বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাটতে হাটতে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম। রিক্সাওয়ালাকে বললাম আসতে। কিন্তু কেউ আসতে রাজি না। কি কারনে এদিকে কেউ আসেনা কে জানে! তবে একজন ভয় দেখিয়ে বলল
-রাতে ওদিকে ছিনতাই হয় বেশি।
আমি ভয় পেলাম না। কেন যেন ভয় আমার মাঝে কাজ করল না। প্রেমে পরলে বুঝি এমন হয়। কোন এক মনিষী বলেছিল, প্রেমে পড়লে ভয় ভিতি থাকেনা। প্রেমই বড় মনেহয়।
.
মোবাইল বের করে দেখলাম রাত বারোটা দশ মিনিট বাজে। এত রাতে দিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে! ভাবতে ভাবতে ফোন বের করে ফোন দিলাম। দিয়া ফোন ধরে ঘুমজড়ানো কন্ঠে বলল
-হ্যালো।
যা ভেবেছিলাম তাই হয়েছে। সে ঘুমিয়ে পরেছে। তবুও বললাম
-ঘুমিয়ে পড়েছিলে!
-হ্যা। আপনি এইসময় ফোন দিলেন! কোন জরুরি কিছু!
জরুরি কিছু বলতেই মনটা নেচে উঠল। ভাবলাম আবার বলে দেই, ভালবাস আমায়। কিছুক্ষণ ভেবে থেমে গেলাম।
.
-কি হল কি বলছেন না যে!
দিয়া বিরক্তভরা হলা শুনে বললাম
-না তেমন কিছু না। তোমার সাথে দেখা করা জরুরি ছিল।
-এর রাতে!
-হ্যা।
-আমি যেতে পারব না।
-তোমার বাসার সামনে এস।
-মানে!
-আমি তোমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
.
দিয়া ফোন কেটে দিল। এখন সে আসবেই। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। দিয়া দ্বিতীয় তালায় থাকে। বারান্দায় আসলেই আমাকে দেখতে পারবে। কিছুক্ষণ পরে একটা চাদর গায়ে দিয়ে বারান্দায় এসে আমাকে দেখে আবার চলে গেল। চলে যাওয়ার কারন জানিনা। আবার ফোন দিব নাকি ভাবছি। ফোন না দিয়েই দাঁড়িয়ে থাকলাম। এখন বেশ ঠান্ডা লাগছে। তবুও আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম।
.
এই মেয়েটাকে বোঝা দায় হয়ে যায়। অফিসে মাঝে মাঝে কাজের জন্য ডাকলে শুধু কাজের জন্য আসে। তার বাইরে আমি কিছু বলতে চাই এটা শোনার প্রতি আগ্রহ নেই তার। আগ বাড়িয়ে কিছু বলতেই পারিনা। কাজের প্রতি তার মনোযোগ বেশি।
.
প্রথমবার দেখা হওয়ার দিনেও দিয়া কঠিন ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সেদিন বেশ তড়িঘড়ি করে উপর তলায় উঠছিলাম। তিনদিন পরে অফিসে আসছি। ছুটি কাটানোর পরে একটু ব্যাস্ততা কাজ করছে নিজের মধ্যে। হঠাৎ একটা মেয়ের সাথে থাক্কা খেয়ে থমকে দাঁড়ালাম। মেয়েটির দিকে তাকাতেই রেগে বলল
-চোখে দেখেন না!
-একটু অন্যমনস্ক হয়েছিলাম। তাই....
-হাটার সময় কোনদিকে নজর থাকে!
-সরি।
-পরেরবার ঠিকমত চলবেন।
-ওকে।
-আপনি কি এই অফিসে চাকরি করেন?
-হ্যা।
-আপনার কার্ড কোথায়?
পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম কার্ড নেই। অফিসে কার্ড আনিনা। দরকার হয়না। এই অফিসে সবাই এমনিতেই চিনে আমাকে। শুধু কার্ড এর কি দরকার! কর্কশ গলায় মেয়েটি বলল
-আমি আপনার নামে স্যারের কাছে কমপ্লেইম জানাব। আপনি অফিসের নিয়ম মানেন না!
.
মেয়েটি তার মত সিড়ি দিয়ে নিচতলায় চলে গেল। আমি আমার মত উপর তলায় উঠতে থাকলাম। মেয়েটিকে দেখে যতটা ভয় পেয়েছি, তারচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি। এমন করে আমায় ঝারি দিল! ভাবতে ভাবতে রুমে ঢুকলাম।
.
-কি ব্যাপার! আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন! কাজ নেই!
পিছনে ঘুরে তাকালাম। সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। আমি নিজের রুম ছেড়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। তার কথা শুনে কিছুটা ভয় পাওয়ার ভান করলাম। আমার পাশে থাকা রাজিব দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিল। আমি ইশারা করে বসতে বললাম। দেখি মেয়েটা কি বলে! কিছুটা রাগতস্বরে বলল
-আপনার ডেস্কে গিয়ে কাজ করুন। আর আপনাকে এতদিন দেখলাম না তো! ফাঁকিবাজি চলবে না। যান কাজ করুন।
.
আমার রুমে ঢুকতেই মেয়েটা অবাক হয়ে গেল। আমার অবাক হওয়ার পালা শেষ। এবারে তার অবাক হওয়ার পালা শেষ। আমি মেয়েটিকে চিনি। কিন্তু সে আমাকে চিনেনি আগে। আমি এই অফিসের হেড। দিয়া নামের মেয়েটা কো-হেড। ওর দিকে তাকিয়ে বললাম
-আপনি দিয়া। আপনাকে আমি চিনেছি।
-স্যার....
-সমস্যা নাই।
.
তারপরে দিয়ার সাথে ভাল সম্পর্ক হয়ে গেল। আমি সম্পর্কটা আপনি থেকে তুমিতে নিয়ে এসেছি। কিন্তু সে এখনো আমাকে আপনি করেই বলে। ওর সাথে মিশতে কখন ভাল লেগে গিয়েছিল, বুঝতেই পারিনি। ভালবাসা হয়েও গেল মনের অজান্তেই। কিন্তু মুখ ফুটে কখনো বলতে পারিনি বা বলার মত সুযোগ আসেনি।
.
-কতক্ষণ এসেছেন?
পিছনে তাকাতেই অবাক হলাম। দিয়া আমার সামনে দাঁড়িয়ে এসেছে! এত রাতে আমার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছে। ভাবতেই নিজের কাছে গর্ব বোধ করতে থাকলাম। ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম
-এইত কিছুক্ষণ আগে।
-এত রাতে এখানে! কি কারনে!
-এমনি আসলাম।
-শুধু এমনি এসেছেন! নাকি কোন কারন আছে।
-ইচ্ছা হল।
-এত রাতে এটা কেমন ইচ্ছা! ঠান্ডায় তো আপনি কাঁপছেন।
আমি শুধু আসিনি। দুইদিন অফিসে যায়নি বলে ওকে দেখা হয়নি।খুব দেখতে ইচ্ছা করছিল। বাধ্য হয়ে চলে এলাম।
.
-কি বলবেন বলুন। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
দিয়ার মনের ভেতর আগ্রহ জাগছে। আমার মনে যা চলছে, ওর মনেও কি তাই চলছে! এতকিছু ভাবা ঠিক হবে না। নিজেকে শক্ত করে বললাম
-তুমি দুইদিন অফিসে যাওনি। তাই খোঁজখবর নিতে এলাম।
-শুধু এই কারনে!
-তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছিল।
-কেন দেখতে ইচ্ছা করছিল?
-এমনি। তুমি এখন যেতে পার।
দিয়া কিছুটা রাগ করে চলে গেল। আমি কিছুতেই বলতে পারছিনা, ওকে ভালবাসি। শুধুই নিজের মাঝে রেখেছি কথাগুলো।
.
দিয়া দুইদিন আগে অফিস ছুটি নিতে আমার রুমে এসেছিল। ছুটি নেওয়ার পরে বলল
-দুইদিন আমাকে দেখতে পাবেন না।
-ও আচ্ছা।
-ওকে। আবার দেখা হবে। আবার আমার ছুটির দিন বেড়ে যেতে পারে।
দিয়া আমার মন বোঝার জন্য বাজিয়ে দেখছিল। কিন্তু বুঝতে দেইনি।
.
-এই চাদরটা নিন। ঠান্ডার মধ্যে বাইরে থাকবেন না। বাসায় গিয়ে আমাকে ফোন দিবেন। আমি আপনার ফোনের আশায় জেগে থাকব।
আমি দিয়ার দিকে তাকালাম। ওর রুম থেকে চাদর নিয়ে এসেছে আমার জন্য। চোখের ভেতর একটা শাষনের ভাব ফুটে উঠছে।
আমি চাদরটা গায়ে জড়িয়ে হাটতে থাকলাম। ভালবাসি কথাটা না বলেও ভালবাসা হয়ে গিয়েছে। দিয়ার চোখের মাঝে আমার জন্য ভালবাসা দেখতে পেয়েছি। দুজনের মনের ভালবাসা চলুক। মুখ ফুটে কেউ কাউকে নাইবা বললাম। চাদরটা গায়ে জড়িয়ে মনেহয় ওকেই জড়িয়ে আছি। চাদরটা আর ফেরত দেওয়া হবে না। নিজের কাছেই রেখে দিব। ওর দেওয়া চাদরটা শীতে গায়ের সাথে জড়িয়ে রাখব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now