বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Omar (০ পয়েন্ট)

X মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক Writer-Md. Omar Part-04 পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখে পানির ছিটা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম,, মেইন রাস্তায় চলে আসলাম,, তারপর রাস্তা সাইটে দাঁড় করালাম,, কিছুক্ষণ পর এই যে মামা যাবেন,,(তিন টা মেয়ে,,) আমি--কোথায় যাবেন,, ---সিটি কলেজ,, আমি--ওকে আসেন,, ---ভাড়া কত,,? আমি--৩০ টাকা,, --আচ্ছা,, তারপর গাড়ি চালাতে লাগলাম,, ওরা কি যেন বলতেছে আমাকে নিয়ে,, একটা মেয়ে--এই ছেলেটা কি কিউট নারে,, অন্য মেয়ে--যা না প্রেম কর,,,তুর খালি ছোটলোক দের পছন্দ হয়,,(মুখ বাঁকিয়ে) প্রথম মেয়ে--এভাবে বলিস কেন,,ও তো আমাদের মত মানুষ,, অন্য মেয়ে--ছোটলোক কে ছোটলোক বলবো নাতো কি করবো,,,যত্তসব আদিখ্যেতা,, আরেক মেয়ে--দেখেছিস পোশাক টা কি রকম,,ওয়াক,, প্রথম মেয়ে--এত অহংকার ভালো না,, ---যাহ টেক্সিচালক এর সাথে প্রেম কর,,, বলেই দুজনে হাসতে লাগলো,, আমি চুপচাপ শুনে যাচ্ছি,,, ওই মেয়ে ২টার কথা শুনে আমার খুব খারাপ লাগলো,, ছোটলোক রা কি মানুষ না,,,ওরা কি আজীবন মানুষের অবহেলা সহ্য করে যাবে,,? কিছুক্ষণ পর ওদের বলা জায়গায় চলে আসলাম,, আমি--এসে গেছি,, তারপর মেয়েগুলো নামলো,, --আপনার ভাড়া নেন,, আমি ভাড়া গুলো নিয়ে পকেটে রাখলাম,, মেয়ে গুলো চলে যেতে ধরলে আমি--listen.. মেয়ে তিন টা ঐ জায়গায় ধারালো,,, আবার ফিছনে ফিরে আসলো,, --কি বললেন আপনি,,? অহংকারী মেয়েটা আমি--দাড়াতে বললাম,, ---কেন,,? আমি---শুনুন মেডাম,, সবাইকে সম্মান দিতে শিখুন,, ছোটলোক দের সবসময় তুচ্ছ করবেন, বড়লোক দের কাছে টেনে নিবেন,,এটা ঠিক না,, ছোটলোক রা আছে বলেই বড়লোক দের এত দাম,,আর কারো বাইরেরে রুপ দেখে সে কেমন তা বিবেচনা করা ঠিক না,,, ছোটলোক রাও মানুষ,,so Be respect everyone,,, এক নিমিষেই বলে ফেললাম,, ((আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র,,ঐ ডাইনি টার কারণে আমার পড়ালেখার সাথে সাথে সব শেষ হয়ে গেল,,)) ---মেয়ে গুলো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,, আমি আর কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে এলাম,, একটা দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে,, নাস্তা করতে ঢুকলাম,, নাস্তা শেষ করে আবার মেইন রাস্তায় চলে আসলাম,,, সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছি,, এমন সময় কে যেন আমাকে ধাক্কা দিয়ে লাগলো,, আমি চোখ খুলে দেখি কয়েকটা ছেলে,,,দেখতে বখাটে টাইপের,, -----এই টাকা দে,, আমি--কিসের টাকা ভাই,, ---চাদা,, আমি--ভাই কিসের চাঁদা,,? ---ওই হালারপুত তুকে এত কৈফিয়ত দিতে পারবো না,,নে তাড়াতাড়ি বের কর,,এখানে কেউ চাঁদা না দিয়ে চলতে পারবে না,, আমি---ভাই আমার কাছে তো কোন টাকা নাই,,(করুন সুরে,,) ---এটা সবাই বলে,,ভালো ভালো টাকা বের কর,, আমি--ভাই আমার কাছে শুধু ১০ টাকা আছে,,(টাকা টা বের করে দিলাম,,) ছেলে টা আমার হাত থেকে টাকা টা নিলো,, ছেলে--নে ধর একটা সিগারেট নিয়ে আই,,(টাকাটা একটা ছেলেকে দিয়ে,,) ছেলে--তুকে এখন কি করবো বল,, আমি--আমি তো চাদা দিয়েছি,, ----তুর এই টাকাই কিছু হবে না,, ছেলে-----এই চাকার হাওয়া ছেড়ে দে,,এটাই শাস্তি,, আমি---ভাই দয়া করে এমন করবেন না,, আমি সামনে থেকে বেশি করে দিবো,,(মিনতি করে,,) কে শুনে কার কথা ছেলেগুলো চাকার হাওয়া ছেড়ে হু‌হু করে হেসে হেসে চলে গেলো,, ((মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হয়,,?,,মনে এক ধরনের ক্ষুব জাগলো,,,)) এখন আমি কি করবো,,, এখন চাকার হাওয়া কিভাবে দিবো,,,? আসে পাশে কোন গেরেজ নাই,, অবশেষে একজন গাড়িওয়ালা রং সাহায্যে তার গাড়ির সাথে বেঁধে,, টেনেটুনে নিয়ে এলাম গেরেজে,, গেরেজ এর মালিক এর পরিচিতো হোয়াই বাঁকাতে চাকায় হাওয়া দিলাম,,, তারপর রাস্তায় চলে আসলাম,, -----এই মামা যাবেন,, আমি--হ যামু,,উঠেন,, ওনাকে ওনার বলা জায়গায় নামিয়ে দিলাম, এভাবে ভাড়া মারতে মারতে ১২ টা বেজে গেল,, তারপর চলে গেলাম সিটি কলেজের সামনে,, কারন এখন ছুটির টাইম,, ১০ মিনিট মতো বসার পর,, ----এই টেক্সি যাবেন,, আরে এতো সকালের মেয়েগুলো,,, আমি--হ্যা যাব,,উঠেন,, তারপর মেয়েগুলো উঠলো,, আমি আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছি,, ---ভাইয়া আমরা আসলে সরি,,(১ জনে একসাথে) আমি---কেন,,? ---আপনি আমাদের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন,,আমরা এতদিন ভুল পথে ছিলাম,,আমরা অনেক সরি,, আমি---its ok,আপনারা বুঝতে পেরেছেন এটাই অনেক,, ---ধন্যবাদ,, আমি--???????????? ---আচ্ছা আপনি কতদুর পর্যন্ত পড়েছেন,, আমি--ছোটলোকদের কপালে পড়ালেখা থাকেনা,, লোকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখি ওরা মাথা নিচু করে ফেলল,, ----আমরা সত্যি দুঃখিত,,(মাথা নিচু করে) আমি--আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র,, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়,, ---মেয়েগুলো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলো,, ----আপনি এতদুর পর্যন্ত পড়ে টেক্সি চালাচ্ছেন কেন,,,? আমি--এটাই আমার কপাল,,, ---আপনার মা বাবা নাই,,? আমি--না এ পৃথিবীতে আমার কেউ নাই,,(বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো,,) ---সরি আপনাকে এসব জিগ্গেস করা ঠিক হয়নি,, আপনি প্লিজ কাঁদবেন না,, আমি--হুম,,(চোখের পানি মুছে) ---আমি লামিয়া,, অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী,, ---আমি নিলা,, ---আমি সাইরা,, আমি--আমি ইমরান,, এই থামেন,, আমি সাথে সাথে গাড়ি থামালাম,, ---চলে এসেছি,, এখানে আমাদের বাসা,, -----এই নিন আপনার ভাড়া,, আমি--থাক রেখে দিন,, ---আরে রাখেন তো,, । তারপর আমি টাকা নিলাম,, লামিয়া কিছুদুর গিয়ে আবার ফিরে এল,, আমি--কিছু বলবেন,,? লামিয়া--আমরা কাল থেকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো,, আপনি আমাদের নিয়ে যাবেন এবং নিয়ে আসবেন,, আমি--আচ্ছা,, তারপর মেসে চলে এলাম,, এসে গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে আবার বেড়িয়ে পড়লাম,, এভাবে রাত হয়ে গেল,, তাই মেসে চলে এলাম,, খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়লাম,, আজ মা বাবার কথা খুব মনে পড়ছে,,জানিনা তারা কেমন আছে,,,হয়তো খুব ভালো আছে,, আজ আমার মা বাবা থেকেও নাই কেন,,,? আমাকে সবাই ছোটলোক বলে অপমান করছে,, আমি কি এমন অপরাধ করেছিলাম,, এগুলো ভাবতেই চোখ জুড়া ভিজে উঠে,, তারপর ব্যাগের ভেতর থেকে মা- বাবা ও বোনের ছবিটা বের করে দেখতে লাগলাম,, ছবির সাথে কথা বলতে লাগলাম,, ও বাবা তোমরা কি তোমাদের এই অসভ্য ছেলের কথা শুনতে পাচ্ছ,, তোমাদের ছেড়ে থাকতে যে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,, ও মা কতদিন তোমার হাতে খাই না,, তোমার আদর পাইনা,, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ,, আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে,, এখানে সবাই আমাকে ছোটলোক বলে,,, এভাবে ছবির সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নাই,, পরদিন সকালে ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে গেলাম,, তারপর,,,,, চলবে,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
→ মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now