বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মরণবান
আবুল ফাতাহ মুন্না
দুই
ঘটনার শুরু সপ্তাহখানেক আগে।
ল্যাংলি, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
সিআইএ সদরদপ্তর।
সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তা লিওন
পানেত্তার চেম্বারে বসে আছে বেন।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট
সাধারণত ব্রিফ করে থাকেন
এজেন্সির ডেপুটি চীফ কিন্তু এই
মিশনটা একেবারেই আলাদা।
খবরটা কোনোমতে লিক হলে
সারাদেশে...উহুঁ, সারাবিশ্বে আতঙ্ক
ছড়িয়ে পড়বে দাবানলের মত।
সেদিন সকালে একটা বেনামী
পার্সেল আসে সিআইএ চীফের
নামে। চীফ নিজে কোনো পার্সেলই
খুলে দেখেন না। কড়া চেকিং এর
মধ্যে দিয়ে আসতে হয়
পার্সেলগুলোকে।
চেকিং এর সময় দেখা গেল ভেতরে
ছোট্ট একটা অ্যাম্পুল। ভেতরে এক
ধরনের তরল। তবে তরলটা আসলে কী
সে ব্যাপারে কোনো তথ্য কেউ
দিতে পারল না।
ব্যাপারটা চীফের দৃষ্টি আকর্ষণ
করে খুব স্বাভাবিকভাবেই। এরপর
চীফের নিজস্ব তত্বাবধানে
অ্যাম্পুলটা পরীক্ষা করে দেখা গেল
এই তরলটার ব্যাপারে কোনো
ধরনের রেকর্ডই তাদের কাছে নেই।
সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটা
কেমিক্যাল। অনেক পরীক্ষার পরও
কেমিক্যালের নাম, প্রকৃতি, ক্ষতির
মাত্রা অজ্ঞাতই থেকে গেল। সবার
যখন চুল ছেঁড়ার মত অবস্থা, ঠিক
তখন, পার্সেল আসার দু'ঘন্টা পর
এল বুক কাঁপিয়ে দেয়া সেই চিঠি।
প্রেরক থমাস পাওয়েল।
থমাস পাওয়েলের খানিক পরিচয়
দেয়া যাক। থমাস পাওয়েল নামজাদা
বায়োলজিস্ট। গবেষণা করত
মার্কিন সরকারের এক গোপন
গবেষণাগারে। এধরনের ল্যাবরেটরির
আসল সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন
হোমরাচোমরাই জানেন। এই
ল্যাবরেটরিগুলো সাধারণত
আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
কিংবা সিআইএ'র মত গোয়েন্দা
সংস্থার তত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
থমাসের ল্যাবরেটরি ছিল সিআইএর
তত্বাবধানে।
তিনমাস আগে থমাস একদিন স্রেফ
উধাও হয়ে যায়। বিয়ে থা করেনি মধ্য
ত্রিশের এই বায়োলজিস্ট। ফলে
পেছনে কোনো সূত্র না রেখেই
গায়েব হয়ে যেতে সমস্যা হয়নি তার।
সিআইএ মোটামুটিমানের একটা
অনুসন্ধান চালায়। খুব বেশি গরজ না
দেখাবার কারণ হল, থমাস চলে যাবার
সময় নিজের গবেষণার কাগজপত্র
ছাড়া আর কিছুই নেয়নি। আর
থমাসের সাম্প্রতিক গবেষণাও
তেমন আহামরি কিছু ছিল না। এক
সাধারণ বায়োলজিক্যাল ওয়েপন
নিয়ে কাজ করছিল থমাস। এরপরও
একজন বিজ্ঞানীকে খোঁজার জন্য
যতটা করা দরকার, তাতে ত্রুটি
করেনি সিআইএ। কিন্তু বেমালুম
গায়েব থমাস।
আজ তিনমাস পর জানা গেল তার
গবেষণার বিষয় সামান্য হলেও
আবিষ্কারটা মোটেও সাধারণ কিছু
নয়। থমাস আবিষ্কার করে বসেছে
পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে
ভয়ংকরতম এক ভাইরাস। আর
সকালে আসা অ্যাম্পুলটার মধ্যে
রয়েছে তারই স্যাম্পল!
চিঠিটাতে সে বিস্তারিত লিখেছে এই
ভাইরাসটা সম্পর্কে। ভাইরাসটার নাম
সে দিয়েছে 'আনেমোই'(Anemoi)।
গ্রিক শব্দ। এই শব্দের মধ্যেই
লুকিয়ে আছে নামকরণের তাৎপর্য।
গ্রিক পুরাণমতে বায়ুর চারজন
দেবতা। উত্তর বায়ু ও শীতকালের
ঠান্ডা বাতাসের দেবতা- বোরেয়াস।
দক্ষিণা বায়ু, গ্রীষ্মকাল ও
শরৎকালের ঝড়ো বাতাসের দেবতা-
নোতুস।
পশ্চিমা বায়ু ও বসন্তকালের
মৃদুমন্দ বাতাসের দেবতা জেফাইরুস।
এবং পূর্ব বায়ুর দেবতা হল এউরুস।
এই চার দেবতার সমষ্টিকেই বলা হয়
'আনেমোই'। আর এই ভাইরাসটাও
ছড়াবে বাতাসের মাধ্যমে।
বায়ুবাহিত অন্যান্য ভাইরাসের সাথে
এর পার্থক্য হল, এর ছড়িয়ে পড়ার
গতি অবিশ্বাস্য। আশ্চর্য হলেও
সত্য,পুরো পৃথিবীতে ভাইরাসটা
ছড়িয়ে পড়তে সময় নেবে মাত্র
একঘন্টা।
'আনেমোই' মানুষের রক্ত প্রবাহকে
বাড়িয়ে দেয় কয়েকশো গুণ পর্যন্ত।
ফলাফল-প্রথমে হৃৎপিন্ড ছিদ্র হয়ে
যাবে, এরপর ছিঁড়ে যাবে দেহের
প্রতিটা পেশি। আক্রান্ত হবার মাত্র
বিশ সেকেন্ডের মধ্যেই নারকীয়
যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে ভয়ংকর মৃত্যু
ঘটবে আক্রান্ত ব্যক্তির।
সিআইএর কাছে ভাইরাসের নমুনা
হিসেবে যে অ্যাম্পুল পাঠানো
হয়েছে সেটাই পুরো পৃথিবীর মানুষকে
সাবড়ে দেবার জন্য যথেষ্টরও বেশি।
শুধু বাতাসের ছড়িয়ে পড়ার জন্য এর
সাথে পরিমাণমত নাইট্রোজেন
মেশাতে হবে।
চিঠির বক্তব্য হেসে উড়িয়ে দেবার
যথেষ্ট কারণ ছিল যদি না ভাইরাসের
আবিষ্কারক জিনিয়াস থমাস
পাওয়েল না হত এবং বাঘা বাঘা
বিজ্ঞানীরা ভাইরাস পরীক্ষা করে
চিঠির সত্যতা স্বীকার না করত।
এই চিঠি আরেকটা সত্য প্রকাশ
করছে,থমাস শুধু জিনিয়াসই না, একটা
পাঁড় উন্মাদও বটে। নয়ত এমন দাবি
কেউ করে? টাকা চাইলে টাকা দেয়া
যেত, কিন্তু উন্মাদটা ভাইরাস না
ছড়ানোর বিনিময়ে দাবি করে বসেছে
উদ্ভট এক জিনিস।
আজ সিআইএ ছাড়াও বিশ্বের সব
পরাশক্তির সিক্রেট সার্ভিসের
কাছেই এমন একটা করে পার্সেল
পৌঁছেছে। আর পাঠাবার টাইমিংটাও
অদ্ভুত। সময়ের পার্থক্য সত্বেও
সবগুলো সিক্রেট সার্ভিসের চীফ
একই সময় হাতে পেয়েছেন পার্সেল।
যখন পার্সেলের বস্তুটা নিয়ে সবার
পাগল হবার দশা ঠিক তখন, দু'ঘন্টা
পর সব জবাব নিয়ে আসে থমাসের
চিঠি। খুব সুক্ষ্ম এক মাইন্ড গেম
খেলেছে থমাস। আগে সবাইকে
পার্সেলের প্রতি আগ্রহী করেছে,
এরপর তার দাবি জানিয়েছে। তার
দাবিটা হল, সমস্ত পরাশক্তির কাছে
যত ধরনের মারণাস্ত্র আছে সব
ধ্বংস করে ফেলতে হবে। শুধুমাত্র
আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস
দমনের জন্য যে সমস্ত হালকা
অস্ত্রের প্রয়োজন সেগুলো
আওতার বাইরে থাকবে। এক
সপ্তাহের মধ্যে যদি এ দাবি মেনে না
নেয়া হয় তাহলে সারা পৃথিবী ধ্বংস
করে দেবে সে। একজন মানুষও
বাঁচিয়ে রাখবে না। দরকার নেই এই
অসুস্থ পৃথিবীর। হয়ত অদূর
ভবিষ্যতে আবার মানুষ ফিরে আসবে
পৃথিবীতে। রোগ, জরা মুক্ত এক
পৃথিবী গড়ে তুলবে।
অবাস্তব শোনালেও এমনটাই বলা
হয়েছে থমাসের চিঠিতে। যেন বাচ্চা
ছেলের, আবদার, নতুন খেলনা না
দিলে পুরোনোগুলো ভেঙে ফেলব!
এরপর সংশ্লিষ্ট সমস্ত দেশের
হর্তাকর্তাদের এক মিটিং হয়।
সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
মাত্র একজন সিক্রেট এজেন্টকেই
দায়িত্ব দেয়া হবে থমাসকে খুঁজে
বের করার। সে ফিল্ডে কাজ করে
যাবে আর সব দেশের গোয়েন্দা
সংস্থা তাকে সর্বতোভাবে সাহায্য
করবে। 'অধিক সন্যাসীতে গাজন
নষ্ট' যেন না হয় সেজন্যই এই
ব্যবস্থা। থমাস অবশ্য 'আমাকে
খুজে বের করার চেষ্টা করলে হেন
করব,তেন করব' জাতীয় কিছু বলেনি
চিঠিতে। এতেই তার আত্মবিশ্বাসের
মাত্রা টের পাওয়া যাচ্ছে।
অবশেষে অনেক চিন্তা ভাবনার পর
এই অ্যাসাইনমেন্টটা দেয়া হয়
বেঞ্জামিন রাইটের কাঁধে।
সেদিন চীফের ব্রিফিং শেষ হতেই
কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেন। এরপরের
একটা সপ্তাহ সবার জন্যই ছিল এক
দুঃস্বপ্ন। ব্যাপারটা যেহেতু খুবই
স্পর্শকাতর সেজন্য খুব গোপনে
কাজ করতে হয়েছে সবাইকে। গত
এক সপ্তাহ অনেক জায়গায় মাথা
ঠুঁকে অবশেষে বেন খোঁজ পেয়েছে
এই ওয়ারহাউসের। কানাডিয়ান
সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করে
বললেও তেমন ভরসা পাচ্ছে না বেন।
জানে না, এখানে সত্যিই আছে কিনা
থমাস। ওকে আজ না পেলে
বিপর্যয়টা ঠেকানোর আর কোনো
উপায়ই থাকবে না। কালই শেষ হয়ে
যাবে থমাসের বেঁধে দেয়া ডেডলাইন।
লম্বা করে দম নিয়ে ওয়ারহাউসের
দিকে পা বাড়াল বেঞ্জামিন রাইট।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now