বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মনের বিরুদ্ধে

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)

X দেখ বাবা আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না। তোমার পছন্দের ছেলেটা ভালো না। (বর্ষা) - দেখ বর্ষা ছেলেটার বিশাল বড় ব্যাবসা আছে,বাবার ও অনেক টাকা পয়সা আছে! তুই ওখানে অনেক সুখে থাকবি। (বাবা) -বাবা আমার ইচ্ছে নেই, ওই ছেলেকে বিয়ে করার। তুমি যদি আমাকে এখন জোর করে বিয়ে করতে বলো,তাহলে অন্য ছেলেকে আমি বিয়ে করবো। তবু ওই ছেলেটিকে নয়। -তোর কোন কথাই আমি শুনবো না,আমি যেটা করছি সেটা তোর ভালর জন্যই করছি। ওই ছেলেটাকেই তোর বিয়ে করতে হবে। -বাবা তুমি বিষয়টা একবার ভেবে দেখো। -কিছুই ভাবার নাই,ওই ছেলের সাথে তোর বিয়ে হবে, এটা ফাইনাল। আর সামনে শুক্রবারেই বিয়ে। . বর্ষা এবার অর্নাস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। পড়াশোনাতে বেশ ভালই। কিন্তু হুট করে তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। . ছেলেটির অনেক টাকা পয়সা অাছে। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। এমন ছেলেকে কইজনে বিয়ে করতে পারে। . সেইজন্য বাবা বিয়েটা ঠিক করে ফেললেন। এমন ছেলেকে তিনি হাত ছাড়া করবেন না। তবে কয়েকজনের মুখ থেকে শুনেছিলাম ছেলেটির ব্যাবহার ওতোটা ভালো না। কিন্তু বাবা সেটা বুঝতেই চাইছেন না। . ছেলেটির সাথে ফোনে কথা হয়েছিলো, কথা বলে মনে হচ্ছিলো ছেলেটি ভালই, ফোনে কথা বলে কি কাউকে চেনা সম্ভব না। শুধু বার বার মনে হচ্ছিলো ছেলেটি খারাপ। . আজকে আমার বিয়ের দিন। মনের বিরুদ্ধে বিয়েটা হয়ে গেলো আমার। তবে ছেলেকে দেখে আমারো ভালো লেগেছে। ছেলেকে দেখার পরে মনে হয় না এই ছেলেটি খারাপ ছেলে। . বাসর ঘরে বসে আছি। মনে শুধু একটাই ভয় তিনি জেনো খারাপ না হন। হটাৎ করে দরজা লাগানোর শব্দ পেলাম। তাকিয়ে দেখি তিনি এসেছেন। বিছানা থেকে নেমে সালাম করলাম। সালাম দেওয়ার পর বুঝতে পারলাম আমি কত বড় ভুল করেছি। সেদিন থেকে আমার জীবনে নেমে এসেছিলো কষ্ট আর কষ্ট। . সেদিন রাতে আমার স্বামী নেশা করেছিলো। আমি যা শুনেছিলাম সেটাই সত্ত্যি। নেশা করে তিনি বাসর ঘরে এসেছিলো। সেদিন থেকে তিনি আমার উপর শারিরীক নির্যাতন শুরু করেন। . তবে আমার শ্বশুর তিনি ভালো ছিলেন। তিনি সবসময় আমকে সার্পোট করতেন। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বাশুরি আম্মা ভালো ছিলেন না। . -কি ব্যাপার আপনি আজকেও নেশা করে এসেছেন। -সেটা কি তোকে বলতে হবে। -এভাবে নেশা করলে আপনি তো অসুস্থ হয়ে পড়বেন। -তো তোর সমস্যা কোথাই। -আপনি আর নেশা করবেন না। -তুই মানা করার কে। -কারন আমি আপনার স্ত্রী। আর কোন স্ত্রীই জেনেশুনে তার নিজের স্বামীর ক্ষতি চাই না। -বেশি কথা বলিশ নাতো। যা এখন চোখের সামনে থেকে দুরে যা। সেদিন আমি তাকে বাধা দিয়েছিলাম নেশা করার জন্য। কিন্তু বাধা দেওয়াতে অনেক মারধর করে আমাকে। শুশুর বাড়িতে ছিলেন না, কিন্তু শ্বাশুরি ছিলেন। তিনিও ক তার ছেলেকে কিছুই বলেন নি। . বিভিন্ন ভাবে আমার উপর অত্যাচার চালাতো। স্বামীর বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই তিনি আমাকে মারতেন। কেউ বাধা দিতো না। শুধু বাবা বাড়িতে থাকলে ছেলেকে বকতেন। . শ্বাশুরি আম্মা ছেলেকে সবসময় বিভিন্ন ভাবে লাগাতো। তার মায়ের কথাতে আমার গায়ে হাত তুলতো আমার স্বামী। . বিয়ের দেড়বছরের মাঝে একবারো আমার বাবার বাড়িতে যেতে দেয় নি আমার স্বামী। এতদিন আমি মুখবুঝে শহ্য করে যাচ্ছি। . মেয়েদের শেষ ঠিকানা স্বামীর বাড়ি। এই ঠিকানা ছেড়ে গেলে নতুন কোন ঠিকানা আর নাই। সেইজন্য হাজার কষ্ট পেলেও ওখানে রয়ে গেলাম। . দুই বছরের মাথাই আমাদের একটা ছেলে সত্নান হলো। আমার শ্বশুর ও শ্বাশুরি অনেক খুশি হয়েছেন। . আমার বাবার বাড়ি থেকে বাবা আমার ছেলেকে দেখে গেছেন। যখন বাবা এখানে বেড়াতে এসেছিলেন তখন সবাই আমার সাথে ভালো ব্যাবহার করতো । আমার বাবাকে বুঝতেই দিতো না আমাকে কষ্টে আছি । বাবা চলে যাবার পরে শুরু হতো আগের মতন। . ঠিক এভাবেই চলে যাচ্ছে আমার জীবন। মনের বিরুদ্ধে বিয়ে করে আজকে আমি সুখি হতে পারিনি। তবুও ছেলেটার মুখের দিকে তাঁকিয়ে বেঁচে আছি।। ছেলেটাকে তো খারাপ হতে দেওয়া যাবে না। মাঝে মাঝে ভাবি আমার স্বামী একদিন ঠিকি তার ভুল বুঝতে পারবে । আর সেদিন সে তার ভালোবাসাতে আমাকে আবদ্ধ করবে। এইটা ভেবে চলে যাচ্ছে আমার প্রতিটি দিন। . টাকা পয়সা থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হতে একটা সুন্দর মনের প্রয়োজন। আর বিয়েটা হচ্ছে সারাজীবনের জন্য। কখনই মনের বিরুদ্ধে যাবেন না কেউ। হুট করে বিয়ে করা ঠিক না। বিয়েটা যেহুতু সারাজীবনের জন্য, সেহুতু দেখেশুনে বিয়ে করুন। তাহলেই সুখি হতে পারবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মনের বিরুদ্ধে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now