বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চাঁদনি রাত। বেশ বড় হয়েই চাঁদ এসেছে আজ। অদ্ভুত এক অনূভুতি। গভীর রাতে দেয়ালের অগ্রভাগে দাড়িয়ে অনেকে হয়ত এই সুন্দর চাঁদটি দেখছে। ঠিক এই মুহুর্তে কেউ হয়ত তার প্রিয় মানুষটির সাথে অথবা কেউ হয়ত অতীতের সাথে কাঁটাকাঁটিতে ব্যস্ত। কিন্তু দিবা অন্যরকমভাবে দেখছে চাঁদটা।
.
আরও একবার চাঁদটির দিকে তাকালো দিবা। হাতে দাশটির মত ট্যাবলেট। এক এক করে উন্মুক্ত করে নিল সব। হাতের তালুর উপর নিয়ে এক নিমিষে গিলে ফেলল।
আর কয়েক মুহুর্ত পর হয়ত সে এই স্বার্থপর দুনিয়ার মায়াজাল ছেড়ে চলে যাবে।
আর কয়েক মুহুর্ত মাত্র। ভাবতেই কেমন যেন কাঁটা দিয়ে উঠে। জানালা ছেড়ে নিজের বিছানায় এসে শুয়ে পরল দিবা। এখন আর কিছু বাকি নেই। সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়ে চলে যাবে দূরে যেখানে কেউ তাকে আর কষ্ট দিতে পারবে না।
.
কিন্তু এখনও তো মরল না সে। হয়ত আরও কিছু সময় লাগবে। তারপর তলিয়ে যাবে নষ্ট পৃথিবীর কষ্টতা পেরিয়ে। এই সময় অতীত রোমন্থন করে কাঁটালে বেশ সুখকর হয়।
একটি ছোট্ট মেয়ে, তুলতুলে নরম পায়ে নূপুরের রিমঝিম শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে। কাঁধে স্কুল ব্যাগ, এক হাত উন্মুক্ত অন্য হাত মায়ের হাতের মুটোয়।
স্কুলে আজ প্রথমদিন। বয়স তখন ঠিক পাঁচ বছর। মা দু গালে দুটো চুমু এঁকে স্কুলে ডুকিয়ে দিলেন। খুব মজার সময় কেঁটেছিল ছোট্টবেলাটা। তারপর, একদিন একটি কাগজে মোড়ানো উপহার দিয়ে মা বলল "শুভ জন্মদিন দিবা"। উপহার পেয়ে সেদিন দিবা কত্ত খুশি হয়েছিল। হলুদ রংয়ের একটি ডাইরি। এখনও দশ বছর পরও ডাইরিটা হলুদ ই রয়ে গেল। আচ্ছা শুধু মানুষই পারে খুব তাড়াতাড়ি তাদের ভিতর রং পাল্টাতে। খুব সহজেই, খুব কঠোর ভাবে।
.
হঠাৎ একদিন মা মারা গেলেন।দিবার বয়স তখন সাতের কোটা ছুয়ছুয়। বাড়ির মেজেতে লাশ শুয়ানো ছিল। দিবা কাঁদছে। অঝোর ধারায় কাঁদছে। মৃত্যুর পর মানুষের নিজস্ব কোনো নাম বা পরিচয় তাকে না, একটায় পরিচয় লাশ।
.
দিবার মায়ের মৃত্যুর পর তাকে দেখাশোনার জন্য নতুন মা আনা হয়। নতুন মা প্রথম প্রথম খুব আদর করত দিবাকে। ঘড়ির কাঁটা ঘুড়ে আস্তে আস্তে যেন আদর মাখা সময়টা পিছনে ফেলে এসেছে দিবা। ভালাবাসার ছেদনে ভালবাসা যেন পরে যেতে থাকে। সে মুহুর্তটা যেন দিবার মাইল ফলক স্মৃতি। তারপর আর আপন বলতে কেউ রইল না। বাবাটাও কেমন যেন নিষ্টুর হয়ে গেল। মাসে একবারও দেখা হয় কিনা তার মনে নেয়। একই ছাদের নিছে বসবাস তবু যেন সেই চিরচেনা ছাদের নিছে এক সাথে বসবাস করা মানুষগুলো কত দূরের।
.
দিবা হলুদ ডাইরিটা খুলে মায়ের ছবিটি তার হাতে নিল। ছবিটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেল। নিজের জামায় ছবিটি মুছে আবার চোখের সামনে ধরল। দুচোখ বয়ে অশ্রুর অঢেল আনাগোনা। বাঁধ ভাঙ্গা বোবা কান্না। কেউ শুনতে পায়না তার কান্না। একই ছাদের নিছে বাস করেও কেউ তাকে বুঝল না, বুঝার চেষ্টাও করল না। আপন বলতে তার কেউ নেই, সবাই থেকেও নেই।।
.
ডাইরিটা বন্ধ বুকে চেপে ধরে একবার তার রুমটি দেখে নিল দিবা। এইত নীল রং। তার প্রিয় রং। মায়েরও প্রিয় ছিল। মা ই তার মেয়ের রুমের দেয়ালে তার প্রিয় রং একে দিল। কিন্তু আজ মা কত্ত দূরে।
হঠাৎ দিবার মনে হল তার প্রিয় রংয়ের দেয়ালটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। বিপরীত দেয়ালের সাথে এসে মিলবে, উপরের ছাদ যেন ক্রমশ নিছে মেজের দিকে তেড়ে আসছে। দুদিকের দুই দেয়াল মিলিত হচ্ছে মাঝখানে দিবা।
মাথাটা চক্কর দিচ্ছে। পুরো পৃথিবী ঘুরছে। মা কে খুব মনে পরছে তার। আর কোনো ফাঁদ নেই মার থেকে আলাদা করার।
দিবা দুচোখ বন্ধ করে বলছে, "মা, আমি তোমার কাছে আসছি মা, এইত এসে গেছি মা, আমি এসে গেছি".......
.
তারপর নিরবতা। স্বার্থপর পৃথিবীর কোনো দয়া নেই। কেউ একজন চলে গেছে শুনেও এই স্বার্থপর পৃথিবীর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরবে না। কারন তার থেকে হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। কার জন্য কাঁদবে???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now