বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মুক্তিযুদ্ধ—০২

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২) গভীর রাতে গ্রামের পথে শাল দিয়ে মাথা ঢেকে আসতে দেখা যায় এক যুবককে। গ্রাম পাহারায় থাকা মানুষগুলো দূর থেকে হাঁক ছাড়ে – - ওই, কে যায়? - আমি কমল, জমির মাঝির পোলা। - আরে কমল,ক্যামন আছোস ভাই? এগিয়ে যায় পরিচিত কেউ একজন। কমল তাদের গ্রামেরই ছেলে। শহরে মাছের ব্যবসা করতো। মাঝখানে মাস খানেক তার কোন খোঁজ খবর ছিল না। - ভাল আছি,তোমরা কেমন আছো? - আমরা এখনতরি ভাল আছি রে। তুই আছিলি কই এত দিন? এদিক ওদিক তাকায় কমল,বুঝতে চেষ্টা করে কি ঘটছে। ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে একজন বলে ওঠে - আমরা গেরাম পাহারা দিতাছি। রহিম শেখের কাছ থিকা লাডি চালান শিখতাছি। - ক্যাডা? ইনসান ভাই না? - হ, আমি ইনসান। - খুব খুশী হইলাম ইনসান ভাই। আমি তো মুক্তি বাহিনীতে যোগ দিছি। - মুক্তি বাহিনী আবার কি? সবাই এগিয়ে আসে ওর দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে সংক্ষেপে মুক্তি বাহিনী সম্পর্কে বলে যায় কমল। আশার আলোয় চকচক করে ওঠে সবার চোখ। - তাইলে ভাই,তুই এখন থিকা আমাগো নেতা। রহিম শেখ কমলের সামনে এসে দাঁড়ায়। - না রহিম ভাই,আমি বেশীক্ষণ থাকুম না,আইজ রাইতেই ফেরত যামু। আব্বা আম্মা আর জরীরে এক নজর দেখতে আইছিলাম। -না,তরে আমাগো লগে থাকতে হইবো। তুই আমাগো যুদ্ধ শিখাবি। - রহিম ভাই,যুদ্ধ কেউ কাউরে শিখায় না। যখন থিকা তুমি মিলিটারিগো মারনের লাইগা লাডি হাতে নিছো,সেই সময় থিকাই তুমি যুদ্ধ শুরু করছো। মানুষের ঘুইড়া দাঁড়ানোটাই যুদ্ধ। তয় আমি তুমাগোরে কিছু বুদ্ধি দিয়া যামু। তুমরা দুই তিনটা দিন গেরামটা সামলাও,এরপর আমরা আইতেছি অস্ত্র নিয়া। শুনছি পশ্চিম পাড়ার স্কুল ঘরে ওরা ক্যাম্প করছে। অইখানে একটা অপারেশন করতে পারলে সবার জন্য অস্ত্র যোগার হইয়া যাইবো। কমলের কথায় ভরসা পায় সবাই। হটাত গ্রামের দক্ষিণ দিক থেকে শোরগোল শোনা যায়,সবাই দৌড়ে যায় সেখানে। মসজিদ লাগোয়া ছোট্ট ঘরটার সামনে পড়ে আছে ইমাম সাহেবের নিথর দেহ। তার গলায় আমূল বিদ্ধ গরু জবাই করার ছুড়ি। একটু দূরে মুয়াজ্জিন মোস্তাককে ধরে রেখেছে কয়েকজন লোক। মোস্তাক চিৎকার করে বলছে – “পাকিস্তান জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ”। রহিম শেখের চোখ অন্ধকারেও জ্বলে ওঠে। তার হাতের লাঠি বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য স্তব্ধ করে দেয় মোস্তাককে। এমন সময় কমল চিৎকার করে বলে – “জয় বাংলা”, তার স্বর ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে থাকে দিকে দিকে। ৩) এই গ্রামের প্রথম শহীদ ইমাম আবদুল কাদেরকে কবর দেয়া হয়েছে মসজিদের পাশেই। কমল চলে গেছে ভোর হবার আগেই। ওদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে কি করে বাঙ্কার খুঁড়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে হয়। চলছে বাঙ্কার খোঁড়ার প্রস্তুতি। সবার রক্তে আজ আগুনের হলকা বয়ে চলেছে। যে মানুষটা পথ দেখালো,সাহস দিলো,আগুন জ্বালাল,তাকেই নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে এখানে। আস্তিনের ভেতর লুকিয়ে থাকা সাপ ছোবল হেনেছে রাতের আঁধারে। এই সব জানোয়ারদের জন্যই আজ সবার এত দুর্ভোগ,চারিদিকে লাশের গন্ধ,বারুদের ধোঁয়া। এরাই মিলিটারিদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় গ্রামে গ্রামে,তাদের মনোরঞ্জনের জন্য তুলে আনে মেয়েদের,নির্বিচারে হত্যা করে মানুষ। মোস্তাককে বেঁধে রাখা হয়েছে গাছের সাথে। অনেকেই চেয়েছিল তাকে মেরে ফেলতে,কিন্তু গ্রামের মানুষেরা এখনও এতটা নির্মম হতে পারেনি বলে মোস্তাক বেঁচে আছে এখনও। দুপুরের দিকে পূর্ব পাড়ায় মিলিটারির ধ্বংসলীলার খবর এসে পৌঁছায়। পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে শূন্য গ্রামটা। আর ওরা এগিয়ে আসতে পারে এদিকেও। গ্রামের উল্টোদিকেও বেশ কিছুটা দূরে আমাকে কালো ধোয়া উঠতে দেখে সবাই বুঝে ফেলে হামলা হয়েছে সেদিকেও। পালাবার পথ আর নেই। এত দ্রুত বাঙ্কার খুঁড়ে শেষ করা যায়নি। তবুও এক দল প্রশিক্ষিত মিলিটারিকে রুখতে চোখে আগুন আর রক্তে দেশপ্রেম নিয়ে অপেক্ষা করছে কয়েকজন মানুষ। কয়েকজন নারী,শিশু ও বৃদ্ধকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে গ্রামের একদম পেছন দিকে। জমিলা এবং আরও অনেক মেয়ে অপেক্ষা করছে গ্রামের কচুরিপানায় ভর্তি পুকুরটার পাশে। বিপদের মুহূর্তে পানিতে নেমে নাক পর্যন্ত ডুবিয়ে মাথায় কচুরিপানা দিয়ে নিজেকে লুকিয়ে ফেলার বুদ্ধিটা জমিলারই বের করা। জীবন বিপন্ন হলে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। হাসান বসে আছে কমলদের বাড়ীর পেছনের সুপারি বাগানের ভেতর,তার হাত রাইফেলের বাটে। তাকে ঘিরে আছে গ্রামবাসী আর মুক্তিযোদ্ধারা। সেদিন আর মিলিটারিরা এগিয়ে আসেনি এই গ্রামের দিকে। সন্ধ্যের পর কমল সহ মুক্তিযোদ্ধাদের এই ষোল জনের দলটি এসে পৌঁছেছে গ্রামে। গ্রামের লোকজন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে নতুন উদ্যমে মেতে উঠেছে। দলের সাথে আছে বেশ কিছু অস্ত্র। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে অস্ত্র চালনার শিক্ষা। সময়ের বড্ড অভাব এই বিপদের মুহূর্তে। হাসানের মাথায় একের পর এক যুদ্ধ পরিকল্পনা আর তা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় ঘুরছে। এক সময় মৌনতা ভাঙ্গে সে - - আজকে রাতেই ওদের ঘাটি আক্রমণ করবো আমরা। ওদের আর এগুতে দেয়া যাবেনা। কয়েকজন গ্রামবাসী কথা বলে উঠতে গেলে তাদের হাত তুলে থামিয়ে দেয় কমল। সে জানে,মনে মনে প্ল্যান করা শেষ হাসানের। এখন সে শুধু বলে যাবে, ওর কথা মত কাজ করে যেতে হবে বাকিদের। - পশ্চিম পাড়ার স্কুল ঘরে মিলিটারিরা ক্যাম্প করছে। আমার হিসেব মত জনা পঁচিশেক মিলিটারি আর কিছু রাজাকার আছে সেখানে। আমরা আছি ওদের প্রায় সমান সমান। কাজেই খুব একটা কঠিন হবেনা অপারেশন। দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই ওরা এদিকে চলে আসবে। সেই সুযোগটা ওদের দেয়া যাবে না। আজ রাতেই যা করবার করতে হবে। মাটিতে ছক কেটে চললো যুদ্ধ পরিকল্পনা। রক্তের নেশায় অন্ধকারেও চকচক করছে অসম সাহসী প্রতিটি মানুষের চোখ। খুব দ্রুতই শেষ হলো পরিকল্পনা। যে যার পরিবারের সাথে কিছুটা সময় কাটাতে চলে গেল গ্রামের লোক গুলো। অপারেশন শেষে কে কে ফিরে আসবে,তা বলার কোন উপায় নেই। তবুও নিজের পরিবার পরিজন,নিজেদের মাটি, নিজের এই দেশটাকে বাঁচাতে আজ সবাই মরনপণ লড়াই করতে প্রস্তুত। অন্ধকারে শ্বাপদের মত এগিয়ে চলছে এক দল মুক্তিযোদ্ধা। তিনটা আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে আক্রমণ করবে ওরা। পরিকল্পনা মত সব এগুলে মিলিটারির ঘাটি ধ্বংস করা তেমন কঠিন কিছু হবে না। কিন্তু যুদ্ধ এমন একটা জিনিস,যেখানে সব কিছু পরিকল্পনা মত হয় না। বার বার প্ল্যান বদলাতে হয়,অবস্থা বুঝে পালটে ফেলতে হয় অবস্থান আর কৌশল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মুক্তিযুদ্ধ—০২
→ মুক্তিযুদ্ধ—০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now