বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আপাতদৃষ্টিতে চমকে ওঠার তেমন কোনো কারন না থাকা সত্বেও টেবিলের উপরে রাখা ফোনটা বাজার সাথে সাথে চমকে উঠলেন ড.ইকবাল হামিদ।
একটা ছোটখাট নার্সিংহোমের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড.ইকবাল।ছোটখাট হলেও শহরের বাইরে ছিমছাম পরিবেশে অবস্থান হওয়ায় ধনীদের বেশ পছন্দ এই নার্সিংহোমটা।সেবার মানও বেশ ভাল।খরচও তেমনই। সবার নাগালে পৌছবার মত না।
রাত হয়েছে বেশ।নার্সিংহোমের পাশেই ড.ইকবালের বাসা।প্রতিদিন আরো আগেই চলে যান কিন্তু আজ এখনও জাননি। জাননি কথাটা ঠিকনা, বলা যায়, যেতে পারেননি তিনি। একটা অদৃশ্য বন্ধন তাকে আটকে রেখেছে।আজ তিনি ব্যাপারটা যাচাই করে দেখতে চান।
ফোনের দিকে বাড়াতে গিয়ে সামান্য কেঁপে উঠল তার হাত।
'হ্যালো, 'রিসিভ করে বললেন তিনি।
'স্যার,১৭ নাম্বার কেবিনের পেশেন্ট মারা গেছেন। আপনি কি ডেডবডিটা চেক করে দেখবেন নাকি আমিই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেব? '
প্রথম কথাটা শোনার সাথে সাথেই ভয়ানকভাবে চমকে ওঠায় বাকি কথায় মনোযোগ দিতে পারলেননা ড.ইকবাল।
এটা ক'নম্বর?চিন্তা করলেন ড.ইকবাল।গত দুমাসে এই নিয়ে চারবার ঘটল ব্যাপারটা।
কাকতালীয় ঘটনা কি এতবার ঘটে? কিংবা এভাবেও বলা যায়, এতবার ঘটলে সেটাকে কি আর কাকতালীয় বলা চলে?
'স্যার, 'ডিউটিরত ড. হাসানের ডাকে সংবিত ফিরে পেলেন ড.ইকবাল।
'অ্যা...হ্যাঁ?'
'স্যার, বললাম ডেথ সার্টিফিকেট কি আমিই দিয়ে দেব নাকি আপনি দেবেন? '
'না না, তুমিই দিয়ে দাও। '
'ওকে স্যার। 'ফোনটা কেটে গেল।
ড.ইকবাল ভাবছেন, ক্রমেই গভীর হচ্ছে তার ভাবনা।এই অদ্ভুতুড়ে রহস্যের কিনারা তাকে পেতেই হবে।
তার জানামতে একজনই আছে যে তাকে এই জটিল রহস্য থেকে বের করে আনতে পারবে। তারেক ফয়সাল।
এক
ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে শখের গোয়েন্দা তারেক ফয়সাল ভাবছে, আজ জগিং করতে যাবে কিনা। আজ খানিকটা দেরী হয়ে গেছে ঘুম থেকে উঠতে। ভাবতে ভাবতে দরজার কাছে চলে এসেছে তারেক। দরজা খুলতে যাবে এমন সময় ডোরবেলটা বেজে উঠল। অন্যমনস্ক থাকায় খানিক চমকে গেল তারেক।
কীহোল দিয়ে বাইরে তাকাতে মাঝবয়সী এক ভদ্রলোককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
ইদানীং তারেকের বেশ নাম ডাক হওয়ায় অনেকেই ওর কাছে বিভিন্ন কেস নিয়ে আসে। তাই ঝামেলা এড়াতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কারো সাথে দেখা করেনা ও। কিন্তু এসময়ে কারো সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিলনা এব্যাপারে তারেক নিশ্চিত।
দরজা খুলে দিল তারেক। এখন আরো ভালভাবে দেখা গেল লোকটাকে। বয়স চল্লিশের উপরে হবে। মাথার চুল পাতলা হয়ে এসেছে। মেদবহুল শরীর। তবে যে জিনিসটা তারেকের দৃষ্টি আকর্ষন করল সেটা লোকটার চোখ। টকটকে লাল হয়ে আছে। সারারাত ঘুম না হবার ফল।
'আমার নাম ইকবাল হামিদ।আমি তারেক ফয়সালের সাথে দেখা করতে চাই, 'বলে উঠল লোকটা।
'আমিই তারেক ফয়সাল। বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি? '
'আপনিই তারেক ফয়সাল? 'সামান্য বিষ্ময় দেখা গেল ইকবাল হামিদের চোখে।
'হ্যা, কেন? '
'আমি ভেবেছিলাম আরো বয়স্ক কেউ হবে। '
'ও আচ্ছা, 'হেসে ফেলল তারেক।'আসুন ভেতরে আসুন।
ড.ইকবাল ভেতরে ঢুকতে তাকে নিয়ে স্টাডিরুমে চলে গেল তারেক।সাক্ষাতপ্রার্থীদের সাথে এখানেই দেখা করে তারেক।
ড.ইকবাল বসার পর তারেক বলল,'কফি দিতে বলি? সারারাত চেয়ারে বসে নির্ঘুম কাটিয়েছেন, কফি খেলে ভাল লাগবে। '
কথাটা শোনার সাথে সাথে ইকবাল হামিদের চোখ মোটামুটি কপালে উঠে পড়ল।
তার বিষ্ময়টুকু উপভোগ করল তারেক। মাঝে মধ্যে এধরনের কথা বলে মানুষকে চমকে দিতে পছন্দ করে ও।
'আপনি কিভাবে ...'
'আমি কিভাবে বুঝলাম? খুব সহজ। আপনার গায়ের শার্ট যেভাবে কুচকে রয়েছে সেটা শুধুমাত্র দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকলেই সম্ভব। '
প্রশংসার দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালেন ড.ইকবাল।
তারেক রুম ছেড়ে বেরিয়ে এল। কাজটা করার পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল ওর। ভদ্রলোক ওর কম বয়স দেখে কিছুটা হতাশ যে হয়েছেন সেটা বোঝাই যায়। কেউ ওকে আন্ডার এস্টিমেন্ট করুক এটা পছন্দ করেনা তারেক।
কাজের ছেলেটাকে কফি আর হালকা নাস্তার কথা বলে স্টাডিরুমে ফিরে এল তারেক।
'তা মি. ইকবাল, কি করতে পারি আপনার জন্য? '
ইতস্তত করতে লাগলেন ড.ইকবাল। এতক্ষন মনে মনে কথা গুছিয়ে রাখলেও এখন বলতে সংকোচ হচ্ছে তার। এমন উদ্ভট একটা কথা কিভাবে বলেন!
আসল কথায় যাবার আগে ভূমিকা করার জন্য বললেন, 'আমি আপনার কথা অনেক শুনেছি। আপনি তো সাইকোলজির ছাত্র তাইনা? '
'হ্যা,'ছোট করে বলল তারেক।
শখের গোয়েন্দা হলেও অন্যসব গোয়েন্দার থেকে তারেকের পার্থক্য হল, খুন জখমের পাশাপাশি অদ্ভুত সব রহস্যের সমাধানও তারেক করে থাকে।যেসব রহস্যের ব্যাখ্যা দেবার চাইতে তার মধ্যে অতিলৌকিকতা খজতেই মানুষ বেশি আগ্রহী সেসব রহস্যের যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে বেড়ায় তারেক। বরং এধরনের রহস্যেই বেশি পছন্দ ওর।
'এটা জেনেই আমি এসেছি আপনার কাছে। 'তারেকের জবাব শুনে বলল ড.ইকবাল। 'আমার রহস্য সমাধান করা একজন গোয়েন্দার কাজ নয়।ভিন্ন রকমের কিছু একটা থাকতে হবে তার মধ্যে। সেটা আপনার আছে বলেই আমার বিশ্বাস। '
'সমস্যা না শুনলে সেটা বলা যাচ্ছেনা অবশ্য। কী সমস্যা আপনার? '
'আমি মৃত্যুর গন্ধ পাই! ' খুব শান্তভাবে বললেন কথাটা ড.ইকবাল।
'মৃত্যুর গন্ধ? 'ভ্রু কুঁচকে গেছে তারেকের।
'হ্যা, মৃত্যুর গন্ধ।ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক। আমি পেশায় একজন ডাক্তার। গাজীপুরে আমার ছোট্ট একটা নার্সিংহোম আছে বিশ বেডের।শহরের বাইরে নিরিবিলি পরিবেশে হওয়ায় অনেকেরই পছন্দ আমার নার্সিংহোমটা। আমি সহ চারজন ডাক্তার আছে ওখানে।
এবার মূল ঘটনাতে আসা যাক। মাসদুয়েক আগে আমাদের এক রোগীকে চেকআপ করতে যাই আমি। পেশেন্ট এক বৃদ্ধা।হার্টের কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি যথেষ্ট আশংকামুক্ত ছিলেন।
আমি তার পাশে বসতেই কেমন একটা গন্ধ পেলাম। গন্ধটা আমি আপনাকে ঠিক বোঝাতে পারবনা। অনেকটা আগরবাতির সাথে ভেজা কাঠের গন্ধ মেশালে যেমন হয় তেমন আরকি।
গন্ধটা ঠিক তীব্রও না, আবার হালকাও না। যেন ঢেউয়ের মত ওঠানামা করছে।
আমি আমার সাথে থাকা নার্সকে বললাম," এই গন্ধটা কিসের?"
নার্স কিছুক্ষন নাক টেনে বলল, "কই আমি তো কোনো গন্ধ পাচ্ছিনা স্যার।"
আমি ব্যাপারটাকে আমল দিলামনা। বৃদ্ধাকে চেকআপ করে চলে এলাম। তার অবস্থা তখনও বেশ ভাল।
নার্সিংহোমের ডাক্তারদের জন্য একটা কোয়ার্টার বানানো হয়েছে পাশেই। ওখানেই থাকি আমি।রাতে বাসায় চলে এলাম। পরেরদিন গিয়ে শুনি ওই বৃদ্ধা মারা গেছেন।
এই শুরু।তবে আমি তখনও কল্পনা করিনি ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর সাথে গন্ধের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।
এর কিছুদিন পরের ঘটনা।একজন রোগী স্ট্রোক করে ভর্তি হতে এসেছেন। তার অবস্থা অবশ্য বেশি ভাল ছিলনা। আমি তার আশেপাশে সেই গন্ধটা পেলাম।এবং সেই লোকটা রাত পোহাবার আগেই মারা গেলেন।আমার তখন সন্দেহ হতে শুরু করল।এরপর যখন তৃতীয়বার একই ঘটনা ঘটল তখন আর সন্দেহ বাকী থাকলনা। শেষপর্যন্ত গতকাল চতুর্থবারের মত ঘটনাটা ঘটল।
পরপর তিনবার একই ঘটনা ঘটাতে সত্যি বলতে আমি একটু কৌতুহলী হয়ে উঠেছিলাম। তবে বেশ কিছুদিন ধরে গন্ধটা পাচ্ছিলাম না।
গতকাল রাতে আমাদের এক রোগীকে দেখতে গিয়ে গন্ধটা চতুর্থবারের মত পাই। গন্ধ পাবার সাথে সাথে আমি ঠিক করলাম ব্যাপারটা যাচাই করে দেখব।আসলেই মৃত্যুর গন্ধ পাই কিনা। বাসায় গেলামনা আর।
রাত একটার দিকে ডিউটিররত ডাক্তার জানাল সেই লোক মারা গেছেন।'
'জাস্ট হরেবল! 'এতটুকুই বলতে পারল তারেক ফয়সাল।
##আবুল ফাতাহ মুন্না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now