বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটাকে অন্যরকম লাগছে... . চারিদিকে মেহমানদের আনাগোনা...সারা বাড়ি গিচগিচ করছে... কোন এক সাইডে দেখতে পেলাম,নাচ-গান এর অনুষ্ঠান হচ্ছে...কেউ কেউ আবার সেলফি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। আজ মিথিলার ছোট ভাই যে কিনা কাজ'ই করতে চায় না,তাকেও দেখলাম অনেক ব্যস্ত...বোনের বিয়ে ব্যস্ত তো হবেই...! . আমি,সুমন,বাবু আর হৃদয় একটু ঘুরাঘুরি করছি...মিথিলাদের বাড়িটাও আজ ঠিক মিথিলার মতো সেজেছে...চারিদিকে ঝিকিমিকি লাল-নীল আলোর বাহার... সবাই জেনো একটা আনন্দের ঘোরের মধ্যে আছে...শুধু নেই আমরা চার বন্ধু আর মিথিলা...ওহ্ সরি, আরও একটি প্রানি আছে যে হয়তো কোন পুরোনো বিল্ডিং এ বসে নিজেকে নেশার মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে... নেশায় ডুবে থাকা ছেলেটি আর কেউ'ই নয়...আমাদের প্রিয় বন্ধুদের একজন "সিহাব" সিহাব মিথিলাকে ভালোবাসে আর মিথিলা সিহাবকে... আজ আমরা মিথিলার বিয়েতে আসতাম না...শুধুমাত্র মান রক্ষা করার জন্য এসেছি,মিথিলা আসতে বলেছিলো... ............................................................ বিয়ের সাত দিন আগে,, সারাক্ষণ ক্লাসটাকে মাতিয়ে রাখা মেয়েটা হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যাওয়াটা কোন স্বাভাবিক ব্যাপার নয়... ক্ষণিকের জন্য হলেও সবার নজর কারবেই...! . সবার মতো মেয়েটা আমার নজরও কেড়েছিলো।মেয়েটাকে দেখে মনে হলো,মেয়েটার মন বড্ড খারাপ...হাসি নেই,কথা নেই...কেমন জেনো একা থাকতে চায়... মায়াবী মুখটা একেবারে কালো হয়ে গেছে...আগের থেকে অনেকটা চিকনও হয়ে গেছে... . সেদিন আর ক্লাসে তেমন একটা ধুমধাম হলো না...মনে হচ্ছে সবাই জেনো নীরবতা পালন করছে... মিথিলা নামের মেয়েটি যে আজ একটুও কথা বলছে না...তাহলে কি সে কোন সমস্যায় আছে...! নানা রকম প্রশ্ন মাথার ভিতর ঘুরপাক খেয়েছিলো... পাগল মেয়েটা পাগলামি করে না, যার পাগলামি গুলোকে আমরা খারাপ চোখে দেখতাম সেই পাগলামি গুলোকেই আজ মিস করছি... . কলেজ ছুটির পর... মিথিলাকে পেছন থেকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,"মিথিলা,তোর কি কিছু হইছে!!!" মেয়েটির সোজাসাপ্টা উত্তর,"না কিছু হয়নি..." কিন্তু মেয়েটার নির্ঘুম লাল চোখ আর চোখের নিচের কালো দাগ'ই বলে দিচ্ছে,কিছু একটা হয়েছে... . আমি আবারও পেছন থেকে ডাক দিয়ে,"সমস্যা না থাকলে আমাকে ফ্রেন্ড মনে করে বলতে পাড়িস..." আবারও একই উত্তর, "না, সত্যি বলছি কিছুই হয়নি..." --আচ্ছা,বুঝেছি ফ্রেন্ড মনে করিস না,তাই এমনটা বলছিস... --নারে দোস্ত,সত্যিই আমার কিছু হয়নি... --তাহলে কিছুদিন ধরে দেখছি,তুই বদলে গেছিস...কারো সাথে কথা নাই,মুখে হাসি নাই। যার জন্য ক্লাসটা মাছের বাজার মনে হতো,আজ সেটাও নাই..."সিহাব" এর সাথে ঝগড়া হইছে...! --নারে দোস্ত,এমনিই... --এই লাস্ট বার জিজ্ঞেস করছি,বলবি?? --আচ্ছা,তাহলে চল পার্কের দিকে চল,হাটতে হাটতে সব বলবো... . মেয়েটা হাটছে সাথে আমিও...কিন্তু কেউই কিছু বলছি না...নীরবতা ভেঙে দিয়ে আমি বললাম,"কিরে বললি না তো,পায়ে যে ব্যথা করছে...!" মিথিলা আঙুল দিয়ে দূরের একটা বেঞ্চ দেখিয়ে বললো,"চল,ওই বেঞ্চে বসি..." --হুম চল... . আমি আর মিথিলা বসে আছি... মিথিলার দিকে একনজর তাকালাম... --কি বলবি না...! (আমি) মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে'ই কেঁদে দিলো...আবার ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে নিজের চোখ মুছেও নিলো, জেনো কিছুই হয়নি... --আরে,কাঁদছিস কেন...! কি হইছে বলবি তো...! --জানিস "নীরব" আমার বাসা থেকে আমার জন্য পাত্র দেখা হইছে আর পাত্রপক্ষ আমাকে পছন্দও করছে...আগামী সপ্তাহে আমাদের বিয়ে... --কি!!!তাহলে "সিহাব"!!! --(নীরবতা...) --সিহাবকে কিছু বলেছিস? --না,ও জানে না... --তাহলে আংকেলকে সিহাব এর কথা বলেছিস?? --হ্যা,বলেছিলাম...কিন্তু তারা বলছে এটা সম্ভব না...সিহাব চাকরি করে না...চাকরি করবে কি! সে তো এখনো লেখাপড়া'ই শেষ করতে পারেনি... --তাহলে আমি আংকেল এর সাথে কথা বলবো! --না থাক,আর তোর কথাও উনারা মানবে না... --তাহলে কি করবো! --কিছু করা লাগবে না...যা হবার তা হবেই... - - - - - দীর্ঘ ১৫ মিনিট নীরবতা পালন করার পর, --জানিস নীরব,আমার না এতো আগে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিলো না...ভেবেছিলাম,অনেকদূর পর্যন্ত লেখাপড়া করবো...।ছোটবেলা থেকেই আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিলো... ভেবেছিলাম,"ডাক্তার" হয়ে সবার সেবা করবো... সিহাবকে নিয়ে একটা ছোট্ট পরিবারের স্বপ্ন দেখেছিলাম... ভেবেছিলাম,পালিয়ে গিয়ে সিহাবকে বিয়ে করবো কিন্তু পরিস্থিতি এমন'ই,আমি পালিয়ে গেলে হয়তো আব্বুর মুখ আর দেখতে পাবো না...এর আগে দুইবার হার্টএ্যাটাক্ট হইছে...ডাক্তার বলছে,উনাকে দুশ্চিন্তার মধ্যে না রাখতে... জানিস সিহাবকে নিয়ে আমার অনেক চিন্তা হয়...ছেলেটা বলেছিলো,আমাকে না পেলে মরে যাবে... --আচ্ছা নীরব,অনেক দেড়ি হয়ে গেছে... আমি এখন যাই... আর এরপর থেকে আর হয়তো দেখা হবে না... --কেন!!! --এখন থেকে কলেজে আসা মানা...আজকেও আসতে দিতো না, তবুও শেষবারের মতো সিহাবকে দেখার জন্য এসেছি... আর একটা কথা,প্লিজ সিহাবকে কিছু বলিস না...ও জানতে পারলে সহ্য করতে পারবে না... --আচ্ছা বলবো না... --আচ্ছা,এখন তাহলে যাই...ভালো থাকিস...আর সিহাবের দিকে খেয়াল রাখিস... অতঃপর মেয়েটি চলে গেলো... আমিও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে পড়লাম সেখান থেকে... . কি অদ্ভুত তাই না...মেয়েটার স্বপ্ন, স্বপ্ন'ই থেকে গেলো... শুধু মেয়েটার কেন, ছেলেটার স্বপ্নও যে পূরণ হলো না...! . এরপর হয়তো কোন একদিন ছেলেটা মেয়েটার নাম্বারটিতে কল দিয়ে মেয়েটার খবর নেওয়ার চেষ্টা করবে...কিন্তু লাইন পাবে না...কারণ, প্রিয় নাম্বারটি যে সেদিন "ব্লাক লিস্ট" এ থাকবে... "চ্যাটলিস্ট" এ যার নাম সবার প্রথমে থাকতো, সেই নামটিও কালো রূপ ধারণ করবে...কারণ, নামটি যে সেদিন "ব্লক লিস্ট" এ থাকবে... স্মৃতির মায়াজাল থেকে দুজনেই বের হবার ব্যর্থ চেষ্টা করবে,কিন্তু পারবে না... . মেয়েটার প্রতি ছেলেটার ক্ষোভ জন্মাবে... প্রতিটা মুহূর্তে নিজের ও মেয়েটার মৃত্যু কামনা করবে... ছেলেটা হয়তো কোন একদিন সত্যিটা জানতে পেড়ে চোখের কোন থেকে দুফোটা পানি ঝরাবে... আর মেয়েটি? মেয়েটিও হয়তো কোন একদিন প্রিয় নাম্বারটিতে কল দিয়ে ছেলেটির খবর জানতে চাইবে... সেদিন ছেলেটিকে আর পাবে না... নেশার জগতে পড়ে গিয়ে ছেলেটি যে জীবনটাই ধ্বংস করে ফেলবে... ............................................................ মেয়েটা একটু পর'ই অন্যের ঘরে চলে যাবে...যাওয়ার আগে হয়তো চোখের কোন থেকে দু'ফোটা পানি গড়িয়ে মেয়েটির মেকআপ মাখা মুখে কিছু দাগের সৃষ্টি করবে... যে দাগ কষ্টের দাগ...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now