বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টেক্সিচালক যখন গ্যাংস্টার
Writer--Md. Omar
Part--16
বিকেলে রেডি হয়ে নিচে ড্রইং রুমে বসে আছি,,
কিন্তু একটার ও আসার কোন নাম নাই,,
মেয়েরা সাজতে বসলে হয়,,আর উঠার নাম নেই,,
এত আটা ময়দা কেমনে মাখে,,
৩০ মিনিট পর তিন পেত্নী আসলো,,
কিন্তু আমার বউ টারে দেখতে পাচ্ছি না কেন,,
আমি--তুদের ময়দা মাখা হয়েছে,,? ময়দা মেখে তো ময়দার গোডাউন হয়ে গেছিস,,
বোন-----এই ছেঁমড়া,, এগুলো কে ময়দা বলে না,,চুলের জন্যই তো দেশ উন্নতি হচ্ছে,, মেকাপকে ময়দা বলিস,,????????????
সবাই হু হু করে হেসে দিলো,
আমি--লিমা কোথায় সাজতে এতক্ষণ লাগে,,
-----এই তো আমার হয়ে গেছে,,(উপর থেকে নামতে নামতে)
সিঁড়ির দিকে তাকাতেই আমি হাঁ হয়ে গেলাম,,
((কালো শাড়ি,, কপালে ছোট্ট টিপ,, সবকিছু মেচিং করা,,উপপ যা লাগছে না,,
এক পলকে তাকিয়ে আছি,,হা করে,,
হঠাৎ কারো ধাক্কায় আমার ধ্যান ভাঙল,
লামিয়া--ভাইয়া এভাবে তাকিয় না,,ভাবি লজ্জা পাচ্ছে,,
আমি ও হালকা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম,,
লিমা মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসছে,,
আমি--এবার যাওয়া যাক,,দেরি হয়ে যাচ্ছে,,
তারপর আমরা সবাই গাড়িতে গিয়ে বসলাম,,,
আমি গাড়ি চালাচ্ছি,,লিমা আমার পাশে,, পিছনে তিন পেত্নী,,
বকবক করেই যাচ্ছে,,
আমি--কোথায় যাবি ঘুরতে,,!
রা---কোন একটা পার্কে চল,,
সবাই--হ্যা পার্কে চল,,
তারপর পার্কে চলে আসলাম,,
টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করলাম,,
পার্কে অনেক্ষণ ঘুরাঘুরি করে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম,,
যে যার মতো করে অর্ডার দিলো,,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আরো কিছুক্ষণ ঘুরে রাত ৯ টায় বাসায় চলে আসলাম,,
এসে খুব ক্লান্ত লাগতেছে তাই শুয়ে পড়লাম,,
কিছুক্ষণ পর পাগলিটা ও আমার বুকের উপর শুয়ে পড়ল,,
দুজনে ঘুমিয়ে পড়লাম,,,
মা বাবা বোন সবার সাথে খুব সুখে দিন কাটতে লাগলো,,
আজ মনটা ভিসন খারাপ,,
কারন আজ মা বাবা সবাই চলে যাবে,,
লিমা মাকে জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না,,,
মা--বৌমা কে দেখে রাখিস,,
তারপর সবাইকে বিদায় দিলাম,,
এভাবে আমার দিন কাটতে লাগলো,,,
হঠাৎ একদিন,,
লিমা বলল,,
লিমা-----এই আমি তোমার পিস্তলটা একটু দেখতে পারি,,?
ওর এমন কথাই আমি কিছু টা অবাক হলাম,,
আমি--তুমি না এটা দেখে ভয় পাও,,?
লিমা--এখন আমার হাতে একটু দাও,,দেখি,,
তারপর আমি ওর হাতে দিলাম,,
ও কাঁপা কাঁপা হাতে এটা নিলো,,
লিমা--এরকম হালকা জিনিসকে আমি ভয় পেয়ে আসছিলাম,,,
ওর আজ কি হল কে জানে,,
আমি---এখন দিয়ে দাও,,
লিমা--আরে এরকম করতেছো কেন,,একটূ ভালো করে দেখি,,
(ছোট বাচ্চারা নতুন খেলনা পেলে যেরকম করে সেরকম করছে,,)
লিমা--আচ্ছা আমাকে এটা চালানো শিখাবে,,?
আমি--কি বলছো এসব,, তুমি এটা চালানো শিখে কি করবে,,
লিমা--এমনি লিখবো আর কি,,
আমি--না তোমার শিখতে হবে না,, তুমি ইউটিউব থেকে ভালো রান্নার টিপস দেখে রান্না করা শিখ এতেই হবে,,
লিমা--আমি ও তোমার সাথে কাজ করতে চাই,,
আমি--বাড়ির বউ দের এসব মানাই না,,আর আমি চাইনা আমার মতো এসবে জড়াও,,,
লিমা--আমি মিসেস গ্যাংস্টার হতে চাই,,
((ওর কথাই বারবার অবাক হচ্ছি,,)
আমি--তোমার মাথা ঠিক আছে,,?
লিমা--হ্যা,,
আমি--তুমাকে মিসেস রান্নাঘরের মালিক বানাই দিলাম,, আমার মতো জীবন নিয়ে তোমাকে খেলতে দিবো না,,
লিমা---মরতে হলে একসাথে মরবো,বাচতে হলে একসাথে বাঁচবো,,
আমি--আচ্ছা তুমি হঠাৎ এসব বলার কারণ,,
লিমা--আমি এখানকার মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই,, যতরকম অসভ্য আছে,, যাদের কারণে মেয়েরা ভালোভাবে চলতে পারে না তাদের খতম করতে চাই,,প্লীজ না করো না,
আমি--এতে তোমার জীবনের রিস্ক,,
লিমা--তুমি পাশে থাকলে আমার কিছু হবে না,,
আমি--আমি তোমাকে লক্কি বউ হিসেবে দেখতে চাই,,এসব এ না,,
লিমা--আমি কথা দিচ্ছি,,লক্কি বউ হয়ে থাকবো,,,প্লিজ না করো না,,(করুন সুরে)
আমি--আমার মন সাই দিচ্ছে না,, তোমার কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাচবো,,
লিমা--যতক্ষন তুমি আছো,, ততক্ষণ কেউ আমার কিছু করতে পারবে না,,
আমি--আচ্ছা আগে তোমাকে ফাইট করা শিখতে হবে,,,
লিমা--উম্মাহ,,(বসিয়ে দিলো,,(
আমি--এটা কি হলো,,?
লিমা--বুঝনাই,,আরেকটি দিবো,,?
আমি---তুমি তো দিছো,, এখন আমি দিইই,,
এই বলে,,-----
পরদিন ওকে আস্তানায় নিয়ে গেলাম,,
ওর ট্রেনিং শুরু আজ থেকে,,
প্রথমে ওকে ফাইটিং শিখানো হলো,,
তারপর আস্তে আস্তে অস্ত্র চালানো,,বাইক চালানো থেকে শুরু করে সব শিখানো হলো,,
একদিন বিকেলে গাড়ি নিয়ে আসতেছি,,
হঠাৎ রাস্তার ধারে চোখ পড়লো,,
একটা মেয়ে কয়েকটা ছেলেকে উত্তম মাধ্যম দিচ্ছে,,
সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেছে,,
আমি গাড়ি সাইট করে,
একটু এগিয়ে গেলাম,,
মেয়েটার কাছে গিয়ে আমি তো অবাক,,
আরে এতো লিমা,, ট্রেনিং নিয়েই একশন শুরু করে দিলো,,
আমি--লিমা,,
কোন হুঁশ নাই,, পিটিয়ে যাচ্ছে,,
আমি--লিমা,,(একটু জুরে,,)
সাথে সাথে আমার দিখে তাকালো,,
আমি--কি হয়েছে,, এদের এভাবে কেলাচ্ছো কেন,,?
লিমা--আজ মেরেই ফেলবো,,
ছেলেগুলো আমাকে দেখে আরো ভয়ে কুঁকড়ে গেলো,,
--_-স্যার আমাদের মাফ করে দিন,,
আমি--লিমা হয়েছে এবার থামো,,
ওকে থামালাম,,
আমি--কি হয়েছে বলো,,
লিমা-----এই অসভ্য গুলো এই মেয়েটাকে ডিস্টার্ব করতেছে,,আর খারাপ ভাষায় কথা বলতেছে,,
আপনারা এদের প্রশ্রয় দেন কেন,, আপনাদের কারণেই এরকম অসভ্য গুলো পার পেয়ে যাচ্ছে,, এতগুলো মানুষ এই কয়েকটা অসভ্য কে ভয় পাচ্ছেন,,,আপনারা কেমন মানুষ,,(সবাইকে উদ্দেশ্য করে)
সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,
লিমা--বোন তোমাকে আর কেউ কিছু বললে আমাকে বলবে,,
মেয়েটা---আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেব,,
লিমা--এটা আমার দায়িত্ব,,
লিমা--আর তুদের বলছি,,আর কোন দিন যদি অসভ্যতা মি করতে দেখি,, ঐদিন তুদের শেষ দিন,,
---আমাদের মনে থাকবে,,
আমি হাঁ হয়ে দেখছি,,মিতু টা এত সাহস কোথায় পেল,,
আমি এর মধ্যে সমিক কে ফোন করে বলে দিয়েছি আসার জন্য,,,
---স্যার,,
আমি--এদের নিয়ে গিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দাও,,সুস্থ হলে আমার কাছে নিয়ে এসো,,
সামিক--ওকে স্যার,,
লিমা--এদের হাসপাতালে ভর্তি কেন করতেছো,, এদের রাস্তার মাঝখানে ফেলে দাও,,
(আমার ডাইলগ ও মারতেছে,,)
আমি--শান্ত হ,, এখন চলো,,
ওকে টানতে টানতে গাড়িতে নিয়ে আসলাম তারপর সুজা বাসায়,,
এখনো বিড়বিড় করে ওদের গালি দিয়ে যাচ্ছে,,
আমি--রান্না করো যাও,, আমার খিদে পেয়েছে,,
লিমা--হুম যাচ্ছি,,
তারপর ও রান্না করতে চলে গেল,,
আমি ফ্রেশ হয়ে খাটে শুয়ে পড়লাম,,
কিছুক্ষণ পর ওর ডাক,,
লিমা--কোই গো খেতে আসো,,
ওর ডাকে আমি নিচে গেলাম,,
লিমা--বসো,,
তারপর আমি বসে পড়লাম,,
লিমাও বসলো,,
আমি খাওয়া শুরু করলাম,,
কিন্তু লিমা না খেয়ে বসে আছে,,
আমি--কি হল খাচ্ছো না কেন,,,
লিমা--হাতে খেতে ইচ্ছে করছে না,,
আমি--তাহলে,,
লিমা--তুমি খাইয়ে দিবা,,
আমি--পারবো না,,(রাগানোর জন্য)
লিমা--যাও খাবোই না,,
আমি----আরে কোই যাও,,
হাত ধরে বসিয়ে দিলাম,,
লিমা--তুমি খাও বসে বসে,,
আমি--আসো খাইয়ে দিই,,
লিমা--খাওয়াতে হবে না,,(মুখ ভার করে)
আমি--আমার পাগলি টা দেখি রাগ ও করতে জানে,,আসো খাইয়ে দিই,,
তারপর ওকে খাইয়ে দিতে লাগলাম,,
ও পিচ্ছিদের মতো করে খাচ্ছে,,,দেখলেই হাসি পাই,,
খাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম,,
ও থালা বাসন সব পরিষ্কার করে তারপর রুমে আসলো,,
এসে
এই ঘুমিয়ে গেছ নাকি,,?
আমি--না,,
তারপর সুজা আমার বুকে,,থুক্কু ইশানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল,,
আমি---এই আমার না ইচ্ছে করছে,,
লিমা--কি ইচ্ছে করছে,,?(আগ্ৰহ নিয়ে,,)
আমি--তোমাকে খাট থেকে পেলে দিতে,,
লিমা--কিহহ,,যাও আমি নিজেই চলে যাচ্ছি,,থাক তুই,,
আমি--আরে আরে কোই যাও,, আমার একা একা ভয় করবে তো,,(হাত ধরে)
লিমা--হাত ছাড়,,
আমি একটানে বুকে নিয়ে এলাম,,
আমি-----এই পাগলি তুমারে রাগাতে আমার খুব ভালো লাগে,,, তোমার রাগি লুক সেই,,ইচ্ছে করে,,----
লিমা--কি,,?
আমি---খাট থেকে পেলে দিতে,,????????
সাথে সাথে লিমা আমাকে ঘুরিয়ে খাট থেকে পেলে দিলো,,
ওর এমন কান্ডে আমি ব্যবাচ্যাখা খেয়ে গেছি,,
আমি--ওরে মারে কোমর গেলোরে,,
লিমা--তুমি হয়তো ভুলে গেছো,, আমিও ট্রেনিং প্রাপ্ত,,,(হেসে হেসে,,)
আমি--তুমি হয়তো ভুলে গেছো,, আমি তোমার টিচার,, টিচারের সাথে বেয়াদবি করা ভালো না,,
লিমা--ওরে আমার টিছার রে,,আসো একটা পাপ্পি দিই,,,
এভাবে ওর সাথে দুষ্টামি করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম,,
এভাবে আমার দিন কাটতে লাগলো,,
লিমার আমার সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে লাগলো,,,
একদিকে সংসার সামলিয়ে,, অন্যদিকে আমার সাথে কাজ করে,,
মেয়েটাকে যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি,,,
ওকে এখন সবাই মিসেস ইমরান বলে চিনে,,
আরেকটা ভয়ের নাম,,,
এরমধ্যেই আমি একটা শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলেছি,,
বেকার লোকদের কর্মসংস্থান এর জন্য,,
অনেক বেকার তাদের বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে,,
একদিন---------
চলবে,,----
নেক্সট নেক্সট না করে সবাই গঠন মূলক মন্তব্য করবেন,,
ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন,,
ধন্যবাদ,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now