বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুর গন্ধ(পর্ব-২)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)

X তারেকের কথার জবাবে কিছু বললেন না ড.ইকবাল। 'আচ্ছা আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব। ' 'শিওর। ' 'প্রথম প্রশ্ন,যারা মারা গেছেন তাদের সবার শারিরীক অবস্থাই কি এক রকম ছিল? ' 'না,প্রথমজনের অবস্থা বলতে গেলে একদমই স্বাভাবিক ছিল।দ্বিতীয় এবং তৃতীয়জনের অবস্থা অবশ্য বেশ খারাপ ছিল। তবে গতকাল যে মারা গেলেন তিনিও মোটামুটি ভালই ছিলেন।লিভারে পানি জমেছিল। অপারেশন করলেই সুস্থ হয়ে যেতেন।তবে বয়সের কারণেই ধাক্কাটা সামলাতে পারেননি। ' 'হুমম, এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আপনি গন্ধটা পাবার ঠিক কতক্ষন পর তারা মারা গেছেন? ' 'আমি যেদিন গন্ধ পেয়েছি সেদিন রাত পোহাবার আগেই মারা গেছেন সবাই। ঘন্টার হিসেব করলে বারো ঘন্টার উপরে কেউ বাচেনি। ' 'এবার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,আপনি গন্ধ না পাওয়া সত্বেও মারা গেছেন এমন কেউ আছেন? ' 'আমি তখন বললাম না, প্রথম তিনজন মারা যাবার পর আমি কৌতুহলী হয়ে উঠি।গন্ধটা পাবার আশায় আমার প্রত্যেকটা পেশেন্টকে আমি নিজেই চেকআপ করতাম। কিন্তু আমি গন্ধ পাইনি এমন তিনজন মারা গেছেন গত চারমাসে। বাই দ্যা ওয়ে, আমাদের পেশেন্টরা বেশিরভাগই ধনী বৃদ্ধ বৃদ্ধা, যার ফলে মৃত্যুর হারটা খানিক বেশিইই আমাদের নার্সিংহোমে।' এর মধ্যে কাজের ছেলেটা একটা ট্রে নিয়ে ঢুকল।ড.ইকবাল একটা মগ নিয়ে কফিতে চুমুক দিতে লাগলেন। কালচে তরলটা তার খুবই প্রয়োজন ছিল। কথায় ছেদ চলে আসাতে চিন্তায় ডুবে গেল তারেক। কেসটা বেশ জটিল।কয়েকটা সমাধান ওর মাথায় ঘোরাফেরা করলেও তার কোনোটা দিয়েই পুরো ব্যাপারটাকে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছেনা। 'আচ্ছা, গন্ধটা কি পেশেন্টের শরীর থেকে আসে?' দ্বিতীয় মগটা তুলে নিয়ে বলল তারেক। 'সেটা আমি নিশ্চিত নই। পেশেন্টের আশেপাশে পাওয়া যায়। আরেকটা কথা, পেশেন্টের খুব কাছে না গেলে গন্ধটা পাওয়া যায়না। কিন্তু ঠিক শরীর থেকে গন্ধ আসে বলা যাবেনা। ' 'গন্ধটা শুঁকলে কি আপনার নেশা নেশাভাব বা সাময়িক সময়ের জন্য মস্তিষ্ক স্থবির হয়ে পড়ে? ' 'নাহ,সম্পুর্ন স্বাভাবিক।আগরবাতির গন্ধ শুঁকলে যেমন হয় আরকি।' 'আপনি কি কিছু দেখেন বা শোনেন? ' 'যেমন? ' 'মানে মৃত্যুদৃশ্য বা গায়েবী আওয়াজ টাওয়াজ?' ভদ্রলোক বোধহয় কিছুটা অপমানিত বোধ করলেন। তিনি নিজে পেশায় চিকিৎসক হওয়াতে জানেন এগুলো সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষন।তারেক তাকে সিজোফ্রেনিয়ার রোগী ভাবছে! 'নাহ।'ছোট করে জবাব দিলেন ড.ইকবাল। তারেক একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করল। শেষের দুটো প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হলে এখনই ব্যাপারটার একটা ইতি টেনে ফেলা যেত। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি তারেক মনে মনে চাইছিল উত্তরটা যেন নেতিবাচক হয়। এত জটিল রহস্যের এত সাদামাটা ব্যাখ্যা ওর রহস্যপ্রিয় মন মানতে চাইছিল না। তবে এটাও ঠিক ব্যাপারটার একটা সুরাহা হলেও যথেষ্ট খুশি হত ও। 'সত্যি বলতে, আপনার রহস্যটা জটিল,বেশ জটিল।এখানে বসে এর কুল কিনারা পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছেনা।' 'কী করতে চাইছেন তাহলে? ' 'কিছু মনে করবেন না, ব্যাপারটা আপনার ভ্রান্তি বা মানসিক রোগ হবার সম্ভবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা। সরাসরি সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষন দেখা না গেলেও এ রোগের বীজ অনেকদিন ধরে মনের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।কথাগুলো বলার কারন হল আপনার এই ব্যাপারটা বিশ্বাস করার জন্য আপনার মুখের কথা ছাড়া আর কোনো প্রমান নেই আমার সামনে।সমাধানের আগে তো দেখতে হবে সমস্যার অস্তিত্ব বাস্তবেই আছে কিনা? ' 'ঠিক বুঝতে পারলাম না আপনার কথা। ' 'মানে আপনি এতক্ষন যা বললেন, আপনি ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই ব্যাপারটার।আপনার কথা যাচাই করারও আপাতত কোনো উপায় নেই। ' 'তাহলে কিভাবে প্রমান করতে পারি আমি? ' 'একটাই উপায় আছে। আপনি আজ আপনার নার্সিংহোমে চলে যান। এরপর গন্ধটার খোঁজে থাকবেন আপনি। যখনই গন্ধটা পাবেন সাথে সাথে আমাকে খবর দেবেন। আমি গিয়ে ব্যাপারটা যাচাই করে দেখব। ' মাথা দোলালেন ড.ইকবাল। আইডিয়াটা তার পছন্দ হয়েছে। 'আচ্ছা আমি তাহলে আজ আসি? ' 'হ্যাঁ,আর ব্যাপারটা আপাতত কাউকে জানাবার দরকার নেই।' 'ওকে,আসি তাহলে।আশা করি খুব শিঘ্রই দেখা হচ্ছে আমাদের।' 'দেখা না হলেই বরং সেটা আপনার জন্য ভাল হত। ' কথাটার জবাব না দিয়ে তিক্ত একটা হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলেন ড.ইকবাল হামিদ। লোকটা বেরিয়ে যেতেই তারেক ওর নোটবুকটা বের করল। সকাল সকাল কফি খিদে নষ্ট করে দিয়েছে। সকালে কফি খাবার অভ্যেস নেই ওর।অতিথীর জন্য খেতে হয়েছে।আপাতত নাস্তা না করলেও চলবে। এই নোটবুকটাতে ও কেসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লিখে রাখে। পয়েন্টগুলো চোখের সামনে দেখলে ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে যায় তারেকের বেলায়। খাতায় গোটা গোটা করে লিখল- ১)যারা মারা যাচ্ছে তাদের শারীরিক অবস্থা একরকম ছিলনা। প্রথম এবং শেষেরজনের অবস্থা ভাল ছিল। ২) গন্ধ পাবার মোটামুটি বারো ঘন্টার মধ্যেই সবাই মারা গেছেন। ৩) সব মৃতের বেলায় গন্ধটা পাচ্ছেননা ড.ইকবাল। ৪)মৃত ব্যাক্তিরা কোনো নির্দিষ্ট রোগে মারা যাচ্ছেন না। প্রথমজন হার্টের রোগী ছিলেন আর গতকাল যিনি মারা গেছেন তার সমস্যা ছিল লিভারে। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এই চারটাই। শুধু মাত্র একটা ব্যাপার ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট প্যার্টান পাওয়া যাচ্ছেনা।সবাই বারঘন্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছেন এটাই একমাত্র মিল। যদি সবার শারিরীক অবস্থা আগে থেকেই খারাপ থাকত তাহলে একটা ব্যাখ্যা দাড় করা যেত যে ড.ইকবাল তার চিকিৎসক সত্বার মাধ্যমে বুঝতে পারছেন লোকটা মারা যাচ্ছে।আর গন্ধের ব্যাপারটা তার কল্পনা। হয়ত তিনি সত্যিই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যাক্তির শোনা,দেখা,গন্ধ পাওয়া, এই তিন ধরনেরই হ্যালুসিনেশন হবার জোর সম্ভবনা থাকে।তবে প্রথমটাই বেশি দেখা যায় সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে। মানুষ যখন কোনো কথা ভাবে তখন তার মস্তিষ্কের একটা অংশ সক্রিয় থাকে। ব্রেন স্ক্যান করে দেখা গেছে মস্তিষ্কের এই অংশটাই দায়ী ভুলভাল শোনার জন্য। এই অংশটা আক্রান্ত ব্যাক্তির ভাবনাকে কথায় রুপান্তরিত করে ফেলে। কিন্তু এই যুক্তিও ধোপে টিকছেনা।ড.ইকবাল বলেছেন তিনি কিছু শোনেন টোনেননা।অবশ্য মিথ্যেও বলতে পারেন তিনি। একজন ডাক্তার হিসেবে নিশ্চয়ই সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষন জানা আছে তার। জেনেশুনে নিজেকে মানসিক রোগী হিসেবে স্বীকার করতে বুকের পাটা লাগে! এমনিভাবে অন্যদুটো পয়েন্টও মিলছেনা। ড.ইকবাল সবার ক্ষেত্রে গন্ধটা পেলে কিংবা যাদের ক্ষেত্রে গন্ধটা পাচ্ছেন তারা সবাই একই রোগে মারা গেলে মোটামুটি খোড়া হলেও একটা যুক্তি দাড় করানো যেত। কিন্তু এই কেসের এই জায়গাটাতে দাড়িয়ে কোনোভাবেই কোনো নির্দিষ্ট প্যার্টান পাওয়া যাচ্ছেনা। সামনে আপাতত একটাই পথ খোলা।এখন শুধু অপেক্ষা, ড.ইকবাল গন্ধটা ফের কখন পান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now