বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
ভোরে আজ বেরিয়ে পড়েছি! অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে যাত্রার পথে। ছোট থেকেই শুনে আসেছি মেয়েরা ঘরের কোণায় জমানো একটুকরা রত্ন!সত্যি কিনা মিথ্যে আমার জানা নেই। বয়স হয়েছে অনেকটা এসব নিয়ে আর ভাবতে পারিনা, অনেকটা বন্দি করে রেখেছি নিজেকে । তবে কি সেই লোকোকথা আজ বেমানান তাও জানা নেই। তবে অনেক ভালো লাগছে আজ! মনে হয় কবে থেকে এইদিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। পিছু ফিরবো না আর প্রতিজ্ঞা করেছি, আসলে প্রতিজ্ঞা করতে বাধ্য হয়েছি। বাড়ির এই পিছনের রাস্তাটাও বেশ।২ ধারে সারিবদ্ধ বৃক্ষপট,ডাল-পালা গুলোও চমৎকার! কতোটা উদারতায় মেলিয়ে দিয়েছে! ভোরের শিশির কণাগুলো আমার পুরো শরীর কাপিয়ে তুলছে!অনুভব করছি মাটির বুকে জন্মানো ভেজা ঘাসে পা জুরিয়ে যাচ্ছে। ভালো লাগছে অনেকটা ভালো লাগছে। আচ্ছা!এখন যদি চুল গুলো খুলে দেই? কেউ দেখবে না তোহ? আমার সত্যিই ইচ্ছে নেই কেউ দেখুক কেউ জানুক আমার উপস্থিতি। আজকে না পায়ে নূপুর ও পড়িনি!কেন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে এরপর ও ইচ্ছে হচ্ছে গা ছাড়িয়ে এইখানেই শুয়ে পড়ি অনন্তকালের জন্য !চট করে চুল গুলো খুলেই দিলাম! আমার শিউলি ফুল খুব পছন্দের। ভাবছি শিউলির একটা থোকা চুলে বসিয়ে দিলে কেমন হতো! উফ!এই প্রকৃতির সঙ্গে বেশ মানাত তাইনা?যতো ধাপ ফেলছি শিশির গুলো চুল ভিজিয়ে দিচ্ছে! আমার তোহ এই সময় বরাবরি চাওয়ার দৃষ্টিতে ছিলো। হুম তা ভুলি কিভাবে? সামনে যতোই পা বাড়াই প্রতিটা ধাপ যেন পায়ের তালুর স্পষ্টতা খুঁজে। সামনে যতো এগুচ্ছি মনে হচ্ছে পিছু কিযেন একটা ছেড়ে আসছি! জানি এটাই পিছুটান। কিন্তু,আমি যে প্রতিজ্ঞা করেছি পিছু তাকাবো না আর। দৃষ্টিকোণ থেকে আশেপাশের প্রকৃতির আভাসগুলো অনেক অস্পষ্টতায় লাগছে এরপর ও আমাকে সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। যদিও এই পথে বিভীষিকা থাক। আচ্ছা!বিভীষিকাকে আমি এক সময় অনেক ভয় পেতাম কিন্তু এখন আর ভয় করেনা। কেন যেন করেনা, বাস্তবতায় তা অনেক পূর্বেই জানতে পেরেছি। ভাবনা থেকে বিরতি টেনে সামনে এগুতেই দেখি রাস্তাগুলো কেন যেন পূর্বের তুলনায় প্রশস্ত হয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি যেমনটা আমি স্বপ্নের মাঝে দেখতাম! একি অবিকল স্বপ্ন? নাহ, এটা সত্যিই হচ্ছে!ধাপ সামনে দিতেই দেখছি পায়ের শব্দ কেন যেন নূপুরের ঝুনঝুন শব্দের অনুরূপ বেজে উঠছে! তবে আমার নূপুর তোহ ঝুনঝুন শব্দ নেই,শব্দ বিহীন নূপুর। উৎকণ্ঠায় পড়ে যাচ্ছি! মনে হচ্ছে আমার কল্পনা রাজ্যে আবারো গমন করছি। তবে কি সত্য সত্য?মনে পড়ল!বেশ খানিকটা সময় হয়ে গেছে সূর্য কোথায়?নাহ,আমি সূর্যকে দেখতেই পাচ্ছিনা। তার মানে আমি সত্য সত্য আমার কল্পনা রাজ্যের পথেই। এরিমাঝে হুট করেই পিছু থেকে আঘাত!
রিনি' রিনি' নামে ডাকা চিরচেনা কন্ঠস্বর!আমার কানে চারিদিক থেকে এর প্রতিধ্বনি বেজে উঠছে! অসহ্য লাগছিলো কিন্তু বহুকালে বাদে চিরচেনা শব্দের উৎপত্তি আমাকে আবারো দূর্বল করে দিচ্ছে!পিছু তাকাতে চাচ্ছিনা এরপর ও উৎকন্ঠা কমছে না। আচ্ছা সে কি, সে কি সত্যি এসেছে?ভাবনার জগতের মাঝ থেকে পিছু তাকালাম! তবে অনেক বড় সর্বনাশ করে ফেললাম! চারিদিক অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা,কিছুই না। বুঝতে পারার আগেই আবারো সেই পরিচিত কন্ঠ এইবার কোনদিক উপলক্ষ্য না করেই দৌড়াচ্ছি! মনে হচ্ছে আমার ঘড়ির কাটার মাঝে দৌড়াচ্ছি।যেন এই দৌড়ানো আর ছাড়ছেই না। আমি জানতে পেরেছি এইটাই তোহ "মোহ"। তবে কেন সে আমার পিছু টেনেছিলো?আঁধারের মাঝে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ছি! কিন্তু কই কেউ তোহ নেই,কেউ নেই উত্তর দেবার! আজও কেউও নেই। এলো না উত্তর দিতে।
.
.
.
-সকাল ৬ টার এলার্ম কানের কাছে বেজে উঠতেই কিছুটা চমকানো ভঙ্গিমায় চোখ খুলে তাকালাম! নাহ, আমি আমার সেই বদ্ধ ঘরেই আছি। আমার ঘড়ির কাটার ও টিকটিক শব্দ ভেসে আসছে!ইস,আমি কি বেঁচেছি না কি মরে বেঁচে উঠেছি?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now