বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- বাবা যে দিন বাজার থেকে আধা সের গরুর মাংস কিনে আনতেন, সে দিন আমাদের ঘরে একটা বড় উৎসবের আমেজ ডাব চলে আসতো। আম্মু শাড়ির আচঁলকে কোমরে গুঁজে জিরা মসলা বাটতে বসে যেতেন। আমি কাঁচা মাংস নেড়ে নেড়ে দেখতাম। মুখের কাছে নিয়ে গেলেই আম্মু বকা দিতো বকুনি বলতো,কাঁচা গিলে খাস নে,পেটে গরু হবে। আমি চোখ ড্যাব ড্যাব করে আম্মু কে বলতাম, 'রোজই তো মাংস খেতে পারবো চিবিয়ে চিবিয়ে, আম্মু আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে বলতো,আমার পাগল ছোড়া ছেলে একটা!
খানিকটা দূরে বসে আম্মু-ছেলের খুনসুটি দেখে বা ঠোঁটের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে হাঁসতেন।.......
- এক সময় লবনে মরিচে মিশিয়ে মা ঝোল ঝোল করা মাংস চুলা থেকে নামাতেন।আমি দৌড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তাম।একটা চামুচে এক টুকরা আমায় বাড়িয়ে দিয়ে বলতো, ধর খোকা লবণ হয়েছে কিনা দ্যাখ। আমি প্রথম টুকরো খেয়ে, দুষ্টুমি করে বলতাম, এক টুকরোয় কি বুজা যায়। আরেক টুকরো দাও, খেয়ে ঝটাপট বলে দিই, আম্মু আরেক টুকরো দিতো, খুব চিবিয়ে চিবিয়ে খেতাম, আর মায়ের শাড়ির আচঁলে আয়েশ করে মুখ মুছতাম।সে দিন বাবা একপোয়া গোশত এনেছিল। এত কম এনেছে কেন? জানতে চাইলে বাবা মুখ মলিন করে বলেছিলো,
আজকের গুরুটা তোর মত বাচ্চা তো, তাই মাংস কম দিয়েছি। সবে এক দুই গুনতে শিখেছি।মা যখন মসলা বাটায় ব্যস্ত তখন মাংসগুলো ধরতে ধরতে আনমনে গুনে দেখলাম মোট পনেরো টুকরো মাংস আছে।এক সময় মা আলু মাখিয়ে ঝোল করে মাংস রাধেঁ।তিন টুকরো আমায় দেয় লবণ মরিচ পরখ করার জন্য।.............
- আমি খেতে খেতে হিসেব রাখি আরো বারো টুকরো ভাত মাখিয়ে আদর করে আমাকে খাওয়ায়। আমি খেতে খেতে হিসেব রাখি সাত টুকরো আছে। এর
পরের দিন সকালে আমার ফ্লেটে আবার মাংস আসে।আবার দুপুরে মাংস আসে।খেতে খেতে হঠাৎ হিসেবে গন্ডগোল বেধে যায়। হিসেব করে দেখলাম পনেরো টুকরো মাংসই আমার পেটে।বাবাও খায় নি,আম্মাও খায়নি।
অনেক বছর পর আমি অংক করা শিখলাম। হটাৎ একদিন বোর্ডে অংক করতে করতে একটা অংক মিলালাম।এক পোয়া মাংস যদি পনের টুকরা হয়,তবে আধা কেজি মাংস তিরিশ টুকরো। যদি পাচঁ টুকরো করে ভাগ করা হয় তবে,তিন জনে দুই বেলা খেতে পারবে।কিন্তু যেবার বাবা আধা কেজি মাংস আনতেন প্রত্যেক বারই আমার ভাগে পাচ টুকরা করে মোট ছয় বেলা মাংস জুটতো।অবশেষে হিসেব মিলে যায়............ বাবা-মা খেতেন না, সবই আমাকে খাওয়াতেন।আজ আমার জ্ঞান বুদ্ধি সবই হয়েছে।বাবা - মার মুখে দুই টুকরো মাংস খাওয়ানোর সামর্থও হয়েছে আমার।
কিন্তু কেন জানি পারি না। বাবা মার মুখ থেকে হাসি এবং দুষ্টুমি কোথায় জেন হারিয়ে গেলো।কারণ আজ প্রতিটা মুহূর্তে শত শত রোগে আক্রান্ত হয়ে,মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তারা।
দোয়া চাই পৃথিবির প্রত্যেকটি মা -বাবার জন্য.....! সমাপ্ত
- আমার প্রথম গল্প যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।এন্ড সবার সাড়া পেলে আবারো আপনার মাঝে নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হব।ধন্যবাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now