বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালোবাসার রূপকথা
মৎস্যকুমারী ফিয়োনা
আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর নীল জলরাশির নিচে অদ্ভুত সুন্দর রাজপুরীতে থাকে ও । এখানে সেখানে ভেসে বেড়ায় । তবে ওর সবচেয়ে ভালো লাগে ওদের ফুলের বাগানে সাতঁরে বেড়াতে । হরেক রকমের ফুলে সজ্জিত বাগান । ও অবাক হয়ে দেখে বাগানের সৌন্দর্য ।
একদিনের কথা ।
ফিয়োনা বাগানে সাতঁরে বেড়াচ্ছিল । পাশের রাজ্যেরমৎস্কুযমার স্টুয়ার্ট তখন সেই বাগানের পাশ দিয়ে সাতঁরে যাচ্ছিল । ফিয়োনাকে দেখে থমকে দাড়াঁলো । একটা ঝোপের আড়াল থেকে দেখতে লাগলো ফিয়োনাকে । লম্বা সোনালী চুলগুলো পানিতে এলোমেলোভাবে ভাসছে । কোমর থেকে শুরু হওয়া রঙিন লেজটা মৃদু স্রোতে দুলছে । চোখগুলো ভীষণ মায়াময় । স্টুয়ার্ট চোখ ফিরাতে পারলো না । অবাক দৃষ্টিতে ফিয়োনার দিকে তাকিঁয়ে রইলো । যদিও ফিয়োনা দেখছে না ওকে । একটুপর ফিয়োনা চলে গেল । মন খারাপ হয়ে গেল স্টুয়ার্টের । আর কিছুক্ষণ দেখার খুব ইচ্ছে ছিল ওর । কি আর করা ? মন খারাপ করে স্টুয়ার্টও চলে গেল ।
পরদিন আবার ফিয়োনা আসলো ফুল বাগানে । স্টুয়ার্ট অপেক্ষা করছিলো ফিয়োনার জন্য । আগের মতোই ঝোঁপের আড়াল থেকে ওকে দেখতে লাগলো স্টুয়ার্ট । আজকে নীল ড্রেস পড়েছে ফিয়োনা । স্টুয়ার্টের কাছে মনে হল বিশাল নীল পানির রাজ্যে কোন নীল অপ্সরী সাতঁরে বেড়াচ্ছে । স্টুয়ার্ট এত রাজ্য ঘুরেছে ; কিন্তু এত সুন্দর মৎসকুমারী কখনও দেখে নি । অপলক দৃষ্টিতে তাকিঁয়ে রইলো ফিয়োনার দিকে ।ও খুব ভালোবাসলো ফেললো ফিয়োনাকে । তবে আজও ফিয়োনা দেখতে পেল না ওকে । চলে গেল ফিয়োনা ।
পরদিন ফিয়োনা বাগানে আসলে স্টুয়ার্ট এসে ওর সামনে দাড়ালো । হঠাৎ স্টুয়ার্টকে দেখে চমকে গেল ফিয়োনা । আড়চোখে ফিয়োনা দেখলো সুদর্শন যুবক স্টুয়ার্টকে । একপলক দেখেই দৌড়ে বাগান থকে চলে গেল । মন খারাপ করে বাগানে বসে পড়লো স্টুয়ার্ট । ও ভাবলো ফিয়োনা ওকে পছন্দ করে নি ।
রাত হয়ে গেল ।
স্টুয়ার্ট তখনও মন খারাপ করে বাগানে বসে আছে । একটুপর উঠে দাড়াঁলো । সাতঁরে সাগরের উপরে আসলো । অসম্ভব সুন্দর আজকের চাদঁটা । ও নীল পানিতে চাদেঁর অবয়বটা হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলো । তখন ওর পাশ দিয়ে একটা জাহাজ যাচ্ছিলো । ও জাহাজের দিকে তাকিঁয়ে দেখলো একটা ছেলে আর একটা মেয়ে জাহাজর ডেকে দাড়িঁয়ে হাতে হাত রেখে চাঁদ দেখছে । ও কল্পনায় দেখলো ও আর ফিয়োনা একে অপরের হাত ধরে পানিতে ভেসে ভেসে চাঁদ দেখছে । মলিন মুখে একটু হাসি ফুটলো ওর ।
নীল জলের তলে আবার ডুব দিল ও । ফিয়োনার রাজপ্রাসাদের কাছে গেল । জানালা দিয়ে ভিতরের তাকিঁয়ে দেখলো মিষ্টি ফিয়োনা ঘুমাচ্ছে । ও ফিয়োনার মুখটা চাদেঁর সাথে তুলনা করলো । ফিয়োনা যেন এই অতল নীল জলরাশির একমাত্র চাঁদ । তবে ও পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও অনেক সুন্দর । সারারাত ও ঘুমন্ত ফিয়োনাকে দেখেই কাটালো ।
সকাল হতেই ও বাগানে গিয়ে ফিয়োনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো । কিছুক্ষণপর ফিয়োনা আসলো । আজ ও বলবে,"ফিয়োনা,আমি তোমাকে ভালোবাসি ।" কিন্তু ফিয়োনা আজও ওকে এক পলক দেখে চলে গেল । স্টুয়ার্ট আজ সত্যিই খুব কষ্ট পেল । "ও কি দেখতে এতই খারাপ ?"
তখন পাশ দিয়ে একটি মৎস্যকণ্যা সাতঁরে যাচ্ছিল । স্টুয়ার্ট ওকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,"তুমি কি মৎস্যকুমারীকে চিনো ?" মৎস্যকণ্যা হ্যাঁ সম্মতি দিয়ে বলল,"ওর নাম প্রিন্সেস ফিয়োনা । কিন্তু ও কথা বলতে পারে না," চলে গেল মৎস্যকণ্যা ।
মন খারাপ করে নিজের রাজ্যে ফিরে আসলো স্টুয়ার্ট । সারাদিন ভাবলো এত সুন্দর একটা মৎস্যকুমারী কথা বলতে পারে না । অনেক ভেবে ও ঠিক করলো ফিয়োনা যেমনই হোক ও শুধু ফিয়োনাকেই ভালোবাসবে ।
রাত হয়েছে তখন ।
মুকুট নিয়ে সাতঁরে ও চলে আসলো ফিয়োনার রাজ্যে । কিন্তু ও কোথাও ফিয়োনাকে খুজেঁ পেল না । মন খারাপ করে সাগরের উপর গেল ও ।
গিয়ে দেখলো ফিয়োনা পানিতে ভেসে ভেসে চাঁদ দেখছে । চোখজোড়া অশ্রুসজল । স্টুয়ার্ট ওর কাছে গল । স্টুয়ার্টকে দেখে ফিয়োনা চলে যেতে উদ্যত হল ।
তবে আজ স্টুয়ার্ট ফিয়োনকে যেতে দিল না । হাত ধরে টেনে ওর কাছে নিয়ে আসলো । মাথায় পড়িয়ে দিল মুকুট । তারপর ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিল । আর সোনালী চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,"খুব ভালোবাসি তোমাকে,ফিয়োনা ।"
তখন ফিয়োনাও বলে উঠলো,"স্টুয়ার্ট আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি ।"
স্টুয়ার্ট তো অবাক,"তুমি কথা বলতে পারো ?"
"আগে পারতাম না, এখন পারছি । আসলে আমার উপর জলদেবতার অভিশাপ ছিল তিনি বলেছিলেন ""তুমি কথা বলতে পারো না,এটা জেনেও যদি কেউ তোমাকে ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নেয় তাহলে তুমি আবার আগের মতো কথা বলতে পারবে । আমি তোমাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম ; কিন্তু কথা বলতে পারি না বলে বারবার চলে যেতাম,"লজ্জায় লাল ফিয়োনার গাল ।
খুব খুশি হল স্টুয়ার্ট । আবারও বুকে জড়িয়ে নিল ফিয়োনাকে । ফিয়োনাও জড়িয়ে ধরলো স্টুয়ার্টকে ।
ওদের ভালোবাসার উৎসবে নীল আকাশের চাঁদটা নীল সমুদ্রের জলরাশিতে অবয়বরূপে ঢেউয়ের তালে নাচতে লাগলো ।
**সম্পূর্ণ রূপকথা**
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now