বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুর গন্ধ(পর্ব-৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)

X ড.ইকবাল দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানালেন তারেককে। তারেক ঢুকে পড়ল।এবং ঢুকেই একটা গন্ধ পেল নাকে! তবে গন্ধটা মৃত্যুর অপার্থিব গন্ধ নয়,হাসপাতালের পার্থিব গন্ধ।ওষুধ,ফিনাইল, কেমিকেলের মিশ্রিত যে গন্ধটা সব হাসপাতালেই পাওয়া যায়। কেবিনটা মাঝারি আকারের।ফার্নিচার কম।আলো বাতাসের প্রচুর আসা যাওয়া।পূর্বমূখী জানালাটা দিয়ে রোদ রুমের মাঝ বরাবর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।রোদের সীমানার শেষ প্রান্তে বেডের পায়ার অবস্থান। তারেকের কাছে একটা জিনিষ বেশ ভাল লাগল।নার্সিংহোমের সর্বত্র থেকে হাসপাতাল-হাসপাতাল ভাবটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।যেমন পর্দাসহ রুমের প্রতিটা আসবাবের রং হালকা নীল।আকাশিও বলা যায় রংটাকে। শুভ্র পবিত্রতার প্রতীক হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে এসে সেটা অনেকাংশেই ভীতিকর হয়ে পড়ে। সিঙ্গেল বেডটাতে একটা মানুষ শুয়ে আছে।বেডের পাশের ছোট্ট টেবিলটাতে একটা প্লেট পড়ে আছে। সম্পুর্ন খালি সেটা। মানুষটা যদি জানত তার মৃত্যু গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে তাহলে কি খাবারগুলো শেষ হত?ভাবল তারেক।পরক্ষনে নিজের উপরই বিরক্ত হয়ে উঠল।এসব কী ভাবছি আমি? মৃত্যুর আবার গন্ধ কিসের? তারেক তখন পর্যন্ত জানতে পারলনা ওর ধারনা কতটা ভুল। তারেক বিছানার দিকে এগোতে এগোতে ভাল মত গন্ধ নিতে লাগল। কে জানে, হয়ত পেয়েও যেতে পারে গন্ধটা! বিছানায় শোয়া মানুষটা বেশ স্বাস্থ্যবান।দেখে রোগী বলে মনে হয়না।কোনো আত্মীয় বোধহয় দেখতে আসার সময় আঙ্গুর নিয়ে এসেছিল এখন শুয়ে শুয়ে তাই খাচ্ছেন।তারেকদের দেখে আধশোয়া হল। 'কেমন আছেন ডাক্তার সাহেব?' সহাস্যে বললেন বৃদ্ধ। ড.ইকবালও হেসে ফেললেন। 'প্রশ্নটা তো আমি করব,তাইনা? ' 'সেটা তো রোজ করেনই।আজ না হয় আমিই করি।' 'হুমম,তা আপনি কেমন আছেন? ' 'আমি তো হাসপাতালে ভাল হতে আসিনা।ছেলেরা জোর করে পাঠায় সেজন্য আসা।আমি এই আসা যাওয়ার উপর থাকতে থাকতেই একদিন একেবারে চলে যাব। ...তা উনাকে তো চিনলাম না ঠিক। 'শেষের প্রশ্নটা তারেকের উদ্দেশ্যে। 'আমি তারেক ফয়সাল।ইকবাল স্যারের ছাত্র আমি। নার্সিংহোমটা দেখতে এসেছি। বলা যায়না,ভাল লাগলে এখানে থেকেও যেতে পারি।'লোকটা রসিক,তাই দুটো কথা বেশি বলল তারেক। 'থেকে যান,আপনারা না থাকলে আমাদের মত বুড়োদের কে দেখবে?' রোগীর মাথার কাছে একটা ঝোলানো ক্লিপবোর্ডে রোগীর বৃত্তান্ত লেখা আছে।বৃদ্ধের নাম জহুরুল ইসলাম।ডাক্তারি পরিভাষায় লেখা থাকার কারণে রোগের সঠিক ধরণটা বুঝতে পারলনা তারেক।তবে আন্দাজ করতে পারল হার্টের প্রবলেম। 'আচ্ছা জহুরুল সাহেব,গতকালকের চাইতে আজ কি আপনার শারিরীক কোনো পরিবর্তন অনুভব করতে পারছেন?'প্রশ্নটা তারেকের করা সমীচীন নয়,এরপরও করল। 'হ্যাঁ, পারছি।' নিশ্বাস আটকে এল তারেকের।'কী ধরনের পরিবর্তন? ' 'গতকালকের চাইতে আজ অনেক সুস্থবোধ করছি।'হেসে ফেললেন বৃদ্ধ। 'ও আচ্ছা।'চেপে রাখা দম সাবধানে ছাড়ল তারেক।রুমের চারদিকে নজর চালালো। কিছুই নেই দৃষ্টি আকর্ষন করার মত।এরপর ইশারায় ড.ইকবালকে জানিয়ে দিল এখানে আর দেখবার মত কিছু নেই ওর। 'জহুরুল সাহেব,আমরা আসি। অন্যান্য কেবিনেও যেতে হবে।' 'আচ্ছা,'বলেই আবার আঙ্গুর খেতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন তিনি। ওরা দুজন বেরিয়ে এল রুমটা থেকে। 'আচ্ছা আপনি কি প্রতিটা কেবিনে চেক করেছিলেন, গন্ধটা পান কিনা?' 'হ্যাঁ, দেখেছিলাম।পাইনি আর কোথাও।' 'এখন আবার দেখতে হবে।আমরা এখন প্রতিটা রুমে যাব।আপনি লক্ষ্য রাখবেন আর কোথাও গন্ধটা পান কিনা।' 'চলুন তাহলে।' তারেক আর ড.ইকবাল প্রতিটা রুমে রুমে ঘুরে বেড়াতে লাগল।ড.ইকবাল গন্ধটার খোঁজ করছেন আর তারেক প্রতিটা রুম খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে,জহুরুল সাহেবের রুমের সাথে অন্যান্য রুমের বিশেষ কোনো মিল কিংবা পার্থক্য আছে কিনা।নেই। শেষ রুমটা থেকে বেরিয়ে আসবার পর তারেক উত্তর আন্দাজ করা সত্বেও প্রশ্ন করল,'আচ্ছা এর আগে যারা মারা গেছেন তাদের কেবিন ভিন্ন ভিন্ন ছিল তো?' 'হ্যা।তবে জহুরুল সাহেবের রুমে এর আগে একজন মারা গেছেন।' তারেক এই উত্তরটাই আগে আন্দাজ করেছিল।তারমানে এখন পর্যন্ত গন্ধ পাবার বার ঘন্টার মধ্যে সবাই মারা যাওয়া ছাড়া আর কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছেনা ভিকটিমদের মধ্যে। 'আচ্ছা,ড.ইকবাল,আপনি আপনার চেম্বারে ফিরে যান আমি আশপাশটা ঘুরে দেখছি।প্রয়োজন হলে আপনাকে ডাকব।' ততক্ষনে হাটতে হাটতে ওরা নীচতলায় চলে এসেছিল।কথা শেষ হতে ড.ইকবাল সম্মতি জানিয়ে তার চেম্বারে ঢুকে গেলেন।তারেক কয়েক মুহুর্ত দাড়িয়ে থেকে হাসপাতাল ভবন থেকে বেরিয়ে এল।গন্তব্য নার্সিংহোমের দারোয়ান। আশপাশে চোখ রাখাই এদের কাজ।সুতরাং যেকোনো বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে হলে এদের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।চায়ের দোকানও আশেপাশের মুখরোচক খবরের ডিপো।তবে এখানে কোথাও চায়ের দোকান না থাকায় দারোয়ানই ভরসা।তারেক এগিয়ে গেল তরুন দারোয়ানের দিকে।দারোয়ান কম বয়সী হওয়াতে দুটো সুবিধা। প্রথমত এদের মুখ চলে বেশি আর দ্বিতীয়ত এদের মুখ খোলার মোক্ষম অস্ত্র তারেকের পকেটেই আছে। তারেক এমনিতে সিগারেট খুব কম খায়।মাঝে মধ্যে কেস নিয়ে রাত জাগতে হলে দু একটা।তবে কেসের কাজে কোথাও গেলে এ জিনিস পকেটে করে নিয়ে যায়।দারুন কাজে দেয়।যেমন এখন দিল। তারেক ঠোটে একটা সিগারেট ঝুলিয়ে দারোয়ানের সামনে হাজির হল।পকেট চাপরাচ্ছে।যেন লাইটারটা ভুলে ফেলে এসেছে কোথাও। 'তোমার কাছে লাইটার হবে?' দারোয়ানকে বলল তারেক। দারোয়ানের চেহারাতেই লেখা,এই ছোকরা সিগারেটখোর। 'জী স্যার আছে।'তারেকের বেশভুষা কিছুটা সংকোচ তৈরি করল তার মধ্যে।তারেকের মত মানুষরা দারোয়ানের কাছে লাইটার চায়না।তবে সামনে দাড়ানো লোকটার লাইটার চাইবার মধ্যে যুক্তিও আছে।আশেপাশে কোথাও দোকান নেই।তাহলে নিশ্চয়ই ম্যাচ ট্যাচ কিনে নিত সে।পকেট থেকে লাইটার বের করে দিল।চকচকে চোখে তাকিয়ে আছে তারেকের ঠোঁটে ঝুলন্ত বেনসন লাইটের দিকে। তারেক ওর সিগারেটটা ধরিয়ে আরেকটা বের করে বাড়িয়ে দিল দারোয়ানের দিকে।'নাম কী তোমার?' ইতস্ততভাবটা দ্রুত কাটিয়ে উঠল দারোয়ান। 'জী,কামরুল।'নিল সিগারেটটা। 'ভাল নাম।'একটু বিরতি ।'আমি এখানে চাকরি নিতে চাচ্ছি। হাসপাতালের মালিক ড.ইকবালকেও বেশ ভাল মানুষ মনে হল।তা তুমি কী বল?' 'আমি আর কি বলমু স্যার।বড় সাহেব আসলেই ভাল মানুষ। ' 'হুমম,তা ঠিক।তবে ডাক্তার মানুষ তো, মাথায় মনে হল একটু ছিট আছে।' 'কো,না তো স্যার। কিন্তু কিছুদিন ধইরা আমারও কেমুন কেমুন মনে হইতাছে।' 'কেমন কেমন? ' 'এই তো স্যার,কেমুন অস্থির অস্থির।' 'ও কিছুনা। বউয়ের সাথে ঝামেলা চলছে বোধহয়।ঠিক হয়ে যাবে।' 'বউ আসবো কইত্থিকা?'বিষ্মিত হহয়ে বলল কামরুল।'উনার তো বউ নাই।বিয়াই করে নাই।' ভ্রু দুটো কাছাকাছি চলে এল তারেকের।'বিয়ে করেনি?'বিড়বিড় করে আওড়ালো। 'না স্যার।এক বুয়া আইসা সব কামকাজ কইরা দিয়া যায়।' 'হুমম।'আর কিছু বলল না। এমন সময় এক ভিজিটর আসাতে দারোয়ান তার সাথে কথা বলতে লাগল। তারেক আর দাঁড়ালো না।হাসপাতাল ভবনের দিকে হাঁটছে।চিন্তিত।একটা আলো দেখতে পাচ্ছে ও।যেটা ধরে একটা সমাধানে আসা সম্ভব। তবে হাইপোথিসিসটা এতটাই চমকপ্রদ যে অনেকে বিশ্বাসই করবেনা।তবে তাই বলে কী সব ঘটনাই লৌকিকতার আলোকে ব্যাখা করা সম্ভব? উঁহু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now