বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যু

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X টাকা,পয়সা,ধন-দৌলত,গাড়ি,বাড়ি,সুখ,দুঃখ এসব শুধুই জীবনের একটা সামান্য অংশ।এসব ছাড়া জীবনে চলা যায় না তা ঠিক।কিন্তু এসবই যে জীবনের জন্য সব কিছু এটা ভুল কথা।কারন হল মৃত্যু। মৃত্যুর কাছে এসবের কোন মানেই হয় না।মৃত্যুর কাছে এসব একদম তুচ্ছ বিষয়।মৃত্যু যে কতটা ভয়ানক।এটা নিয়েই একটা বাস্তব ঘটনা লেখব... আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়।সম্পর্কে আমার চাচা হোন।ওনার শুধু তিনটা ছেলে,মেয়ে নেই।তিনি নিজেও ভ্যান চালাতেন আর বড় ছেলেটা ভালভাবে কাজ করত,টাকা রোজগার করত।মেজো ছেলে আর ছোট ছেলেটা স্কুলে পড়ত।ভাল ভাবেই চলছিল তাদের সংসার। . কিন্তু একটা সময় বড় ছেলেটা ভুল পথে পা দিয়ে নিজেই নিজের জীবনটা ধ্বংস করতে শুরু করল।মানে কোন এক ভাবে নেশার জগতে চলে গেল।তাকে কোন ভাবেই ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না।এতে তাদের সংসারে অনেক কষ্ট চলে আসছিল। এজন্য তারা ভাবল তাদের অন্য ছেলেকে কাজে দিয়ে দিবে।ছোট বেলা থেকেই মেজো ছেলেটা একটু দুর্বল ছিল।তাই একজন লোকের মাধ্যমে তাদের ছোট ছেলেকে কাজে দেয়া হল।মাত্র ১১ বছর বয়সে ছোট ছেলেটাকে গাড়ির গ্যারেজে দেয়া হল। . বড় ছেলেটা তার মত চলছে,মেজো ছেলেটা বাড়িতে থাকে আর লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার সাথে কাজ করে,আর ছোট ছেলেটা গ্যারেজে গাড়ি মেকানিকের কাজ করে।এভাবেই চলছিল তাদের জীবন। এভাবেই চলে গেল প্রায় ১০ বছর।এই ১০ বছরে তাদের জীবনে সুখ গেছে,কষ্ট গেছে।সব মিলিয়েই চলছিল জীবন।এর মধ্যে কয়েক বছর আগে বড় ছেলেটাকে আল্লাহর রহমতে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে।সে সেখানে ভালই আছে। . কিন্তু এই বছর তাদের জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেছে যেটা থেকে তারা আর কখনো বেরিয়ে আসতে পারবে না।তাদের মেজো ছেলেটার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারেও কথা চলছিল।আর ছোট ছেলেটা এত বছর কাজ করার ফলে নিজেই সব কিছু শিখে গেছে।সে একাই এখন একটা বাস ঠিক করতে পারে। কিন্তু গত রোজার ঈদের সময় ছোট ছেলেটা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে এসে থাকে প্রায় দেড় মাস।সে আগে প্রায় ১০ বছর যে গ্যারেজে ছিল,যেখান থেকে কাজ শিখেছে।সেখান থেকে সে অন্য একটা গ্যারেজে গিয়ে কাজ শুরু করে। . কিন্তু আল্লাহ কার মৃত্যু কোথায় কখন কিভাবে লেখে রাখছেন।এটা কেউ জানেনা।ছোট ছেলেটার সেই নতুন গ্যারেজে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিক শক পাওয়ার কারনে মৃত্যু হয়। আমি বিকেলে এক বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম,তখন ফোন দিয়ে একজন আমাকে এটা বলে।আমি সেটা শোনার পর কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলাম।নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি।বাড়িতে এসে আম্মাকে কথাটা বলেই। . আমি তাদের বাড়িতে চলে যাই।আর সেখানে যাওয়ার পর সেখানকার পরিবেশটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।আমার চাচা,চাচী,চাচাতো ভাই আরো অনেকেই খুব কান্নাকাটি করছে।কিন্তু কান্না করে কোন লাভ নেই।কারন সে এমন জায়গায় চলে গিয়েছে যেখান থেকে তাকে আর কখনো কোন ভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। . এর আগে অনেকের মৃত্যু দেখেছি,কিন্তু এই ভাইয়ের মৃত্যুটা আমি,শুধু আমি না।আমরা কেউই আসলে মেনে নিতে পারছিলাম না।কারন ছেলেটা অনেক ভাল ছিল।সব সময় সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলত।মানে ওর মত ছেলে বর্তমানে পাওয়াই যায় না।কিন্তু যে চলে গেছে সে তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু একটা দিকে ভাল হয়েছে যেটা হুজুর বলেছিলেন যে ছেলেটা এই যুবক বয়সে দাড়ি নিয়ে,নবীজীর সুন্নত নিয়ে মৃত্যু বরন করেছে।এটা ভাল হয়েছে। . পৃথিবীতে সবচেয়ে ওজন বেশি বাবার কাধে ছেলের লাশ।আর এটাই আমার চাচাকে বহন করতে হয়েছে।তাদের কষ্টটা কোন ভাবেই দূর করা সম্ভব না।তাদের সান্তনা দেয়ার মত কোন ভাষা ছিল না।ওখানে থেকে আমার নিজেরই আরো অনেক বেশি খারাপ লাগছিল।তাই আমি সেখান থেকে চলে আসি। . কিন্তু আমার সেই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারি মৃত্যুর কাছে জীবনের সব কিছুই খুব সামান্য ব্যাপার।কারন আমার সেই ভাইটা ছোট বেলা থেকেই অনেক কষ্ট করত।যে বয়সে তার স্কুলে থাকার কথা সেই বয়সে সে গ্যারেজে অক্লান্ত পরিশ্রম করত।কিন্তু আজ সে নেই।এত কষ্টের কোন পরিনাম সে পেল না।তাই আমরা যারা দুনিয়াতে কিছু সুখ,শান্তি,সম্পদ পাওয়ার জন্য কষ্ট করে যাচ্ছি।আমাদের এটা বুঝতে হবে যে এগুলোই জীবনের সব কিছু না।আমাদের জীবনের আসল কাজ হচ্ছে মৃত্যুর পরের যে জীবন সেটার জন্য সম্পদ করা।মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের যেন আমরা জান্নাতে যেতে পারি,আমরা সুখি হতে পারি এটাই আমাদের আসল কাজ। . তার বাবা,মায়ের তাদের পরিবারের মানুষের একটাই দুঃখ।ছেলেটাকে কাজে দেয়া হয়েছিল যাতে কাজ করে জীবনে কিছু করতে পারে।কিন্তু সেই কাজটাই তার জীবন কেড়ে নিল।ওর মৃত্যুটা এখনও মেনে নিতে কষ্ট হয়।বিশ্বাসই হয় না ও আর আমাদের মাঝে নেই। আপনারা সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্বচক্ষে মৃত্যু দেখা
→ আমার মৃত্যু
→ এক আল্লাহ প্রেমীর মৃত্যু
→ একটি রহস্যময় মৃত্যু
→ মৃত্যুর দিন-তারিখ
→ কালেমা পড়তে পড়তে মৃত্যু বরণ করেন।
→ একই মানুষের ২বার মৃত্যু
→ একটি মৃত্যু
→ উত্তম মৃত্যু
→ মৃত্যুর পর মায়ের চিঠি
→ জীবন নাকি মৃত্যু
→ জ্বীনেরাকি মৃত্যুবরণ করে?তাদের সম্পর্কে।
→ ☠ একটি রহস্যময় মৃত্যু ☠
→ মৃত্যুর অপেক্ষা!
→ জিজেসদের নিয়ে সারার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন[তৃতীয় ও অন্তিম পর্ব]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now