বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মনোযোগ প্যান্টের পকেটের চিঠির ভিতর

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X মিনু চাকমার পিছে ঘুর ঘুর করে তুম্ববাজ চাকমা। সে স্থানীয় কারবারীও বটে। গ্রামের বিচার-আচার করে। স্থানীয় লোকেরা তাকে সমীহ করে। তুম্ববাজ চাকমার একটাই দূর্বলতা সেটা হলো মিনু চাকমা। তাই স্থানীয় অন্যান্য ছেলেরা মিনু চাকমার কাছে ধারে আসে না। মিনু চাকমা স্বাধীনভাবে চলে। গ্রামের মেয়েদের সাথে তার সখ্যতা আছে। সমবয়সী কয়েকজনের বিয়ে হয়েছে। মিনু চাকমা বিয়ে করবে আরো কয়েক বছর পর। সৈকতকে সে বাজিয়ে দেখতে চায়। যদি সৈকত পাগল হয়ে এই পাহাড়ি এলাকায় এসে মিনু নিয়ে যায় তাহলে চিরদিনের জন্যে পাহাড় ছেড়ে চলে যাবে। মিনু চাকমার ঘরে অন্যরা যখন ঝুম চাষে ব্যস্ত তখন সৈকতে লিখতে বসেছে। প্রিয়তম সৈকত, গতকাল বিকেলেই তোমার চিঠি পেলাম। তোমার চিঠি পেয়ে আমি আবেগে আপ্লুত। সৈকত এই পাহাড়ে আমাকে ছাড়া আর কেউ নেই। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। শুধু আমি তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত। তুমি আমার শয়নে-স্বপনে সারাক্ষণ বিরাজ করো। সৈকত, আমি তোমাকে খুব খুব ভালবাসী। তোমাকে উজার করে দিতে চাই আমার জীবন-যৌবন। সৈকত , তুমি যদি আমাকে হাত বাড়িয়ে দাও তাহলে আমি আমার স্বর্গ পাবো। সৈকত , আমি যতবার তোমাকে নিয়ে ভাবী তুমি কি ততবার আমাকে নিয়ে ভাবো? সৈকত, আমি আশায় আছি তুমি আমাকে নিয়ে যাবে। নতুন করে ঘর বানাবে। আমরা থাকবা টিলা পাহারের ঐ পাদদেশে। আমাদের সুন্দর পৃথিবী। আমার আদর মাখা চুমো নিও। তোমার কল্যান কামনায় তোমারই প্রিয়তমা মিনু চাকমা। মিনু চাকমা চিঠি পোস্ট করার ১৫/২০ পর কলেজের ঠিকানায় চিঠি পায় শুভ। শুভ প্রতীক্ষায় থাকে ১৫/২০ পর মিনু চাকমার চিঠি পাবে। সাকিলের প্রায় চিঠি আসে কিন্ত কার চিঠি কাউকে বলে না। জিয়া প্রায় বলে, হালায় চুপি চুপি প্রেম করে। শুভর সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হলো পর্দাথ বিজ্ঞান। কিছু তথ্য তার সাথে প্রমাণ এবংগানিতিক সমস্যার সমাধান। শুভ পদার্থ বিজ্ঞান কম পারে। আর সেইজন্যে হয়তো এটাকে অপছন্দ করে। শুভ খুবই ভাল পারে জীববিজ্ঞান। জীব বিজ্ঞান খুব ভাল ভাবে পড়ান ম্যাম। ক্লাসে ছবি এঁকে এঁকে ম্যাডাম বুঝান তাই সহজে পড়া বুঝা যায়। বাংলা এবং ইংরেজি বিষয় বিরতির আগে হয়। বাংলা এবং ইংরেজি ঘন্টায় অনেক ছাত্র।ছাত্রী থাকে। বিরতির পর গ্রুপ ঘন্টা হয়। গ্রুপ ঘন্টাগুলো শিক্ষার্থী কম কিন্তু পড়া বেশি। পড়া না পারলে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই বয়সে ক্লাসে দাঁড়িয়ে থাকতে খুবই লজ্জা লাগে। শুভ রসায়ন ঘন্টা শেষ করার পর পরই সাকিল জানাল অফিসে যেতে হবে কারণ চিঠি আসত পারে। সাকিলের সাথে শুভও অফিসে গেল। জাকির স্যার বলল, “শুভ তোমার রাঙামাটিতে কে থাকে? প্রায়ই তোমার নামে চিঠি আসে”। শুভ কিছু বলে না। শুধু লজ্জায় একটু মুখটা মলিন হয়ে গেছে। জাকির স্যার বলল, “লজ্জা পাও আর না পাও পরীক্ষার রেজাল্ট কিন্তু ভাল করতে হবে। প্রিন্সিপাল স্যারের খুবই ইচ্ছে ছাত্ররা স্ট্যান্ড করবে। তোমরা ভাল রেজাল্ট করবে”। শুভ কোন কথা বলে না। পাশে দাঁড়িয়ে রইল। জাকির স্যার থেকে দুটি চিঠি নিল সাকিল। একটি সাকিলের চিঠি অপরটি শুভর চিঠি। ঐ রাঙামাটির চিঠি। সাকিল ও শুভ চুপি চুপি চিঠি নিয়ে অফিস থেকে বের হলো। এই কলেজের প্রধান চাওয়া ফলাফল ভাল করা। সব শিক্ষক, অফিস স্টাফ এবং গর্ভনিং বডির সদস্যগণও শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভাল চায়। ছাত্র/ছাত্রী ভাল ভাবে লিখা পড়া করে। চিঠি নিয়েই জীব বিজ্ঞান ক্লাসে ডুকে গেলো। তাই চিঠি পড়ার সুযোগ পায়নি। ম্যাম. খুব ভাল ভাবেই পড়া বুঝাচ্ছেন কিন্তু শুভর মনোযোগ নেই ক্লাশের পড়ায়। মন বার বার প্যান্টের পকেটে যায় চিঠি পড়ার জন্য। ক্লাসে চিঠি খুলে পড়তেও পারছে না আবার বলতেও পারছে না। মনটা একটু আন-মনা হয়ে গেল। জীববিজ্ঞান ম্যাম. শুভকে জিজ্ঞাসা করলো, “শুভ তোমার কোন সমস্য? ক্লাসে মনোযোগ আছে তো?” ম্যাম. বুঝতে পারছে শুভর অমনোযোগিতা। শুভ একটু আনমনাভাবেই উত্তর দিল-না ম্যাম. কোন সমস্যা নেই। কোন মতে জীববিজ্ঞান ঘন্টা পার করলো। এরপরই শুরু হলো রসায়ন বিজ্ঞান। রসায়ান বিজ্ঞান স্যারও ভাল বুঝায়। কিন্তু শুভর মনোযোগ নেই। তার মনোযোগ চিঠির ভিতর।কোন সময় চিঠি পড়বে? রসায়ন বিজ্ঞান ক্লাসের পর শুরু হলো প্র্যাকটিকাল ক্লাশ। বিকেল পাচটার দিকে ছুটির ঘন্টা দিলে শুভ প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখলো চিঠিখানা ঠিকমত আছে কি না? চিঠি পকেটেই আছে কিন্তু পড়ার পরিবেশ নাই। প্রেমপত্র তো তাই যথাতথা পড়া যায় না। শুভ বাসায় গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে পড়ার টেবিলে বসে মিনু চাকমার চিঠি খান মনোযোগসহকারে পড়ল। চিঠির উত্তর আগামীকাল লিখবে তাই বাংলা বইয়ের ভিতর যত্ন করে রেখে দিল। আজ অনেক পড়া তাই পড়তে হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মনোযোগ প্যান্টের পকেটের চিঠির ভিতর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now