বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তুমি কি আমার কথা বুঝেছ?
.
মুনির মাথা নামিয়ে জানান দিল সে বুঝেছ।
এসব কথা খুব সহজেই বোঝা যায়।মিতুর বাবা এমন কিছু বলবে সে আশা করেই মিতুর বাবার অফিসে এসেছিল মুনির,যদিও মিতু বলেছিল ওর বাবা রাজি।।
.
তবে মিতুর বাবা এতটা বলবে তা মুনির ভাবেনি। চেয়ার থেকে উঠে যেতে ইচ্ছা করছে মুনিরের কিন্তু মুনির তা না করে চুপচাপ বসে আছে, ওর নজর টেবিলের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপের দিকে।
ও চায়না মিতুর বাবা জানুক মিতু যাকে পছন্দ করেছে সে অভদ্র।
.
মিতুর বাবা আবার বললেন,
-আমি জানতাম তুমি বুঝবে,আমি চাই আমার মেয়ে সুখী হোক,সেটা হয়ত তুমিও চাও?
-হুম,
-আর তোমার সাথে তা সম্ভব নয়,
-হুম,
-আমি চাই, তুমি ওর সাথে আর যোগাযোগ না করো,
-আচ্ছা,আমি উঠি তাহলে।
-আরেক টা কথা?
-বলুন?
-আমি যে তোমাকে এসব বলছি এগুলাও মিতুকে বলার দরকার নাই,
-আচ্ছা,
এই বলেই মুনির উঠে দাঁড়াল।মিতুর বাবার অফিস রুমটা অসহ্য লাগছে।মুনির রুমের গেট থেকে বের হওয়ার সময় মিতুর বাবা বলল,
-থ্যাংক্স, ইয়ংম্যান।
.
মুনির অফিস থেকে বের হয়ে একটু চিন্তায় পরে গেল।মিতুকে ইগনোর করা ওর সমস্যার ব্যাপার না, কিন্তু মিতু যখন জানতে চাইবে কেন?
সমস্যাটা হবে তখন।সকালে মিতু খুশি খুশি গলায় বলল,
-বাবা আমাদের রিলেশন টা মেনে নিয়েছে। বিকালে অফিসে তোমাকে দেখা করতে বলেছে।
.
মিতুর কথা অনুযায়ী মুনির দেখা করতে এসেছিল, কিন্তু মিতুর বাবা রাজী হয়নি। উনি মিতুর বিয়ে দিতে চান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে।মুনিরের তো মাত্রই লেখাপড়া শেষ,চাকুরী পাবে কি পাবেনা তারো গ্যারান্টি নেই।
.
এসব ভাবতে ভাবতে মিতুর কল এসে হাজির,
-কোথায় তুমি?
-হলে,
-বাবার সাথে দেখা করতে যাওনি?
-না,
-কেন?
-এমনি
- মানে কি? কত কষ্ট করে রাজি করিয়েছি বাবাকে?
-ও আচ্ছা,,
-এখনি উঠে যাও,
-না যাবনা,
-কেন, কি হল তোমার?
.
মুনির কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলে,
-দেখো,আমার সাথে তোমার যায়না,
-মানে?
-তোমার মত সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ের সাথে আমার মেলেনা,
-কার সাথে মেলে?
-ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার,
-কে বলছে এসব?
-কেউ না,আমি বের করছি।
-অদ্ভুত,কি হইছে তোমার?
-কিছু না,আর আমাকে ফোন দিওনা,
-কি বলতেছ এসব,,
-হুম,ঠিক বলতেছি।আমিও আর ফোন দিবনা।
.
ও পাশে ফোঁপানির আওয়াজ শোনা যায়।মিতু কাঁদছে।মুনির আবার বলে,
-কেঁদোনা,ভাল ছেলে দেখে বিয়ে করে নিও।
.
মিতু কান্না মিশ্রিত গলায় বলে,
-প্লিজ,বল না কি হইছে?
-কিছু হয়নি, আচ্ছা,বাই।
.
মিতু কিছু বলবে তার আগেই কল কেঁটে দেয় মুনির অন্যদিকে মিতু হ্যালো হ্যালো করতে থাকে।মোবাইল থেকে সিম টা বের করে ভেঙে ফেলে মুনির।সিম থাকলে কথা বলার ইচ্ছা করবে,হয়ত মিতুও আবার ফোন দিবে।এখন আর পারবেনা।হল টাও পাল্টাতে হবে যেন মিতু খোঁজ না পায়, পাল্টাতে হবে এ শহর টাও।শুধু পাল্টানো হবেনা ভালবাসার মানুষটা।ভালবাসার মানুষ টার ভালর জন্য এটুকু খুব সহজেই করতে পারবে মুনির।
.
মুনির জানে ওর সাথে মিতু সুখী হবেনা,এখন আবেগ কাজ করছে তখন আবেগ থাকবেনা।
ইচ্ছা করলেই মিতু কে নিয়ে এসে বিয়ে করা যায়, কিন্তু মুনিরের ইচ্ছা নাই।প্রত্যোক বাবাই সন্তানের ভাল চায়,ভাল চায় মিতুর বাবাও।
এখন মুনিরের ভালবাসা আছে, সে ভালবাসার সম্মান ও আছে।এই সম্মান নিয়ে হারিয়ে যেতে হবে মিতুর কাছ থেকে।মুনির জানে সে পারবে.
প্রিয় মানুষ গুলোর সুখের জন্য,আমরা সব পারি।
তাদের সুখের কথা চিন্তা করেই তাদের থেকে দূরে যাই ,আবার কাছে আসি। মুনির শুধু চায়, মিতু ভাল থাকুক,সুখে থাকুক।এটুকুই মুনিরের চাওয়া।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now