বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত আত্মা (সব পর্ব একসাথে)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X মৃত আত্মা রাত তখন দুইটা বা তিনটা বাজে। অনেক চেষ্টা করে কেবল ঘুমালাম। বাইরে থেকে কে যেনো ডাকলো: এই! শোনছো? ওঠো! কয়েকটা ডাক দেয়ার পর আমি ঘুম ঘুম স্বরে জবাব দিলাম: আহা! ঘুমাচ্ছি! একটা মেয়ের কণ্ঠ শুনলাম: ধুর বোকা! এই বিকেল বেলা কেউ ঘুমায়! ওঠো না! : কে তুমি??? : আমি রিয়া। বাইরে আসো। রিয়া খুব মায়াবী কণ্ঠে আমাকে ডাকছে। তাই দুয়ার খুলে বাইরে গেলাম। ও উঠানে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই বলল- বাইরে আসো। বললাম- কোথায়? :আহা! আসো না! আমি আর কথা না বাড়িয়ে ওর পিছু পিছু চললাম। ও আমার আগে আগে হেঁটে যাচ্ছে। আমাদের বাড়ির পরই ফসলের জমি। তার পরই বিরাট এক কবরস্থান। রিয়া আমাকে নিয়ে সেদিকেই যাচ্ছে। আমি বললাম: রিয়া! আমরা কোথায় যাচ্ছি??? ও আমার দিকে না তাকিয়েই বলল: পার্কে! : পার্কে কেনো??? :আমার খুব বাদাম আর আইসক্রীম খেতে ইচ্ছে করছে। তুমি আমাকে আইসক্রীম কিনে দিবে। তারপর দুজন পাশাপাশি বসে খাবো। আমি একটু হাসলাম। : ধুর পাগলি! এ জন্য ঘুম থেকে তুলে আনলে! রিয়া আমাকে কবরস্থানের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল: ঐ দেখো। আমি ও দিকে তাকাতেই দেখলাম, খুব সুন্দর এক পার্ক। পার্কে জোড়ায় জোড়ায় অনেকগুলো ছেলেমেয়ে বসে গল্প করছে। এটা সেটা খাচ্ছে। কি রোমান্টিক দৃশ্য। রিয়া বলল: দেখলে, ওরা কি সুখ করছে! আমি যে একা। খুব খারাপ লাগছিলো। তাই তোমাকে নিয়ে এলাম। ও আমার আগে আগে হাঁটছে। আর এক বারও আমার দিকে তাকালো না। এবার আমার মাথাটা কাজ করতে শুরু করছে। এতো সুন্দর পার্ক! আমার বাড়ি তো গ্রামে। এখানে তো কোনো পার্ক নেই। বাড়ির কাছে আছে অনেক বড়ো একটা গোরস্থান। হঠাত শিয়াল ডাকল। শিয়ালের ডাকে যেনো আকাশ থেকে পড়লাম। সামনে তাকিয়ে দেখি সেই অন্ধকার গোরস্থান। বাড়ি থেকে গোরস্থান, এর মাঝামাঝি অবস্থানে আছি। এতক্ষণ বিকেল ভেবে পার্কে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, এটা মাঝরাত। ভয়ে সারা শরীর কাঁপছে। আমি থেমে গেলাম। রিয়া বলল: থামলে কেনো? আসো! :আমরা কোথায় যাচ্ছি??? : কেনো, পার্কে। আইসক্রীম খাবো। : রিয়া! এখন তো রাত। মনে হয় তিনটা বাজে। ও নির্লিপ্ত ভাবে বলল, বোকা! এখন বিকেল। আমি সাথে আছি। ভয় পাচ্ছো কেনো? তাইতো! একটা মেয়ে আমার সাথে আছে। আমি ভয় পাচ্ছি কেনো? সারা শরীর ঘেমে যাচ্ছে। রিয়া আমার সাথে ঠিক আছে। কিন্তু এতো রাতে ও আমাকে ডাকলো কেনো। আমি ভূতের পাল্লায় পরলাম না তো! ঝিঝি পোকা ডাকছে। একটু সামনেই গোরস্থান। অন্ধকারে হালকা হালকা সব দেখা যাচ্ছে। আমার মাথা কাজ করতে শুরু করল। রিয়ার পায়ের দিকে তাকাতে হবে। অনেক বার শুনেছি, ভূতের পা উল্টো থাকে। ভয়ে ভয়ে ওর পায়ের দিকে তাকালাম। সারা শরীর শিউরে ওঠলো! দুটো পাই ওল্টো। এতক্ষণ দেখছিলাম, ও খুব সুন্দর একটা ড্রেস পড়া। এখন দেখছি খুব পুরাতন মাটি মাখানো ময়লা একটা জামা। রিয়া ও থেমে গেলো। বলল: আসো। তারাতারি আসো! বাড়ি থেকে এই পর্যন্ত আসার পথে একবারও কেউ কারো চেহারার দিকে তাকায় নি। এই বার আমি হাজার ভয়ের মাঝেও কৌতহলে ওর মুখ দেখতে চাইলাম। ওর হাত ধরে হ্যাচকা টানে ওকে আমার দিকে ফিরালাম। তারপর যা দেখলাম- তাতে কতটা যে ভয় পেয়েছি, তা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। মৃত একটা লাশ দাঁড়িয়ে আছে। মুখ থেকে জিভটা বের করা। জিভে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রেখেছে। চোখ দুইটা খোলা। মৃত। ঠিক ফাঁসিতে ঝুললে যেমন দেখায়। এই অবস্থায় আমি বাড়ির দিকে দৌড় দিয়েছিলাম নাকি ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম, জানি না। যখন জ্ঞান ফিরলো, তখন পরের দিন দুপুর। আমি খাটে শুয়ে আছি। গায়ে খুব জ্বর। আমার মাথার কাছে বসে মা কাঁদছে। সবাই চিন্তিত। সবার কাছ থেকে শুনলাম, ভোরে নাকি আমাকে উঠানে পেয়েছে। অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। আমি কি দৌড়ে উঠানে এলাম নাকি কেউ আমাকে এখানে ফেলে গেলো, বুঝতে পারছি না, শুধু বুঝতে পারলাম, নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসলাম। কিন্তু ভয়তো এখনো কাটেনি- বাঁচতে কি আসলে পারলাম, নাকি গায়ে যে জ্বর শেষ পর্যন্ত রিয়ার কাছেই নিয়ে যাবে!!!!! জ্বর গায়ে নিয়েই সে দিনটা কাটলো। বাবা ওষুধ আনলেন। খেলাম। দুই দিন পর জ্বর প্রায় ভালো হওয়ার পথে। শুনেছি, ভূত প্রেতে ভয় পেলে জ্বর এসে মারা যায়। সেই ভয়েই ছিলাম। যাক এবার সে ভয়টা তাহলে দূর হলো। সবাই জানতে চায়লো কি হয়েছিলো। আমি সব কিছু লুকিয়ে বললাম- জানি না। : তাহলে ভোরে বাইরে কি করছিলি??? : মনে হয় একটু বাইরে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। এর বেশি কাউকে কিছু বলি নি। অসুস্হ বলে কেউ আর বেশি প্রশ্নও করে নি। সবাই জানে, আমি আগে প্রায় ভোরে ঘণটাখানেক হাঁটতে বের হতাম। সাথে অবশ্য সমবয়সী কেউ থাকতো। যাক সে সব কথা। আমি রাতের বিষয়টা কাউকে বলি নি, কারন আমাকে রিয়া ডেকে নিয়ে গেছিল। রিয়া! ক্লাস নাইনে পড়তো। মোটামুটি সুন্দরী একটা মেয়ে ছিল। আমার কাজিন। পাশের বাড়ির কাকার মেয়ে। এইতো কয়েক দিন হলো, রিয়া মারা গেছে। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। খবরটা শুনে আমি দৌড়ে গিয়েছিলাম। সারা শরীর ভয়ে কাঁপছিলো। ঠিক সে দিনের মতোই দেখেছিলাম, মুখ থেকে জিভটা বের করা। দাঁত দিয়ে জিভে কামড় দিয়ে রেখেছে। ইস! আত্মহত্যা করা লাশগুলো দেখতে খুব ভয়ন্কর হয়। রিয়াকে আমি খুব পছন্দ করতাম। অনেক ভালো লাগতো ওকে। আমাকেও হয়তো ওর ভালো লাগতো। সুযোগ পেলেই আমরা কথা বলতাম। ওর ও আমার প্রতি আগ্রহ দেখতে পেতাম। কিন্তু কেউ কাউকে ডিরেক্ট কিছু বলি নি। হঠাত সে দিন ও আত্মহত্যা করলো। কারনটা এখনো সবার অজানা। কোনো রহস্যতো অবশ্যই আছে। দু দিন আগে পরে নিশ্চয় সবাই জানবে। আমার অবাক লাগছে। কতোটা মোহ বা চেতনাহীন হয়ে আমি রাতকে দিন ভেবে রিয়ার পিছু পিছু ছুটছিলাম। এক বারও মনে পড়লো না যে, রিয়া মারা গেছে। যাক। তারপর কয় দিন গেলো। এখন আমি পুরোপুরি সুস্হ। আজরাতেও ঘুম আসছিলো না। অনেক চেষ্টা করে ঘুমালাম। ঘুমানোর পরই নূপুরের শব্ধ শুনতে পেলাম। কে যেনো নূপুর পায়ে দিয়ে আমাদের ছাদে হাঁটছে। কি এক মায়াবী সুর তুলেছে। তার মিষ্টি করে গান শুরু করলো। আমি ঘুমিয়ে থেকেই বললাম: বাহ! তোমার গলাতো খুব সুন্দর। রিয়া হাসলো। খুব মায়াবী হাসি। বলল: আসবে??? : কোথায়??? : ছাদে। আমি তোমাদের ছাদে আছি। আসো না! : আমি তো ঘুমাচ্ছি। : ধুর বোকা! কেবলতো সন্ধ্যা হলো। এই সন্ধ্যায় কেউ ঘুমায়? আশ্চর্য! ও ছাদে আর আমি ঘুমাচ্ছি। অথচ দু জন কতো কোমল ভাবে কথা বলছি, মনে হচ্ছে ফোনে কথা বলছি। রিয়া বলল: জানো, আজ আমি শাড়ি পড়েছি। আমাকে তোমার যে কি ভালো লাগবে! আসো না ছাদে!!! রিয়ার মিনতিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমি আজও ভুলে গেলাম যে, এখন মাঝ রাত। আর রিয়া বেঁচে নেই। ভুলে গেলাম সব কিছু। ওর আহ্বানে কি যে মায়া। আবার একটা ভুল করতে শুরু করলাম। দুয়ার খুলে চলে গেলাম সিড়িতে। আস্তে আস্তে ছাদের দিকে পা বাড়ালাম। রিয়ার মিনতিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমি আজও ভুলে গেলাম যে, এখন মাঝ রাত। আর রিয়া বেঁচে নেই। ভুলে গেলাম সব কিছু। ওর আহ্বানে কি যে মায়া। আবার একটা ভুল করতে শুরু করলাম। দুয়ার খুলে চলে গেলাম সিড়িতে। আস্তে আস্তে ছাদের দিকে পা বাড়ালাম * দেখলাম, রিয়া একটা খাটে বসে আছে। কি যে সুন্দর বিছানা! আশ্চর্য! রাতে ছাদে এতো সুন্দর খাট এলো কোথায় থেকে! ও সত্যিই খুব সুন্দর শাড়ি পড়েছে। ঠিক নতুন বউয়ের মতো। বউয়ের সাজে রিয়া বসে আছে, ঠিক যেনো ফুলশয্যার রাতে নববধু তার স্বামীর অপেক্ষায় বসে আছে। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হলো ওর সব কিছু আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু যখনই চেহারার দিকে তাকাচ্ছি, তখন মনে হচ্ছে, ও অন্ধকারে বসে আছে, আর অন্ধকারে চেহারাটা একটুও দেখা যাচ্ছে না। আমি ছাদের মাঝ বরাবর যাওয়ার পরই রিয়া হঠাত করে হেসে ওঠলো; হাহাহাহাহিহিহিহিহি হাহাহাহা সারাটা শরীর আমার ভয়ে কেপে ওঠল। মনে হচ্ছে, একটা পেত্নি তার শিকার সামনে পেয়ে হাসছে। হাসি থামিয়ে আমাকে বলল: আসো, কাছে আসো। ভয়ে ভয়ে বললাম, কে তুমি???? আবার পেত্নির মতো হাসি শুরু করলো; বলল, চিনতে পারছো না????,? রিয়ার কণ্ঠ। বললাম: রিয়া???? : হুম, রিয়া। কতক্ষণ যাবত তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। এতো দেরি করলে কেনো??? আমি চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম। আজ কিন্তু সেদিনের মতো অচেতন হয় নি। আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি, এখন মাঝ রাত। সবাই ঘুমিয়ে আছে। চারপাশের পরিবেশ খুব ভয়ন্কর লাগছে। বাড়ির কাছেই গোরস্থান। রিয়ার পিছন দিকেই গোরস্থান। অন্ধকারেও কবরের দৃশ্যগুলো আমার চোখে ভেসে ওঠছে। তাই ভয়টা বেড়ে গেলো। রিয়া আবার বলল: আসো। ভয়ে ভয়ে বললাম: রিয়া, এখনতো রাত। আবার পেত্নির মতো হাসি। : রিয়া! : বোকা, রাত তো কি হয়েছে??? তোমাকে দেখতে আসলাম। : রাতে তো ভয় লাগে। দিনে দেখা করবে। : আমিতো দিনে আসতে পারি না। ওরা আমাকে রুমে আটকে রাখে। : কারা??? : তুমি জানো না!!!??? ও এমন ভাবে বলল, যেনো আমি সব জানি। রিয়া বলল: দেখোতো, আমাকে খুব সুন্দর লাগছে না??? আমি তো ওর চেহারা দেখতে পাচ্ছি না। তবু বললাম, হুম। : আমাকে বউ বউ লাগছে না???? : হুম। এবার ও খুব করুন কণ্ঠে বলল: জানো, আমার না বউ হওয়ার খুব সখ ছিল। এবার ও করুন সুরে কাঁদতে শুরু করলো। : কি হলো রিয়া??? কাঁদছো কেনো??? দুই তিন বার প্রশ্ন করলাম। ও কাঁদছে তো কাঁদছেই। একটু পর কান্না থামিয়ে বলল: আমার চোখের পানিটা মুছে দিবে???? : হুম। : তো আসো। ও আমাকে ওর কাছে যেতে বলল। আমি তো ওর মুখই দেখতে পাচ্ছি না। তবু ওর কান্না শুনে খুব মায়া লাগছে। ওর দিকে পা বাড়ালাম। একটু কাছে যেতেই ভয়ে আমার সারা শরীর শিউরে ওঠলো। যা দেখলাম, তা হলো, শাড়ি পড়ে বসে আছে একটা কন্কাল। কি যে ভয়ন্কর লাগছে। কন্কালটা বিশ্রী ভাবে হাসতে থাকলো। বলল: আসো! আর এক পা বাড়াও। চোখ বন্ধ করে আবার তাকালাম। আগের মতো চেহারা দেখা যাচ্ছে না। আবার চোখের পলক ফেললাম, ভয়ন্কর কন্কাল। কিন্তু শাড়ি খাট সব ঠিক আছে। রাতে যে ছাদে এসেছি, আগেই জানতাম। শুধু মনে ছিলো না যে, রিয়া মারা গেছে। এবার মনে পড়ে গেলো। রিয়া তো কয় দিন আগে আত্মহত্যা করেছে। তার মানে এতক্ষন কোনো ভূত পেত্নির সাথে কথা বলছি!!! ভয়ের মাত্রা কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেলো। এখন যে কি করব, দাঁড়িয়ে থাকবো না দৌড় দিবো বুঝতে পারছি না। পেত্নিটা ভয়ন্কর ভাবে হাসতে শুরু করলো। এমন সময় শোনলাম মায়ের কণ্ঠ। আমাকে ডাকছে। বুকটা সাহসে ভরে গেলো। জোরে বললাম: আমি ছাদে। কথাটা বলে যেই রিয়ার দিকে তাকালাম, দেখলাম, রিয়ার মৃত লাশ। সাদা কাফন পড়া। ঠিক ফাসিতে ঝুলার সময় যেমন ভয়ন্কর দেখা যায়, জিভে কামড় দেয়া, চোখ খোলা। ছাদে দেয়াল টেনে কোনো বাউন্ডারি করা হয় নি। আর এক পা বাড়ালেই ছাদ থেকে নিচে পড়ে যেতাম। এমন সময় মা টর্চ টিপে আমাকে ডাকতে ডাকতে ছাদে এলো। রিয়ার লাশটা আর নেই। ভাবলাম, মাকে কিছু বলা যাবে না। রিয়ার ভূতুরে বিষয়টা কাউকেই জানানো যাবে না। তাহলে যে কেউ আমাকে সন্দেহ করতে পারে। সবাই ভাববে ওর আত্মা আমার কাছে আসে কেনো। হঠাত ও আত্মহত্যা করলো। ওর মা বাবা পুলিশকে জানায় নি। তাহলে হাসপাতালে নিয়ে লাশ কাটা ছেঁড়া করবে, যা কেউ চায় নি। এলাকার চেয়ারম্যানের সম্মতি নিয়ে লাশটা মাটি দিয়ে দিছে। সবাই এখনো ওর মৃত্যু রহস্য নিয়ে আলোচনা করছে। আমারও জানতে ইচ্ছে করে ও কেনো মারা গেছে। কিন্তু কাউকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি না। এমন ভাবে থাকি, যেনো ওকে আমি চিনতামই না। মা অবাক হয়ে বলল: এতো রাতে ছাদে কি করছিস???? নিজেকে খুব সামলে বললাম, হঠাত গরম করছিল। তাই একটু ছাদে এলাম। এই মাত্র এলাম। মা কথাটা একটু বিশ্বাস করতে না পেরে বলল: এখন তো শীত পড়তে শুরু করেছে। নাকি ফোনে নেট পাও না বলে ছাদে এলে???? আমি আর কথা বাড়ালাম না। যাক ভালোই হলো যে মা বিষয়টা অন্য ভাবে বুঝেছে। মা হুজুর কবিরাজে খুব বিশ্বাসী। ভূত প্রেতে কোনো টের পেলে আমাকে তাবিজের মালা পড়িয়ে দিবে। আর এইসব টাবিজ আমি এক দম লাইক করি না। যাক। দ্বিতীয় দিনও বেঁচে গেলাম। তারপর আমি খুব সচেতন হয়ে গেলাম। রিয়া কেনো, রিয়ার চৌদ্দ ঘুষ্টি ডাকলেও রাতে আর কখনো বের হবো না। পরের দিন রাতটা ছিলো শনিবার রাত। শুনেছি শনিবারে ভূত প্রেতের শক্তি খুব বেড়ে যায়। সে দিন ওদের পাল্লায় পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। শনিবারে কোনো ভাবেই বাইরে যাওয়া যাবে না। কিন্তু আমারতো মাঝ রাতে হিস্যু পায়। না, তাতেও যাওয়া যাবে না। দুই লিটারের খালি একটা বোতল রেডি করলাম। আজ এটা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। রাত একটা বেজে গেছে। ভয়ে আর টেনশনে ঘুম আসছে না। ঘুমালেই নিজের অজান্তে দুয়ার খুলে ফেলি। তাই আজ পড়ার টেবিলটা টেনে দুয়ারের কাছে রাখলাম। টেবিল টপকিয়ে দুয়ার খুলতে হবে। আজ আসলেই অনেক ভয় করছে। ভাবছি, কাল মাকে বলেই দিবো। আর কোনো হুজুরের কাছে যাবো। কিন্তু আমি এই মৃত আত্মাটার টার্গেট হলাম কেনো??? রহস্যটা জানতে খুব ইচ্ছে করছে। শুয়ে ঘোমানোর জন্য চেষ্টা করছি। হঠাত দরজায় কে যেনো টুকা দিলো। বুকের ভিতর চমকে ওঠলো। বললাম: কে???? কোনো উত্তর এলো না। কি একটা ভয়ন্কর অনুভূতি হচ্ছে। টেবিলে পানির জগ ছিলো। ওটা হঠাত ফ্লোরে পরে গেলো। সাথে সাথে ভেঙ্গে গেলো। ভয়ে আবার বলে ওঠলাম: কে!??? চারদিক একদম নীরব। মাথার উপর বন্ধ ফ্যানটা ঝুলতে শুরু করলো। মনে হচ্ছে আমার উপর পড়ে যাবে। ভয়ে চিৎকার করে মাকে ডাকার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরুলো না। কে যেনো গলা চেপে ধরলো। ভয়ে গুটিশুটি হয়ে শুইলাম। কিন্তু শান্তি নেই। কে যেনো ঝড়ের গতিতে আমার মাথার নিচ থেকে বালিশটা টেনে নিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিলো। টেবিলে রাখা বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো এতো দ্রুতো উল্টাতে থাকলো, মনে হচ্ছে সব ছিড়ে যাবে। আমার হাতের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটা উড়ে গিয়ে ফ্লোরে পড়লো। সাথে সাথে ব্যাটারি সিম সব খুলে ছিটকে পড়লো। কান্না কান্না কণ্ঠে বললাম: আমি কি দোষ করেছি??? এবার সব নিরবতা ভাঙলো ভয়ন্কর এক হাসিতে। একটা পেত্নি উদ্ভূত ভাবে হাসতে থাকলো। ভয়ে আর অস্থরতায় দুই কান চেপে ধরলাম। একটু পর আবার খুব করুন সুরে কাঁদতে শুরু করলো। ভয়ে আমার চোখ দিয়েও পানি চলে আসলো। রিয়ার কান্না ভেজা কণ্ঠ শুনলাম: আমি কি দোষ করেছিলাম???? বললাম: কিসের দোষ??? : আমি এতো কষ্ট পাচ্ছি কেনো???? : কিসের কষ্ট???? : কবরে কি কষ্ট জানো না বুঝি???? আমার খাটের কাছে জানালা। জানালার ও পাশ থেকে রিয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। রিয়া। কতো চেনা রিয়া আমার। কতোটাই না ভালো লাগতো ওকে। কয় দিন আগেও ওকে দেখার জন্য ছটফট করতাম। আর এখন ও নিজে এসে দেখা দিচ্ছে। একটু সাহস করে বললাম: তুমি মারা গেলে কেনো???? : আমি তো মরি নি। অবাক হলাম: তাহলে তুমি বেঁচে আছো??? : বাঁচার খুব ইচ্ছে ছিলো??? : তাহলে???? : আমাকে যে বাঁচতে দিলো না??? : কে???? : তুমি জান না??? এমন ভাবে বলল, যেনো আমি সব জানি। : রিয়া, কে মেরেছে তোমাকে???? ও কাঁদতে শুরু করলো। আমি নীরব। একটু পর বলল: একটা ভদ্র ছেলে। : খুনি কি করে ভদ্র ছেলে হয়!!! আমরা তো শুনেছি তুমি নিজে গলায় দড়ি দিছো???? রিয়া চুপ। একটু পর বলল: আমি খুব একা। কবরে আমাকে ঘুমাতে দেয় না। তাই তোমার কাছে ছুটে আসি। আমার সাথে চলো! ভয়ে কেঁপে ওঠলাম: রিয়া, তুমি মরে গেছো। তোমার সাথে যাওয়া যাবে না। : তাহলে আমাকে মারলে কেনো???? ভয়ে বললাম: আমি মারবো কেনো??? প্লীজ, আমাকে জ্বালায়ো না। তুমি আর আমার কাছে এসো না। : তাহলে ছাদে আসো। কথা বলে চলে যাবো। : না। আজ শনিবার। আজ মরে গেলেও ছাদে যাবো না। : তাহলে কখন যাবে??? : কাল ছাদে যাবো। এবার রিয়া বলল: কাল তোমাকে সব বলবো। কিভাবে মরলাম, তাও বলবো। কবরে একা একা খুব কষ্ট লাগে। আমার একটা সঙ্গী লাগবে। আমি একা থাকবো না। আমি ওকে তাড়ানোর জন্য বললাম: আজ তুমি চলে যাও। কাল ছাদে গিয়ে তোমার সব কথা শুনবো। ও দাঁত কিরমিরিয়ে বলল: কাল ছাদে না গেলে কলিজাটা ছিঁড়ে নিয়ে যাবো। খুব ভয় লাগছে ওর কথা শুনে। তারপর ও আবার কাঁদতে শুরু করলো। একটু কান্না করার পর আবার আমার ফ্যান ঝুলতে থাকলো। লাইটা একটা শব্দ করে ফেটে ফ্লোরে ভেঙ্গে পরলো। সারা ঘর অন্ধকার হয়ে গেলো। কে যেনো জোরে আমাকে একটা লাথি মারলো। আমি খাট থেকে ফ্লোরে পরে গেলাম। তারপর আর কিছু মনে নেই। হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম। রিয়ার মৃত আত্মা আমাকে খুব মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। দিনে রাতে আমি একটুও শান্তি পাচ্ছি না। দিনের বেলা এক মনে ভাবলাম, মাকে রাতের বিষয়টা খুলে বলব। কোনো হুজুর বা ভূতপ্রেত তাড়াতে পারে এমন কারো কাছে গিয়ে পানিপড়া বা তাবিজ আনব। কিন্তু কি এক বাধায় যেনো কাউকে কিছু বলতে পারলাম না। অন্য মনে ভাবলাম, রিয়ার মৃত আত্মা কেনো আমার পিছু লেগেছে??? ও কেনো আমাকে কবরে নিয়ে যেতে চায়??? আর ও হঠাৎ করে আত্মহত্যাই বা করলো কেনো???? না, যে করেই হোক, ওর মৃত্যু রহস্য আমাকে জানতে হবে। ও বলছিলো, ও মরে নি, ওকে মেরে ফেলেছে। কে মেরেছে ওকে???? তবে কি রিয়াকে কেউ মেরে ফাসিতে ঝোলিয়ে রেখেছিলো???? কি যেনো এক অস্থিরতা আমার মাঝে কাজ করে, যার জন্য আমি ঘুমাতে পারি না। আর ঘুমালেই রিয়ার ভূত এসে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরের দিন রাতে সিদ্ধান্ত নিলাম, না, যে করেই হোক, রিয়ার আত্মার মুখোমুখি হবো। ওকে সব কিছু জিজ্ঞাসা করবো। তাই অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন মাঝ রাত হয়। যখন রাত একটা বাজলো, আমি নিজ থেকেই ছাদে চলে গেলাম। ভাবলাম, আমি ছাদে গিয়েই আজ ওকে ডাকবো। কবরস্থান তো বেশি দূরে না। ছাদ থেকেই দেখা যায়। ঐখানেইতো রিয়াকে কবর দেয়া হয়েছে। যখন ছাদের মাঝ বরাবর গেলাম, টের পেলাম, মাথায় যেনো কিসের ধাক্কা লাগলো। উপরে তাকিয়ে দেখি, রিয়ার লাশটা শূণ্যে ফাসিতে ঝুলছে। সেই ভয়ানক দৃশ্য: জিভে কামর দিয়ে রেখেছে আর চোখ দুটি খোলা। আরো দুদিন এই দৃশ্য দেখেছি। তবু ভয়ে ভাষা হারিয়ে ফেললাম। ভয়ে ভয়ে পিছিয়ে আসার চেষ্টা করলাম, এমন সময় রিয়া পেত্নির মতো হেসে ওঠলো। ওর দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম। ও একটা চেয়ারে বসে হাসছে। মাথার উপরে তাকালাম, ওর ঝুলন্ত লাশটা আর দেখতে পেলাম না। রিয়া হাসতে হাসতে বলল: ভয় পেলে???? আমি খুব ভয় পেলাম। তবু বললাম: না। ও বলল: তুমি খুব ভালো আছ তাই না???? ওর মৃত আত্মার অত্যাচারে খুব কষ্টে আছি। তবু বললাম: হুম। : তুমি কতো ভালো আছো, কিন্তু আমি তো ভালো নেই। খুব কষ্ট। আমার যে খুব যন্ত্রনা। এবার সাহস করে বললাম: রিয়া, তুমিতো মরে গেছো। কবরে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকো। তাহলে ভালো থাকবে। আমাকে আর ভয় দেখাতে এসো না। রিয়া পেত্নির মতো হাসতে থাকলো। আমি ভয়ে চুপ হয়ে গেলাম। একটু হেসে আবার খুব করুণ সুরে কাঁদতে শুরু করল। কান্নার আওয়াজে আরো ভয় পেতে থাকলাম। এবার ও বলল: আমিতো কবরে যেতে পারি না। ওরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না। তুমি জানো না, যারা আত্মহত্যা করে, তাদের আত্মা কখনো শান্তি পায় না। এই আত্মার কবরে জায়গা হয়না। মৃত্যুর যে কষ্টটা, ওটা মৃত্যুর পরো পেতে থাকে। সেই কষ্টে আমি সারাক্ষণ ছটফট করছি। তাইতো আমি সারাক্ষণ তোমার বাড়ির ছাদে ঘুড়ে বেড়ায়। খুব সাহস করে প্রশ্ন করলাম: তুমি ফাসিতে ঝুললে কেনো??? : আমিতো ঝুলিনি। : তাহলে কে ঝুলিয়েছে তোমাকে??? : একটা ছেলে। : কোন ছেলে??? ওর নাম কি, আমাকে বলো। : বারে! তুমি কি জানো না! : তুমিতো রাতে গলায় দড়ি দিলে। কোনো ছেলে তোমার কাছে গেলো কি করে???? : কেউ যাবে কেনো???? আমি কি গলায় দড়ি দিতে জানি না???? : তারমানে তুমি নিজেই গলায় দড়ি দিলে????? ও একটু চুপ থেকে বলল: হুম! তারপর একটা মানুষের মতো কাঁদতে শুরু করলো। একটু কেঁদে বলল: গলায় দড়িটা লাগার পর আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছিলো। আমার বাচ্চাটার কথা খুব মনে পড়ছিলো। ওরতো কেবল দুই মাস। আমি তো মা হয়ে ওকেও মেরে ফেলছি। আচ্ছা, ও কি বেঁচে আছে??? নাকি আমার সাথে মরে গেছে???? আমি চুপ হয়ে গেলাম। ওর মৃত্যুর কারনটা এবার বোঝতে পারলাম। রিয়া আবার কাঁদতে থাকলো। কাঁদতে কাঁদতে বলল: আমি কি দোষ করেছিলাম??? আমার দুই মাসের বাবুটা কি দোষ করেছিলো???? আচ্ছা, ও বড়ো হলে কি হতো??? ছেলে নাকি মেয়ে??? আমি চুপ। কিছু বলার ভাষা নেই। শুধু বললাম: রিয়া তুমিতো আমাকে বাবুর কথা বলো নি; শুধু বলেছিলে..... ও আবার কান্না শুরু করলো। আমি কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেলাম। . রিয়ার কণ্ঠ একটু পর পাল্টে গেলো। ও বলল: জানো, একা একা না আমার ভালো লাগে না। তাইতো তোমাকে নিতে আসি। আচ্ছা, আমার বাবুটা কাকে বাবা বলবে, বলোতো!!!! তুমি আসো না! আমাদের সাথে খেলা করবে। তোমাকে নিয়ে কতো সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরতে যাব!!! আমি সিরিয়াস হয়ে বললাম: রিয়া! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও! আমাকে আর কষ্ট দিয়ো না প্লিজ! তুমি চলে যাও। আর এসো না। প্লিজ! এবার ও আবার পেত্নির মতো হাসতে শুরু করল। বলল: তুমি আমার সাথে চলো। তাহলে আর আসবো না। ওকে খুব বোঝাতে চেষ্টা করলাম। বললাম: রিয়া, তুমি মরে গেছো। তোমার সাথে আমার যাওয়া সম্ভব না। তুমি চলে যাও! : ধুর বোকা! এই যে দেখো দরজা। এই দরজার ভিতর এলেই তুমি আমাকে পাবে। দেখো এটা কি সুখের রাজ্য! একথা বলেই ও আমার সামনে একটা ফাসির দড়ি ঝুলাতে লাগলো। অবাক হয়ে এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, দড়িটার ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে সুন্দর একটা পৃথিবী। কি সুন্দর বাগান! রিয়া একটা নীল শাড়ি পড়ে কার অপেক্ষায় যেনো বসে আছে। পাশে একটা ছোট বাচ্চা খেলা করছে। আরো অনেক কিশোরকিশোরী একটু দূরে গল্প করছে। দড়ি থেকে চোখ ফিরিয়ে তাকালাম, দেখি অন্ধকার ছাদ। একটা কঙ্কাল ফাসির দড়ি হাতে দাড়িয়ে আছে। রিয়া বলে কেউ নেই। আবার ভয়ে কাপতে কাপতে দড়ির গোল করা ফাসির বৃত্তের দিকে তাকালাম, আবার ঐ সুন্দর পরিবেশটা দেখতে পেলাম। তবু আমার মনে হলো এটা ফাসির দড়ি। এর ভিতর গেলে আমি মরে যাবো। এবার কঙ্কালটা আমাকে ডাকতে থাকলো: আসো, তারাতারি আসো! আমি ভয়ে দৌড় দিতে চাইলাম, এম্নি কঙ্কালটা আমাকে চেপে ধরলো। বলতে থাকলো: আজ না নিয়ে যাবো না। আসো! আসো! কাছে ছাদের পিলারের রড পেলাম। আগেই বলেছি, ছাদের কাজ একেবারে কমপ্লিট হয় নি। ঐ রড চেপে ধরে আমি বলতে থাকলাম: আমি মরবো না। আমি মরবো না। এভাবে অনেক ক্ষন বলার পর আর কিছু মনে নেই। পরের দিন ঘুম থেকে জেগে দিখি আমি খাটে শুয়ে আছি। কিন্তু বালিশ নাড়াতে গিয়ে অবাক হলাম। বালিশের নিচে সেই ফাসির দড়ি। এই দড়ি এখানে এলো কি করে??? ভয়ে ভয়ে দড়িটা লুকিয়ে ফেললাম। তারপর আরো কয় দিন গেলো। কিন্তু একদিনও আর বাইরে যাইনি। তাতে কি! রিয়ার অত্যচার কিন্তু থেমে নেই। প্রতি দিন রাতে এসে আমাকে ডাকে। জানলার কাছে এসে কাঁদতে থাকে। খুব ভয় দেখায় আমাকে। যখন একটু ঘুমায়, এম্নি লাথি দিয়ে আমাকে খাট থেকে ফেলে দেয়। ঘরের ভিতর ভাংচুর শুরু করে। এতো অত্যাচার আর কতো সহ্য করা যায়? প্রতিদিন রাতে ভাবি, কথাগুলো সবাইকে বলব; কিন্তু দিনের বেলা কেনো যেনো বলতে পারিনা। দুই মাস আগে রিয়াকে একা পেয়ে একটা অন্যায় করে ফেলেছিলাম। অভিমানী মেয়েটা কাউকে কথাটা বলে নি। নিজেকে আজ আমার খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। এভাবে বেঁচে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আর কতো সহ্য করা যায়??? আজ ফ্যানের সাথে দড়িটা ঝুলালাম। আশ্চর্য! দড়ির ভিতর তাকাতেই সেই সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। রিয়া বসে আছে আমার অপেক্ষায়। কি সুন্দর গাছপালা। তবে কি ওটা স্বর্গ! দড়ির দিকে তাকাতেই রিয়া ডেকে ওঠছে: আসো! আসো না! আর কতো দেরী করবে???? কয়েক বার দড়িটা থেকে দূরে চলে এলাম। এম্নি একটা যন্ত্রণা অনুভব হয়। আবার দড়ির কাছে গেলাম। ঐতো কি সুন্দর আরেকটা পৃথিবী। রিয়া বলল: তুমি ভয় পাচ্ছ কেনো! এটাতো একটা দরজা। কি সুখ এখানে! আসো না প্রিয়! আসো! একা একা আর ভালো লাগছে না। তারপর আমি খুব আস্তে আস্তে রিয়াকে বললাম: আসছি রিয়া। তুমি একটু অপেক্ষা করো। এখনি আমি এই দরজা দিয়ে তোমার কাছে চলে আসবো। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মৃত আত্মা (সব পর্ব একসাথে)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now