বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মোমের পুতুল-(পর্ব-৬)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arfin Shuvo (০ পয়েন্ট)

X .. আতিয়াকে এক ভাইয়ার বাসাই রেখে আমি বাজারে এক ভাইয়ার দোকানে বসলাম, যে সমস্যাই পড়েছি তার একটা সমাধান দরকার। ।। কি করবো জানি না, তবে আমার কাছে একটা পথ ছিল, কিছু জমানো টাকা আমার ছিল। এখন সুধু দরকার একটা ভালো বুদ্ধি আর কিছু সুযোগ। দুপুরে আতিয়া আমাকে ফোন করলো। আমিঃ জি, বলেন, আতিয়াঃ দুপুরে খাবেন কোথায়? আমিঃ এক ভাইয়া দেকেছে, ওনার বাসাই খাবো, আপনি খেয়ে নেন। আতিয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে। ।। ৩ দিন পর। আমি ব্যাবসা করার জন্য বাজারে একটা দোকান ভাড়া নিলাম, আমি আগে থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি একটা ব্যাবসা করাতাম, তাই আমার সমস্যা হবে না, পাশাপাশি সকাল করে একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাশ নেওয়া সুরু করলাম। আতিয়াকে নিয়ে এক রুমের একটা টিনের বাড়ী ভাড়া নিলাম... পরিচিত এক চাচা, তাই ভাড়াও অনেক কম পেলাম। সুরু হল, আমার নতুন জীবন। সকালে আমরা হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসতাম, কিম্বা আমি একবারেই ভাত রান্না করে নিতাম। আতিয়া রান্না করতে পারতো না, কিন্তু আমি কাজ চালানোর মতো রান্না পারতাম। কষ্ট হলেও ভালো লাগতো... । কিছু দিন পর আতিয়া আমাকে বলল, এখানে ডাচ- বাংলা ব্যাংক কোথায় আছে? আমিঃ কেন? আতিয়াঃ আমার কাছে কিছু টাকা ছিল, বাড়ী থেকে পালিয়ে আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম।, যদি তোমার ব্যাবসার কাজে লাগে।। আমি মনে মনে ভাবলাম, হয়তো ২০-৩০ হাজার হবে? আমিঃ না থাক, আপনার পড়াশুনার অনেক টাকা লাগবে, সামনে মাসে নতুন সেমিস্টার শুরু হবে, আমি ইউনিভার্সিটি গেছিলাম।। আতিয়াঃ আচ্ছা সেটা দেখা যাবে, আমার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা আছে। ।। কিন্তু কয়েক দিন পর যখন ব্যাংকে গিয়ে আতিয়ার নামে টাকা দেখে তো আমি চমকে গেলাম, এত টাকা? আমিঃ আপনার কাছে এতো টাকা কিভাবে আসলো? আতিয়াঃ তুমি কি আমাকে চিনো? আমি কে বা আমার বাবা কি করে? আমিঃ না, সেটা না বললে কিভাবে চিনবো? আতিয়াঃ আমার বাবা অনেক বড় ব্যাবসাদার...। ঢাকায় আমাদের ৪ টা বাড়ী আছে, আরও কই জায়গায় যে জমি আছে আমি জানি না। আমিঃ ও আতিয়াঃ এখন বল, তুমি কয় টাকা নিবা? ব্যাবসার জন্য। আমিঃ আমার এক টাকাও লাগবে না, আপনি টাকা গুলো ব্যাংকে রেখে দিন, এর যে লাভ পাবেন সেটাতে আপনার পড়াশুনার খরচ হয়ে যাবে। আতিয়াঃ আরে তুমি না বলছিলা, আরেকটা নতুন ব্যাবসা চালু করবা, তার জন্য ব্যাংক লোন করতে চাচ্ছো, সেটা আমার কাছে নাও, আমি তো তোমার বউ, সমস্যা কি? নাকি বউ ভাবো না? আমিঃ এটা আবার কেমন কথা বউ কেন ভাব্বো না? আতিয়াঃ এজন্য তো বউ কে আপনি বলছো, আবার টাকা নিতে চাও না। তুমি করে বলবা। আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে বলবো।আর টাকা নিলেও ২ বছর পর ফেরত দিয়ে দিবো। আতিয়াঃ ঠিক আছে সেটা তুমি যা ভালো মনে করো করবা। ... এরপর আর পিছনে তাকাতে হয় নি। ৬ মাসের মধ্যেই, আল্লাহ্‌র রহমতে আমি ব্যাবসাতে ভালো মুনাফা করি, যদিও এর মধ্যে ২-৩ বার, আব্বু এক ভাইয়ার হাতে টাকা দিতে চেয়েছিল... কিন্তু আমি সেটা নেই নি, রাগ করে না, আসলে আমার তো আর দরকার নাই। ... এভাবে ২ বছর হয়ে গেলো... আমি পড়া শেষ। আতিয়ার আর ৪ মাস... আমার ব্যাবসা এতো ছড়িয়ে গেছিলো যে আমার আর চাকুরী করা হলো না... কিন্তু আমার ইচ্ছা আতিয়াকে আমি চাকুরী করাবো, যদি সে চাই। ... প্রায় ৫ বছর হয়ে গেলো... আমি হাসপাতালে অপেক্ষা করছি। আজ আমাদের প্রথম বাচ্চা হবে। ।। একজন এসে বলল, ভাইজান! আপনি বসেন, এতো চিন্তা করার কিছু নাই শহর থেকে আপনার জন্য বড় ডাক্তার নিয়ে এসেছি। আল্লাহ্‌র রহমতে ভাবীর কিছু হবে না। একজন এসে বলল, ভাইয়া, চা খাবেন নিয়ে আসবো? আরেকজন বলল, আরে আসবো কি? নিয়ে আয়, ভাই অনেকক্ষন থেকে বসে আছে। আমি বললাম না থাক, আমি বাইরে যাচ্ছি। একটু হেঁটে আসি। ।। কিন্তু বাইরে যাবার পর আমি চমকে গেলাম এতো মানুষ কোথায় থেকে আসলো? একজনঃ কি খবর ভাই? কোন ভালো সংবাদ? আপনার জন্য আমার সবাই এসেছি... আমিঃ কিন্তু আমি তো কাউকে খবর দেয় নি... আরেকজনঃ তাতে কি হয়েছে? আপনি সবার উপকার করেন, আর আমরা আপনার এই খুশীর দিনে আপনার পাশে থাকবো না? ।। দূর থেকে দেখালাম, মনে হল, মাকে দেখালাম, আমি ভাবলাম, ভুল দেখছি না তো...। না ভুল না, আমিঃ মা তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে কেন? মাঃ এখানে এসে দেখলাম, কতো মানুষ তোর জন্য হাস্পাতালের সামনে বসে আছে, সত্যি বাবা, তুই অনেক বড় মানুষ হয়ে গেছিস। সবাই তকে কতো ভালো বাসে, সুধু আমরাই তকে বুঝতে পারিনি। তোর বাপ! লজ্জাই আস্তে পারছে না। আমিঃ কয় আব্বা? মাঃ ঐ দিকে চায়ের দোকানে বসে আছে। আমিঃ মা, তুমি ভিতরে যাও, আমি বাবা কে নিয়ে আসছি। এই সুজন ভাই, তুমি মাকে নিয়ে ভিতরে যাও। ।। আমি বাবাকে খুজতে চা য়ের দোকানে গেলাম, দেখলাম তিনি বসে চা খাচ্ছে। আমি ওনার সামনে বসলাম, দোকানদার বলল, এই সেলিম, দেখ, আদিল ভাই এসেছে কি খাবে দেখ, আমিঃ আমি সুধু চা খাবো। ।। আমি বাবাকে বললাম, কি ব্যাপার, তুমি ভিতরে না গিয়ে এখানে কি করছো? আব্বুঃ চা খেতে এসেছি। আমিঃ সুধু চা খেতে এসেছও। আব্বুঃ হ্যাঁ। আমিঃ আম্মু, তো বলল, যে তুমি নাকি আতিয়াকে দেখতে এসেছও। ।। দেখলাম, আব্বু আর কিছু বলছে না, ওনার চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে... আব্বুঃ বাবা, আমাকে মাফ করে দে, আমার ভুল হয়ে গেছে... তকে পড়াশুনা করিয়ে ভেবেছিলাম, তুই একটা বড় চাকুরী করবি। যাতে আমার মান সম্মান বাড়ে কিন্তু তুই বড় চাকুরী না করলেও যে এতো বড় মানুষ হয়ে গেছিস যে আমাকে আর আমার পরিচয় দিতে হয় না, সবাই দেখলেই বলে ঐ দেখ ওইটা আদিল ভাইয়ের আব্বু। সত্যি বাবা, তকে আমরা না বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি, যে সময় তোর আমাকে দরকার ছিল সে সময় তকে দূরে ঠেলে দিয়েছি। আমিঃ ঠিক আছে চল যায়... এই বলে আমি হোটেলে বিল দিতে গেলাম। আমিঃ কতো টাকা হল? হোটেল মালিকঃ ভাই, আজকে টাকা নিবো না, শুনেছি আজ আপনার নাকি প্রথম বাচ্চা হবে, চাচা হিসাবে আমার ও একটা দায়িত্ব আছে, আপনি সবার জন্য করেন, আজকের দিন টা আমাদের সুযোগ দেন। আমিঃ কিন্তু? হোটেল মালিকঃ কোন কিন্তু না ভাই আপনার জন্য আজ আমার ছোট ভাই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছে।... আজ টাকা দিলে আমরা মনে খুব কষ্ট পাবো। তার ওপর বাবা বলে গেছে আপনার নামে যতো চা নাস্তা যাবে, আজ সব ফ্রি। আমিঃ ঠিক আছে ভাই, দুয়া করবেন। ।। হাসপাতালে গিয়ে সুনালাম, বাচ্চা হয়েছে, সবাই মিষ্টি খাচ্ছে... ঘরে গিয়ে দেখলাম, আতিয়া শুয়ে আছে, আমি কোলে নিলাম মেয়ে হয়েছে...। আব্বু নাম রাখলো...। /আনিসা বুশরা/ যার অর্থ...সুন্দর শুভ নিদর্শন...। ।।.........।...।.........।। ।।.........।...।.........।। ।।.........।...।.........।। <<<<<< সমাপ্ত >>>>>>


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now