বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মজার আষাড়ে গল্প-০২

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X সেদিন রাতে মহারাজ স্বপ্ন দেখলেন,হাতি যেন এসে তাকে বলছে,"মহারাজ আপনার জন্য তো আমি অনেক খেটেছি ৷ এবার আমাকে নিয়ে গঙ্গায় ফেলতে হবে৷" সকালে উঠেই মহারাজ হুকুম দিলেন,এক্ষুনি আমার হাতিকে নিয়ে গঙ্গায় ফেলতে হবে ৷ তক্ষুনি তিনশ লোক হাতির পায়ে মোটা দড়ি বেঁধে তাকে 'হেইয়ো! হেইয়ো!'করে টেনে নিয়ে গঙ্গায় চলল৷ ভয়ানক বড় হাতি,তাকে টানা খুব মুশকিল ৷ সেই লোকগুলো হাতিটা নিয়ে খানিক দুর যায় আর দড়ি ছেড়ে বসে বসে হাঁপায় ৷ এমনসময় হয়েছে কি-সেইখান দিয়ে এক বামুনঠাকুর যাচ্ছেন,সঙ্গে তার এক চাকর ৷ সেই লোকগুলিকে বসে হাঁপাতে দেখে চাকরটা বললে,ইঁদুরের মত একটা হাতি,তাকে টানতে গিয়ে তিনশ লোক হাঁপাচ্ছে ৷ আমি হলে ওটাকে একলাই নিয়ে যেতে পারি ৷ একথা শুনেই তো সেই তিনশ লোক লাফিয়ে উঠল ৷ তারা বললে,"কি এত বড় কথা! আমরা তিনশ লোক যা পারছিনে,তুই একলাই তা করতে পারবি? আচ্ছা, এর বিচার না হলে তো আমরা আর হাতি টানছি না ৷ চল্,ব্যাটা রাজার কাছে চল,দেখব তুই কেমন জোয়ান ৷ তাতে সেই চাকর বললে,আচ্ছা চল্ না ৷ আমি কি তোদের মত জোয়ান? তখন মাঠে হাতি ফেলে রেখে তারা রাজার কাছে এসে বললে,"দোহাই রাজামশাই! এর বিচার করুন ৷ আমরা তিনশ লোক আপনার হাতি টেনে হাঁপিয়ে গেলুম,আর এই ব্যাটা বলে কিনা,সে একলাই সেটা নিয়ে যেতে পারে ৷ এর বিচার না হলে আমরা আপনার হাতি ছোঁব না ৷ একথা শুনে রাজামশাই বামুনের চাকরকে বললেন,"কি রে, সত্যি কি তুই ওই হাতিটা একলা নিয়ে যেতে পারিস?" চাকর জোড়হাতে নমস্কার করে বললে,"মহারাজের যদি হুকুম হয়, তবে পারি বৈকি ৷ কিন্তু আগে আমাকে পেট ভরে খেতে দিতে হবে ৷" রাজা বললেন,"দাও তো ওকে এক সের চাল আর ডাল-তরকারি ৷ আগে পেট পুরে খেয়ে নিক,তারপর হাতি নিয়ে যেতে হবে ৷" তাতে বামুনের চাকর হেঁসে বললে,"এক সের চাল তো ঝাড়ুয়ালা খায়-তাতে কি হাতি টানা চলে? রাজা বললেন,"তবে তুই কি চাস?" চাকর হেসে বললে,"মহারাজ,বেশি আর কি চাইব?-এই মণ দুই চাল, দুটো খাসী, আর এক মণ দই হলেই চলবে৷" রাজা বললেন,"আচ্ছা তাই পাবি,কিন্তু খেতে হবে সব ৷" চাকর বললে,"যে আজ্ঞে মহারাজ ৷" বামুনের চাকর সেই দুই মণ চালের ভাত, দুটো খাসী,আর এক মণ দই খেয়ে তো আগে খুব এক চোট ঘুমিয়ে নিল ৷ তারপর নিজের গামছা খানি দিয়ে সেই হাতিটাকে জড়িয়ে,বেশ করে একটি পুঁটলি বাঁধল ৷ তারপর পুঁটলিটাকে লাঠির আগায় ঝুলিয়ে,লাঠিসুদ্ধ সেই পুঁটলি কাধে ফেলল ৷ তারপর গন্ডা দশেক পান মুখে গুঁজে,গান গাইতে গাইতে গঙ্গায় চলল ৷ তা দেখে রাজামশাই হাঁ করে রইলেন ৷ আর তিনশ লোক হঁ করে দেখল ৷ আর সকলে ছুটে বাড়িতে খবর দিতে গেল ৷ ততক্ষনে সে চাকর অনেক দূর চলে গিয়েছে৷ খুব টনটনে রোদ উঠেছে ৷ চাকরটি আরও অনেক দুর গিয়ে বললে,"উঃ কি ভয়ানোক রোদ! আমার গলাটা বড্ড শুকিয়ে গেছে ৷ একটু জল খেতে পারলে ভালো হত ৷ বলতে-বলতেই সে দেখল খানিক দূরে একটা পুকুর রয়েছে,সেই পুকুরের ধারে গাছপালার আড়ালে একটা কুড়েঘর ৷ চাকরটি তখন পুকুরের ধারে তার পুঁটলিটি রেখে সেই ঘরের সামনে গিয়ে দেখে,সেখানে ছোট একটি মেয়ে বসে আছে ৷ সে সেই মেয়েটিকে বললে,"বাছা,আমার বড্ড তেষ্টা পেয়েছে ৷ একটু জল খেতে দেবে?"মেয়েটি বললে,"ঘরে মোটে এক জলা জল আছে ৷ তোমাকে যদি খেতে দিই,তবে বাবা মাঠ থেকে এসে কি খাবেন?" একথা শুনে চাকর রেগে বললে,"বটে! তুই একটুও জল খেতে দিবিনে? আচ্ছা দেখি এরপর তোরা কোত্থেকে থেকে জল খাস!" এই বলে সে পুকুরে নেমে চোঁ চোঁ করে জল খেতে লাগল ৷ যতক্ষন পুকুরে জল ছিল,ততক্ষন খালি চোঁ চোঁ শব্দ শোনা গিয়েছিল ৷ দেখতে দেখতে সে এক পুকুরের জল খেয়ে শেষ করল ৷ জল খেতে খেতে তার পেটটা ফুলে,আগে ঢাকের মত হল,তারপর হাতির মত হল,শেষে একেবারে পাহাড়ের মত হল ৷ এমনি করে পুকুরের সব জল খেয়ে বামুনের চাকর দেখলে যে, সে জল আর কিছুতেই তার পেটের ভিতর থাকতে চাইছে না ৷ তখন সে আর কি করে, তাড়াতাড়ি একটা বটগাছ গিলে ফেলল ৷ সেই বটগাছ তার গলার মাঝামাঝি গিয়ে ছিপির মত আটকে রইল-জল আর বেরুতে পারল না ৷ বামুনের চাকর খুব খুশি হয়ে সেই পুকুরের ধারে শুয়ে বিশ্রাম করতে লাগল ৷ আর তার পেট টা তালগাছের চাইতে উচু হয়ে থাকল, যেন একটা পাহাড়! সেই মেয়েটির বাপ তখন মাঠে কাজ করছিল ৷ সে সেই পাহাড়ের মত পেট দেখে ভাবল,"ওরে বাবা,না জানি ওটা কী!" সে তাড়াতাড়ি বাড়িতে ছুটে এল ৷ সে বাড়িতে আসতেই তার মেয়ে বলল,"বাবা,দেখ কি দুষ্টু লোক! আমার কাছে জল চেয়েছিল ৷ ঘরে এক জোলা জল ছিল ৷ ওকে যদি দেই তবে তুমি এসে কি খাবে? তাই আমি জল দেই নি বলে আমাদের পুকুরের সব জল খেয়ে ফেলেছে ৷ বলতে বলতে তারা সেই চাকরের কাছে এল ৷ সেখানে এসেই সে মেয়েটি ভয়ানক নাক সিঁটকিয়ে বলল,"উঃ হুঁহুঁ! কি দুর্গন্ধ! দেখ বাবা, একটা পঁচা ইঁদুর না কি পুঁটলিতে বেঁধে এনেছে!" এই বলে সে এক হাতে নাকে কাপড় দিয়ে,অন্য হাতের দুই-আঙ্গুল দিয়ে সেই হাতিসুদ্ধ পুঁটলিটা ছুড়ে ফেলে দিল ৷ আর সে পুঁটলি পড়ল গিয়ে একেবারে গঙ্গায় ৷ আর এদিকে মেয়ের বাবা করছে কি! কোষে কোমর বেঁধে, মুখ খুমটি করে মেরেছে বামুনের চাকরের পেটে এক লাথি! সে কি যেমন তেমন লাথি! লাথির চোটে,সেই বটগাছের ছিপিসুদ্ধ তার পেটের সব জল বেরিয়ে ঘর-বাড়ি, জিনিস-পত্র, মেয়ে-টেয়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল ৷ বাকি রইল কেবল মেয়ের বাপ আর বামুনের চাকর ৷ তখন তারা দুজনে মিলে কোলাকুলি করতে লাগল ৷___________(চলবে)_


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মজার আষাড়ে গল্প-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now