বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
----ভাইয়া ভাইয়া,,ও ভাইয়া,,,,,
-----ইসসসস,,,,ওই তুই এমন ভাবে ডাকছিস যেন বাসায় আগুন লাগছে??
----আরে না, না বাসায় না।এখন যে খবর নিয়ে এসেছি, শুনলে তোর কলিজায় আগুন লাগবে......
----মানে, কি খবর??
----হুম হুম বলবনা,আগে আমাকে খুশি কর।
----তোরে খুশি করতে করতেই আমার জীবন শেষ।তো বলেন মহারানী এখন আপনার কত লাগবে?মানে কত পেলে আপনার মহা মূল্যবান নিউজ টা আমাকে শুনাবেন??
----বেশি না,আজকের মতো ১০০ টাকা দিলেই হবে।
বলতেই মাথায় আস্তে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম....
----কাল না মাত্র ৫০টাকা নিলি??ছোট মানুষ এত টাকা দিয়ে কি করিস হুমমমম????
----দূর...দিতে এলাম ভালো খবর,আর খেতে হলো মাইর।তোকে আর বলবইনা,আমি চললাম।
বলেই সামনে ঘুরে হাটতে লাগল।
আমি দৌড়ে গিয়ে হাতটা ধরলাম।
----না আমার লক্ষি বোন,জান পাখি, ময়না পাখি এত রাগ করলে হয় বল?
বলনা কি এমন নিউজ তুই এই ভর দুপুরে নিয়ে এলি??
----বলবইতো,বলার জন্যই তো আসলাম।কিন্তু,,,,,,,
বলতেই আমি হাতে ১০০টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললাম...
----এই নে তোর পাওনা।এইবার অন্তত বল।
----তোমার রিয়া আছে না,তোমার জি এফ,,
কথাটা এইটুকু বলতেই আমি ভ্রু কুচঁকে বললাম,কি হয়েছে ওর???
-----আরে ওর তো কিছুই হয়নি,হইছে তো তোমার।তোমার কপাল পুড়েছে।
----মানে,ওই তুই এত ভনিতা রেখে সরাসরি বলবি??
----আরে রিয়ার নতুন রিলেশন চলছে।
----মানে কি,কার সাথে?আর তোকে কে বলল??
----আমার বান্ধবী কবিতার বড় ভাই সাজিদ এর সাথে।গভীর প্রেম চলছে একমাস যাবত।কাল তো ওরা একসাথে ঘুরতে ও গিয়েছিল ইকো পার্কে।
.
কথা টা শুনতেই যেন মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ছে।আমাকে বিয়ে করবে বলে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।আর অন্যদিকে আরেক জনের সাথে দিব্যি প্রেম করে বেড়াচ্ছে??এক ঢিলে দুই পাখি, বের করছি তোর এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
মনে মনে কথা গুলো ভাবছিলাম।তবে এই খবরটায় আমি অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছি।২বছর এর সম্পর্ক আমাদের।কি এমন পেল ওই সাজিদ এর মধ্যে,যে আমাকে রেখে তার সাথে,,,,
ইশশশ,,,,আর ভাবতেই পারছিনা।মনে হচ্ছে কেদেঁই ফেলব।না এখন কষ্ট হলেও চোখ দিয়ে পানি আসতে দেওয়া যাবেনা।কারন এতে তোয়া অনেক কষ্ট পাবে।তোয়া আমাকে অনেক ভালোবাসে।আর আমিও।
.
আগে পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি আবিদ।এইবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার।তাছাড়া বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করি।আর এতক্ষন যার সাথে কথা হচ্ছিল ও আমার ছোট বোন তানিশা ইসলাম তোয়া।এইবার অনার্স ১ম বর্ষ।আমরা ১ভাই ১বোন।বাবা মায়ের পরে যদি কেউ আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে এটা হলো আমার বোন তোয়া।যার ভালোবাসার কাছে পৃথিবীর সব ভালোবাসা হার মানে।একেই হয়তো বলে প্রকৃত প্রেম।যাতে কোন চাওয়া পাওয়া থাকেনা।থাকেনা কোন হারানোর ভয়।যা হয়তো স্বর্গ হতে আসে,তাই অনেক পবিত্র। আমি ও আমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি আমার কলিজার টুকরা ছোট বোন টিকে।
.
তবে আজ মনটা অনেক বেশি খারাপ।ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছি,রাত করে বাসায় ফিরছি।
সকালে কারো হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙলো।তাকিয়ে দেখি তোয়া মুখটা মলিন করে আমার দিকে তাকিয়ে অাছে।
আমি তো ভয় ই পেয়ে গেছি।
----কিরে কি হইছে?কোন সমস্যা???
----সরি,,ভাইয়া।আমি যদি জানতাম তুই এত কষ্ট পাবি তবে কখনই রিয়া আপুর কথাটা তোকে বলতাম না।
আমি এতটু হেসে বললাম..
----দূর পাগলি,কে বলল আমি কষ্ট পাইছি?.আর তাতে তোর কি দোষ বলতো?আমি ই তো মানুষ চিনতে বড্ড বেশি ভুল করে ফেলেছি রে,,,,
আমরা অনেক সময় এমন ই অপাত্রে সব মুল্যবান জিনিস দান করে ফেলি।আর সঠিক টা বুঝতে বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলি।যখন বুঝি ততদিনে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় পার হয়ে যায়।
যাই হোক বাদ দে।তোর কি অবস্থা??পড়াশোনা ঠিকমতো করছিস তো??যদি ভাল রেজাল্ট না আসে,সোজা পাঠিয়ে দিব শশুর বাড়ি।কথাটা বলতেই যা,, বলে দৌড়ে পালালো।
.
তোয়া তো চলে গেল কিন্তু আমার ভাবনা টা বেড়ে গেল।সত্যিই তো তোয়ার একদিন বিয়ে হয়ে যাবে।চলে যাবে আমাদের ছেড়ে,কি করে থাকবে ওকে ছাড়া?ওকে ছাড়া যে এই ঘর টা বড্ড বেশি ফাকাঁ হয়ে যাবে।ভাবতেই বুক টা কেপেঁ উঠলো।কিন্তু কি আর করার,এইটাই তো প্রকৃতির নিয়ম।
ভাবলাম,যদি আত্মীয় কারো কাছে বিয়ে দেই,তবে ই তো ভালো হবে।তোয়ার কোন অযত্ন হবে না।
পরে একদিন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রাহাত তার বাবা মা কে নিয়ে আমাদের বাসায় হাজির।সে নাকি তোয়া কে বিয়ে করতে চায়,তোয়াকে ওর অনেক আগে থেকে ই পছন্দ ।পরে সব দেখে শুনে রাহাতের সাথেই তোয়ার বিয়ে ঠিক হলো।আমি তো মহা খুশি অবশেষে আমার ইচ্ছেটাই পূরন হলো।রাহাত তো আমাদের আত্মীয়ের মধ্যেই পরে।
.
অবশেষে অবসান ঘটলো অপেক্ষার।আজকেই আমার কলিজার টুকরাটার বিয়ে।মহা ধুমধাম করে বিয়ে দিলাম আমার বোন কে।
বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বুঝেছিলাম,তোয়া চলে যাওয়ার শূন্যতাটা কতটা কষ্টের।
আজকে অনেক দিন হয়ে গেল তোয়ার বিয়ের।শুনেছি ভালোই আছে।তাও কেন জানি আজকে মনটা তোয়ার জন্য ছটফট করছে।
তখন ই তোয়ার কল আসলো।রিসিভ করতেই তোয়ার কান্নার আওয়াজ পেলাম।
ক্ষনিকেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।নিজের কান কেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
মনে হচ্ছে ওকে প্রথম বার কাদঁতে শুনছি।
আমি অবাক হয়ে বললাম...
----কিরে কাদঁছিস কেন??
কি হয়েছে?বল আমায়।
তোয়া বলল আজকে নাকি রাহাত ওরে খুব জোড়ে ২টা থাপ্পড় মেরেছে।
কথাটা শুনেই মাথায় রক্ত উঠে গেল।যে বোনকে আমরা কেউ কখনই জোড়ে থাপ্পড় দেইনি,তাকে সে জোড়ে জোড়ে ২টা থাপ্পড় দিয়েছে?
তোয়ার কল টা কেটে সাথে সাথে ই রাহাত কে কল করলাম।রিসিভ করতেই,কিরে রাহাত তুই তোয়াকে কেন মারলি??
সাথে সাথেই রাহাত বলে ফেলল,শোন আবিদ,তুই আমাদের পারিবারিক ব্যাপারে ঢুকবিনা।আমাদের কে আমাদের মতো করেই থাকতে দে।
আর শোন তোয়া এখন থেকে আমার দায়িত্বে আছে।কি করব, না করব তা আমিই ভালো জানি।
আমি বললাম,কিরে রাহাত,আজকে বোন কে বিয়ে দিয়েই তোর পর হয়ে গেলাম?তোদের কোন ব্যাপারেই কথা বলতে পারবোনা?আগে তো তোদের পারিবারিক যেকোন ব্যাপার আমাকে বলতি।আজকে কি এমন হয়ে গেল যে তুই বন্ধুত্বের সম্পর্ক টা কেই অস্বীকার করছিস?আচ্ছা যাই হোক ভালো থাকিস তোরা।
তোদের কোন ব্যাপারেই আর কখনই কিছু বলবোনা।বলেই কল টা কেটে দিলাম।
.
রাস্তা দিয়ে আনমনে হাটছি আর ভাবছি,তবে কি বোন কে বিয়ে দিলেই ভাই বোনের সম্পর্ক টা নষ্ট হয়ে যায়?তখন আর বোনের কোন ব্যাপারে কথা বলা যায় না??আগে জানলে তো আমার ছোট্ট পাগলি টা কে এখন বিয়েই দিতাম না।আর কিছুটা দিন আমার বুকে আগলে রাখতাম।
আমার ই ভুল হয়েছে,ওই রকম মাথা গরম করাটাই উচিত হয়নি।
কি আর করব,তোয়ার কান্না শুনে হিতাহিত জ্ঞান টা ই হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আর ভাবতে পারছিনা।মাথাটা ঘুরছে।বুক ফেটে কান্না বের হচ্ছে।
তখন ই আবার রাহাতের কল আসলো।অনিচ্ছা সত্ত্বেও রিসিভ করলাম।রিসিভ করতেই রাহাত লজ্জামাখা কন্ঠে বললো.....
-----সরি দোস্ত,মাথাটা ঠিক ছিল না রে।তাই কি বলতে কি বলে ফেলেছি,,আমি লজ্জিত।
-----দূর বোকা সরি বলার কি আছে,আমার ই উচিত হয় তোদের ব্যাপারে কথা বলাটা ।তবে তোয়ার কান্না শুনে মাথাটা ঠিক ছিলনা।তাই ওসব বলেছি। সরি রে দোস্ত।
----প্লিজ আর লজ্জা দিসনা। আমি আমার ভুল টা বুঝতে পেরেছি।আর এমন হবে না,তুই আমার বন্ধু ছিলি,এখনো আছিস আর থাকবি।
.
ওর কথা শুনে হেসে ফেললাম।যাক তাহলে সব ঠিক হয়ে গেছে।
রাতে তোয়া ফোন করে বললো যে রাহাত ওর কাছে ক্ষমা চেয়েছে থাপ্পড় দেয়ার জন্য।সাথে এটাও বললো ওরা কাল বাসায় আসবে।বহুদিন পর বোনটাকে দেখবো ভাবতে ই চোখে পানি চলে এলো,এটা খুশির কান্না।সত্যি ভাই বোনের সম্পর্ক টা অনেক মধুর আর পবিত্র।।
*যে সম্পর্কটি কখনই কোন ভাবে ভাঙ্গে না,তাই হয়তো ভাই বোনের সম্পর্ক*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now