বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
Writer- Md. Omar
Part-02
আপনাদের তো জানা উচিৎ আজ আমি কেন টেক্সিচালক,,
তাহলে শুনুন,,
((আমি ছিলাম একজন মন্ত্রীর ছেলে,,, দিনাজপুরে সবাই এক নামে চেনে,,
বাবা মার ভালোবাসায় আমার দিন গুলো সুখে কাটতে লাগলো,,
মন্ত্রীর ছেলে বলে আমি কখনো অহংকার করতাম না,,একদম সাদাসিধে চলতাম,,,
তবে বাবার কারণে আমাকে সবাই সম্মান করতো,,,
সারাদিন বোনের সাথে দুষ্টামি আর পরালেখা নিয়েই আমার দিন যাই,,
কয়েকদিন পর আমাদের বাড়িতে আমার ফুফাতো বোন আসলো,,
সাথে সাথে আমার জীবনের সব সুখ শান্তি চলে গেল,,
আমাকে যেখানে পাই সেখানে জগরা লাগাই দেই,,,
আস্তে আস্তে আব্বু আম্মু কে নিজের দলে করে নিলো,,
আমার সাথে ২৪ ঘন্টায় ২৪ বার জগরা করবেই করবে,,
ও আমাকে সহ্য করতে পারেনা আর আমি ওকে সহ্য করতে পারিনা,,,
এমন জগরাটে মেয়েকে কেবা সহ্য করবে বলুন,,
আব্বুকে সবসময় আমার নামে নানারকম মিথ্যা বলে বকা শুনাতো,,
আমি হাজার বললেও আব্বু আম্মু আমার কথা বিশ্বাস করতো না,
তাই চুপ করে বিনাদূষে বকা শুনতে হতো,,
দিন ওর জালাতন বেড়ে চলেছে,,,
কিন্তু আমি অসহায় এর মতো সহ্য করতাম,,
কেউ আমার কথা বিশ্বাস করতো না,,
প্রতিদিন আব্বুর বকা খাওয়াতে না পারলে ওর পেটের ভাত হজম হয় না,,
একদিন আমাকে যা নয় তা বলে অপমান করতে লাগলো,,
আমিও রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে দিলাম একটা কষে থাপ্পর,,,
আর কতদিন সহ্য হয় আপনারাই বলুন,,
----তুই আমাকে মারলি,,?
আমি--হুম মারলাম,,
--দারা তুর ব্যবস্থা করছি,,
তারপর ও কোথা থেকে একটা লাঠি আনলো,,
আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম,, আমাকে লাঠি দিয়ে মারবে নাতো,,
কিন্তু না ও লাঠি দিয়ে নিজের গায়ে আঘাত করতে লাগলো,,,
আমি তো ওর কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেলাম,,
অনেক জুরে জুরে আঘাত করতে লাগলো,,,
কিছুক্ষণ পর লাঠি টা আমার পায়ের কাছে পেলে দিয়ে চিৎকার শুরু করে দিলো,,
বাঁচাও বাঁচাও,,,যোমরা কে কোথায় আছো,,ও আমাকে মেরে ফেললো,,
ও কান্ড দেখে তো আমি হাঁ হয়ে গেলাম,,
আমাকে পাশানোর জন্য কি না করলো,,
ওর চিৎকার শুনে সবাই চলে এল,,
সাথে সাথে ও আম্মু কে জড়িয়ে ধরে ন্যাকা কান্না জুড়ে দিলো,,,
---মামা তোমার ছেলে আমাকে কিভাবে মারতে দেখ,,? কান্না করে,,
আব্বু--এ সব কোন ধরনের অসব্যতামি,,????????????
আমি--আব্বু বিশ্বাস করো,, আমি---
তারপর আব্বু বেত টা হাতে নিয়ে আমাকে উরাধুরা মাইর শুরু করে দিলো,,
সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেছে,,
আমি মাইর সহ্য করতে না পেরে কান্না করে দিলাম,,
আমি--আব্বু আমি কিছু করিনাই,,ও আমাকে ফাশাচ্ছে,,, কান্না করে,,
আব্বুর সেদিকে কোন খেয়াল নেই,,,
আমাকে এভাবে মারতে দেখে আম্মু কেঁদে দিলো,, সাথে বোন ও,,
অনেক্ষণ মারার পর আম্মু এসে থামালো,,,
আম্মু--থামো,,কি করছো কি,,ছেলেটা কে মেরে ফেলবে নাকি,,,
আব্বু --ওর মতো অসভ্য কে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে,,
তারপর আব্বু লাটি টা ছুড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেলো,,
এদিকে আমি ব্যাথায় কাতরাচ্ছি,,
আম্মু--বাবা তুর খুব লাগছে তাই না,, কান্না করে
আমি--আমার মতো অসভ্যের জন্য আর দরদ দেখাতে হবে না,,যাও তোমরা,,
ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটেছে,,
যাক ওর আশা পূরণ হয়েছে,,
আম্মু--আই কাঠে গিয়ে বসলাম,, আমি তুর জন্য তেল গরম করে আনছি,,
তারপর আমি কোনরকম হেঁটে খাটে গিয়ে বসলাম,,
অনেক জায়গায় রকম হয়ে গেছে,,
তারপর আম্মু চলে গেলো,, আম্মুর পিছে পিছে বোন আর ডাইনি টাও চলে যেতে ধরলো,,
দরজার কাছে গিয়ে থেমে আমাকে হাত দিয়ে ইশারা করে কি যেন বুঝালো,, তারপর ছোট্ট হাসি দিয়ে চলে গেলো,,
আমার তো চোখের পানি থামছে না,,কি এমন অপরাধ করেছিলাম যে তার জন্য আমাকে এভাবে বাবা মার ছোট বানিয়ে দিলি,,, এতদিন মিথ্যা বলে ডাকা খাওয়াতিস,,আর আজ এভাবে---
ওরা নাকি আমার বাবা মা যারা কিনা নিজের ছেলেকে বিশ্বাস না করে অন্য মেয়ের কথা বিশ্বাস করে,,
এগুলো ভাবছিলাম তখন আম্মু আসলো,,
এসে আমার গায়ে তেল মালিশ করে দিলো,,,
তারপর আমাকে শুইয়ে দিয়ে চলে গেলো,,
বিছানায় শুতেই ব্যাথায় কুকরিয়ে উঠলাম,,
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ রাতেই এখান থেকে চলে যাবো,,
দুপুরে মা খাবার নিয়ে আসলে,,
প্রথমে ভাবলাম খাবো না,,
আবার পরে ভাবলাম আজকের পর থেকে তো আম্মুর হাতে আর খেতে পারবোনা,,
তাই খেয়ে নিলাম,,আম্মু আমাকে খাইয়ে দিয়ে চলে গেলো,,
আমি শুয়ে কখন রাত হবে তার অপেক্ষা করতে লাগলাম,,
কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টের ইচ্ছে পেলাম না,,
ঘুম ভাংলো বোনের ডাকে,,
বোন-----এই ভাইয়া উঠো খাবি না,,
আমি উঠে বসলাম,,
কিছুক্ষণ পর মা খাবার নিয়ে আসলো,,
আমাকে খাইয়ে দিয়ে যাবার চলে গেলো,,
বোন আমার পাশে বসে আছে,,
বোন--ভাইয়া তুর খুব লেগেছে তাই নারে,,
আমি--আমার মতো অসভ্যের এইটাই প্রাপ্য,
বোন--আমি জানি তুই এরকম করতে পারিস না,,
আমি ওকে জরিয়ে ধরে হাওমাও করে কেঁদে দিলাম,,
বোন ও কেঁদে দিলো,,
আজকের পর থেকে এই বোনটার সাথে আর দুষ্টামি করতে পারবো না,,
সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে,,
বোন--আচ্ছা ভাইয়া আমি যাই,,তুই ঘুমা,,
আমি--আচ্ছা,,(যেতে দিতে মন চাচ্ছেনা,,)
তারপর ও চলে গেল,,,
এখন রাত ১২ টা,,,
মনে হয় সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে,,
তাই আমি তাড়াতাড়ি উঠে ব্যাগে কাপড় চোপড় গুছিয়ে নিলাম,,,
ব্যাগের ভিতর মা বাবা বোনের একটা ছবি নিলাম,,
তারপর আমার কাছে যা টাকা ছিলো তা নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম,,
মোবাইল টা নিলাম না,, আমি চাইনা কেউ আমাকে খুঁজে পাক,,
তারপর চুপি চুপি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম,,
পিছনে ফিরে বাড়িটার দিকে একবার ভালো করে তাকালাম,,
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বাড়িতে,,
আর আজ এই বাড়িটা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে,,,
তুর কারনে আমার বাড়ি থেকে চলে যেতে হচ্ছে চুকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না,,
রাতের শহর একদম থমথমে,,
কোন রকম কুড়িয়ে কুড়িয়ে হেঁটে স্টেসনে চলে এলাম,,
স্টেসনে এসে দেখি স্টেশন ফাঁকা,,
তারপর একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম,, সকাল হোওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলাম,
বেঞ্চেই ঘুমিয়ে পড়লাম,,
সকালে মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙ্গে গেল,,
তারপর সকালে ৭টার টিকিট কেটে,, ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলাম,,
ঢাকার শুরু হলো আমার কষ্টের জীবন,,যা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি,,
আপনাদের আমার পুরানো কাহিনী শুনাতে শুনাতে ক্লান্ত হয়ে গেছি,,
এখন আমি ঘুমাই,,
পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন,,
চলবে,,
কেমন হয়েছে জানাতে ভুলবেন না,,
আপনাদের মতামতের আশায় অধির আগ্ৰহে বসে আছি,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now