বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মন্ত্রীর ছেলে যখন টেক্সিচালক
Writer- Omar
Part--06
ফেবুতে ঢুকছি যে অনেকদিন হয়ছে,,,
তাই আমার আইডি লগ ইন করলাম,,
এমা আইডিতে তো মেসেজ আর নোটিফিকেশন এর ছড়াছড়ি,
মেসেজ এ গিয়ে দেখি অনেক গুলো মেসেজ জমা হয়েছে,,
মেসেজ গুলো বেশিরভাগ এরকম,,ভাইয়া আপনার গল্প আর পাইনা কেন,,গল্প কখন দিবেন,,
((আমি যখন বাড়িতে ছিলাম তখন গল্প লিখতাম,, মোবাইল না থাকার কারণে অনেকদিন ধরে লিখা হয়না,,))
একটা পোস্ট দিলাম--আসসালামু আলাইকুম,,কেমন আছেন সবাই,,
অনেকেই কমেন্ট করে,, আবার অনেকেই মেসেজ দিয়ে জিগ্গেস করতেছে, এতদিন কোথায় ছিলাম,,
এভাবে ফেবুতে ঘুরাঘুরি করতে করতে কখন যে রাত ১২ টা বেজে গেল টেরি পেলাম না,,
তাই মোবাইল রেখে ঘুমিয়ে গেলাম,,
পরদিন লামিয়া দের কলেজ থেকে নিয়ে আসতেছি,,
এমন সময় মেইন রাস্তায় অনেক পুলিশ দেখতে পেলাম,,
কিছু পুলিশ গাড়ির সামনে এসে,,
পুলিশ-----এই গাড়ি সাইট কর তাড়াতাড়ি,,(গাড়িতে জুরে বারি দিয়ে,,))
আমি--স্যার গাড়ি সাইট করব কেন,, আমার কাছে সব কিছু ঠিক টাক আছে,,
পুলিশ--এদিক দিয়ে এখন মন্ত্রী আসবে তাই রাস্তা ক্লিয়ার কর,,ওনি যাওয়ার পর রাস্তায় উঠবি,, তাড়াতাড়ি সাইট কর,,
কি আর করার বাদ্দ হয়ে সাইট করতে হল,,
লামিয়া--মন্ত্রী আসছে বলে সব গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিবে,,এটা কেমন কথা,,
সাইরা--দেশটা মনে হয় শুধুমাত্র তাদের,
আধ ঘন্টা ধরে বসে আছি,,
এইদিকে তিন পেত্নী পুলিশ গুলোকে যা নয় তা বলে গালি দিচ্ছে,
অবশেষে গাড়ির লম্বা লাইন আসতে দেখলাম,,
গাড়ি একটার পর একটা পিঁপড়ার মত এগিয়ে যাচ্ছে,,
মাঝ বরাবর একটা গাড়ির দিকে চোখ পড়লো,,
গাড়িটা কেমন মানি খুব চেনা চেনা লাগছে,,
তাই ভালো করে গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম,,
দেখেতো আমি আকাশ থেকে পড়লাম,,
এত আমার বাবা,,,
প্রিয় মুখটা চিনতে ভুল হল না,,
সাথে সাথে চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো,,,
ও বাবা তোমার ছেলেকে তুমি দেখতে পাচ্ছো না,,
তোমার ছেলে রাস্তার ধারে টেক্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
কতদিন পর সেই চেনা মুখ টা দেখলাম,,
বাবা তুমি কি এখনো আমার উপর রেগে আছো,,
বাবা আমি কোন দোষ করিনাই,,,
এগুলো ভাবতে ভাবতে রাস্তা কখন যে ফাঁকা হয়ে গেল,,টেরি পেলাম না,,
লামিয়া--একি ভাইয়া তুমি কাঁদছো কেন,?
আমি--ককক ই নাতো,,(চোখের পানি মুছে)
লামিয়া--আমরা দেখতে পেলাম তুমি কাঁদছো,,
আমি--আরে চোখে কি জানি পড়ছে,,(মুখে কৃত্রিম হাসি এনে,,)
সাইরা--আচ্ছা চল যাওয়া যাক,,
তারপর ওদের নামিয়ে দিয়ে আমি সুজা মেইন রাস্তায় চলে আসলাম,
উদ্দেশ্য বাবাকে আরেক পলক দেখা,,
গাড়িতে দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি,,
-----এই যে ভাই যাবেন,,(একটা ছেলে,,)
আমি--না ভাই যাবো না,,
তারপর ওনি অন্য গাড়িতে চলে গেল,,
বসতে বসতে ৪ টা বেঝে গেল,, কিন্তু বাবার কোন খবর নাই,,
বাবা কি আজ আর আসবেনা,,
নাহলে আমি দরকার হলে সারারাত অপেক্ষা করবো,,
এখনো পর্যন্ত পেটে কিছু পড়েনি,,
এদিকে ক্ষিদেয় অবস্থা খারাপ,,
যাই কিছু খেয়ে নি,,
তারপর হালকা কিছু খাওয়ার জন্য একটা দোকানে আসলাম,,
আমি---ভাই রুটি আর চা দিন,
তারপর দোকানদার চা আর রুটি দিয়ে গেল,,
যখনি রুটি মুখে দিতে যাবো তখনি আবার কয়েকটা পুলিশ এর গাড়ি এসে রাস্তার সব গাড়ি সাইট করতে লাগলো,,
মনে হয় বাবা এখন আসবে,,
তাই আর না খেয়ে রাস্তায় চলে আসলাম,,
অবশেষে আবার গাড়ির লম্বা লাইন আসলো,,
এগুলোর মধ্যে আমার চোখ জুড়া বাবার গাড়িকে খুঁজতেছে,,
ঠিক মাঝ বরাবর বাবার গাড়ি দেখতে পেলাম,,
বাবাকে চাৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে বাবা আমি এখানে,,ও বাবা তোমার ছেলেকে সাথে করে নিয়ে যাও,, এখানে যে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,,সবাই ছোটলোক ফকির যা নয় তা বলে অপমান করে,
কিন্তু বাবার প্রতি একটা চাপা অভিমান কাজ করছে,,
যে কিনা নিজের ছেলেকে বিশ্বাস না করে অন্য মেয়েকে বিশ্বাস করছে,,
চোখ মুছতে মুছতে ওখান থেকে চলে গেলাম,,,
তারপর সুজা বাসায় এসে গেলাম,,,
সারাদিন রুমের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম,,
রাতে আংকেল খাওয়ার জন্য ডাকলে উঠে খেতে চলে গেলাম,
আমি না খেয়ে শুধু নাড়ছি,,
এটা আংকেলের চোখ এড়ালো না,,
আংকেল--কি হল তুমি খাচ্ছো না কেন,,,
আমি--না খাচ্ছি তো,,
কয়েক লুকমা মুখে দিয়ে উঠে পড়লাম,,
তারপর রুমে চলে আসলাম,,
কিছুক্ষণ পর আংকেল আসলো,,
আংকেল--বাবা তোমার কি কোনো কারণে মন খারাপ,,,মনে হয় কি নিয়ে টেনশন এ আছ,,
আমি--আসলে অনেকদিন পর আব্বু কে দেখলাম তো তাই,,
আমার কথা শুনে আংকেল হা করে তাকিয়ে আছে,,
আংকেল--তোমার কেউ নেই বলছ না,,
আমি--না আংকেল আপনাকে আমি মিথ্যা বলেছিলাম,,একটা বড় সত্য কথা আপনার জানা দরকার,,
আংকেল---কি বল,,
তারপর আমি আংকেল কে আমার আসল পরিচয়,,যে কারণে ঢাকায় আসা,,আর আজ যা ঘটলো তা খুলে বললাম,,
আমার কথা শুনে আংকেল আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো,,,
আমিও কান্না করে দিলাম,,
আংকেল--কিহহহ,, তুমি মন্ত্রীর ছেলে,,? তুমি মন্ত্রীর ছেলে হয়ে টেক্সি চালাচ্ছো,,এত মানুষের অপমান অবহেলা সহ্য করে যাচ্ছো,, আমার তো ভাবতেই অবাক লাগছে একটা মানুষ কতোটা কষ্ট সহ্য করতে পারে,,
আমি--এটাই হয়তো আমার কপাল,,, আমার ভাগ্য এটাই ছিল,,
আংকেল--আজ থেকে তুই আমার ছেলে,,কি আমাকে বাবা ডাকবি না,
আমি--বাবা,,,
আংকেল সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো,,
আংকেল---আজ থেকে আমি তুর বাবা,, এবার কান্না বন্ধ কর,,,
তারপর আংকেল আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলো,,,
দেখতে দেখতে একবছর চলে গেল,,,
আংকেল আমাকে অনেক বলেছিল,,তার যা অর্থ জমা আছে ওগুলো দিয়ে কিছু একটা করতে,, কিন্তু আমার টেক্সি চালাতেই ভালো লাগে,,
এতদিনে লামিয়া সাইরা নিলা,,ওরা সবাই আমার আসল পরিচয় জেনে গেছে,,,
আমি ওদের এখানো আনা নেওয়া করি,,ওরা যেখানে যাই সেখানে আমাকে নিয়ে যাই,,,
মেয়েগুলো আমাকে নিজের বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করে,,
কিন্তু একদিন আমার সাথে এমন কিছু ঘটল যে,,যা আমাকে সম্পূর্ণ রূপে পরিবর্তন করে দিলো,,,
Waiting for next,,,,,
কেমন হয়েছে জানাবেন,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now