বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুসম দেবর

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আব্দুল্লাহ(guest) (০ পয়েন্ট)

X (পূর্বে প্রকাশের পর) মনির সাহেব বললেন,সেটা হলো, আপনার বাসায় দরজা রাখবেন দুটিঃএকটি আপনাদের বের হওয়ার জন্য এবং অপরটি আপনার ভাইয়ের বের হওয়ার জন্য।যাতে আপনার ভাইকে বের হওয়ার জন্য আপনাদের দরজা ব্যবহার করতে না হয়। আর আপনার ভাইয়ের থাকার জন্য যে রুমটি থাকবে,সেই রুম থেকে ঘরের ভিতরের অংশে যাবার জন্য কোন দরজা রাখবেন না।এরপর আপনার ভাই যেই রুমে থাকবে ,সে রুমের চাবি তার কাছে থাকবে । আর বাসার যে অংশে আপনি ও আপনার স্ত্রী থাকবেন, সেখানকার দরজার চাবি আপনাদের নিকট রাখবেন।আর বলে দিবেন ,ভাইকে বাসার বাহিরে থেকে খেয়ে নিতে।এভাবে করলে আসা করি কোনো সমস্যা হবে না। মনির সাহেবের দেয়া সমাধানে পুরোপুরি আশ্বস্ত না হলেও নিরুপায় হয়ে সেটাই গ্রহণ করার মনস্ত করলেন ফিরোজ সাহেব।তাই একে নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখার তাগিদ অনুভব করলেন না। অফিস থেকে ফিরে ফিরোজ সাহেব বাসায় গিয়ে তার কলিগের দেয়া পন্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন।এভাবে একটা নির্জন বাসায় তিনি,তার স্ত্রী ও তার ছোট ভাই থাকতে লাগলেন। ০ ০ ০ ০ ০ ০ একদিন ফিরোজ সাহেব অফিসে গিয়েই আবার একটি জরুরী কাগজ নেবার জন্য বাসায় গেলেন। গিয়ে দেখেন-তাদের রুমে তার ছোট ভাই রাকিব বসা।তাকে দেখে ফিরোজ সাহেব রাগত কন্ঠে বললেন,কি ব্যাপার রাকিব ! তুমি এ রুমে কেন? ফিরোজ সাহেবের কথায় রাকিব চুপ করে রইলো। তখন ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী বানিয়ে বললেন,ও ভার্সিটিতে যাবে, কিন্তু এখনো হোটেলটি খুলেনি।তাই বাইরে থেকে নাস্তা আনতে না পেরে আমার কাছে নাস্তা নিতে এসেছে। স্ত্রীর কথা শুনে ফিরোজ সাহেব নিশ্চিত হলেন। তবুও তিনি রাকিবকে বলে দিলেন,দেখ রাকিব ! তোমার ভাবি বাসায় একা থাকেন। এমতাবস্থায় তোমার এ রুমে আসা আমি পছন্দ করি না।তাই তুমি আর কখনো এই রুমে আসবে না।আর যত টাকা লাগে ,তা আমার থেকে নিয়ে বাইরে গিয়ে খাবার খাবে। ০ ০ ০ ০ ০ ০ ইতোমধ্যে তিনবছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন ফিরোজ সাহেব এক ছেলে ও এক মেয়ের পিতা। তিনি তার সন্তানদের কে নিয়ে খুবই সুখী জীবনযাপন করছেন। তার ছোট ভাই রাকিব আর মাত্র একমাস পর তার পড়ালেখা শেষ করবে।এরপর সে এ বাসা থেকে চলে যাবে। এভাবেই চলছিলো তাদের জীবন। কিন্তু হঠাৎ এমন একটি ঘটনা ঘটল,যা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলো। ঘটনাটি হলো , একদিন ফিরোজ সাহেব রাত আটটায় অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন নিজের গাড়ীতে করে। হঠাৎ এক বৃদ্ধা মহিলা তার বাড়ীর সামনে এসে দুহাত তুলে থামাতে ইশারা করলো। ফিরোজ সাহেব গাড়ী থামালেন এবং কী হয়েছে দেখার জন্য গাড়ী থেকে নামলেন। ফিরোজ সাহেব গাড়ী থেকে নামতেই বৃদ্ধা হাউমাউ করে তার পায়ে লুটিয়ে পড়লো। ফিরোজ সাহেব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন ,কী হয়েছে আপনার?খুলে বলুন! মহিলাটি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলতে লাগলো,বাবা অনেক বড় বিপদে পড়েছি । আমার মেয়ের সন্তান হইবো , অথচ আরো কয়েকমাস আগে তার স্বামী ফালাইয়া রাইখা চইলা গেছে। এখন আমার মাইয়ারে জরুরি ভাবে হাসপাতালে নেওয়া লাগবে।অথচ আমার কাছে তারে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো টাকা নাই। আমি এখন কি করমু বাবা !বলেই বৃদ্ধা মহিলাটি আবার কাঁদতে লাগলো।দয়ালু ফিরোজ সাহেব বৃদ্ধার কথা শুনে দুঃখিত না হয়ে পারলেন না।তাই তিনি তাকে বললেন, আপনার মেয়েকে নিয়ে আসুন , আমি আমার গাড়ীতে করে পৌঁছে দিচ্ছি।..............চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মৃত্যুসম দেবর
→ মৃত্যুসম দেবর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now