikipedia.org/wiki/এরিয়া_৫১
2. https://m.facebook.com/infiptrix/posts/1031136640307885
3. https://m.priyo.com/articles/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E2%80%9C%E0%A6%8F%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A7%AB%E0%A7%A7%E2%80%9D-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4
4. https://m.prothomalo.com/international/article/1616108/যুক্তরাষ্ট্রে-রহস্যঘেরা-স্থান-‘এরিয়া-ফিফটি-ওয়ান’
5. https://www.bd-journal.com/special-report/100572/%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A7%AB%E0%A7%A7
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now