বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মৃত্যু।।
লেখক-রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু
আজকাল সব টিভি চেনেল এর হেডলাইন
খবরের কাগজের শিরোনাম সব জায়গায় শুধু দেখা যায়,
মৃত্যু মৃত্যু মৃত্যু,
আমরা শুধু দেখে যায় আর একটু আফসোস হয় হয়তো কিন্তু কিছুদিন পর সব কিছু ভূলে যায়,
আবার নতুন কোন খবর আলোড়ন তুললে আমাদের সবার দৃষ্টি সে দিকে চলে যায়,,
এরকমই চলে যায় দিন বছর।
শুধু যারা প্রিয় জন হারায় তারা নীরবে কেঁদে যায়,,
যেমন আজ কাঁদছি আমি।
আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল সে,
ছিল মানে
এখন আর নেয়,
বন্ধুত্ব ভেঙ্গে গেছে তা নয়,
সে এই দুনিয়াতে নায়,
পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে সে,
আজ ১৮ মাস পর তার কথা কেন জানি না
খুব মনে পড়ছে!
সব সময় তাকে আমি অনুভব করছি,
আজ বিকালে আনান এর কবরে গিয়েছিলাম এক দৃষ্টিতে তার কবরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম,
মনে হচ্ছিল আনান আমাকে ডাকছে,
হঠাৎ তন্দ্রার ডাকে আমার ঘোর ভাঙলো!
তোমার কী হয়ছে অভিক?
অভিক আমার নাম,
তন্দ্রাকে মিথ্যা বললাম
কিছুনা,
তন্দ্রা আমার স্ত্রী।
কিন্তু তার আরেকটি পরিচয় ও আছে।
তন্দ্রা বলল তুমি কী অসুস্থ?
আমি বললাম আরে না,
মিথ্যা বল না,
তোমার চেহেরার যে অবস্থা হয়ছে,
এত কী চিন্তা কর তুমি,
আরে পাগলি কী চিন্তা করব
?
আমার কাছে কী লুকাচ্ছো
তুমি?
কী লুকাবো তোমার কাছে?
আমার খুব খিদে পেয়েছে আমাকে খাবার দাও,,
ডিনার করে আমি ঘুমাতে গেলাম,,
তন্দ্রা pregnant আমাদের বাবু ৩ মাস
পর পৃথিবীতে আসবে,
আমি একটি স্বপ্ন দেখছি,
হঠাৎ আমি এক ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে ওঠলাম,
তন্দ্রা বলল কী হয়ছে তোমার?
কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছ কী?
আমি বললাম
হে
কী দেখেছ?
পড়ে বলব
এখন ঘুমাও।
সকালে breakfast করে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠলাম ভাগ্য ক্রমে একটি সিট পেলাম,
হঠাৎ গত রাতে দেখা স্বপ্নের কথা মনে পড়ল,
আমি গভীর পাহাড়ি খাদে পড়ে যাচ্ছি,
আর আনান আমাকে দেখে হাসছে আর খুব জোরে চিৎকার করছে তার চিৎকার পাহাড়ে গায়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে!
ঠিক তখনি আমি চিৎকার দিয়ে ওঠি!
আমি আর আনান ছোট্ট বেলা থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত একসাথে পড়ছি,
ভার্সিটিতে এসে তন্দ্রার সাথে আমার পরিচয় হয় সে থেকে প্রেম,
কিন্তু আমি একটি ব্যাাপার জানতাম না
যে
আনান ও তন্দ্রার ওপর crushed!
কিন্তু তন্দ্রা ত আমাকে ভালোবাসত।
যখন আনান এর ব্যাপারটি জানতে পারলাম
তখন আমরা সিলেটে একটি ট্রুরে যায়।
আনান আমাকে বলে
যদিও সে আমাদের ব্যাপারটি জানতো
!
!
আনান একটু জেদি টাইপের।
সে যা চাই তার সেটি লাগবেই লাগবে!
আমি আর আনান রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি,
একটি গাড়ি আসছিল
হঠাৎ সে আমাকে গাড়ির নিচে ধাক্কা দিতে চাইলো
কিন্তু আমার ওল্টো ঝাপটায়
আনান গাড়ির নিচে গিয়ে পড়ল,
ঘটনাটি এত্ত অল্প সময়েে মধ্যা ঘটেছিল
যে
আমি কিছুই বুঝে ওঠতে পারলাম না
গাড়িটি আনান কে পিষ্ট করে দ্রুত বেগে চলে গেল
আনান মারা গেল
নিজেকে আমি ক্ষমা করতে পারছিলাম না।
পুলিশকে আমি সত্যি কথা বললাম না।
আনানের মৃত্যুর দুই মাস পর আমি তন্দ্রাকে বিয়ে করি,,
গতরাতের স্বপ্নের পর মনে হতে লাগলো আনানের আত্না ফিরে এসেছে প্রতিশোধের জন্য,
যদিও আমার মনে হচ্ছিল সবিই আমার মনের ভূল,
আমি সব ভূলে যেতে চাইলাম,
কিছুদিন পর আমি একটি গাড়ি কিনলাম তন্দ্রার জন্মদিনে তাকে উপহার দেওয়ার জন্য,
আমাদের বাবু পৃথিবীতে আসছে খুব দ্রুত
সে খুশিতে
আমি তন্দ্রাকে নিয়ে long drive এ বের হলাম আমাদের নতুন গাড়িতে করে।
হঠাৎ একটি ট্রাক এসে আমাদের গাড়ি কে ধাক্কা দিল!
যখন আমার sense ফিরল নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলাম পাশে আমার মা বাবা ও তন্দ্রার মা বাবাকে দেখতে পেলাম
আমি কথা বলতে চাইছিলাম কিন্তু কোন শব্দ আমার কন্ঠ নালি দিয়ে বের হচ্ছিল না!
বলতে চাইছিলাম তন্দ্রা কোথায়??
কিন্তু পারছিলাম না বলতে,
শুধু দেখতে পেলাম
পিছনে আনান দাড়িয়ে আছে আর অট্ট হাসি হাসছে।
সে বলতেছে তোর সব থেকে প্রিয় জনকে আজ কেড়ে নিলাম
আমি নির্বাক!!!
১ মাস পড় আমি হুইল চেয়াড়ে বসা তন্দ্রার কবরের সামনে
তন্দ্রার ভিতর আমার বাবু যার আজ পৃথিবীতে আসার কথা ছিল,
কী আজব এই দুনিয়া ভাবছি আমি,
আর চোখ দিয়ে শুধু লোনা স্রোত নিচে গড়িয়ে যাচ্ছে।।।
(কাল্পনিক)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now